আমেরিকা

মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৫:৩৫
মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার
মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেহা গুপ্তা (৩৬) তার চার বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার অভিযোগে বর্তমানে মিয়ামির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

 

বিচারকার্যের অপেক্ষায় থাকা এই নারী সম্প্রতি বিচারকের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। নেহা গুপ্তার দাবি, তার সেল ব্লকের অন্য এক সহবন্দি তাকে বারবার মুখে ঘুষি মেরেছেন এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন।

 

নেহা গুপ্তার বিরুদ্ধে তার নিজের সন্তানকে হত্যার পর একটি এয়ারবিএনবি (Airbnb)-এর সুইমিংপুলে ফেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর নাটক সাজানোর মতো চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

 

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে এক মর্মান্তিক সত্য; পানিতে ফেলার আগেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল।

 

এই নৃশংস ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের (প্রথম মাত্রার খুনের) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় মিয়ামির কারাগারে দিন কাটছে এই অভিযুক্ত চিকিৎসকের।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও হার মানেননি, ৭ ফুট ৩ ইঞ্চির সাবেক বাস্কেটবল তারকা হলেন টেক্সাসের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তা
পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও হার মানেননি, ৭ ফুট ৩ ইঞ্চির সাবেক বাস্কেটবল তারকা হলেন টেক্সাসের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তা

সাবেক পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার জর্ডান 'টিনি' উইলমোর টেক্সাসের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন। টেক্সাস কমিশন অন ল এনফোর্সমেন্ট (টিসিওএলই)-এর লাইসেন্সিং পরীক্ষায় প্রথমবার মাত্র এক নম্বরের জন্য ব্যর্থ হলেও, অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। টেক্সাসের কেমাহ পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার দীর্ঘ যাত্রায় শেষ বাধাটি পেরিয়ে তিনি এখন চূড়ান্তভাবে সফল। আগামী ৭ জুলাই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ পড়ানো হবে। পরীক্ষায় পাসের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত জর্ডান বলেন, "আমি বুঝতে পারছি না আমার কেমন লাগছে। আমি আনন্দে কাঁদতে চাই, চিৎকার করতে চাই। আমি সত্যিই ভীষণ খুশি।"   জর্ডানের পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার এই যাত্রাটি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। নর্থওয়েস্টার্ন স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম-কমার্স-এর হয়ে কলেজ বাস্কেটবল খেলার পর তিনি পেশাদার লিগেও অংশ নিয়েছিলেন। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে একসময় তিনি বাস্কেটবলকে চিরতরে বিদায় জানান। ২০২৫ সালের আগস্টে কেমাহ পুলিশ বিভাগ তাদের এই নতুন রিক্রুটকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়। উইকস মেরিন-এর স্পন্সরে পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষণ শেষ করলেও দুর্ভাগ্যবশত সে বছর রাজ্যের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় মাত্র এক পয়েন্টের জন্য ফেল করেন তিনি। তবে হাল না ছেড়ে আরও সিরিয়াস হয়ে মাসের পর মাস পড়াশোনা চালিয়ে যান এই তরুণ।   তার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে পাশে এসে দাঁড়ান এনবিএ কিংবদন্তি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দীর্ঘদিনের সমর্থক শাকিল ওনিল। গত ডিসেম্বরে কেমাহ পুলিশ বিভাগে এসে জর্ডানকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের জন্য পুলিশ অ্যাকাডেমির পুরো খরচ বহনের দায়িত্ব নেন এই কিংবদন্তি তারকা। তার এই অসামান্য অধ্যবসায় কেমাহ পুলিশ বিভাগেরও আস্থা অর্জন করেছে। চিফ রেমন্ড গারিভে এক ফেসবুক পোস্টে জর্ডানকে অভিনন্দন জানিয়ে ৭ জুলাইয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তাদের এলিট ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছেন, যেখানে আগে থেকেই রয়েছেন ৭ ফুট ৮ ইঞ্চির জর্জ বেল এবং ৭ ফুট ১ ইঞ্চির শাকিল ওনিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৬:৪০
নিউজার্সিতে অসচেতন চালকদের ধরতে গাছ সেজে পুলিশের অভিনব অভিযান, ফাঁদে পড়লেন ৭৪ চালক

নিউজার্সিতে অসচেতন চালকদের ধরতে গাছ সেজে পুলিশের অভিনব অভিযান, ফাঁদে পড়লেন ৭৪ চালক

কান্নাকাটি করায় ৬ মাসের শিশুকে ছুড়ে ফেলে টিকটক ও পর্নোগ্রাফিতে মগ্ন মা, প্রাণ গেল শিশুপুত্রের

কান্নাকাটি করায় ৬ মাসের শিশুকে ছুড়ে ফেলে টিকটক ও পর্নোগ্রাফিতে মগ্ন মা, প্রাণ গেল শিশুপুত্রের

৫০০ আবেদনেও মিলছে না চাকরি: যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে দীর্ঘ বেকারত্বে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ

৫০০ আবেদনেও মিলছে না চাকরি: যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে দীর্ঘ বেকারত্বে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ

মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার
মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেহা গুপ্তা (৩৬) তার চার বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার অভিযোগে বর্তমানে মিয়ামির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।   বিচারকার্যের অপেক্ষায় থাকা এই নারী সম্প্রতি বিচারকের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। নেহা গুপ্তার দাবি, তার সেল ব্লকের অন্য এক সহবন্দি তাকে বারবার মুখে ঘুষি মেরেছেন এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন।   নেহা গুপ্তার বিরুদ্ধে তার নিজের সন্তানকে হত্যার পর একটি এয়ারবিএনবি (Airbnb)-এর সুইমিংপুলে ফেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর নাটক সাজানোর মতো চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।   তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে এক মর্মান্তিক সত্য; পানিতে ফেলার আগেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল।   এই নৃশংস ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের (প্রথম মাত্রার খুনের) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় মিয়ামির কারাগারে দিন কাটছে এই অভিযুক্ত চিকিৎসকের।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৫:৩৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের বেপরোয়া ই-বাইক চালানোয় অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের বেপরোয়া ই-বাইক চালানোয় অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার থেকে কফি সবখানেই বকশিসের চাপ, টিপিং কালচারকে অযৌক্তিক মনে করেন ৭৮% ক্রেতা

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার থেকে কফি সবখানেই বকশিসের চাপ, টিপিং কালচারকে অযৌক্তিক মনে করেন ৭৮% ক্রেতা

নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের ওপর দিয়ে আর উড়বে না কোনো বিমান, স্থায়ী নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের ওপর দিয়ে আর উড়বে না কোনো বিমান, স্থায়ী নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের রেখে যাওয়া ৫২ লাখ ডলারের উত্তরাধিকার পেল ডিএসএ
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের রেখে যাওয়া ৫২ লাখ ডলারের উত্তরাধিকার পেল ডিএসএ

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থের এক আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংগঠন ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’ (ডিএসএ)। সম্প্রতি আদালতের এক রায়ে ৫২ লাখ ডলারের (৫.২ মিলিয়ন) এই তহবিল দলটির অনুকূলে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ডিএসএ-এর প্রায় এক বছরের আয়ের সমান। বিপুল এই অর্থ এমন এক সময়ে দলটির হাতে এল, যখন তারা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ও বিস্তার বৃদ্ধিতে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   এই আইনি বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনওয়াইইউ) সমাজবিজ্ঞানের প্রয়াত অধ্যাপক ডেভিড গ্রিনবার্গ, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মারা যান। সারা জীবন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অধ্যাপক তার উইলে উল্লেখ করেছিলেন যে, মৃত্যুর পর তার এনওয়াইইউ অবসর তহবিলের অর্থ যেন তৎকালীন বামপন্থী সংগঠন ‘নিউ আমেরিকান মুভমেন্ট’ বা তাদের আইনানুগ কোনো উত্তরসূরি সংগঠন পায়।   ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৯৮২ সালে এই সংগঠনটিই একীভূত হয়ে বর্তমানের ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা গঠিত হয়েছিল। তবে গ্রিনবার্গের ভাতিজা মার্টিন হেচট এই উইলের বিরোধিতা করে ২০২৫ সালের এপ্রিলে মামলা দায়ের করেন। তার দাবি ছিল, ডিএসএ আইনিভাবে সঠিক উত্তরসূরি হওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়নি এবং উইলটি সঠিকভাবে যাচাই করতে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ও ব্যর্থ হয়েছে। তবে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক ডিএসএ-এর পক্ষেই রায় দেন।   সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৫ সালে নিউইয়র্কের মেয়র পদে জোহরান মামদানির জয় এবং ২০২৬ সালের প্রাইমারিতে ক্লেয়ার ভালদেজ ও ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের মতো ডিএসএ-সমর্থিত প্রার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ফিলাডেলফিয়া, কলোরাডো ও ওয়াশিংটন ডিসির মতো এলাকায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূল ধারার প্রার্থীদের হারিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। নতুন পাওয়া এই ৫২ লাখ ডলার ডিএসএ কীভাবে ব্যয় করবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও, ধারণা করা হচ্ছে এই অর্থ তাদের নির্বাচনী প্রচারণা, বিজ্ঞাপন এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী সংগ্রহের কাজে বড় ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যেই ১ লাখ ২০ হাজার সদস্য নিয়ে তারা নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাজতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে দাবি করেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৩:৫৪
নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, ৩০% কম দামে নিত্যপণ্য বিক্রিতে সরকারি সুপারমার্কেট আনছেন মামদানি

নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, ৩০% কম দামে নিত্যপণ্য বিক্রিতে সরকারি সুপারমার্কেট আনছেন মামদানি

এয়ারপোর্টে বাড়ছে আইস এর অভিযান, আটক হচ্ছেন অভিবাসীরা; অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ায় এলো বড় পরিবর্তন

এয়ারপোর্টে বাড়ছে আইস এর অভিযান, আটক হচ্ছেন অভিবাসীরা; অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ায় এলো বড় পরিবর্তন

ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি সংগৃহীত

জোহরান মামদানি হলেন ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা

0 Comments