সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আটলান্টা বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ল

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রানওয়ের কাছে থাকা একটি পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানওয়ে ১০-২৮-এর পশ্চিম প্রান্তের কাছে থাকা পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্র থেকে পয়ঃবর্জ্য বের হয়ে পাশের একটি বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকা সুলিভান খালের পাশেই অবস্থিত।

 

ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রায় ৯০ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট উত্তোলন কেন্দ্রটি আবার স্বাভাবিকভাবে চালু করা হয়।

 

ছড়িয়ে পড়া পয়ঃবর্জ্যের প্রভাব কমাতে ক্ষতিগ্রস্ত মাটিতে একটি নিরপেক্ষকরণ উপাদান প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিচের দিকে থাকা পানির মান পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। জর্জিয়া পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পানির মান পর্যবেক্ষণের এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কোনো ফ্লাইট বা যাত্রীসেবা ব্যাহত হয়নি। বিমানবন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

 

পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছে। কারণ, কোনো সরকারি মালিকানাধীন পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন সংস্থার মাধ্যমে ১০ হাজার গ্যালনের বেশি পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে আইন অনুযায়ী গণমাধ্যমকে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব সীমিত রাখতে তারা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনার কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টা বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ল

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রানওয়ের কাছে থাকা একটি পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানওয়ে ১০-২৮-এর পশ্চিম প্রান্তের কাছে থাকা পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্র থেকে পয়ঃবর্জ্য বের হয়ে পাশের একটি বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকা সুলিভান খালের পাশেই অবস্থিত।   ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রায় ৯০ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট উত্তোলন কেন্দ্রটি আবার স্বাভাবিকভাবে চালু করা হয়।   ছড়িয়ে পড়া পয়ঃবর্জ্যের প্রভাব কমাতে ক্ষতিগ্রস্ত মাটিতে একটি নিরপেক্ষকরণ উপাদান প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিচের দিকে থাকা পানির মান পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। জর্জিয়া পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পানির মান পর্যবেক্ষণের এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কোনো ফ্লাইট বা যাত্রীসেবা ব্যাহত হয়নি। বিমানবন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।   পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছে। কারণ, কোনো সরকারি মালিকানাধীন পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন সংস্থার মাধ্যমে ১০ হাজার গ্যালনের বেশি পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে আইন অনুযায়ী গণমাধ্যমকে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব সীমিত রাখতে তারা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনার কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:২৩
এড শিরানের 'লুপ ট্যুর' থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত

এড শিরানের সফরের ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করবেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর

যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন লস অ্যাঞ্জেলেস, নতুন রিপোর্টে গ্রেড 'এফ'

জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ গোপন নথি প্রকাশ ঠেকাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প সরাসরি এপস্টেইন ফাইল গোপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, দাবি ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপকের

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় সাজা পাচ্ছেন অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাক। ছবি: সংগৃহীত
সভায় একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছোড়া ব্যক্তি আজ পাবেন সাজা

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাককে বৃহস্পতিবার সাজা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউটররা তার জন্য ১৪ মাসের কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছেন। জানুয়ারির ওই ঘটনায় ওমর আহত না হলেও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে মাটিতে ফেলে আটক করেন।    গত ২৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসের একটি টাউন হল সভায় দর্শকসারিতে থাকা কাজমিয়ারচাক হঠাৎ উঠে দাঁড়ান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছুড়ে দেন এবং চিৎকার করে বলেন, ওমর ‘মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন’। এরপর ওমরের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তে জানা যায়, সিরিঞ্জে থাকা তরলটি ছিল পানি ও অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণ।    ঘটনার পরও ওমর টাউন হল সভা চালিয়ে যান। হামলায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হননি। পরে কাজমিয়ারচাক ওমরের কাছে চিঠি লিখে তার কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি ওমরকে ভয় দেখিয়ে থাকলে সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।    কাজমিয়ারচাকের বিরুদ্ধে একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে হামলার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে আগের এক শুনানিতে বিচারক তাকে ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঘটনার স্মৃতি তার কাছে অস্পষ্ট। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া সাজা সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ঘটনার আগে তিনি অন্তত তিনজনকে বার্তা পাঠিয়ে ওই সভায় ওমরকে ঘিরে কিছু করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নিজের পরিকল্পনার বিস্তারিত তাদের জানাননি।    প্রসিকিউটরদের নথিতে আরও বলা হয়েছে, সভায় যাওয়ার আগে কাজমিয়ারচাক প্রতিবেশীর সঙ্গে কুকুরের দেখাশোনা এবং জামিনদারের যোগাযোগের বিষয়ও ঠিক করেছিলেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা ঘটনাটিকে আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন।    আদালতের নথি অনুযায়ী, কাজমিয়ারচাকের বয়স পঞ্চাশের মাঝামাঝি। তার দীর্ঘদিনের অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যা এবং মানসিক ও আবেগজনিত নানা সমস্যার ইতিহাস রয়েছে বলেও প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে তার পারকিনসনস রোগ শনাক্ত হওয়ার পর আরও কিছু শারীরিক সমস্যার কথাও নথিতে উঠে এসেছে।    ঘটনার সময় মিনেসোটায় অভিবাসন তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। অপারেশন মেট্রো সার্জের আওতায় টুইন সিটিজ এলাকায় দুই হাজারের বেশি অভিবাসন কর্মকর্তা অভিযান চালিয়েছিলেন। এসব অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার এবং দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।    সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচনার মুখে রয়েছেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কাজমিয়ারচাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা এবং ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।    কাজমিয়ারচাক বৃহস্পতিবার সাজা পেলে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হবে। প্রসিকিউটরদের সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে কি না, নাকি আদালত ভিন্ন সাজা নির্ধারণ করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ঘটনাটি আবারও রাজনৈতিক সমাবেশে নিরাপত্তা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আলোচনাকে সামনে এনেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১১:৫
পৃথিবীর কক্ষপথ ও চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের আশপাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! মার্কিন সেনাদের সতর্ক করে ট্রাম্পের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা

সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামবিরোধী’, বিতর্কিত হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পাওয়ারবল লটারিতে ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল জ্যাকপট জিতে অবশেষে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন ইলিনয়ের এক ভাগ্যবতী বিজয়ী। ছবি: সংগৃহীত

ইলিনয়ে ২ ডলারের টিকিট কিনে ১.০৪ বিলিয়ন ডলার জিতলেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি, অবশেষে নিলেন পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিক শব্দকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। ছবি: সংগৃহীত
গাড়ির এই শব্দগুলো শুনলে সতর্ক হোন, না হলে বাড়তে পারে মেরামতের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় অস্বাভাবিক শোঁ শোঁ, কিচ কিচ, টক টক, গোঁ গোঁ বা ঠক ঠক শব্দকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু গাড়ির অস্বাভাবিক শব্দ অনেক সময় ব্রেক, স্টিয়ারিং, চাকা, ইঞ্জিন বা এক্সজস্ট ব্যবস্থার সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। সময়মতো পরীক্ষা না করালে ছোটখাটো সমস্যা বড় ধরনের মেরামতে গড়াতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ শুনেই নিশ্চিতভাবে একটি নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলা যায় না। গাড়ির মডেল ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী কারণ ভিন্ন হতে পারে।   ব্রেক চাপার সময় কিচ কিচ বা ঘষার মতো শব্দ হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। ব্রেকের শব্দের কারণ হতে পারে ব্রেক প্যাডের ক্ষয়, ধুলো বা অন্য কোনো যান্ত্রিক সমস্যা। আর ধাতব ঘষার মতো তীব্র শব্দ হলে দ্রুত ব্রেক সিস্টেম পরীক্ষা করানো উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএ-এর নথিতেও ব্রেক ব্যবহারের সময় বিভিন্ন ধরনের শব্দ ও কম্পনের বিষয় আলাদাভাবে পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।    স্টিয়ারিং ঘোরানোর সময় গোঁ গোঁ বা অস্বাভাবিক শব্দ হলেও তা অবহেলা করা ঠিক নয়। গাড়ির স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, ফ্লুইডের মাত্রা, পাম্প, বেল্ট বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে সমস্যা থাকলে এ ধরনের শব্দ হতে পারে। তবে শব্দ শুনেই পাওয়ার স্টিয়ারিং পাম্প নষ্ট হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এনএইচটিএসএ-এর গাড়ি পরিদর্শন সংক্রান্ত নথিতে স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, ফ্লুইডের মাত্রা এবং সম্ভাব্য লিক পরীক্ষা করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।    বাঁক নেওয়ার সময় সামনের দিক থেকে টক টক বা ক্লিক ক্লিক শব্দ হলেও দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। এ ধরনের শব্দ সামনের অ্যাক্সেল, সাসপেনশন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক অংশের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এনএইচটিএসএ-এর প্রযুক্তিগত নথিতে বাঁক নেওয়ার সময় স্টিয়ারিং ও সামনের অংশ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ, ক্লিক বা ক্লঙ্কের মতো আওয়াজকে সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে পরীক্ষা করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।    ইঞ্জিন থেকে টিক টিক বা ভারী ঠক ঠক শব্দ হলে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কম তেল, ইঞ্জিনের কোনো অংশের সমস্যা কিংবা অন্য যান্ত্রিক কারণে অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি চলার সময় হঠাৎ ভারী নকিংয়ের মতো শব্দ শুরু হলে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করানো ভালো। তেলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ করার পরামর্শ দেয় এনএইচটিএসএ।    গাড়ির এক্সজস্ট থেকে হঠাৎ অস্বাভাবিক গর্জন, গুঞ্জন বা বেশি শব্দ শোনা গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এক্সজস্ট সিস্টেমে লিক থাকলে শুধু শব্দ বাড়ে না, কার্বন মনোক্সাইড গাড়ির ভেতরেও জমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি বলছে, গাড়ির এক্সজস্ট সিস্টেমে ছোট একটি লিকও গাড়ির কেবিনে কার্বন মনোক্সাইড জমার কারণ হতে পারে। এই গ্যাস বর্ণহীন ও গন্ধহীন হওয়ায় বিপদ বুঝতে দেরি হতে পারে।    ব্রেক চাপলে বা গাড়ি চলার সময় স্টিয়ারিংয়ে কাঁপুনি অনুভূত হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। ব্রেকিংয়ের সময় কম্পনের সঙ্গে ব্রেক সিস্টেমের সমস্যা জড়িত থাকতে পারে। আবার বেশি গতিতে স্টিয়ারিং কাঁপলে টায়ার, চাকা, ব্যালেন্স, অ্যালাইনমেন্ট বা সাসপেনশনের মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে। এনএইচটিএসএ-এর নথিতে স্টিয়ারিং হুইল কাঁপা এবং বিভিন্ন গতিতে গাড়ির কম্পনকে আলাদা করে পরীক্ষা করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।    গাড়ি থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুরু হলে মোবাইলে শব্দটি রেকর্ড করে রাখা যেতে পারে। কখন শব্দ হচ্ছে, গাড়ি ঠান্ডা অবস্থায় নাকি গরম হওয়ার পর হচ্ছে, ব্রেক চাপলে বা বাঁক নেওয়ার সময় হচ্ছে কি না, সেটিও মেকানিককে জানানো উপকারী। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত মেকানিকের কাছ থেকে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া যেতে পারে। তবে অনলাইন বা বিনামূল্যের স্ক্যানকে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি পরীক্ষা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অস্বাভাবিক শব্দের সঙ্গে যদি ব্রেক কাজ করতে সমস্যা, স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, ধোঁয়া, পোড়া গন্ধ, তেল বা অন্য তরল লিক, ড্যাশবোর্ডে সতর্কতা বাতি কিংবা গাড়ি চালানোর সময় গুরুতর কম্পন দেখা দেয়, তাহলে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার বদলে নিরাপদ জায়গায় থামিয়ে পেশাদার সহায়তা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে এক্সজস্টে লিকের সন্দেহ থাকলে বিষয়টি দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি, কারণ গাড়ির ভেতরে কার্বন মনোক্সাইড জমার ঝুঁকি থাকতে পারে।    গাড়ির অস্বাভাবিক শব্দ সবসময় বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বোঝায় না। কিন্তু শব্দটি নতুন হলে, বারবার হলে বা গাড়ির আচরণে পরিবর্তনের সঙ্গে দেখা দিলে সেটিকে উপেক্ষা না করে কারণ খুঁজে বের করাই নিরাপদ। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সময়মতো পরীক্ষা করালে বড় ধরনের মেরামতের ঝুঁকি ও অপ্রত্যাশিত খরচ দুটোই কমানো সম্ভব। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১০:১
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভারতের পুরো কাস্টমার সাপোর্ট টিমকে মাত্র পাঁচ মিনিটের অনলাইন বৈঠকে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে ৮০ কর্মী ছাঁটাই! ভারতীয় পুরো টিমকে চাকরিচ্যুত

২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকানরা এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ধনী, দারিদ্র্যও নেমেছে রেকর্ড সর্বনিম্নে

সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের সহায়তার কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

0 Comments