যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আগে নিজ খরচ বহনের সামর্থ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ মার্কিন কর্তৃপক্ষের
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন বিদেশি নাগরিকদের পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটি বলেছে, ভ্রমণের সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি—যেমন ভ্রমণ ব্যাহত হওয়া, জরুরি চিকিৎসা বা অন্যান্য অপ্রত্যাশিত খরচ—নিজের অর্থেই বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার অপব্যবহার করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা বা কাজের জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে, এমনকি ভিসা বাতিল বা অযোগ্যও ঘোষণা করা হতে পারে। জালিয়াতির ঘটনা প্রমাণিত হলে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
এটি নতুন কোনো আইন নয়। মার্কিন অভিবাসন আইনের “পাবলিক চার্জ” নীতি বহু বছর ধরেই কার্যকর রয়েছে। এই নীতির আওতায় ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষা, দক্ষতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নিজের ব্যয় বহনের সক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। যাদের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিধান রয়েছে।
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনে প্রমাণ করতে হতে পারে যে তাদের কাছে থাকা অর্থ, ব্যাংক কার্ড বা স্পনসরের সহায়তায় ভ্রমণ, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব। তবে নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি; প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতায় বিদেশি নাগরিকদের আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে যুক্তরাষ্ট্র। এর লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যেন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সুবিধার অপব্যবহার না করেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে আবর্জনায় ভরা দোলনায় (ক্রিব) অবহেলা ও অনাহারে ফেলে রেখে হত্যার দায়ে এক পাষণ্ড বাবা-মাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বিচারক ক্যারি মেরি মারে এবং মিচেল চেস্টনাট মারে (উভয়ের বয়স ৩২) নামের ওই দম্পতিকে এক থেকে ১৫ বছরের পরপর দুটি মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের মার্চে শিশু রুবি মেরি মারেকে অমানবিক অবস্থায় হত্যার ঘটনায় গত জুলাই মাসে শিশু নির্যাতনজনিত হত্যা ও গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছিলেন তারা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছেন। আদালতের নথিতে শিশুটির প্রতি এই দম্পতির চরম নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে। মৃত্যুর আগের রাতে শিশুটি যখন শ্বাসকষ্টে ভুগে কাঁদছিল, তখন সেই শব্দ ঢাকতে ক্যারি ও মিচেল উচ্চশব্দে গান বাজিয়েছিলেন। পরের দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোলনার ভেতর থেকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মর্মান্তিক বিষয় হলো, মা ক্যারি নিজে একজন পেশাদার নিবন্ধিত নার্স (RN) হওয়া সত্ত্বেও সন্তানকে মৃত অবস্থায় দেখার পর জীবন বাঁচানোর কোনো প্রাথমিক চেষ্টাই করেননি। উল্টো তদন্তকারীদের কাছে তিনি নির্লজ্জভাবে দাবি করেন, এ ঘটনায় তার কোনো অপরাধবোধ নেই এবং এটি তার মেয়ের ‘মারা যাওয়ারই সময়’ ছিল। রায় ঘোষণার সময় ক্ষুব্ধ ডিস্ট্রিক্ট জজ স্পেন্সর ওয়ালশ এই চরম অবহেলাকে 'ভয়াবহ ও বিস্ময়কর' বলে আখ্যা দেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, শিশু রুবির ঘরে স্পেস হিটার চালিয়ে তাপমাত্রা ৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট রাখা হয়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যেও তাকে ফুলহাতা পাজামা, স্লিপ স্যাক ও একাধিক কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তার দোলনায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বেশ কয়েকটি সিপি কাপ, নষ্ট হয়ে যাওয়া ওয়াফেলস এবং বিছানার নিচে ছিল প্রচুর আবর্জনা। উটাহ স্টেট মেডিকেল এক্সামিনার অফিস নিশ্চিত করেছে যে, চরম অপুষ্টি এবং পানিশূন্যতার কারণেই রুবির মৃত্যু হয়েছে; মৃত্যুর সময় তার ওজন ছিল মাত্র ১৭ পাউন্ড। পুলিশের কাছে মিচেল স্বীকার করেছিলেন যে, তারা সপ্তাহে এক-দুদিন শিশুটিকে সারাদিনের জন্য দোলনাতেই ফেলে রাখতেন, যাকে তারা 'ক্রিব ডেজ' (দোলনার দিন) বলতেন। জানা যায়, মৃত্যুর আগের চার দিনের মধ্যে শিশুটিকে মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য দোলনা থেকে বের করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে নতুন জীবন পেল মাথা জোড়া লাগানো দুই বোন, প্রথমবার দেখল একে অপরকে
পোষা কুকুরের ১৮০ বার কামড়ে নবজাতকের মৃ ত্যু, বাবার ১৬ বছরের কারাদণ্ড
মিশিগানে নদী থেকে উদ্ধার দুই নিখোঁজ নারীর ম রদেহ, ৭০ ফুট নিচে গাড়ি পড়া নিয়ে রহস্য
লস অ্যাঞ্জেলেসে এক ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস (NBCLA)-এর সংবাদ প্রতিবেদক এলিয়ানা মোরেনো। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর এক আবেগঘন বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের নীরবতা ভেঙেছে তার শোকাহত পরিবার। এলিয়ানার ভাই জোহান মোরেনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিটি শেয়ার করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই এলিয়ানা একজন সংবাদ প্রতিবেদক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও সাহসিকতার মাধ্যমে তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। পরিবার আরও জানায়, এলিয়ানা ছোটবেলা থেকে যে কাজের প্রতি তীব্র আবেগ লালন করতেন, সেই প্রিয় কাজটি করতে করতেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—এই ভেবে তারা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজছেন। গত মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো বাসের সাথে একটি এসইউভি (SUV)-এর ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর আকাশ থেকে সংগ্রহ করতে গিয়ে এলিয়ানা মোরেনো এবং পাইলট জর্জ মার্সিনিউকে বহনকারী এনবিসি-র একটি হেলিকপ্টার হঠাৎ ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় এলিয়ানা ও জর্জ ছাড়াও নিচে থাকা এডি গুতেরেজ মেজিয়া নামের এক পথচারী প্রাণ হারান। এলিয়ানার পরিবার তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা তাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত এবং তাকে নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে পেয়ে তারা ধন্য। ৩৮ বছর বয়সী এই সাংবাদিক তার পেছনে রেখে গেছেন পাঁচ ভাইবোন, বাগদত্ত, সৎ সন্তান এবং পোষা কুকুর। এর আগে এক শোকবার্তায় এলিয়ানার ভাই জোহান লিখেছিলেন, "শান্তিতে ঘুমাও বোন, আমি তোমাকে অনন্তকাল ভালোবাসব। আমাদের পরিবার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন পার করছে।" পাশাপাশি জোহান সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের পরিবারের নামে কেউ যদি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করে, তবে তা যেন কেউ বিশ্বাস না করেন, কারণ তারা কোনো আর্থিক সহায়তা নিচ্ছেন না। প্রায় এক বছর আগে রবার্ট ব্যারিয়েন্টোসের সাথে এলিয়ানার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। এই দক্ষ 'এরিয়াল রিপোর্টার' বা আকাশ থেকে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিক ২০১০ সাল থেকে এনবিসি-র নিউজ চপার-এ কাজ করছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওপর থেকে পুলিশি ধাওয়া, দাবানল বা বড় দুর্ঘটনার সরাসরি খবর দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তিনি "এলি ইন দ্য হেলি" নামে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) বর্তমানে এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নিজের স্বপ্নের পেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় এলিয়ানার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মার্কিন কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে ভিনেগার নিক্ষেপকারী চরমপন্থীর ১৪ মাসের কারাদণ্ড
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাস দু র্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
সেনেটে আটকে যাওয়ায় আইস প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহার করল হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে প্রাক্তন প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টাকারী অস্টিন লিঞ্চ এবার সরাসরি বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। সাফোক কাউন্টির এক বিচারক গত বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন যে, অস্টিন মানসিকভাবে বিচারের উপযুক্ত। এর আগে গত জানুয়ারিতে প্রথম মানসিক মূল্যায়নে তাকে বিচারের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী দুটি বিস্তারিত মূল্যায়নের পর বিচারক অ্যান্থনি সেনফট জানান, তিনি এখন জুরির মুখোমুখি হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রস্তুত। অস্টিন লিঞ্চ ও নিহত এমিলি ফিন ছিলেন হাইস্কুল জীবনের প্রেমিক-প্রেমিকা। তবে এমিলি উচ্চশিক্ষার জন্য 'সানি ওয়াননটা' (SUNY Oneonta) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে এমিলি সম্পর্কটি ভেঙে দেন। প্রসিকিউটরদের মতে, ২৬ নভেম্বর থ্যাংকসগিভিংয়ের ছুটিতে এমিলি তার প্রাক্তন প্রেমিক অস্টিনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তখনই ক্ষুব্ধ অস্টিন তাকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর নিজের দিকেও বন্দুক তাক করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, তবে ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। গ্রেপ্তারের পর অস্টিনের মোট তিনটি মানসিক মূল্যায়ন করা হয়। প্রথমটিতে তাকে বিচারের অনুপযুক্ত বলা হলেও দ্বিতীয়টিতে তাকে উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে জুলাই মাসে এই অভিযুক্ত খুনির বিরুদ্ধে নতুন একটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় এমিলির পরিবারের বাড়িতে ডাকাতি করার জন্য অন্য এক বন্দিকে ভাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর বিচারক সেনফট তৃতীয় ও চূড়ান্ত মানসিক মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। সবশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিচারক জানান, অস্টিনকে এখন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আগামী ১৯ অক্টোবর তাকে আবারও আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আটলান্টা বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ল
এড শিরানের সফরের ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করবেন মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর