আমেরিকা

সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ? টেক্সাসের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিভাবকরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ২:৪৩
টেক্সাসের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিভাবকরা
টেক্সাসের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিভাবকরা

টেক্সাসের সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ (দশ আদেশ) প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। হিউস্টন এলাকার তিনজন মা অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ নির্ধারণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।

 

মামলায় বলা হয়েছে, টেক্সাসের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীতে অভিভাবকদের সন্তান লালন-পালন ও ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া টেক্সাস রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। 


বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত আকার ও বিন্যাসে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন করতে হবে। পোস্টার দান করা হলে স্কুলগুলো তা টানাবে, আর প্রয়োজন হলে জেলা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থেও তা কিনতে পারবে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি ঐতিহ্যের অংশ। 

 

তবে বাদীপক্ষের অভিভাবকদের বক্তব্য, সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তাদের মতে, পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের, রাষ্ট্রের নয়। 


এটি টেক্সাসে এ ধরনের প্রথম মামলা নয়। এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অধর্মীয় পরিবারের সদস্যরা একই আইনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। সেইসব মামলায় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র-ধর্ম পৃথক থাকার নীতির প্রশ্নও সামনে আসে। 

 

অন্যদিকে, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন বরাবরই আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ‘দশ আদেশ’ আমেরিকার আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রদর্শন করা আইনসঙ্গত। 

 

নতুন মামলার শুনানির মাধ্যমে টেক্সাসের এই বিতর্কিত আইন নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলার ফলাফল শুধু টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
২০২৯ সালের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড হবে যুক্তরাষ্ট্রের! ট্রাম্পের নতুন দাবি
বাজি ধরুন’, ২০২৯ সালের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড হবে যুক্তরাষ্ট্রের! ট্রাম্পের নতুন দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-নীতি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে—এমন দাবি করে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক দ্বীপটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তার প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা, আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার এবং বিরল খনিজ সম্পদের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় থাকায় এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তা-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তবে এটি মূলত একটি বিশ্লেষণ ও সম্ভাবনার মূল্যায়ন; যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।    গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটির সরকার ও ডেনমার্ক বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। সাম্প্রতিক সময়েও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।    বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এবং উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে এর কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। এছাড়া বিরল খনিজ সম্পদ ও সামরিক গুরুত্বের কারণে বহু বছর ধরেই এটি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।   নিউজউইকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে আগের চেয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নিলেও বাস্তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হলে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক আইনের জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই বিষয়টি এখনো মূলত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৪:৫১
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল

ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল: ৬০০ স্থাপনা ছাই, ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি

ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি! পরিরারের ক্ষোভ, নতুন করে প্রশ্নের মুখে বিচারব্যবস্থা

আমেরিকার কোন স্টেটে বসবাস করলে সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?

আমেরিকার কোন স্টেটে বসবাস করলে সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি? জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা? আগে জেনে নিন কেন ৭০% বাড়ির মালিক বিক্রি করছেন না
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা? আগে জেনে নিন কেন ৭০% বাড়ির মালিক বিক্রি করছেন না

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাড়ির দাম এখনও তুলনামূলক বেশি থাকলেও বিক্রির জন্য বাজারে বাড়ির সরবরাহ সীমিত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘লক-ইন ইফেক্ট’—অর্থাৎ কম সুদের মর্টগেজ ধরে রাখতে বাড়ির মালিকদের অনীহা।   সাম্প্রতিক আবাসন বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যাদের সক্রিয় হোম মর্টগেজ রয়েছে, তাদের বড় একটি অংশ ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নেওয়া ঋণের সুবিধা ভোগ করছেন। সে সময় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ঐতিহাসিকভাবে কম, অনেক ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। এমনকি অধিকাংশ ঋণগ্রহীতার সুদের হার এখনও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের বেশি পর্যায়ে অবস্থান করছে। ফলে কেউ যদি এখন নিজের পুরনো বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কেনেন, তবে তাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুদে নতুন ঋণ নিতে হবে। এতে মাসিক কিস্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।   এই কারণেই অনেক বাড়ির মালিক বর্তমান বাড়ি বিক্রি না করে সেটিতেই বসবাস চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আবাসন বাজারে এই প্রবণতাকে ‘লক-ইন ইফেক্ট’ নামে অভিহিত করা হয়। এর ফলে বিক্রির জন্য নতুন বাড়ির সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের ওপর। বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ি কম থাকায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় মূল্যও উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে।   অন্যদিকে, যাদের আগে থেকেই কম সুদের মর্টগেজ রয়েছে, তারা নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণ ধরে রাখছেন। অনেক পরিবার নতুন বাড়ি কেনার বদলে বর্তমান বাড়ি সংস্কার বা সম্প্রসারণের পথ বেছে নিচ্ছেন।   অর্থনীতিবিদদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার কমালে আবাসন বাজারে কিছুটা গতি ফিরতে পারে। তবে ২০২১-২২ সালের মতো ৩ থেকে ৪ শতাংশের অত্যন্ত কম মর্টগেজ সুদের হার অদূর ভবিষ্যতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যারা এখন বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তারা আগে থেকেই স্থানীয় ঋণদাতার কাছ থেকে প্রি-অ্যাপ্রুভাল নিয়ে রাখুন এবং ভালো ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখুন। এতে অনুকূল সুদে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ০:২৬
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিকা সৈকতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ডগ সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে কুকুরদের বিশ্ব সার্ফিং প্রতিযোগিতা

অভিযোগ অনুযায়ী, এই সাদা নিসান সেন্ট্রা গাড়ির চালক ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে ধাওয়া করেন। ছবি: সংগৃহীত

'ভারতে ফিরে যাও': যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী ও তার সন্তানকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া

লেকে পরিবারের সঙ্গে ক্যাম্পিংয়ে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন মিলার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫টি মাকড়সার কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নারী, স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী

ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক ফেডারেল বিচারক। ছবি: সংগৃহীত
বিচারকদের কড়া সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ, প্রশ্ন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফেডারেল বিচারকদের একটি অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের (ডিওজে) আইনজীবীদের আচরণ ও আদালতে দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় সরকারের আইনজীবীরা এমন আচরণ করেছেন, যা আদালতের ভাষায় "অবৈধ", "অনৈতিক", "অশোভন" বা বিভ্রান্তিকর। এর ফলে সরকারের বক্তব্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাস করার দীর্ঘদিনের বিচারিক নীতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শত শত মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৪০টিরও বেশি মামলায় বিচারকেরা সরাসরি সরকারের প্রতি প্রচলিত বিচারিক আস্থার নীতি বা "প্রিজাম্পশন অব রেগুলারিটি" নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই নীতির অর্থ হলো, আদালত সাধারণভাবে ধরে নেয় যে সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও নীতিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যদি না তার বিপরীত প্রমাণ পাওয়া যায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিচারকদের সমালোচনার বড় অংশই অভিবাসন অভিযান, ব্যাপক বহিষ্কার, সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপসংক্রান্ত মামলাগুলোকে ঘিরে। অনেক বিচারক মন্তব্য করেছেন, সরকারের আইনজীবীদের বক্তব্য এখন আর আগের মতো বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা যাচ্ছে না।   রোড আইল্যান্ডে ট্রাম্প মনোনীত ফেডারেল বিচারক মেরি ম্যাকএলরয় একটি মামলায় অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ তথ্য গোপন করেছে এবং আদালতের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্তে সংবেদনশীল চিকিৎসা নথি সংগ্রহের জন্য সরকারের কৌশল নিয়ে তিনি কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি যে আস্থা এতদিন ছিল, তা এই মামলায় আর বজায় নেই।   নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টিন ও'হার্ন এক অভিবাসন মামলায় মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা শপথ নিয়ে তথ্য না দিলে তিনি আর সরকারের বক্তব্য অন্ধভাবে গ্রহণ করবেন না। তার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এক আটক ব্যক্তিকে অন্য একটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল।   মিনেসোটার একটি মামলায় বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজও সরকারের পদক্ষেপকে "ভিত্তিহীন" বলে সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি বা চাপ সৃষ্টি করতে ফৌজদারি তদন্তের ব্যবহার আইনের সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং অনৈতিক আচরণ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগের মুখপাত্র কিয়ারস্টেন পেলস এক বিবৃতিতে বলেন, ডিওজের আইনজীবীরা সততা, পেশাদারিত্ব এবং আইনগত দায়িত্ব মেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে বিভাগ একমত নয়।   প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় বিচারকেরা সরকারের নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অস্তিত্বহীন মামলার নজির, ভুল তারিখ, তথ্যগত অসঙ্গতি এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার উদাহরণও উল্লেখ করেছেন। এসব ঘটনার কারণে সরকারের প্রতি আদালতের আস্থায় ধীরে ধীরে ভাঙন তৈরি হচ্ছে বলে আইন বিশেষজ্ঞদের মত।   সাবেক ফেডারেল বিচারক জন ই. জোনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। তার মতে, বর্তমানে অনেক বিচারকই সরকারি কৌঁসুলিদের বক্তব্যকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন না।   আইন বিশেষজ্ঞ জেরেমি ফোগেলের ভাষায়, আদালতে যা ঘটছে তা এখন শুধু আইনি বিরোধ নয়, বরং সরকারের একটি শাখা আরেকটি শাখার বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের প্রধান আইনজীবী মিচ বার্নার্ড বলেন, বিচার বিভাগের বর্তমান আচরণের কারণে সরকার ভবিষ্যতে আরও বেশি মামলায় পরাজিত হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ২৩:১৮
কোভিড-১৯, টিকা ও অটিজম ইস্যুতে লাইভ সাক্ষাৎকারে তীব্র বিতর্কে জড়ান রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র ও ডানা ব্যাশ। ছবি: সংগৃহীত

সিএনএনের লাইভ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ও মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তুমুল ঝগড়া

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা পলা পাঞ্চ বোলসের প্রাকৃতিক জলস্লাইডে দুর্ঘটনার শিকার হন এক নারী।

ভিডিও বানাতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রাকৃতিক ওয়াটারস্লাইডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে আছড়ে পড়লেন তরুণী

জুলাই মাসে আইসের হাতে আটক হয়েছেন ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসনে কড়াকড়ি আরও বেড়েছে, জুলাইয়ে আইস এর হাতে আটক ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী

0 Comments