ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাতিলের ক্ষেত্রে অপরাধে জড়িত থাকা, আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন কারণ সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে, বিদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে।
এর আগে পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মতো বিষয়ও রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডও ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে।
তবে ভিসা বাতিল এবং ভিসা ইস্যু স্থগিত করা এক বিষয় নয়। কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হলে সেটি নতুন ভিসা পাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ তৈরি করে। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তির বিদ্যমান ভিসা বাতিল হলে তিনি সেই ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ হারাতে পারেন।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ক্রিনিং আরও কঠোর করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যাপারে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সময়ে কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যুর ওপর পূর্ণ বা আংশিক স্থগিতাদেশও কার্যকর করা হয়েছে।
বাংলাদেশি অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এসব পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে এই স্থগিতাদেশ এবং ব্যক্তিগত ভিসা বাতিলের বিষয় দুটি আলাদা নীতি। ফলে কারও বৈধ ভিসা বাতিল হয়েছে কি না, কিংবা নতুন ভিসা ইস্যুতে কোনো বিধিনিষেধ প্রযোজ্য কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য নীতির ওপর।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কোনো বিদেশি নাগরিক যদি মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেন বা জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেন, তাহলে তার ভিসা বাতিলসহ প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কিনতেও ‘বাই নাউ, পে লেটার’ বা এখন কিনে পরে পরিশোধের সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে। তবে এ নিয়ে প্রচারিত ‘প্রায় ৩০ শতাংশ আমেরিকান মুদিপণ্য কিনতে ঋণ নিচ্ছেন’ দাবিটি বিভ্রান্তিকর। লেন্ডিংট্রির জরিপে ২৯ শতাংশ হিসাবটি সব মার্কিন নাগরিকের নয়; এটি তাঁদের মধ্যে যাঁরা কখনো এই ধরনের কিস্তির সেবা ব্যবহার করেছেন। লেন্ডিংট্রির হিসাবে, কিস্তির সেবা ব্যবহারকারীদের ২৯ শতাংশ কোনো এক সময় মুদিপণ্য কিনতে সেটি ব্যবহার করেছেন। এক বছর আগে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ, দুই বছর আগে ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের মধ্যে খাবার কেনার জন্য এ ধরনের ঋণের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু জরিপটি থেকে বলা যায় না যে, বর্তমানে প্রতি ১০ জন আমেরিকানের তিনজন মুদিবাজারের বিল কিস্তিতে দিচ্ছেন। ‘বাই নাউ, পে লেটার’ সেবায় কেনাকাটার টাকা সাধারণত কয়েকটি নির্ধারিত কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো পরিশোধ করলে সুদ লাগে না। তবে কিস্তি মিস হলে বাড়তি ফি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ওভারড্রাফট চার্জের ঝুঁকি থাকে। লেন্ডিংট্রির জরিপে এই সেবা ব্যবহারকারীদের ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, গত এক বছরে তাঁরা অন্তত একবার কিস্তি দিতে দেরি করেছেন। ফেডারেল রিজার্ভের ভিন্ন একটি জরিপেও খাবার কেনায় কিস্তির সেবা ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক গত ১২ মাসে এই সেবা ব্যবহার করেছিলেন। সেই ব্যবহারকারীদের ২০ শতাংশ মুদিপণ্য বা খাবার ডেলিভারির খরচ মেটাতে এটি ব্যবহার করেছেন। দুটি জরিপের সময়কাল ও প্রশ্ন আলাদা হওয়ায় ফল সরাসরি এক করে দেখার সুযোগ নেই। লোনের শর্ত বোঝার পাশাপাশি প্রতি কিস্তির নির্ধারিত তারিখ ও মোট বকেয়া হিসাব রাখা জরুরি। মুদিপণ্যের মতো নিয়মিত খরচ কিস্তিতে মেটালে পরের বিল আসার আগেই আগের কেনাকাটার টাকা পরিশোধের চাপ তৈরি হতে পারে।
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে ফুল ফান্ড! জেনে নিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা
তেল শিল্পের আধিপত্যের মাঝেই টেক্সাসে দ্রুত গতিতে বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার
আইন স্কুলে জেডির চেয়ে ‘৫০ বিলিয়ন গুণ ভালো’ ছিলেন উষা ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বাড়ির উঠানে মায়ের সঙ্গে থাকা একটি কালো ভালুকের হামলার মুখে পড়ে লড়াই করে নিজেকে রক্ষা করেছে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর। রবিন ওয়েস্টগেট নামের ওই কিশোর ভালুকটির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সেটির চোখে আঘাত করে এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকে। পরে তার বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভালুকটি তার দিকেও তেড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বেলিংহ্যামের কাছে ওয়েস্টগেট পরিবারের বাড়ির পেছনের বাগানে। পরিবারটি এমন একটি এলাকায় বসবাস করে, যেখানে কালো ভালুকের উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর পপকর্ন রাখার একটি বাটি আনতে বাড়ির পেছনের ফলের বাগানে গিয়েছিল রবিন। সেখানে হঠাৎ একটি মা কালো ভালুকের মুখোমুখি হয় সে। রবিনের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনেই একে অপরকে দেখে চমকে যায়। এরপর ভালুকটি তার দিকে তেড়ে আসে। রবিন জানায়, ভালুকটি তাকে দুই দফা আক্রমণ করে। একপর্যায়ে সেটি তার কবজিতে কামড় বসায় এবং তার শরীরের পাশে আঁচড়ের আঘাতও লাগে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিন ভালুকটির চোখে হাত ও আঙুল দিয়ে আঘাত করে। একই সঙ্গে সে চিৎকার করতে থাকে এবং ভালুকটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যায়।. রবিন পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানায়, তখন তার সামনে লড়াই করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই এলাকায় ভালুকের উপস্থিতির কারণে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, সে বিষয়ে তাকে শেখানো হয়েছিল। রবিনের চিৎকার শুনে তার ছোট বোন রিভারলি সাহায্যের জন্য ছুটে আসে। এর কিছুক্ষণ পর তার বাবা নোয়াহ ওয়েস্টগেট ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তখন ভালুকটি রবিনকে ছেড়ে নোয়াহর দিকে তেড়ে যায়। নোয়াহ জানান, ছেলেকে রক্ষা করতে তিনি ভালুকটির মুখোমুখি হন। একপর্যায়ে ভালুকটি তার হাতেও আঘাত করে। তখন তিনি পাল্টা আঘাত করেন। তার আঘাতের পর ভালুকটি সরে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিনের বোন সময়মতো তার চিৎকার শুনে সাহায্যের জন্য এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। রবিন ও তার বাবা দুজনই আহত হন এবং স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে ঘটনার পরও ওই ভালুকটি এলাকা থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি। পরে সেটিকে আবারও আশপাশে দেখা যায়। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা ভালুকটির ছবি তুলেছেন এবং সেটিকে ধরতে একটি ফাঁদও বসিয়েছেন। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভালুকটি এখনো ধরা পড়েনি। ঘটনার পর ওয়েস্টগেট পরিবার বাড়ির উঠানে ভালুক প্রতিরোধক স্প্রে সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এ ঘটনার পর তারা বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে আরও সতর্ক থাকবেন। রবিনের বাবা নোয়াহ ছেলের সাহসের প্রশংসা করে বলেন, ১২ বছর বয়সী ছেলে একটি কালো ভালুকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে রক্ষা করেছে, যা নিয়ে তিনি গর্বিত। রবিনও জানিয়েছে, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তার নিজের ওপর আস্থা বেড়েছে। তবে ভালুকের ঝুঁকি সম্পর্কে তার ধারণা বদলায়নি। বরং সে মনে করে, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা আগের মতোই জরুরি। বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে মানুষের ওপর ভালুকের হামলা অত্যন্ত বিরল। তবে মানুষের বসতি ক্রমে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের কাছাকাছি বিস্তৃত হওয়ায় মানুষ ও ভালুকের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। শরৎকালে শীতের আগে ভালুকগুলো বেশি খাবার সংগ্রহ করে শরীরে চর্বি জমায়, ফলে এ সময়ও মানুষের সঙ্গে তাদের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সূত্র: সিএনএন, KING 5 Seattle, WESH
কাতারে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ভুয়া বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানিয়ান নারীর
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ, সময়মতো সব বিল দিতে পারছে না ৩২ শতাংশ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে অপেরা উপভোগ করার এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। জীবনে যারা কখনো অপেরা পারফরম্যান্স দেখার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য 'অপেরা ফর অল' বা সবার জন্য অপেরা শীর্ষক নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে মামদানি প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্কবাসীদের মাঝে ৭০ হাজার ফ্রি অপেরা টিকিট বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএবিসি টিভি। বৃহস্পতিবার মেয়র জোহরান মামদানি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি সু এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কালচারাল অ্যাফেয়ার্স কমিশনার দিয়া ভিজ যৌথভাবে এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির অধীনে মেট্রোপলিটন অপেরার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শহর কর্তৃপক্ষ ২০২৬ থেকে ২০২৭ মৌসুমের জন্য চলতি সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি মাসে লটারির মাধ্যমে ১০ হাজার টিকিট বিনামূল্যে প্রদান করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি বলেন, এই শিল্পমাধ্যমটি সবার দেখার জন্য তৈরি হয়েছে, কেবল যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তাদের জন্য এটি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে তা বিবেচনা না করেই প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর এই আসনগুলোতে বসার, এই কণ্ঠস্বরগুলো শোনার এবং এই মঞ্চের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত। এই বিনামূল্যের টিকিট পেতে আগ্রহীরা অন ডট এনওয়াইসি ডট গভ স্ল্যাশ অপেরা (on.nyc.gov/opera) ওয়েবসাইটে বা মেট অপেরা অ্যাপের মাধ্যমে লটারিতে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই লটারিটি শুধুমাত্র তাদের জন্যই উন্মুক্ত, যারা ২০১৯ সালের পর থেকে মেট অপেরার কোনো টিকিট কেনেননি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, থিয়েটারের সব প্রান্তেই টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে, যার মধ্যে দাঁড়িয়ে দেখার স্থানগুলোও অন্তর্ভুক্ত। চলতি মৌসুমে যেসব বিখ্যাত পরিবেশনা মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ম্যাকবেথ, লিংকন ইন দ্য বার্ডো এবং লা বোহেম। শিল্প ও সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে মেয়র মামদানির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন ঘোষণা দেওয়া হলো। এর আগে গত গ্রীষ্মে থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে এবং স্বল্প মূল্যে ব্রডওয়ে ও অফ ব্রডওয়ে টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। মেট্রোপলিটন অপেরা বা দ্য মেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আগামী সব মৌসুমেও অপেরা ফর অল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে।
ম্যানহাটনে মাত্র ৮৬৩ ডলারে ২ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের সুযোগ
নিজেকে নিউইয়র্কের রাজা দাবি করা বাংলাদেশি সুপারমার্কেট মালিক অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত