আমেরিকা

সমুদ্রের পথ হারিয়ে সৈকতে উঠে এসেছিল ৭৫টি কচ্ছপশাবক, উদ্ধার করে সাগরে ফিরিয়ে দিলেন ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ২২:৪
পথ হারিয়ে স্থলভাগের দিকে চলে যাওয়া কচ্ছপশাবকগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদে সমুদ্রে অবমুক্ত করেন ভলুসিয়া কাউন্টির কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
পথ হারিয়ে স্থলভাগের দিকে চলে যাওয়া কচ্ছপশাবকগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদে সমুদ্রে অবমুক্ত করেন ভলুসিয়া কাউন্টির কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ভলুসিয়া কাউন্টিতে সমুদ্রের পথে না গিয়ে সৈকতের উঁচু অংশের দিকে চলে যাচ্ছিল ৭৫টি সদ্য ফুটে বের হওয়া সামুদ্রিক কচ্ছপশাবক। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করেন ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে সব কচ্ছপশাবককে নিরাপদে সমুদ্রে অবমুক্ত করা হয়।

 

ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের ফেসবুক পোস্ট এবং ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতের বেলায় টহলরত কর্মকর্তারা দেখতে পান, কচ্ছপশাবকগুলো সমুদ্রের দিকে না গিয়ে সৈকতের একটি প্রবেশপথ বেয়ে উল্টো দিকের স্থলভাগে উঠে যাচ্ছে।

এরপর তারা ভলুসিয়া কাউন্টি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথভাবে সব কচ্ছপশাবক সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো নিরাপদে আটলান্টিক মহাসাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সদ্য জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক কচ্ছপশাবক স্বাভাবিকভাবে চাঁদের আলো সমুদ্রে প্রতিফলিত হওয়ার দিক অনুসরণ করে পানির দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু সৈকতের আশপাশে থাকা বাড়ির বাতি, সড়কের আলো কিংবা আগুনের মতো কৃত্রিম আলোর কারণে তারা সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।

ফলে সমুদ্রের পরিবর্তে তারা স্থলভাগের দিকে চলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এভাবে তারা সড়ক, পার্কিং এলাকা বা বসতিপূর্ণ স্থানে পৌঁছে গিয়ে যানবাহন, শিকারি প্রাণী কিংবা পানিশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়ে।

 

ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ফ্লোরিডার উপকূলে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৮৪ হাজার সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা তৈরি হয়। একটি স্ত্রী কচ্ছপ সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর ডিম পাড়ে এবং প্রতিটি বাসায় ৮০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত ডিম থাকতে পারে।

 

ফ্লোরিডার উপকূলে হকসবিল, কেম্পস রিডলি, লগারহেড, লেদারব্যাক এবং গ্রিন টার্টলসহ পাঁচটি প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখা যায়।

তবে প্রকৃতিতে তাদের বেঁচে থাকার লড়াই অত্যন্ত কঠিন। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার কচ্ছপশাবকের মধ্যে মাত্র একটি পূর্ণবয়স্ক হওয়ার সুযোগ পায়।

 

জাতীয় মহাসাগরীয় পরিষেবা এবং ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষও কিছু সহজ পদক্ষেপের মাধ্যমে কচ্ছপশাবক রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন। সৈকতে গর্ত ভরাট করা, আবর্জনা, বালুর দুর্গ বা চেয়ার সরিয়ে রাখা, কচ্ছপবান্ধব আলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বাসার কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখলে কচ্ছপশাবকগুলো সহজে সমুদ্রে পৌঁছাতে পারে।

 

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় কৃত্রিম আলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে প্রতিবছর অসংখ্য কচ্ছপশাবকের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওয়াশিংটনে সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কস্টকো কর্মী টাইলার সোরেনসেন। ছবি: সংগৃহীত
পছন্দের নারীকে জড়িয়ে ধরায় সহকর্মীকে গাড়ির ধাক্কায় হত্যা করলেন কস্টকো কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কস্টকোর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ঈর্ষা থেকে সহকর্মীকে মোটরসাইকেলসহ গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ধূসর রঙের সেডান গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দিলে চালক ছিটকে পাশের একটি ধাতব সাইনপোস্টে আঘাত করেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী টাইলার সোরেনসেন ও নিহত ২০ বছর বয়সী জনাথন ল্যাংডন দুজনেই ওয়াশিংটনের ইসাকুয়ায় অবস্থিত কস্টকোতে কর্মরত ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার আগে সোরেনসেন তার সহকর্মী সামান্থা পিটারসনকে ল্যাংডনের সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখেন। সামান্থার প্রতি তার একতরফা আকর্ষণ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই দৃশ্য দেখার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পার্কিং এলাকা থেকে ল্যাংডন মোটরসাইকেলে বের হলে নিজের গাড়ি নিয়ে তার পিছু নেন।   তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পার্কিং লটেই প্রথমে গাড়ি দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান সোরেনসেন। পরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ল্যাংডন বের হলে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে ল্যাংডন ছিটকে গিয়ে একটি সড়কচিহ্নের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করেন। মোটরসাইকেলটি চালক ছাড়াই সামনের দিকে কিছু দূর এগিয়ে যায়।   আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আঘাতের তীব্রতায় ল্যাংডনের শরীর ধাতব খুঁটির সঙ্গে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা তাকে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পরা হেলমেটের সামনের অংশও আঘাতে খুলে গিয়েছিল। শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন সাইনপোস্টের সঙ্গে মিলে যায় বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর সোরেনসেন থেমে আহত সহকর্মীকে সাহায্য করেননি কিংবা জরুরি সেবায় ফোনও করেননি। বরং তিনি কিছু দূরে গিয়ে নিজের গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করে সেখান থেকে চলে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে জরিমানা করেন। তখন ওই কর্মকর্তা জানতেন না, কয়েক মাইল দূরেই একটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটেছে।   পরে সোরেনসেনের বাবা ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গ্রেপ্তারের পর সোরেনসেন তদন্তকারীদের কাছে বলেন, "এটি বোকামি ছিল, কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই করেছি।" তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের আলিঙ্গন করতে দেখে তিনি আতঙ্কিত ও প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন।   তবে সামান্থা পিটারসন তদন্তকারীদের জানান, তার সঙ্গে সোরেনসেনের কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং তিনি একাধিকবার সোরেনসেনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছেন এবং তার থেকে দূরে থাকতে হবে।   এদিকে সোরেনসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তার জামিন ২০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৭ আগস্ট মামলার প্রাক-বিচার শুনানির জন্য আবারও আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার।   প্রকাশিত ভিডিওটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ২২:৪৮
মই থেকে পড়ে গাছের ডাল মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছালেও সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচেছেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। ছবি: সংগৃহীত

মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় গাছের ডাল, অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি

পথ হারিয়ে স্থলভাগের দিকে চলে যাওয়া কচ্ছপশাবকগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদে সমুদ্রে অবমুক্ত করেন ভলুসিয়া কাউন্টির কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রের পথ হারিয়ে সৈকতে উঠে এসেছিল ৭৫টি কচ্ছপশাবক, উদ্ধার করে সাগরে ফিরিয়ে দিলেন ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা

অভিজ্ঞ সামরিক বৈমানিকদের চাকরিতে ধরে রাখতে নতুন আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌবাহিনীতে ১ লাখ ৫০ হাজার, সেনাবাহিনীতে ২ লাখ ডলার পর্যন্ত বোনাস, কারা পাবেন?

নববধূ সামান্থা মিলারের মৃত্যুর ঘটনায় দণ্ডিত জেমি কোমোরোস্কির নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পর কনেকে হত্যা, তিন বছর পর প্রকাশ্যে এলো অভিযুক্তের নতুন ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক নববধূর প্রাণহানির ঘটনায় দণ্ডিত নারী চালক জেমি কোমোরোস্কিকে (Jamie Komoroski) নিয়ে নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে দুর্ঘটনার পর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার আচরণ এবং মদ্যপানের মাত্রা পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিএসসি (WCSC) ও গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল রাত প্রায় ১০টার দিকে সাউথ ক্যারোলিনার ফলি বিচ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্তে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী জেমি কোমোরোস্কি ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ মাইল গতিতে গাড়ি চালিয়ে একটি গলফকার্টের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেন। ওই গলফকার্টে ছিলেন সদ্য বিবাহিত সামান্থা মিলার, তার স্বামী এরিক হাচিনসন এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য।   দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সামান্থা মিলারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন তার স্বামী এরিক হাচিনসন এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে স্বজনরা নবদম্পতিকে ভাড়ার বাসায় পৌঁছে দিতে গলফকার্টে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আটক হওয়ার পর কোমোরোস্কি বারবার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে তার বাবাকে ফোন করার অনুমতি চাইছেন। একই সঙ্গে তিনি বারবার শ্বাসের মাধ্যমে অ্যালকোহলের মাত্রা (ব্রেথালাইজার) পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান।   পরে তাকে মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় নেওয়া হয়। সেখানে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সাউথ ক্যারোলাইনা ল' এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পাওয়া যায় ০.২৬১ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অনুমোদিত সীমার তিন গুণেরও বেশি।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর কোমোরোস্কি পুলিশকে জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে তিনি একটি বিয়ার এবং টেকিলা মিশ্রিত একটি পানীয় পান করেছিলেন। নিজেকে কতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ১ থেকে ১০-এর স্কেলে তিনি নিজের অবস্থান '৮' বলে উল্লেখ করেন। ওই স্কেলে ১ মানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ১০ মানে সর্বোচ্চ মাত্রায় মদ্যপ অবস্থায় থাকা।   দুর্ঘটনার দুই বছর পর সামান্থার স্বামী এরিক হাচিনসন কোমোরোস্কির বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুর্ঘটনার দিন কোমোরোস্কি বিভিন্ন বারে ঘুরে ঘুরে মদ্যপান করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীলভাবে অ্যালকোহল পরিবেশন করেনি। মামলায় বটল ক্যাপ হোল্ডিংস এলএলসি, এল গায়ো বার অ্যান্ড গ্রিল, স্ন্যাপার জ্যাকস, দ্য ক্র্যাব শ্যাক এবং দ্য ড্রপ-ইন বারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   তবে 'টাকো বয়' নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরে মামলার বাইরে রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, দুর্ঘটনার দিন কোমোরোস্কি সেখানে প্রবেশই করেননি। যদিও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল, ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে তিনি সেদিন একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে অতিরিক্ত মদ্যপান হয়েছিল। ফৌজদারি মামলায় দোষ স্বীকার করার পর কোমোরোস্কিকে গুরুতর মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো, গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া এবং বেপরোয়া হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।   সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে আবারও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে, অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো শুধু চালকের জন্য নয়, নিরীহ মানুষের জীবনও মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ২১:১০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও অলাভজনক সংস্থাগুলোর বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেল ৬৫ মিলিয়ন ডলার, আইনি সহায়তা পাবে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুরা

ভুয়া ভাড়া বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে ১৮ হাজার ৬০০ ডলার হারিয়েছেন সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দা অ্যালভিন ট্রান। ছবি: সংগৃহীত

সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ার নামে প্রতারণা, সশরীরে বাসা দেখেও ১৮ হাজার ডলার হারালেন যুবক

সাবেক বিমান বাহিনী সচিব ফ্র্যাঙ্ক কেন্ডাল

গোপন সামরিক তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

নিউইয়র্ক সিটির  মেয়র জোহরান মামদানি
মামদানির ‘পিয়েড-আ-তের’ কর নিয়ে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের মামলা

নিউইয়র্ক সিটির নতুন ‘পিয়েড-আ-তের’ কর চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানি ও নগরীর অর্থ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক।   শুক্রবার দায়ের করা মামলায় সাইমন হেডলি, র‍্যাচেল ও’ব্রায়েন ও কারমিন মোরানো অভিযোগ করেছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের বাড়িকেও নগর কর্তৃপক্ষ ভুলভাবে সম্ভাব্য অতিরিক্ত করের আওতাভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।   তবে মামলাটি সরাসরি ‘পিয়েড-আ-তের’ করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছে না। বরং নগর প্রশাসন কীভাবে করের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং কিছু বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠিয়েছে, সেটিই মামলার মূল বিষয়।   নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগের প্রকাশিত তালিকায় পাঁচ বরোর ৯ লাখের বেশি বাড়ির মালিকের নাম ও ঠিকানা রয়েছে। তবে বিভাগের দাবি, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাড়ি বা ইউনিটের ওপর এই অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য নয়।   নতুন করের আওতায় পড়তে পারেন—এমন প্রায় ১৭ হাজার সম্পত্তির মালিককে আলাদা নোটিশ পাঠানো হয়েছে।   মামলাকারী র‍্যাচেল ও’ব্রায়েন বলেন, নিজের স্থায়ী বাড়িকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে সরকারি তালিকায় প্রকাশ করা ‘অযৌক্তিক’। তার দাবি, নগর প্রশাসনের কাছে থাকা তথ্য যাচাই করলেই বিষয়টি আগে থেকেই পরিষ্কার করা সম্ভব ছিল।   মামলায় আদালতের কাছে প্রকাশিত তালিকা ও নোটিশকে বেআইনি ঘোষণা এবং অনলাইন থেকে তালিকাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চলাকালে নোটিশ পাওয়া বাড়ির মালিকদের জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্থগিত এবং আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর কার্যকরের ওপরও বিরতি চাওয়া হয়েছে।   মেয়র মামদানির কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন কোনো সরকারি প্রক্রিয়া চালুর ক্ষেত্রে নাগরিকদের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার ও সহজবোধ্য রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব। নগরীর আইন বিভাগও মামলাটি জোরালোভাবে মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছে।   মামদানির ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে ‘পিয়েড-আ-তের’ কর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নিউইয়র্ক সিটিতে মালিকের প্রধান বসবাসের ঠিকানা নয়—এমন ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের আবাসিক সম্পত্তির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের কো-অপ ইউনিটও এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।   নতুন করের লক্ষ্য শহরের বাজেট ঘাটতি কমাতে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন।   তবে করের সম্ভাব্য আওতায় থাকা বাড়ির মালিকদের পাঠানো নোটিশ এবং তাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে মামদানি প্রশাসন নোটিশ পাওয়া বাসিন্দাদের বাড়িটি তাদের প্রধান বসবাসের স্থান প্রমাণের সময়সীমা চার সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৯:৪৪
টেনেসিতে রাস্তায় ডায়াপার পরা শিশু, উদ্ধার করে ICE কর্মকর্তারা

টেনেসিতে রাস্তায় একা ঘুরছিল ডায়াপার পরা শিশু, খোলা দরজা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন মা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: সংগৃহীত

ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষুব্ধ, আমার ওপর নয়,নিজের জনপ্রিয়তায় ধাক্কার ব্যাপার এড়িয়ে গেলেন ট্রাম্প

আইস কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর আইস কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

0 Comments