নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় জড়িত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, জামিন ৭৫ হাজার ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় ‘গেটওয়ে ড্রাইভার’ বা পালানোর গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। জেনিফার ল্যাকার্ড (৪৯) নামের ওই নারী কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে চুপচাপ জামিন লাভ করেন। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের কৌঁসুলি এবং আদালতের নথিপত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে তিনি মুক্তি পেলেও তার ‘স্লাটি গ্যাং’-এর সদস্য ছেলে চেস ল্যাকার্ড (২০) এবং সাবেক সাজাপ্রাপ্ত স্বামী জেমস ল্যাকার্ড (৪৯) এখনও কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ল্যাকার্ড পরিবারের এই তিন সদস্য গত ২৯ জুন ব্রঙ্কসে একটি ‘ড্রাইভ-বাই শুটিং’ বা চলন্ত গাড়ি থেকে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।
ইস্ট ১৬১ নম্বর সড়ক ধরে ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামের খুব কাছেই এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মা জেনিফার ও বাবা জেমস একটি ক্রাইসলার প্যাসিফিকা মিনিভ্যান চালিয়ে তাদের ছেলেকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। এরপর ছেলে চেস ল্যাকার্ড গাড়ির জানালা নামিয়ে এক প্রতিপক্ষের ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালান। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ছেলে চেসের একটি মামলার শুনানির ঠিক কয়েক মিনিট পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার আগে মা জেনিফার তার ছেলেকে টেক্সট করে লিখেছিলেন, "তুমি শুধু সরাসরি বাইরে বসে থাকতে পারো না। এর জন্য সঠিক সময় মেলাতে হবে।" এই ঘটনার পর জেনিফার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হলে, মাউন্ট ভার্নন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে জেনিফারকে বরখাস্ত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে মেমোরিয়াল ডে-তে একটি হোটেলের সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়ার প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় পর দুই বছর বয়সী শিশু অ্যানেলিস ক্যাম্পের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লাইফ সাপোর্টে দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত সোমবার সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। তার বাবা জনস্টন এবং মা জয় ক্যাম্প চিকিৎসায় তহবিল সংগ্রহের ওয়েবসাইট ‘গো-ফান্ড-মি’ পেজে এক আবেগঘন বার্তায় মেয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তারা লিখেছেন, তাদের হৃদয় ভেঙে গেলেও তারা বিশ্বাস করেন অ্যানেলিস এখন ঈশ্বরের কাছে শান্তিতে আছে। দুর্ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে শিশুটির বাবা এর আগে জানিয়েছিলেন, মেমোরিয়াল ডে-র ছুটিতে অ্যানেলিস নিজের লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলে দুর্ঘটনাবশত হোটেলের সুইমিংপুলে নেমে যায়। পরে তার ১২ বছর বয়সী কাজিন তাকে পুলের তলদেশে পড়ে থাকতে দেখে। সেখান থেকে উদ্ধারের পর শিশুটির হৃৎস্পন্দন ফিরে আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে টেক্সাস চিলড্রেনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসার একপর্যায়ে এই ঘটনাটি একটি আইনি লড়াইয়ের জন্ম দেয়। চিকিৎসকরা যখন ধারণা করেন যে অ্যানেলিস ‘ব্রেন-ডেড’, তখন তারা সেই অনুযায়ী পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। টেক্সাসের আইন অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্ট খুলে নিতে পারেন। কিন্তু শিশুটির বাবা-মা তাদের দৃঢ় ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘ব্রেন-ডেড’ পরীক্ষা ঠেকাতে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে এবং টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও শিশুটির বাবা-মায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের এই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ান। পরবর্তীতে জুন মাসের শেষের দিকে অ্যানেলিসকে লুইজিয়ানার অচসনার চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে হাইপারবারিক অক্সিজেন ও স্টেম সেল চিকিৎসার মতো উন্নত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে তাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করছিল পরিবার। কিছুদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় শিশুটি। তার চিকিৎসায় খোলা তহবিল সংগ্রহের পেজটিতে এরই মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে। আগামী বুধবার হিউস্টনের একটি ব্যাপটিস্ট চার্চে অ্যানেলিসের স্মরণে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় জড়িত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, জামিন ৭৫ হাজার ডলারে
বয়সের ৬১ বছরের ব্যবধান, ৮৫ বছরের স্বামীর সন্তানের মা হতে চান ২৪ বছরের তরুণী
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজত থেকে মুক্তির পর তীব্র শীতে জমে ড্যাফি মিশেল (৩১) নামের এক হাইতিয়ান অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বাড়ি থেকে বহুদূরে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে এবার মার্কিন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার পরিবার। গত ১ মার্চ স্টেশন স্কোয়ারের একটি বাস শেল্টারের কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইউএসএ টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যালেগেনি কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার অফিস এই মৃত্যুকে ‘হাইপোথার্মিয়া’ বা তীব্র ঠান্ডাজনিত কারণে ঘটা ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। নিহত মিশেলের পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী জোসেফ মার্ফি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করবেন। মিশেল বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং আশ্রয়ের আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত মামলার কারণেই তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মানসিক ভারসাম্যহীন আচরণের অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই সময় এক কলার অভিযোগ করেছিলেন যে, মিশেল একটি ছুরি হাতে কাল্পনিক কারও সঙ্গে কথা বলছেন এবং চিৎকার করছেন। এরপর ওয়াশিংটন কাউন্টি জেলে প্রায় ছয় মাস বন্দি থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিচারক তার বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপরই তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পায়ে ট্র্যাকিং মনিটর পরিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পিটসবার্গে মুক্তি দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তির সময় মিশেলের পরনে ছিল গ্রীষ্মকালীন পোশাক এবং তাকে তার বাড়ি থেকে অনেক দূরে সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্যমতে, ওই দিন পিটসবার্গের তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি থেকে হঠাৎ ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে আসে। মেডিকেল এক্সামিনার অফিস জানিয়েছে, মিশেল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি কারও কাছে সাহায্যও চাইতে পারেননি। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) অবশ্য মিশেলের মৃত্যুর দায় অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, তাকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, চার্জ থাকা মোবাইল ফোন এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সুবিধাসহ মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনজীবী মার্ফি এই দাবির কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, জেলে থাকার সময়কাল বিবেচনা করলে তার ফোনের সার্ভিস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। পরিকল্পিত এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মিশেলের মৃত্যুর পেছনের সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জুলাইয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিইর হাতে রেকর্ড গ্রেপ্তার, আটক ৪৩ হাজারের বেশি
ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে ফের আঘাত, এবার ‘বার্থ ট্যুরিজম’ও টার্গেটে
ট্রাম্পের চুলে হঠাৎ এত পরিবর্তন কেন? লাস ভেগাসের ছবি ঘিরে নতুন আলোচনা
ফ্লোরিডার গোল্ডেন গেট এস্টেটস এলাকা থেকে ১৬ বছর বয়সী সোফিয়া ভেরোনিকা কভার নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তার সন্ধানে তৎপর রয়েছে পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ৩১ জুলাই রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে একা বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, সোফিয়া হেঁটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজেও তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে। সে সময় তার পরনে ছিল গাঢ় রঙের হুডি এবং সঙ্গে ছিল একটি ব্যাকপ্যাক। এরপর থেকে তার কোনো নিশ্চিত সন্ধান বা নতুন করে দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। সোফিয়ার বাবা রিচার্ড কভার জানান, বাড়িতে থাকা কুকুরগুলোর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তিনি বিষয়টি টের পান। পরে তিনি মেয়ের ঘরে গিয়ে দেখেন, সোফিয়া সেখানে নেই। বাড়ির একটি দরজাও খোলা ছিল। মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে রিচার্ড নিজেই অনলাইন ও স্থানীয় এলাকায় খোঁজ শুরু করেছেন। তার দাবি, পরিবার বিশ্বাস করে না যে সোফিয়া ইচ্ছা করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে। পরিবারটি মাত্র চার মাস আগে ওই এলাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেছিল। মেয়েকে উদ্দেশ করে আবেগঘন বার্তায় রিচার্ড বলেন, সবাই তাকে খুঁজছে। সে যদি কোথাও একা থাকে, তাহলে নিরাপদ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বা পুলিশ অফিসারের কাছে গিয়ে সাহায্য চাইতে পারে এবং বাড়িতে ফিরে আসতে পারে। কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তকারীরা এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাননি, যা সোফিয়ার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, সোফিয়ার উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ১১৫ পাউন্ড। তার চোখ বাদামি এবং চুল লম্বা ও বাদামি রঙের। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি গাঢ় রঙের হুডি পরেছিলেন এবং একটি ব্যাকপ্যাক সঙ্গে ছিল। সোফিয়ার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের অফিসে ২৩৯-২৫২-৯৩০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অপ্রত্যাশিত পতন, জুলাইয়ে কমেছে ২৩ হাজার চাকরি
ট্রাম্পের প্রত্যাশার উল্টো চিত্র, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ২৩ হাজার চাকরি