টেইলর ফার্মসের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেইলর ফার্মস তাদের টেনেসি শাখার সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান থিউরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। মামলায় তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত টেইলর ফার্মস টেনেসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রায়ান থিউর। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, বিক্রেতা নির্বাচন ও হিসাবরক্ষণে তার ব্যাপক কর্তৃত্ব ছিল। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বছরের পর বছর কোম্পানির অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, একটি আইআরএস (ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস) নিরীক্ষা এবং কোম্পানির নিজস্ব তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ব্রায়ান থিউর গোপনে তার স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালিকাসহ নিজের ব্যক্তিগত কর্মচারী যাদের মধ্যে একজন ব্যক্তিগত রাঁধুনি, চালক, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক ও মেরামতকর্মীও ছিলেন—তাদের কোম্পানির বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে দেখিয়েছিলেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া কোম্পানির অর্থ দিয়ে হাওয়াইয়ে প্রায় ৫৫ লাখ ডলারের বাড়ি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০০ একরের একটি খামার কেনা এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে প্রায় ১০ লাখ ডলারের একটি তহবিল গঠনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে রেকর্ড করা এক ফোনালাপে ব্রায়ান থিউর কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি টেইলর ফার্মসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রুস টেইলরের কাছে ভয়েসমেইল পাঠিয়ে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির প্রতিনিধিদের পাঠানো বার্তায়ও বিষয়টি স্বীকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
টেইলর ফার্মস আদালতের কাছে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত, দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য আইনি প্রতিকার চেয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য হবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় লিয়ারজেট-৬০ মডেলের একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে এর আরোহী নয়জনের সবাই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের নর্থ এলিউথেরা বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-আ-লাগো বাসভবনের দূরত্ব প্রায় ১০ মাইল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার। তবে ট্রাম্পের বাসভবনের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) তদন্তে সহায়তা করতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, উড়োজাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নিচে নেমে এসে সড়কের পাশে বড় গর্ত তৈরি করে। দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজটির চালক আকাশে বরফ জমা ও মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনির কথা বিমান নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানিয়েছিলেন। লাইভএটিসি ডটনেটের সংগৃহীত কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, প্রথমে চালক বরফ জমার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। পরে উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করলে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। একপর্যায়ে ক্রুদের বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’ তবে বরফ জমা, ঝড়ো আবহাওয়া নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক সমস্যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত নিচে নেমে এসে সড়কের পাশে আছড়ে পড়তে এবং পরে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। দুর্ঘটনায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও মাটিতে থাকা কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন গভর্নর ডিস্যান্টিস। নিরাপত্তার স্বার্থে কাছের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটি থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়কও বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজটি ব্যক্তিগত হওয়ায় এতে থাকা নয়জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি তাদের বিমানবন্দর থেকেই যাত্রা শুরু করেছিল। এদিকে এনটিএসবি তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে এবং এফএএ তাদের সহায়তা করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রধান সূত্র: আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
প্রাইমারিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই কি আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন হ্যালির?
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যামট্রামিকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফারদিনা আলমের সাফল্য-সংগ্রামের গল্প তুলে ধরছে মার্কিন কিশোরীর পডকাস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট শিবিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে দলীয় মনোনীত প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পরিবর্তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স। রোববার (১ নভেম্বর) ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় মাইক রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান স্টিভেন্স। এই সিদ্ধান্তে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট শিবিরে বিভক্তি আরও প্রকাশ্যে এসেছে। স্টিভেন্সের এই সিদ্ধান্তের পরপরই তাঁর দীর্ঘদিনের প্রধান সহযোগী ও চিফ অব স্টাফ জাস্টিন জার্মান পদত্যাগ করেন। প্রায় আট বছর ধরে তাঁর সঙ্গে কাজ করা জার্মান জানান, স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তে তিনি ও তাঁর দলের অন্য সদস্যরা হতবাক ও মর্মাহত। তিনি প্রকাশ্যে আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, তাঁর সাবেক সহকর্মীরাও ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রার্থীর পাশে রয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভেন্সের দপ্তরের আরও কয়েকজন কর্মীও পদত্যাগ করেছেন। ঘটনার পেছনে রয়েছে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন পান আবদুল এল-সায়েদ। পরবর্তী সময়ে স্টিভেন্স তাঁকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা, একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং প্রচারণার বক্তব্য নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। তাঁদের যৌথ নির্বাচনী কর্মসূচি নিয়েও মতবিরোধ দেখা দেয়। স্টিভেন্সের দাবি, আবদুল তাঁকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না নিতে বলেছেন। অন্যদিকে, আবদুলের বক্তব্য, ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে মিশিগানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়গুলো তাঁর কাছে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেলসহ দলটির একাধিক নেতা। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্টিভেন্স অবশ্য নিজেকে এখনো একজন গর্বিত ডেমোক্র্যাট হিসেবে দাবি করেছেন। তবে দলীয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীকে সমর্থন করায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বর মিশিগানে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। এই আসনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে হ্যালি স্টিভেন্সের অবস্থান পরিবর্তন এবং তাঁর সহযোগীদের পদত্যাগ মিশিগানের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পাশাপাশি এমবিএ করার সুযোগ, ভার্জিনিয়ায় ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির উদ্যোগ
বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্ট কী, কেন দিতে হয় এবং এই খরচ কে বহন করেন?
৭৫ হাজার ডলারের কম আয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়তে পারবেন বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে
নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘুমানো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যাঁরা নিজেরাও একসময় গৃহহীনতা, কারাবাস কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তাঁরা অন্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছেন। ম্যানহাটনে পরিচালিত এই উদ্যোগের নাম ‘নেইবারহুড নেভিগেটরস’। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের উদ্যোগে ২০২৪ সালে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য ব্রিজ’। কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো রাস্তায় বসবাস করা মানুষকে আশ্রয়, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাঁদের অপরাধবিচার ব্যবস্থার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমানো। গথামিস্টের ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ১৭৫ জনের বেশি মানুষকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। চলতি বছর মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন কর্মসূচিটির জন্য ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, এখানে এমন কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নিজেদের জীবনেও গৃহহীনতা কিংবা কারাবাসের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে তাঁরা রাস্তায় থাকা মানুষের পরিস্থিতি শুধু বাইরে থেকে দেখেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পান। কর্মসূচির একজন কর্মী ফেলিপে রামোস নিজেও একসময় গৃহহীনতা, কারাবাস ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছেন। এখন তিনি প্রতিদিন ম্যানহাটনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গৃহহীন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের নিরাপদ আবাসনে ফেরার পথ খুঁজতে সহায়তা করেন। এই কর্মীরা শুধু আশ্রয়কেন্দ্রের ঠিকানা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন না। প্রয়োজনে তাঁরা মানুষের সঙ্গে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অফিসে যান, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে সঙ্গ দেন এবং আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত যোগাযোগ বজায় রাখেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির সঙ্গে পুরো দিনও কাটান, যাতে তিনি নির্ধারিত সেবা বা আবাসনকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হারলেমের ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সরকারি ভাতা পুনরায় চালু করতে কর্মীরা তাঁর সঙ্গে সারাদিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবস্থান করেন। অন্যদিকে, লোয়ার ম্যানহাটনে বসবাস করা ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে সহায়ক আবাসনের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন তাঁরা। ওই ব্যক্তি মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন। ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল ও ইস্ট হারলেম, চায়নাটাউন, লোয়ার ইস্ট সাইড, ওয়াশিংটন হাইটস, ইনউড, মিডটাউন ওয়েস্ট, হেলস কিচেন ও চেলসি এলাকায় কর্মসূচিটির কার্যক্রম রয়েছে। গথামিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর নিউইয়র্কের পার্ক, ফুটপাত ও সাবওয়ে স্টেশনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে ঘুমাতে দেখা গেছে, যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে গৃহহীন মানুষের জন্য সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। তবে কর্মসূচিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। শহরের গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা সব সংস্থার সঙ্গে তাদের তথ্যভান্ডারের সরাসরি সংযোগ নেই। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করতে কখনো কখনো সমস্যা হয়।
পুলিশের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন বিকেল, নিউইয়র্কের ফ্লাশিংয়ে হ্যালোইন আয়োজন
শীতে রাস্তায় মৃত্যু ঠেকাতে উদ্যোগ, পরিচয়হীন ৯ গৃহহীনকে সম্মানজনক বিদায় দিচ্ছে নিউইয়র্ক