টেক্সাসে ১১২ মাইল গতির বিএমডব্লিউর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত প্রবীণ দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাককিনি শহরে অবৈধ স্ট্রিট রেসিং বা রাস্তায় গাড়ির প্রতিযোগিতার এক মর্মান্তিক পরিণতি সামনে এসেছে। ড্যাশবোর্ড ক্যামেরায় ধরা পড়া ভয়ংকর এক ভিডিওর সূত্র ধরে জানা যায়, রাস্তায় নিজেদের ইগো বা অহংকার দেখাতে গিয়ে শুরু হওয়া এই গতির লড়াই শেষ হয়েছে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন এক নিরীহ প্রবীণ দম্পতি। গত ১৭ জুলাই ঘটা এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার পর সন্দেহভাজন এক চালকের গাড়ির ড্যাশকাম ফুটেজ ব্যবহার করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় তদন্তকারীরা। ফক্স ৪ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের এক সাম্প্রতিক সম্প্রচারে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্র্যাজেডিটি ঘটে শহরের কাস্টার রোড এবং বেডফোর্ড লেনের সংযোগস্থলে। পুলিশের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থেকে জানা যায়, ৫১ বছর বয়সী জেমস আরমন্ট তার ২০২১ মডেলের বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়ি নিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিলেন। তার ঠিক পাশেই ছিল ২২ বছর বয়সী ব্রেডেন মসের একটি গাঢ় রঙের টেসলা গাড়ি। সিগন্যাল ছাড়ার সাথে সাথেই টেসলা গাড়িটি তীব্র বেগে ছুটে গেলে আরমন্টের ড্যাশক্যামে তার ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া ধরা পড়ে। ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায়, "তুমি কি আমার রেসিং টায়ারের সাথে রেস করার চেষ্টা করছ? মজা করছ নাকি!" তদন্তকারীরা জানান, ভিডিওতে আরমন্টকে পাগলের মতো হাসতে হাসতে টেসলাটিকে ধরার জন্য বেপরোয়াভাবে গাড়ির গতি বাড়াতে দেখা যায়।
শহরের রাস্তার ওপর দিয়ে দুটি গাড়ি যখন উড়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ৭৭ বছর বয়সী উইলিয়াম লাজারাস এবং তার স্ত্রী ৭৭ বছর বয়সী সান্দ্রা লাজারাসকে বহনকারী একটি রুপালি রঙের হুন্দাই এসইউভি (SUV) রাস্তায় প্রবেশ করে। টেসলা গাড়িটি কোনোমতে এসইউভিটিকে এড়িয়ে যেতে পারলেও, আরমন্টের বিএমডব্লিউ গাড়িটি সোজা গিয়ে হুন্দাইয়ের যাত্রীর দিকের অংশে সজোরে ধাক্কা মারে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ৫০ মাইল গতির ওই জোনে দুর্ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তে বিএমডব্লিউটির গতি ছিল ঘণ্টায় বিস্ময়কর ১১২ মাইল। ভয়াবহ এই দৃশ্য দেখে ছুটে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের জানান, সেখানে কোনো ব্রেক করার শব্দ বা গাড়ির চাকা পিছলে যাওয়ার (স্কিড) চিহ্ন ছিল না, কেবল পরপর কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল। ঘটনাস্থলেই উইলিয়াম ও সান্দ্রা লাজারাসকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই দম্পতি অ্যালেন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের দীর্ঘদিনের কর্মী ছিলেন এবং স্থানীয় কমিউনিটিতে অত্যন্ত প্রিয় মুখ ছিলেন।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ফলে আরমন্ট তার নিজের গাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েন। তার মুখের হাড়, লিভার ও প্লীহা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উরুর হাড় ভেঙে যায়। হাসপাতালে সংক্ষিপ্ত চিকিৎসার পর ২১ জুলাই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। কলিন কাউন্টির জেল রেকর্ড অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি নরহত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং প্রতিটি অভিযোগের জন্য ৭৫ হাজার ডলার করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, টেসলার চালক ব্রেডেন মস গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরপরই কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
তার বিরুদ্ধেও সড়কে অবৈধ রেস করে মৃত্যু বা আঘাতের কারণ হওয়ার দুটি গুরুতর অভিযোগ (ফেলোনি) আনা হয়েছে। ড্যাশক্যামের এই ভয়ংকর ভিডিওটি একটি নির্মম সতর্কবার্তা যে, পাবলিক রাস্তায় নেওয়া একটি বেপরোয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো দুই ডিপোর্টিকে দেশটির পুলিশ মাথায় বস্তা পরিয়ে, হাত-পা বেঁধে এবং অস্ত্র দিয়ে মারধর করে সিঁড়ি দিয়ে ঠেলে নামিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তাদের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর মালাবোর কাছে একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই হোটেলটিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ডিপোর্টিদের আটক রাখার কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। অভিযোগের শিকার দুই ব্যক্তি হলেন মিশরের নাগরিক আহমেদ সোলিমান এবং ইরিত্রিয়ার নাগরিক স্যামসন বিরহানে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর বসবাসের পর ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট কর্মসূচির আওতায় ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে মালাবোর লা লুনা পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পুলিশ স্টেশনে নেওয়ার পর তারা দুই ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না। আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে সোলিমান ও বিরহানে আটককেন্দ্রে থাকা মানুষের জীবনযাপন এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে বাইরে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। হোটেলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে হোটেলের একটি আয়না ভাঙার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তবে তাদের আইনজীবীরা বলছেন, গ্রেপ্তার ও পরবর্তী নির্যাতনের পেছনে মূল কারণ ছিল আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কথা বলা। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়েছে, পুলিশ দুই ব্যক্তির মাথায় বস্তা পরিয়ে হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে। এরপর তাদের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা এবং সিঁড়ি দিয়ে ঠেলে নামানোর ঘটনা ঘটে। অন্য আটক ডিপোর্টিরা ঘটনাটি দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় পুলিশ তাদের মোবাইল ফোনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ওই হোটেলে মার্কিন ডিপোর্টিদের সঙ্গে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পুলিশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের অভিবাসীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করতে দেখা যায়। ঘটনাটি মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে ওই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা ভিডিও দেখে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মালাবো শহরের বামি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা অভিবাসীদের রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট সংক্রান্ত একটি চুক্তির আওতায় তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার আওতায় ৪০ জনের বেশি মানুষকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকির কথা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে জানিয়েছিলেন। এই ধরনের ব্যবস্থাকে তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট বলা হয়। এতে কোনো অভিবাসীকে সরাসরি তার নিজ দেশে না পাঠিয়ে অন্য একটি দেশে পাঠানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ডিপোর্টের জন্য আইনসম্মত বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি আইসিইর হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার দায়িত্বও আইসিইর ওপর থাকে না। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট করার এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য, নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অন্য দেশে পাঠানো হলে তাদের সুরক্ষা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সোলিমান ও বিরহানেকে আটক করার ঘটনাটি তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তারা মানবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন। বামি হোটেলে থাকা ডিপোর্টিদের অভিযোগের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া, আইনি সহায়তায় বাধা এবং খাবার ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার ঘাটতির বিষয়ও রয়েছে। এর আগে সেখানে পুলিশের সহিংস আচরণের আরও অভিযোগ সামনে এসেছে। আইনজীবীদের একটি জোট জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে মুখোশধারী পুলিশ কয়েকটি কক্ষে ঢুকে কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরায় এবং অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয়। এদিকে সোলিমান ও বিরহানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাদের আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের লা লুনা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছে বলে জানা গেলেও, আইনজীবীরা জানিয়েছেন তারা দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আটক ডিপোর্টিদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ, জ্যাকসন হাইটসে বাড়ল পুলিশ
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ভেনেজুয়েলার ডোরড্যাশ চালক আহত, তদন্তের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)-এর বিতর্কিত নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো জবাব দেননি বর্তমান প্রার্থী নিথিয়া রামন। আর তাঁর এই নীরবতার সুযোগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ প্রোটেকটিভ লিগ (এলএপিপিএল)। ৮ হাজার ৭০০ জন পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিনিধিত্বকারী এই ইউনিয়নের মুখপাত্র টম সাগাউ অভিযোগ করেছেন, নিথিয়া ও তাঁর উগ্র সমর্থকরা মূলত "ভেড়ার ছদ্মবেশে নেকড়ে"। সাগাউয়ের মতে, তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছে। ডিএসএ-এর সাথে মিলে শহর পরিচালনার গোপন বোঝাপড়া থাকার কারণেই তারা নিথিয়াকে সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ইউনিয়ন। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর পক্ষ থেকে নিথিয়া রামনের প্রচার শিবিরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তিনি ডিএসএ-এলএ-এর ১৬টি নীতি প্রস্তাবের সাথে একমত কি না। এসব নীতির মধ্যে পুলিশের বাজেট কমানো, কারাগার বন্ধ করা এবং মাদক ব্যবহারকে অপরাধের আওতামুক্ত করার মতো বিতর্কিত বিষয় রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন ব্যাসের বিপক্ষে তিনি লড়ছেন, অথচ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও রামনের প্রচার শিবির এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ডিএসএ-এর অন্যান্য নীতিগুলোর মধ্যে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ডাকে সশস্ত্র পুলিশের বদলে নিরস্ত্র কর্মী পাঠানো, ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন বাজেয়াপ্ত করা, সর্বজনীন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং খালি পড়ে থাকা বাড়ির মালিকদের ওপর কর আরোপ করার মতো প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া তারা স্থানীয় নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়ারও পক্ষে। নিথিয়া রামনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ডিএসএ-এর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে প্রথমবার সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার সময় সংস্থাটি তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল এবং ২০২৬ সালের মেয়র নির্বাচনেও তারা তাঁর পাশে রয়েছে। যদিও মে মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে 'পুলিশের বাজেট কমানো'র আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিথিয়া। কিন্তু সম্প্রতি তিনি এলএপিডি-এর সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধমূলক হুমকি দমনের একটি গোয়েন্দা কর্মসূচিতে ১ লাখ ডলারের অর্থায়নের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অবশ্য পুলিশের উত্তেজনা প্রশমন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের একটি তহবিলের পক্ষেও ভোট দিয়েছেন তিনি। তবে স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টারের ৫০০ ফুটের মধ্যে গৃহহীনদের তাঁবু খাটানো নিষিদ্ধ করার আইনের বিরোধিতা করায় তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এদিকে পুলিশ ইউনিয়নের আয়োজিত বেশ কয়েকটি ফোকাস গ্রুপে ডিএসএ-এর নীতিগুলো সম্পর্কে জানার পর সাধারণ ভোটাররা চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে 'ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন বাজেয়াপ্ত' করার প্রস্তাবটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করেছে। সিটি কাউন্সিলের সদস্য ট্রেসি পার্ক ও স্থানীয় নেতা নিকো রুডারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়িত হলে শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। অতীতে এ ধরনের নীতি প্রয়োগের ফলে শহরের ওয়েস্টসাইড এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। পুলিশ ইউনিয়ন আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিএসএ-এর এসব নীতিকে প্রচারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই তারা সাত পৃষ্ঠার একটি ভোটার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তুলে ধরতে নতুন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচারের পরিকল্পনা করছে।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর
মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ১০৫ থেকে বেড়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার, বোঝা গ্রাহকদের ঘাড়ে
২০২৮ নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা অনিশ্চিত, ৮ সাবেক সহকারীর ৫ জনের মত ‘লড়বেন না’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ও আগ্রাসী মন্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি পুরো ইরানকে "উড়িয়ে দেওয়ার" কথা বিবেচনা করছেন। গত রোববার ক্যাম্প ডেভিডে ছুটি কাটানোর মাঝপথে তড়িঘড়ি করে হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ইরানের সামনে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্পের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, হয় ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে, অথবা তিনি দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেবেন, আর না হয় পুরো দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। সাক্ষাৎকারে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেন, "আমার প্রশ্ন হলো—কখন এবং কীভাবে আমি পুরো দেশটিকে উড়িয়ে দেব? তাদের বরং সতর্ক থাকা উচিত"। তাঁর এই হুমকির ঠিক এক দিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় একটি বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। সেখানে মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পাশাপাশি হঠাৎ বিমান বাতিল বা আকাশপথ বন্ধের মতো পরিস্থিতির বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছিল। এদিকে, চলতি সপ্তাহেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। এই অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে আলোচনার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি হয়তো এমন কোনো বৈঠকের বিষয়ে সম্মত হতে পারেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এমন হুমকির পর কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এক কঠোর বার্তায় তারা জানিয়েছে, যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর কোনো বাছবিচার ছাড়াই লাগাতার ও যন্ত্রণাদায়ক হামলা চালানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপানে ক্যানসার মৃ ত্যু ৩৩ বছরে দ্বিগুণ, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি
টিকা না নেওয়া ব্যক্তির ট্রেন-বাস ভ্রমণ, ছয় কাউন্টিতে হামের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি