সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এড শিরানের সফরের ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করবেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:১০
এড শিরানের 'লুপ ট্যুর' থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
এড শিরানের 'লুপ ট্যুর' থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর জানিয়েছেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনকে দান করবেন তিনি। ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ওই সফর থেকে তাকে বাদ দেওয়ার কয়েক দিন পর এই ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর।

 

ম্যাকলমোর, যার আসল নাম বেন হ্যাগার্টি, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে তার পাওয়া পুরো ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনি জনগণকে সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংগঠনে দেওয়া হবে।

 

একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটকেও একই পরিমাণ অর্থ দান করার আহ্বান জানিয়েছেন ম্যাকলমোর। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষার বিষয়ে তারা একমত হতে পারেন।

 

ক্রাফট সোমবার নিশ্চিত করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দিতে তিনি শিরানের ওপর চাপ দিয়েছিলেন। ক্রাফটের মালিকানাধীন গিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোরের পরিবেশনাও বন্ধ করা হয়। এর কারণ হিসেবে ক্রাফট ম্যাকলমোরের কথিত ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীকের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন।

 

ম্যাকলমোর বলেন, এই অর্থ দানের বিষয়টি তাকে ঘিরে তৈরি বিতর্ক বা ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়। বরং তিনি এমন বাবা-মায়েদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান, যারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়াই সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, প্যারামেডিক, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের কথাও উল্লেখ করেন, যারা বারবার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফিরে যাচ্ছেন।

 

ম্যাকলমোর তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনি কিশোর মুহাম্মদ আল-জিনাতির মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, আহত এক ব্যক্তিকে সহায়তা করতে যাওয়ার সময় এক দিন আগে ইসরায়েলি হামলায় ওই কিশোর নিহত হয়। ম্যাকলমোর বলেন, সে একজন শিশু ছিল এবং তার বেঁচে থাকার কথা ছিল।

 

তিনি আরও বলেন, শুধু ত্রাণ সহায়তা দিয়ে এই পরিস্থিতির সমাধান করা সম্ভব নয়। যে পরিস্থিতির কারণে এই সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি মানুষের তৈরি এবং এর জন্য দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য আর অপেক্ষা করতে হওয়া উচিত নয় বলেও জানান ম্যাকলমোর।

 

চলতি মাসের শুরুতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন এবং তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন। এরপর তাকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়।

 

ম্যাকলমোর এর আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ১৩ বছরের বন্ধু শিরান তাকে জানিয়েছেন, ক্রাফট অন্য স্টেডিয়াম মালিকদের নিয়ে ম্যাকলমোরের বিরুদ্ধে বয়কটের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ না দিলে এই বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

 

তবে শিরান এই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ, তিনি নিজে নন।

 

শিরান আরও বলেন, এই সংঘাত নিয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। তিনি তা প্রকাশ্যে না বললেও তার অর্থ এই নয় যে তার কোনো মতামত নেই। তিনি নিজের প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক মঞ্চের পরিবর্তে নিরাপদ ও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে রাখতে চান বলেও জানান।

 

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে ১৭৫ মানুষের মাথার ওপর ছাদ দিলেন তাঁরা
একসময় নিজেরাই ছিলেন গৃহহীন, আজ নিউইয়র্কে ১৭৫ মানুষের মাথার ওপর ছাদ দিলেন তাঁরা

নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘুমানো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যাঁরা নিজেরাও একসময় গৃহহীনতা, কারাবাস কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তাঁরা অন্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছেন।   ম্যানহাটনে পরিচালিত এই উদ্যোগের নাম ‘নেইবারহুড নেভিগেটরস’। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের উদ্যোগে ২০২৪ সালে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য ব্রিজ’। কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো রাস্তায় বসবাস করা মানুষকে আশ্রয়, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাঁদের অপরাধবিচার ব্যবস্থার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমানো।   গথামিস্টের ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ১৭৫ জনের বেশি মানুষকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। চলতি বছর মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন কর্মসূচিটির জন্য ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।   এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, এখানে এমন কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নিজেদের জীবনেও গৃহহীনতা কিংবা কারাবাসের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে তাঁরা রাস্তায় থাকা মানুষের পরিস্থিতি শুধু বাইরে থেকে দেখেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পান।   কর্মসূচির একজন কর্মী ফেলিপে রামোস নিজেও একসময় গৃহহীনতা, কারাবাস ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছেন। এখন তিনি প্রতিদিন ম্যানহাটনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গৃহহীন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের নিরাপদ আবাসনে ফেরার পথ খুঁজতে সহায়তা করেন।   এই কর্মীরা শুধু আশ্রয়কেন্দ্রের ঠিকানা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন না। প্রয়োজনে তাঁরা মানুষের সঙ্গে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অফিসে যান, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে সঙ্গ দেন এবং আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত যোগাযোগ বজায় রাখেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির সঙ্গে পুরো দিনও কাটান, যাতে তিনি নির্ধারিত সেবা বা আবাসনকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হারলেমের ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সরকারি ভাতা পুনরায় চালু করতে কর্মীরা তাঁর সঙ্গে সারাদিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবস্থান করেন। অন্যদিকে, লোয়ার ম্যানহাটনে বসবাস করা ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে সহায়ক আবাসনের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন তাঁরা। ওই ব্যক্তি মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।   ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল ও ইস্ট হারলেম, চায়নাটাউন, লোয়ার ইস্ট সাইড, ওয়াশিংটন হাইটস, ইনউড, মিডটাউন ওয়েস্ট, হেলস কিচেন ও চেলসি এলাকায় কর্মসূচিটির কার্যক্রম রয়েছে।   গথামিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর নিউইয়র্কের পার্ক, ফুটপাত ও সাবওয়ে স্টেশনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে ঘুমাতে দেখা গেছে, যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে গৃহহীন মানুষের জন্য সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।   তবে কর্মসূচিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। শহরের গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা সব সংস্থার সঙ্গে তাদের তথ্যভান্ডারের সরাসরি সংযোগ নেই। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করতে কখনো কখনো সমস্যা হয়।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৮:৫৭
নিউইয়র্কের ফ্লাশিংয়ে হ্যালোইন আয়োজন

পুলিশের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন বিকেল, নিউইয়র্কের ফ্লাশিংয়ে হ্যালোইন আয়োজন

পরিচয়হীন ৯ গৃহহীনকে সম্মানজনক বিদায় দিচ্ছে নিউইয়র্ক

শীতে রাস্তায় মৃত্যু ঠেকাতে উদ্যোগ, পরিচয়হীন ৯ গৃহহীনকে সম্মানজনক বিদায় দিচ্ছে নিউইয়র্ক

আইনি লড়াইয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াল আদালত

বাবা-মা পাশে নেই, এবার অন্তত আইনি লড়াইয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াল আদালত

অভিবাসীদের জন্য শীতের পোশাক নিয়ে হাজির প্রবীণরা
৯৭ বছর বয়সেও থামেনি মানবিকতা, অভিবাসীদের জন্য শীতের পোশাক নিয়ে হাজির প্রবীণরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের বার্গেন কাউন্টির টিনেক এলাকার একদল প্রবীণ নাগরিক মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের বয়স ৮৫ থেকে ৯৭ বছরের মধ্যে। বয়সের ভারে অনেকের চলাফেরায় লাঠি কিংবা ওয়াকারের প্রয়োজন হয়। তারপরও অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে তাঁরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।   গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাচের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিনেকের একটি প্রবীণ আবাসন এলাকার বাসিন্দারা সাবেক অঙ্গরাজ্য সিনেটর লরেটা ওয়েইনবার্গের সঙ্গে একটি মিনিভ্যানে করে নিউয়ার্কের ডেলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে যান।সেখানে তাঁরা অভিবাসীদের ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং আটককেন্দ্রে বন্দি ও তাঁদের স্বজনদের জন্য উন্নত পরিবেশের দাবি জানান।   তবে তাঁদের এই সফর শুধু প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।প্রবীণরা নিজেদের হাতে তৈরি মাফলার ও শীতের টুপি নিয়ে গিয়েছিলেন। আটক ব্যক্তিদের স্বজনেরা ঠান্ডার মধ্যে বাইরে অপেক্ষা করার সময় যেন এসব ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য দুটি বড় ব্যাগভর্তি শীতের পোশাক তাঁরা উপহার দেন।   পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের অসহায় পরিবারগুলোর জন্য কয়েকশ ডলারের সুপারমার্কেট উপহার কার্ডও দেন তাঁরা।এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় নিউ জার্সির বিভিন্ন এলাকার সলিডারিটি সিঙ্গার্স সংগঠনের সদস্যরাও। তাঁরা গান গেয়ে কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।সাবেক সিনেটর লরেটা ওয়েইনবার্গ বলেন, নিজের বয়সী এত মানুষকে এখনো সমাজকে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে দেখে তিনি গর্বিত বোধ করেন।   সাবেক সিনেটর লরেটা ওয়েইনবার্গ বলেন, নিজের বয়সী এত মানুষকে এখনো সমাজকে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে দেখে তিনি গর্বিত বোধ করেন।আয়োজকদের আরেকটি লক্ষ্য হলো আটককেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।   প্রবীণদের এই উদ্যোগ আমেরিকার কমিউনিটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে—মানবিকতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। নিজের হাতে তৈরি একটি শীতের টুপি কিংবা একটি উপহার কার্ডও কঠিন সময়ে কারও জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৭:৪৬
উৎসবে এক হলো শতাধিক পরিবার

ছয় বছরের উইন্টার নেই, তবু তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে উৎসবে এক হলো শতাধিক পরিবার

অভিবাসীদের জন্য নিউইয়র্কের বিশেষ বার্তা

সরকারি সুবিধা নিলেই গ্রিনকার্ড বাতিল নয়, অভিবাসীদের জন্য নিউইয়র্কের বিশেষ বার্তা

ফ্লোরিডায় ৯ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত

ফ্লোরিডায় ৯ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত, একাধিক প্রাণহানির খবর

অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় গ্লোবাল কনভেনশন
ভার্জিনিয়ায় বসেছিল নটরডেমিয়ানদের মিলনমেলা, অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় গ্লোবাল কনভেনশন

পুরোনো বন্ধুত্ব, স্মৃতিচারণ, গান আর প্রাণবন্ত আড্ডায় যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ নটরডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকার দ্বিতীয় গ্লোবাল কনভেনশন। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নটরডেমিয়ানদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণের মিলনমেলায়। অতীতের বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে নটরডেমের ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।   কেউ এসেছেন বহু বছর পর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে, কেউবা ফিরে গেছেন কলেজজীবনের সোনালি স্মৃতিতে। হাসি, গল্প, উচ্ছ্বাস আর আবেগঘন পুনর্মিলনে মুখর হয়ে ওঠে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনের হিলটন হোটেল। এখানেই সকাল ১১টায় শুরু হয় দিনব্যাপী এই সম্মেলন, যেখানে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা।   শুধু পুনর্মিলন নয়, সম্মেলনটি হয়ে ওঠে অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। অনুষ্ঠানের সেমিনার পর্বে অংশ নেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাবেক কূটনীতিক এবং বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত নটরডেমিয়ানরা। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নটরডেম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার সরকার, নটরডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. ফাদার প্যাট্রিক গ্যাফনি, ড. আবদুন নূর, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওসমান ফারুক, একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, ড. ফয়সাল রহমান এবং আবদুল গফুরসহ অনেকে।   দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও নটরডেম কলেজের প্রতি ভালোবাসা এবং একে অপরের প্রতি আন্তরিকতার বন্ধন যে আজও অটুট, পুরো আয়োজনজুড়েই তার প্রতিফলন দেখা যায়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কলেজজীবনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে কীভাবে এই ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা নটরডেমিয়ানদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।   সম্মেলনটি সফলভাবে আয়োজন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সংগঠনের সভাপতি ড. মোহাম্মদ নাকিবউদ্দিন, অ্যালামনাই এমেরিটাস ড. ইবরুল চৌধুরী, কনভেনর ফয়সাল রহমান এবং সংগঠনের সদস্য মাহিদুর আর. খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সম্মেলন শুধু পুরোনো সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নটরডেমিয়ানদের মধ্যে সহযোগিতা ও যোগাযোগের আরও শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করবে।   আলোচনা ও স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনও ছিল সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ। হৃদয়ছোঁয়া গান, পুরোনো বন্ধুদের প্রাণখোলা আড্ডা এবং এক কাপ চায়ের সঙ্গে স্মৃতির গল্পে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের পাশাপাশি শিল্পী সাগ্নিক সেনের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। একসময়ের সহপাঠীরা যেন ফিরে যান সেই চিরচেনা ক্যাম্পাসজীবনে, যেখানে বন্ধুত্বের শুরু, আর স্মৃতির যেন শেষ নেই।   সম্মেলনের শেষ পর্বে আগামী গ্লোবাল কনভেনশন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন করে দেখা হওয়ার প্রত্যাশা, পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার এবং অটুট বন্ধুত্বের আবহে শেষ হয় নটরডেমিয়ানদের এই প্রাণের মিলনমেলা।   প্রতিবেদক: স্যাম রিয়া, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৬:২০
এসএনএপি সুবিধাভোগীদের জন্য সুখবর

স্ন্যাপ কার্ড সুবিধাভোগীদের জন্য সুখবর, ফল-সবজি কিনতে দৈনিক মিলবে ১৪ ডলারের কুপন

নিউইয়র্কের হ্যালোইন প্যারেডে ২০ লাখ দর্শকের সমাগম

নিউইয়র্কের হ্যালোইন প্যারেডে ২০ লাখ দর্শকের সমাগম, বিচিত্র পোশাকে রঙিন ম্যানহাটন

স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধসহ বদলাচ্ছে নাগরিক সেবা

৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে নির্বাচন, স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধসহ বদলাচ্ছে নাগরিক সেবা

0 Comments