গ্রিন কার্ড নিয়ে বাংলাদেশে কতদিন থাকা নিরাপদ, দেশে যাওয়ার আগে যে নিয়মগুলো জানা জরুরি
গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় কাটাতে চান অনেক প্রবাসী। কেউ কয়েক মাস থাকেন, কেউ আবার প্রায় পুরো বছর। কিন্তু শুধু বৈধ গ্রিন কার্ড হাতে থাকলেই যতদিন ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা যায় না। দীর্ঘ অনুপস্থিতি আপনার পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস এবং ভবিষ্যতের সিটিজেনশিপ আবেদন দুটিতেই প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রিন কার্ডধারীর যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রধান বাসস্থান হিসেবে বজায় রাখার উদ্দেশ্য থাকতে হবে। কতদিন বাইরে ছিলেন, তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপনার বাস্তব সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ছয় মাসের কম সময় বাংলাদেশে থাকলে সাধারণত সেটিকে স্বাভাবিক বিদেশ ভ্রমণ হিসেবে দেখা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ছয় মাসের কম থাকলেই কোনো পরিস্থিতিতে প্রশ্ন করা যাবে না। একজন গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার ইচ্ছা ত্যাগ করেছেন কি না, তা নির্ধারণে ভ্রমণের সময়ের পাশাপাশি তার চাকরি, বাড়ি, পরিবার, ট্যাক্স রিটার্ন ও অন্যান্য সম্পর্কও বিবেচনায় আসতে পারে।
একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেশে ফেরার সময় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের অফিসার আপনার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইতে পারেন। একই সঙ্গে সিটিজেনশিপের ক্ষেত্রে ছয় মাসের বেশি অনুপস্থিতি আপনার কন্টিনিউয়াস রেসিডেন্স বজায় ছিল কি না, সে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এ কারণে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বা লিজ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, চাকরি বা ব্যবসার তথ্য, ড্রাইভার লাইসেন্স, পরিবারের অবস্থান এবং অন্যান্য আর্থিক ও সামাজিক সম্পর্কের প্রমাণ কাজে আসতে পারে।
এক বছর বা তার বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর। সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড এক বছরের কম সময়ের বিদেশ ভ্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ট্রাভেল ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক বছরের বেশি বাইরে থাকলে শুধু গ্রিন কার্ড দেখিয়ে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
এ ধরনের দীর্ঘ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগেই রি এন্ট্রি পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়। এটি সাধারণত ফর্ম আই ১৩১ এর মাধ্যমে আবেদন করা হয়। বৈধ রি এন্ট্রি পারমিট থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দুই বছর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আবেদন করা সম্ভব হতে পারে।
তবে রি এন্ট্রি পারমিট থাকলেই গ্রিন কার্ড স্ট্যাটাস শতভাগ সুরক্ষিত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এটি মূলত দেখাতে সাহায্য করে যে গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রের পার্মানেন্ট রেসিডেন্স ত্যাগ করার পরিকল্পনা করেননি। চূড়ান্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে।
কেউ যদি এক বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন এবং তার কাছে বৈধ রি এন্ট্রি পারমিট না থাকে, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং রেসিডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এজন্য দেখাতে হয় যে বিদেশে দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণটি আবেদনকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসস্থান ত্যাগ করেননি।
গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে সিটিজেনশিপ। সাধারণ পাঁচ বছরের নিয়মে ন্যাচারালাইজেশনের জন্য আবেদন করতে চাইলে আবেদন করার আগের পাঁচ বছরে অন্তত ৩০ মাস বা ৯১৩ দিন যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার নিয়ম রয়েছে। একই সঙ্গে কন্টিনিউয়াস রেসিডেন্সের শর্তও আলাদাভাবে পূরণ করতে হয়।
একটানা ছয় মাসের বেশি বিদেশে থাকলে কন্টিনিউয়াস রেসিডেন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আর সাধারণভাবে এক বছর বা তার বেশি সময়ের একটানা বিদেশ অবস্থান সিটিজেনশিপের জন্য প্রয়োজনীয় কন্টিনিউয়াস রেসিডেন্স ভেঙে দিতে পারে, যদিও আইনে কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে।
তাই প্রতি বছর পাঁচ বা ছয় মাস বাংলাদেশে থাকলেই গ্রিন কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, এমন কোনো সরল নিয়ম নেই। আবার ছয় মাসের কম থাকলেই সব ক্ষেত্রে নিশ্চিন্ত থাকা যাবে, সেটিও ঠিক নয়। মূল বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রকে আপনার স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে বজায় রাখা এবং আপনার ভ্রমণের ধরন যেন সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে নিজের ভ্রমণের সময়কাল, রি এন্ট্রি পারমিটের প্রয়োজন, ট্যাক্স ফাইলিং এবং ভবিষ্যতের সিটিজেনশিপ পরিকল্পনা বিবেচনা করা জরুরি। জটিল বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের জন্য। ব্যক্তিগত ইমিগ্রেশন পরিস্থিতিতে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবহুল আলোচিত হত্যা মামলার বিচারকার্য চলাকালে নিহত স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনের ময়নাতদন্তের বীভৎস বর্ণনা শুনে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ তারকা ক্যালেব ফ্লিন। সোমবার আদালতে তার স্ত্রীর মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ছবি ও আঘাতের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন চিকিৎসক, যা শুনে আসামির কাঠগড়ায় থাকা ক্যালেব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করেন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মন্টগোমারি কাউন্টির ডেপুটি করোনার ও প্যাথলজিস্ট ডা. ব্রায়ান কাস্টো অ্যাশলির মৃতদেহের ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, মৃতদেহটি পরিষ্কার করার আগে তোলা ছবিতে চুল, রক্ত ও মগজ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা মূলত মাথার ডান দিকের পেছনে লাগা দুটি বুলেটের আঘাতের কারণে হয়েছিল। এছাড়া মৃতদেহ পরিষ্কার করার পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তোলা আরেকটি ছবিতে অ্যাশলির মাথার সামনের দিকের খুলিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা যায়। ডা. কাস্টো জানান, ওই ফাটলটি মাথা ফুঁড়ে দুটি বুলেট বেরিয়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়েছিল এবং ছবিতে তার বাম চোখটি আঘাতের কারণে কালচে দেখাচ্ছিল। প্যাথলজিস্টের বর্ণনায় আরও উঠে আসে যে, নিহতের মুখমণ্ডলে হাড়ের টুকরো এবং দুই হাতে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। এই রোমহর্ষক ও বীভৎস বর্ণনা শুনে ক্যালেব ফ্লিন এবং তার পেছনে গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই এ সময় হতাশা ও শোকে মাথা নাড়তে থাকেন। তবে আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সেই ভয়াবহ ছবিগুলো এজলাসে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গু লি, দুই বছর পর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হা মলাকারী
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বললেন জেডি ভ্যান্স
ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে চীনের প্রভাব? মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ ডলার অনুদান
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে নাভাহো নেশন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশু, তার দাদি এবং তাদের এক পারিবারিক বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- এলসি, তার নাতনি লুসি অ্যালিসন মাইক এবং তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসা বন্ধু ডোরা ফ্রাঙ্কলিন। পারিবারিক সূত্র জানায়, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর লুসির অষ্টম জন্মদিন উদযাপনের কথা ছিল। সেদিন জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে তারা ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নিউকম্ব এলাকার কাছে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে তাদের গাড়িটি কাদায় আটকে যায়। এসময় লুসির মা কালিসি হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দিলেও, লুসি ও তার দাদি গাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে তারা এবং তাদের সাহায্য করতে ছুটে আসা বন্ধু ডোরা ফ্রাঙ্কলিন বন্যার পানির স্রোত পার হওয়ার চেষ্টা করলে প্রবল তোড়ে ভেসে যান। পরদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্যার পানিতে কয়েকজন ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে নাভাহো পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার যৌথ তল্লাশির পর এক শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নাভাহো নেশনের প্রেসিডেন্ট বুউ নিগ্রেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশের কোনো ভাষা নেই, তিনটি প্রাণ হারানোর খবরে পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে শোকাহত। এদিকে, নাভাহো নেশন জুড়ে বর্তমানে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সান জুয়ান নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি পরিবারকে এরই মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলমান এই বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি এড়াতে বাসিন্দাদের মধ্যে বালির বস্তা বিতরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসে ৬০ লাখ ডলারের নতুন হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন ট্রাম্পের, কিন্তু সম্প্রচারে নেই কোনো টিভি নেটওয়ার্ক
টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড
অসহায় বৃদ্ধের সাড়ে ৩ লাখ ডলারের বাড়ি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, ফ্লোরিডায় নারী গ্রেপ্তার!
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে ২০২১ সালে সরিয়ে নেওয়া ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামের সম্মানসূচক সড়ক নামফলক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করা হবে। ২০২১ সালের ২০ জুন বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ লেখা একটি সম্মানসূচক সড়ক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছিল। ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কয়েক শ বাংলাদেশি-আমেরিকান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ড স্টেট ডেলিগেট রবিন টি. লুইস নামফলকটি উন্মোচন করেন। স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এতে অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ ও মোহাম্মদ কাজলকে ধন্যবাদ জানান। তবে নামফলক উন্মোচনের কয়েক মাসের মধ্যেই এর নামকরণ নিয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে নামটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আপত্তিকারীদের বক্তব্য ছিল, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের একজন সামরিক শাসক ছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ সম্মানসূচক নামফলকটি সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে, মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতারা নামফলক অপসারণের উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে নামটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নামফলক অপসারণের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের প্রত্যেকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সমসাময়িক প্রতিবেদনে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানানো এবং নামফলক সরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নতুন করে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাজা মোহাম্মদ কাজল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান তারা। অর্থাৎ নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপির। তবে সড়কটির সম্মানসূচক নাম পুনরায় স্থাপন করা হবে কি না, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য আইন, নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার এককভাবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
এআইয়ের ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ, আটকে গেল ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ৪৫ প্রকল্প
গ্রিনল্যান্ডে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা চুক্তি, বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি