অপরাধ কমে নিউইয়র্কে নতুন রেকর্ড, ২০২৬ সালকে ‘সবচেয়ে নিরাপদ বছর’ বলছে এনওয়াইপিডি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। সদ্য প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে শহরে গুলির ঘটনা ঘটেছে ৩৮১টি এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ১৪৯। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরকে ‘রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে নিরাপদ বছর’ হিসেবে উল্লেখ করছে এনওয়াইপিডি।
এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাই মাসে বড় ধরনের অপরাধ প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। নিউইয়র্কের পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকাতেই অপরাধের হার কমেছে। এর মধ্যে ব্রঙ্কসে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে সামগ্রিক চিত্র ইতিবাচক হলেও মেট্রো ট্রেন ও স্টেশনকেন্দ্রিক অপরাধ বেড়েছে। বিশেষ করে গুরুতর হামলা এবং চুরির ঘটনা বাড়ায় গণপরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, তথ্যভিত্তিক পুলিশি কৌশল, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত টহল এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তার ভাষায়, কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রম নিউইয়র্ককে আগের চেয়ে আরও নিরাপদ করেছে।
এটি হঠাৎ করে অর্জিত সাফল্য নয়। চলতি বছরের শুরু থেকেই মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে গুলির ঘটনা, গুলিবিদ্ধের সংখ্যা এবং হত্যাকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসেই শহরে ২ হাজার ৫০০টির বেশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং ডজনখানেক গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এসব পদক্ষেপই সহিংস অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে অপরাধের হার কমলেও সব ধরনের অপরাধ কমেনি। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যাও বেড়েছে, যার একটি বড় অংশ ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। তাই সামগ্রিক অপরাধ কমলেও গণপরিবহন ও নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধ দমনে আরও জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
এনওয়াইপিডি বলছে, রেকর্ড গড়া এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ হলেও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিউইয়র্ককে আরও নিরাপদ রাখতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এটিই তেহরানের জন্য “শেষ সুযোগ” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। এরপরই দেশটির নেতৃত্বকে “চরম ভণ্ডামিপূর্ণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং চলমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর এটিই ইরানের শেষ সুযোগ। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তেহরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে যে যোগাযোগ রয়েছে, তা কেবল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও নৌ-নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা পারমাণবিক আলোচনা হচ্ছে না। ইরানের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ইরানের নেতারা “চরম ভণ্ডামিপূর্ণ” আচরণ করছেন। তার অভিযোগ, একদিকে তারা গোপনে আলোচনার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নেই বলে দাবি করছে। একই পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের “ওয়াল অব স্টিল” নিরাপত্তা বলয় কার্যকর রয়েছে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়ে আসছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জর্জিয়ায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন কারখানা, তৈরি হবে ৫০০ কর্মসংস্থান
চাঁদকে ঘিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীর বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনা
অভিবাসন সুবিধায় কঠোর যাচাই শুরু, উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোর আবেদন আরও কড়াভাবে খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। সদ্য প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে শহরে গুলির ঘটনা ঘটেছে ৩৮১টি এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ১৪৯। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরকে ‘রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে নিরাপদ বছর’ হিসেবে উল্লেখ করছে এনওয়াইপিডি। এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাই মাসে বড় ধরনের অপরাধ প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। নিউইয়র্কের পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকাতেই অপরাধের হার কমেছে। এর মধ্যে ব্রঙ্কসে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে সামগ্রিক চিত্র ইতিবাচক হলেও মেট্রো ট্রেন ও স্টেশনকেন্দ্রিক অপরাধ বেড়েছে। বিশেষ করে গুরুতর হামলা এবং চুরির ঘটনা বাড়ায় গণপরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, তথ্যভিত্তিক পুলিশি কৌশল, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত টহল এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তার ভাষায়, কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রম নিউইয়র্ককে আগের চেয়ে আরও নিরাপদ করেছে। এটি হঠাৎ করে অর্জিত সাফল্য নয়। চলতি বছরের শুরু থেকেই মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে গুলির ঘটনা, গুলিবিদ্ধের সংখ্যা এবং হত্যাকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসেই শহরে ২ হাজার ৫০০টির বেশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং ডজনখানেক গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এসব পদক্ষেপই সহিংস অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে অপরাধের হার কমলেও সব ধরনের অপরাধ কমেনি। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যাও বেড়েছে, যার একটি বড় অংশ ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। তাই সামগ্রিক অপরাধ কমলেও গণপরিবহন ও নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধ দমনে আরও জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এনওয়াইপিডি বলছে, রেকর্ড গড়া এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ হলেও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিউইয়র্ককে আরও নিরাপদ রাখতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
রূপপুরে মদ্যপ অবস্থায় দুই রুশ নাগরিকের মারামারি,নিহত ১
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে খাদ্য সহায়তা হারানো পরিবারকে ৪০০ ডলার দেবে রাজ্য সরকার
ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগী পরিবারকে মাসে অতিরিক্ত ৬০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান আন্তোনিও শহরে নিখোঁজ হওয়ার পর দুই বছরের এক শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে খুঁজে বের করতে রোববার তার নামে অ্যাম্বার অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, শিশুটির নাম আরিয়ানা ট্রেভিনো মার্টিনেজ। নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর তাকে উদ্ধারে জরুরি তল্লাশি শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়। সোমবার ভোরে সর্বশেষ যেখানে শিশুটিকে দেখা গিয়েছিল, সেই বাড়ির কাছ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশ বলেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আগে নিজ খরচ বহনের সামর্থ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ মার্কিন কর্তৃপক্ষের
জর্জিয়ায় ফ্লক ক্যামেরা অপব্যবহারের অভিযোগে ছয় পুলিশ কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হলো