মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত ১০ জন সহপাঠীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি গোপনে তুলে লন্ডনে অবস্থানরত এক যুবকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীরা ঘটনাটিকে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীদের ভাষ্য, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে লন্ডনে থাকা আবিদ নামে এক যুবকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তাদের অভিযোগ, হলের কক্ষ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত পরিসরে সহপাঠীরা যখন স্বাভাবিক ও অসতর্ক অবস্থায় থাকতেন, তখন তাদের অজান্তে ছবি তোলা হতো এবং পরে সেগুলো ওই যুবকের কাছে পাঠানো হতো।
শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলকে নিরাপদ ব্যক্তিগত পরিসর মনে করেই তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুমন্ত অবস্থায়, টি শার্ট পরা, ওড়না ছাড়া কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্তে থাকা ছাত্রীদের ছবি তোলা হয়েছে। এমনকি বাইরে নিয়মিত বোরকা ও নিকাব পরেন এমন ছাত্রীদেরও হলের ভেতরের ব্যক্তিগত ছবি ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ঘটনাটি সামনে আসে অভিযুক্ত ছাত্রী ও ওই যুবকের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর। ভুক্তভোগীদের দাবি, এরপর ওই যুবক কিছু ছবি হলের অন্য ছাত্রীদের মেসেঞ্জারে পাঠান। বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন ছাত্রী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুবকটি দাবি করেন যে ছবিগুলো অভিযুক্ত ছাত্রীই তাকে পাঠিয়েছিলেন। তবে এসব ছবি আর কারও কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের সামনে অভিযুক্ত ছাত্রী ছবি তোলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে তার বক্তব্য ছিল, কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য বা বিকৃত আনন্দের জন্য নয়, বরং নিজের ভাষায় ‘কমনসেন্সের অভাবে’ তিনি এমন কাজ করেছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন দাবি তুলেছেন। ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ছবিগুলোর বর্তমান অবস্থান নিয়ে। ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন, ব্যক্তিগত ছবিগুলো অন্য কারও কাছে পৌঁছে থাকতে পারে বা ভবিষ্যতে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে তারা দ্রুত ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট ডিভাইস ও অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা এবং ছবিগুলো কোথায় কোথায় পাঠানো হয়েছে তা শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শেখ হাসিনা হলের নাম ২০২৫ সালে পরিবর্তন করে জুলাই ৩৬ হল রাখা হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোর একটি।
ঘটনাটি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষার্থী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে দায়ী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে হলের মতো ব্যক্তিগত ও নিরাপদ বলে বিবেচিত স্থানে অনুমতি ছাড়া ছবি ধারণ এবং সেগুলো অন্যের কাছে পাঠানোর অভিযোগ সামনে আসায় ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত ১০ জন সহপাঠীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি গোপনে তুলে লন্ডনে অবস্থানরত এক যুবকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীরা ঘটনাটিকে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীদের ভাষ্য, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে লন্ডনে থাকা আবিদ নামে এক যুবকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তাদের অভিযোগ, হলের কক্ষ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত পরিসরে সহপাঠীরা যখন স্বাভাবিক ও অসতর্ক অবস্থায় থাকতেন, তখন তাদের অজান্তে ছবি তোলা হতো এবং পরে সেগুলো ওই যুবকের কাছে পাঠানো হতো। শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলকে নিরাপদ ব্যক্তিগত পরিসর মনে করেই তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুমন্ত অবস্থায়, টি শার্ট পরা, ওড়না ছাড়া কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্তে থাকা ছাত্রীদের ছবি তোলা হয়েছে। এমনকি বাইরে নিয়মিত বোরকা ও নিকাব পরেন এমন ছাত্রীদেরও হলের ভেতরের ব্যক্তিগত ছবি ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ঘটনাটি সামনে আসে অভিযুক্ত ছাত্রী ও ওই যুবকের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর। ভুক্তভোগীদের দাবি, এরপর ওই যুবক কিছু ছবি হলের অন্য ছাত্রীদের মেসেঞ্জারে পাঠান। বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন ছাত্রী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুবকটি দাবি করেন যে ছবিগুলো অভিযুক্ত ছাত্রীই তাকে পাঠিয়েছিলেন। তবে এসব ছবি আর কারও কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের সামনে অভিযুক্ত ছাত্রী ছবি তোলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে তার বক্তব্য ছিল, কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য বা বিকৃত আনন্দের জন্য নয়, বরং নিজের ভাষায় ‘কমনসেন্সের অভাবে’ তিনি এমন কাজ করেছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন দাবি তুলেছেন। ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ছবিগুলোর বর্তমান অবস্থান নিয়ে। ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন, ব্যক্তিগত ছবিগুলো অন্য কারও কাছে পৌঁছে থাকতে পারে বা ভবিষ্যতে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে তারা দ্রুত ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট ডিভাইস ও অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা এবং ছবিগুলো কোথায় কোথায় পাঠানো হয়েছে তা শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শেখ হাসিনা হলের নাম ২০২৫ সালে পরিবর্তন করে জুলাই ৩৬ হল রাখা হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোর একটি। ঘটনাটি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষার্থী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে দায়ী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে হলের মতো ব্যক্তিগত ও নিরাপদ বলে বিবেচিত স্থানে অনুমতি ছাড়া ছবি ধারণ এবং সেগুলো অন্যের কাছে পাঠানোর অভিযোগ সামনে আসায় ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে, নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, মিলবে প্রায় ১ কোটি টাকা
একই সঙ্গে হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ডে ভর্তির সুযোগ, নজির গড়লেন মিফতাহুল জান্নাত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মেধাবী তরুণ নাথান থমাস মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে কলেজে অধ্যাপনা শুরু করে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ৩০৬ বছর ধরে অটুট থাকা একটি বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তার এই অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। নাথান ২০২৩ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ডেড কলেজে প্রকৌশল বিভাগের ‘সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ কোর্স পড়ানো শুরু করেন। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন। এর ফলে তিনি ১৭১৭ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হওয়া স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের ৩০৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন। শুধু পুরুষদের রেকর্ডই নয়, নাথান বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন। তিনি ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে অধ্যাপক হওয়া আলিয়া সাবুরের রেকর্ডও ১৬ দিন কম বয়সে অতিক্রম করেন। নাথানের অসাধারণ শিক্ষাজীবন শুরু হয় খুব অল্প বয়সেই। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি মিয়ামি ডেড কলেজে ভর্তি হন। এরপর ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে ২১ বছর বয়সী নাথান অনলাইনে প্রকৌশল পড়ানোর পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব মায়ামিতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) আইন নিয়ে কাজ করতে চান।
ঢাবির শিক্ষক বরখাস্তে নতুন মোড়! স্বচ্ছ তদন্তের দাবি যুক্তরাজ্যের
চুরি ও গবেষণা অনিয়মে প্রত্যাহার ৩২৫ বাংলাদেশি গবেষণাপত্র, প্রশ্নের মুখে গবেষণার মান
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি কেন জনপ্রিয়? সম্ভাবনা ও বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলারের নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর কাজ করার অন্যতম প্রধান সুযোগ ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং কর্মসূচিতে অংশ নিতে এই অর্থ দিতে হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এই ফি আরোপের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) পর্যালোচনা করছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৈধ অভিবাসন আরও সীমিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। ওপিটি কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর নিজ নিজ বিষয়ে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পান। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে স্নাতকদের জন্য এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার বড় আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী ওপিটির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ফি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় নাকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান- কে বহন করবে, সে বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে ডিএইচএস ওপিটি কর্মসূচির নিয়মকানুন পুনর্গঠনের জন্য একটি বিস্তৃত নীতিমালাও প্রস্তুত করছে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হতে পারে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো নীতিকেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। সংস্থাটি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি, গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের দক্ষ জনবল নিয়োগেও পড়তে পারে। অন্যদিকে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলোর দাবি, বর্তমান ওপিটি কর্মসূচি কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীদের কম খরচে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রেও ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। নতুন প্রস্তাবটি সেই নীতির বিকল্প হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও ওয়াশিংটনজুড়ে আলোচনা চলছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়