আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী অ্যাথলেটিক ট্রেইনার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৩:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী অ্যাথলেটিক ট্রেইনার
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী অ্যাথলেটিক ট্রেইনার

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি হাইস্কুলে এক শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে ক্রিস্টিনা জি. পেটন (২৭) নামের এক অ্যাথলেটিক ট্রেইনারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

লি কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান ক্রিক হাইস্কুলে কর্মরত অবস্থায় এক ছাত্রের সাথে তার এই আপত্তিকর সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। প্রায় দুই মাস আগে পুলিশের কাছে এই অভিযোগ আসার পর গত বুধবার তিনি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

 

জানা গেছে, গত ১০ জুন ডেকাব কাউন্টি শেরিফ অফিসে প্রথম এই অভিযোগটি জমা পড়ে। তবে ঘটনাটি লি কাউন্টি শেরিফ অফিসের আওতাধীন হওয়ায় তারাই পরবর্তীতে তদন্ত শুরু করে এবং গত ৫ আগস্ট পেটন পুলিশের কাছে ধরা দেন।

 

পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার চারটি ফেলোনি অভিযোগ এবং একজন নাবালকের কাছে ক্ষতিকর উপাদান বিতরণের চারটি ফেলোনি ও চারটি মিসডিমিনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ২০২১ সালের ফৌজদারি বিচার সংস্কার আইন বা 'সেফ-টি অ্যাক্ট' (SAFE-T Act)-এর অধীনে পেটনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

 

এই আইনের ফলে জামিনের জন্য আসামিদের কোনো অর্থ প্রদান করতে হয় না। আগামী ২৭ আগস্ট সকাল ৯টায় তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযোগগুলো নিছকই অভিযোগ এবং দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে আইনত নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ক্যারোলিনা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ক্যারোলিনা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী লাখো মানুষের গ্রীষ্মের সপ্তাহান্তের পরিকল্পনা আবারও ভেস্তে যেতে বসেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই ছুটির দিনে ঘরের বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে একটি বড় ধরনের ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করছে, যার প্রভাবে সপ্তাহান্তের শুরুতেই ফ্লোরিডা এবং ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে প্রচুর ক্রান্তীয় জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা প্রবেশ করেছে।   এই অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে তীব্র বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভারী বর্ষণ ঘটাতে সক্ষম। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় সাউথ ক্যারোলিনার চার্লসটন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সপ্তাহান্তের শুরুতে চার মাত্রার স্কেলে ২ নম্বর আকস্মিক বন্যার সতর্কতা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড রিস্ক) জারি করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার মিয়ামি থেকে নর্থ ক্যারোলিনার উইলমিংটন পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ১ নম্বর সতর্কতা বহাল রয়েছে।   আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল নাগাদ ধীর গতির ঝড় তৈরি হলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দুই থেকে তিন ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে শনিবার সুদূর উত্তর ফ্লোরিডা, দক্ষিণ-পূর্ব জর্জিয়া এবং ক্যারোলিনা অঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও রবিবার পর্যন্ত মধ্য ফ্লোরিডা থেকে শুরু করে জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলিনার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সামগ্রিকভাবে এক থেকে দুই ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:২৮
ওয়াশিংটনে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের ২ লাখ ডলারের স্বর্ণ হাতানোর চেষ্টায় গ্রেপ্তার দুই ভুয়া ফেডারেল এজেন্ট

ওয়াশিংটনে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের ২ লাখ ডলারের স্বর্ণ হাতানোর চেষ্টায় গ্রেপ্তার দুই ভুয়া ফেডারেল এজেন্ট

মিশিগানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করবে না বিশ্ববিদ্যালয়

মিশিগানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করবে না বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী অ্যাথলেটিক ট্রেইনার

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী অ্যাথলেটিক ট্রেইনার

ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান বাণিজ্যপথে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ২০১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল চালুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ২০১ মিলিয়ন ডলারের তহবিলে নতুন গতি পাচ্ছে এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যপথ

এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বিকল্প বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান বাণিজ্যপথে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে ২০১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান এন্টারপ্রাইজ ফান্ড চালুর ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই অর্থায়নে পরিচালিত নতুন উদ্যোগটি দক্ষিণ ককেশাস ও মধ্য এশিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যপথে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।   রুবিও জানান, ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান এন্টারপ্রাইজ ফান্ড ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তহবিলটির পরিচালনা পর্ষদও নির্বাচিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ২০১ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন রয়েছে। ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান বাণিজ্যপথটি মিডল করিডোর নামেও পরিচিত। এই পথ দক্ষিণ ককেশাস ও মধ্য এশিয়াকে যুক্ত করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে একটি বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরি করে।   আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও ফান্ডটি চালুর ঘোষণা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাকু ও ইয়েরেভানের মধ্যে কয়েক দশকের উত্তেজনা কমে আসার পর দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন তহবিলটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বেসরকারি বিনিয়োগে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে চালু করা হয়েছে।   রুবিও বলেন, শান্তি ও সমৃদ্ধি একে অপরকে শক্তিশালী করে। তিনি ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি প্রকল্পকে শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, এই উদ্যোগ ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করতে সহায়তা করবে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। আর্মেনিয়ায় রেলপথ নির্মাণের প্রকৌশলগত জরিপ বর্তমানে চলছে। একই সময়ে আজারবাইজান একটি মহাসড়ক ও রেলপথ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এসব যোগাযোগব্যবস্থা আর্মেনিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।   নতুন তহবিলের লক্ষ্য ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান বাণিজ্যপথজুড়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা। এই বাণিজ্যপথ দক্ষিণ ককেশাস ও মধ্য এশিয়ার মধ্য দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে।   রুবিও বলেন, দক্ষিণ ককেশাসে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তির জন্য আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানকে সহযোগিতা করার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাণিজ্যপথের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।   ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান এন্টারপ্রাইজ ফান্ড চালুর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে মিডল করিডোরে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ ককেশাস ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে এশিয়া ও ইউরোপের বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৩:২০
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাবে’ গোলাগুলি I ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাবে’ গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ এক যুবক

সীমিত আয়ের ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ, অন্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এ সুবিধার যোগ্য। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এই ২৯ রোগ থাকলে মিলতে পারে মাসে সর্বোচ্চ ১,৪৯১ ডলার সহায়তা

লস অ্যাঞ্জেলেসে ১৭৩৬ ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ক্যারল অ্যাডেলকফ (মাঝে) দুই বছরে ১৬ লাখ ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পেলেন ২ বছরে ১৬ লাখ ডলার

নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে ফ্ল্যাট পেয়ে মাসে মাত্র ৮৮১ ডলার ভাড়া দিচ্ছেন ২৬ বছর বয়সী নাহজায়ে অলিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে হাউজিং লটারিতে ফ্ল্যাট পেলেন ২৬ বছরের তরুণী, মাসে ভাড়া মাত্র ৮৮১ ডলার

নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে ফ্ল্যাট পেয়ে মাসে মাত্র ৮৮১ ডলার ভাড়া দিচ্ছেন ২৬ বছর বয়সী নাহজায়ে অলিন। ব্রঙ্কনের বাসিন্দা এই তরুণী ২০২০ সালে সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য আবেদন শুরু করেন এবং ২০২২ সালে একটি এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় জায়গা পান। পরে ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি দুই বছরের চুক্তিতে ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন।   নাহজায়ে ব্রঙ্কনে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন। পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে তিনি যে এক বেডরুমের ফ্ল্যাটে বড় হয়েছেন, বর্তমানে তার নতুন বাসা সেই বাড়ি থেকে মাত্র এক ব্লক দূরে। কলেজ শেষ করে ২০১৯ সালে পরিবারের সঙ্গে ফিরে আসার পর নিজের জন্য আলাদা বাসা খোঁজার পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি।   একাই বা কারও সঙ্গে বাসা ভাগ করে থাকার খরচ দেখে নাহজায়ে নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২০ সালে তিনি প্রথম আবেদন করেন। ২০২২ সালে সাড়া পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ১০০টির বেশি আবেদন করেছিলেন।   নিউইয়র্কের হাউজিং লটারির মাধ্যমে আয়ের যোগ্যতার ভিত্তিতে বাসিন্দাদের সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ দেওয়া হয়। শহরের আবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাশ্রয়ী আবাসনের খরচ একজন ব্যক্তি বা পরিবারের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে কোন ফ্ল্যাটের জন্য কত আয় প্রয়োজন, তা নির্ভর করে এলাকার গড় আয়, ফ্ল্যাটের আকার, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও বার্ষিক আয়ের ওপর।   নাহজায়ে ব্রঙ্কনেই থাকতে চেয়েছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি ব্রুকলিনের বিভিন্ন হাউজিং লটারির বিষয়ে সাড়া পেলেও নিজের এলাকার একটি বাসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। ২০২২ সালে তিনি ব্রঙ্কনের উইলিয়ামসব্রিজ এলাকায় একটি এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের অপেক্ষমাণ তালিকায় যুক্ত হওয়ার খবর পান।   প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো এক বেডরুমের ফ্ল্যাট তার সামর্থ্যের বাইরে হবে। কিন্তু বাসাটি দেখতে গিয়ে সেটি তার পছন্দ হয়ে যায়। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি ওই ফ্ল্যাটের জন্য দুই বছরের চুক্তিতে সই করেন। সেখানে তার মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৮৮১ ডলার। একই সময়ে ব্রঙ্কনে এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের গড় ভাড়া ছিল ২ হাজার ২৩০ ডলার।   ওই ফ্ল্যাটের জন্য যোগ্য হতে নাহজায়ের বার্ষিক আয় ৩৩ হাজার ৮৬ ডলার থেকে ৪৬ হাজার ৭০০ ডলারের মধ্যে হতে হতো। নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে ব্যাংক হিসাবের তথ্য, বিল ও করসংক্রান্ত কাগজপত্রসহ আয়ের প্রমাণ জমা দিতে হয়। ভবনটিতে কাপড় ধোয়ার জায়গা, ব্যায়ামাগার ও বিনা মূল্যের ইন্টারনেট সুবিধাও রয়েছে।   নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে আবেদন করলেই যে দ্রুত বাসা পাওয়া যায়, তা নয়। শহরের আবাসন সংস্থার একজন কর্মকর্তার মতে, একটি ফ্ল্যাটের জন্য গড়ে প্রায় ৫০টি আবেদন পড়ে। আবেদন বন্ধ হওয়ার পর কাগজে করা আবেদনও যুক্ত করা হয় এবং আবেদনগুলো এলোমেলোভাবে বিভিন্ন দলে সাজানো হয়। প্রত্যেক আবেদনকারীকে একটি নম্বর দেওয়া হয়, যা আবাসন সংক্রান্ত অনলাইন হিসাবের মাধ্যমে দেখা যায়। নম্বর যত কম, সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তত আগে আসে।   আবেদনকারীদের নিজেদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা এবং আয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের বাসিন্দা না হলেও হাউজিং লটারিতে আবেদন করা যায়। তবে যারা আগে থেকেই নিউইয়র্কে থাকেন, তাদের আগে যোগাযোগ করা হয়। আবেদন করার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়।   নাহজায়ের পরিবার তার নতুন বাসা পেয়ে আনন্দিত। মা প্রথমবার বাসাটি দেখে কেঁদে ফেলেন এবং মেয়ের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন। নাহজায়ে জানান, নিজের আয়ের মধ্যে বাসা পাওয়া তার জন্য কঠিন মনে হয়েছিল। এখন তিনি পরিবার ও ভাইবোনদের নিয়ে সেখানে সময় কাটান।   নাহজায়ে একমাত্র নন, আরও অনেক নিউইয়র্কবাসী হাউজিং লটারির মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাসা পেয়েছেন। তাদের একজন নকেংজে ২০২০ সালে আবেদন শুরু করে ২০২৩ সালে এক বেডরুমের একটি ফ্ল্যাট পান। এর আগে তিনি হারলেমে ছোট একটি এক বেডরুমের বাসার জন্য প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডলার ভাড়া দিতেন। পরে হাউজিং লটারির মাধ্যমে তিনি মাসে ৯৯৭ ডলারের ভাড়ায় একটি ফ্ল্যাট পান।   নকেংজের নতুন বাসায় ব্যায়ামাগার, খেলার ঘর ও ছাদের সুবিধা রয়েছে। তার দুই বছরের চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ৯৯৭ ডলার নির্ধারিত হয়, যার মধ্যে ৮৫ ডলারের ইউটিলিটি সুবিধাও রয়েছে। কম ভাড়ার কারণে তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য অর্থ সঞ্চয় করছেন।   নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে সুযোগ পেতে আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরে নিয়মিত আবেদন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আবাসন কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমবার আবেদন করেই সুযোগ পাওয়া নাও যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১২:১৯
কেলভিন ক্লেইনের তৈরি করা ইস্ট হ্যাম্পটনের এই সম্পত্তিটি নতুন করে ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে ৭২ মিলিয়নে কেনা বাড়ির নতুন তালিকামূল্য ১৬২ মিলিয়ন!

ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় ট্রাকচালক খুশকারানদীপ সিং | ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ ভারতীয় ট্রাকচালক গুলিতে নিহত, ৫ দিন পর বনাঞ্চল থেকে মরদেহ উদ্ধার

অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ খনিতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনে খনি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ খনিতে ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments