আমেরিকা

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে দুই ঘণ্টার পথ, মাত্র ২২ ডলারে মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৯:১১
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে দুই ঘণ্টার পথ, মাত্র ২২ ডলারে মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে দুই ঘণ্টার পথ, মাত্র ২২ ডলারে মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা

গ্রীষ্মের বিদায়বেলা এবং আসন্ন লেবার ডেকে সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের কাছে এখন ক্যাম্পিংয়ের বিষয়টি দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যারা শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর। আউটডোর থাকার জায়গা খোঁজার জনপ্রিয় অ্যাপ 'হিপক্যাম্প'-এর তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ার সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত ক্যাম্পসাইটের খেতাব পেয়েছে একসময়ের একটি পুরোনো অ্যাভোকাডো খামার। প্রায় দুই হাজার পর্যটকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৯৫ শতাংশ ইতিবাচক রেটিং পেয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে 'স্প্লিটরক ফার্ম অ্যান্ড রিট্রিট' নামের এই ক্যাম্পসাইটটি।

 

লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউন থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে ডি লুজ হাইটস এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাম্পসাইটটি প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বিশালাকার গ্রানাইট পাথর এবং ওক, পাম ও পাইন গাছের মনোরম সমারোহে ঘেরা এই জায়গাটি ১৯৭০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একটি সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডো খামার হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে বছরে ১০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি অ্যাভোকাডো উৎপাদিত হতো। ২০২১ সালে বেন করবেট নামের এক ব্যক্তি টেকসই কৃষি ও আউটডোর বিনোদনের প্রসারের লক্ষ্যে জমিটি কিনে নেন। শরীর, মন ও আত্মার সুস্থতার জন্য প্রকৃতিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই তিনি জায়গাটিকে একটি অনন্য রিট্রিট সেন্টারে পরিণত করেছেন।

 

স্প্লিটরক ফার্মে বর্তমানে ৩৬টি আলাদা ক্যাম্পসাইট রয়েছে, যেখানে মাত্র ২২ ডলার খরচ করে রাত কাটানো যায়। তাঁবু বা আরভি (RV) থেকে শুরু করে বিলাসবহুল গ্ল্যাম্পিংয়েরও (glamping) সুব্যবস্থা রয়েছে এখানে। পর্যটকেরা চাইলে বাড়তি খরচের বিনিময়ে ক্যানভাস বেল টেন্ট, স্লিপিং ট্রেইলার, ব্যক্তিগত যোগব্যায়াম সেশন, ছাগলছানাদের সাথে খেলাধুলা কিংবা সানসেট সাউন্ড বাথের মতো বিশেষ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারেন। এখানকার সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত 'গ্রানাইট ট্যাবারনাকল' সাইটটি থেকে প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করা যায়, যেখানে একসঙ্গে দশজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া 'বেবি ওকস ওয়েসিস' এলাকাটি সুস্থতা কেন্দ্র, যোগব্যায়ামের কর্মশালা বা ছোট পরিসরের সংগীতানুষ্ঠানের জন্য দারুণভাবে সাজানো হয়েছে।

 

ক্যাম্পসাইটটি থেকে মাত্র ৩ মাইল দূরে রয়েছে সান্তা মার্গারিটা রিভার ট্রেইল প্রিজার্ভ এবং ৫ মাইল দূরে ফালব্রুকের ডাউনটাউন, ফলে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা পোহাতে হয় না। দর্শনার্থীরা জায়গাটির নিরিবিলি পরিবেশ, চমৎকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের প্রশংসা করে অ্যাপে অসংখ্য ইতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন। শুধু সাধারণ ক্যাম্পিং-ই নয়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর এখানে একটি বিশেষ যোগব্যায়াম রিট্রিটের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রীষ্মের মাসগুলোতে শিশুদের খামারের পশুপাখি ও প্রকৃতির সাথে পরিচিত করে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে বিশেষ ডে-ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা থাকে এখানে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর নিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র ও গভর্নরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হোকুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন মামদানি? আদালতে স্থগিত নিউইয়র্কের বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ কর

নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ (Pied-à-terre) কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আদালত। এর জেরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গভর্নর হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়েন ওজি সোমবার কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই করটি নিয়ে রাজ্য সরকার ও সিটি হলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিতর্কিত এই করের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় আবাসন বা বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। চলতি বছরের মে মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে করটির অনুমোদন দেন। এটি ছিল মেয়র মামদানি এবং তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি।   তবে কর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এরপর আদালতের স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।   এ অবস্থায় গভর্নর হোকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, করটির বাস্তবায়নের দায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের। গভর্নরের মুখপাত্র জেনিফার গুডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলাটি কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে, যা আদালত এবং সিটি প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে গভর্নর এখনও মনে করেন, যারা নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন, তারা ন্যায্য হারে কর দেওয়ারও সামর্থ্য রাখেন।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে হোকুল এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে হোকুলের জন্য ‘কর বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের’ ভাবমূর্তি মোটেই সুবিধাজনক নয়।   অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান এই ইস্যুতে গভর্নরকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। কুইন্সে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হোকুল নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এখন মামদানির প্রভাব বেড়েছে এবং গভর্নর তার চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।   এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে মামদানির প্রশাসন। তাদের দাবি, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলে মামলার শুনানি চলাকালেও কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।   তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র‌্যান্ডি মাস্ত্রো অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও সিটি প্রশাসন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশ শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘদিনের জটিল সম্পত্তি কর ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, এই কর কার্যকর করতে হলে শহরের বিদ্যমান সম্পত্তি কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা অতীতের কোনো মেয়রই বাস্তবে কার্যকর করতে পারেননি।   রিপাবলিকান নেতারাও এই সুযোগে গভর্নর হোকুলের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী জোসেফ হার্নান্দেজ বলেন, মামদানি নতুন কর চেয়েছিলেন, হোকুল সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের।   স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ট্যানুসিসও দাবি করেন, এই করের বাস্তবায়ন যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি করটির প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, শুধু বাস্তবায়ন নয়, এমন করই থাকা উচিত নয়।   নিউইয়র্কে ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলমান। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে করটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না এবং এটি গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২০:৩০
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে লাখ লাখ ডলারের চুক্তি করছে বিভিন্ন ট্রেডিং ফার্ম

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে লাখ লাখ ডলারের চুক্তি করছে বিভিন্ন ট্রেডিং ফার্ম

চার বছর রাশিয়ার কারাগারে বন্দী মার্কিন নৌসেনা, মুক্ত হয়ে ট্রাম্পের কাছে চাইলেন চিজবার্গার

চার বছর রাশিয়ার কারাগারে বন্দী মার্কিন নৌসেনা, মুক্ত হয়ে ট্রাম্পের কাছে চাইলেন চিজবার্গার

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে দুই ঘণ্টার পথ, মাত্র ২২ ডলারে মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে দুই ঘণ্টার পথ, মাত্র ২২ ডলারে মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা

মেয়ের জন্য ২০০ ডলার বাড়তি আয়ের খোঁজে নেমে, এখন মাসে ৩২ হাজার ডলার আয় নাসার ইঞ্জিনিয়ারের
মেয়ের জন্য ২০০ ডলার বাড়তি আয়ের খোঁজে নেমে, এখন মাসে ৩২ হাজার ডলার আয় নাসার ইঞ্জিনিয়ারের

দিনের বেলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের একজন 'হিউম্যান পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার'। মহাকাশচারীরা যাতে স্পেসস্যুটে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, তা নিয়ে কাজ করেন তিনি। কিন্তু দিনের কাজ শেষে এরিন অ্যান্ড্রুস নামের ৪১ বছর বয়সী এই নারীর জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের বেডরুমের ক্লোজেটে (দেয়াল-আলমারি) তৈরি করা একটি অস্থায়ী সাউন্ড বুথে ভয়েসওভার আর্টিস্ট বা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে 'সাইড হাসল' করেন তিনি। আর চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই খণ্ডকালীন কাজ থেকে তিনি এখন মাসে গড়ে ৩২ হাজার ৪০০ ডলার আয় করছেন!   ২০২২ সালের মার্চ মাসে স্বামীবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একজন 'সিঙ্গেল মাদার' হিসেবে এরিন চেয়েছিলেন মাসে অন্তত ২০০ ডলার বাড়তি আয় করতে, যাতে খরচের চিন্তা ছাড়া তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে আইসক্রিম খাওয়াতে বা শিশু জাদুঘরে নিয়ে যেতে পারেন। ইন্টারনেটে 'সিঙ্গেল মম সাইড হাসল' লিখে খুঁজতেই তিনি ভয়েসওভারের আইডিয়াটি পান। এরপর মাত্র ২০০ ডলার খরচ করে একটি ভয়েসওভার কোর্স করেন, একটি মাইক্রোফোন কেনেন এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়ালমার্ট থেকে ম্যাট্রেস টপার কিনে নিজের ক্লোজেটকে মিনি-রেকর্ডিং বুথে পরিণত করেন। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে, তাকে বসে বসে রেকর্ডিং করতে হতো।   অনলাইন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ফাইভার-এ (Fiverr) প্রোফাইল খুলে কাজ শুরু করেন এরিন। বর্তমানে তিনি অ্যাপল, কোকা-কোলা, পেটস্মার্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির মতো বড় বড় ক্লায়েন্টদের হয়ে করপোরেট ঘোষণা ও ট্রেনিং ভিডিওর ভয়েসওভার দিচ্ছেন। এরিন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে মানুষ এখন অতি-নিখুঁত কণ্ঠের বদলে আসল মানুষের একটু অমসৃণ ও স্বাভাবিক কণ্ঠ শুনতে বেশি পছন্দ করে, যা তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। চলতি ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই এই সাইড হাসল থেকে তিনি ২ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি আয় করেছেন, যা গত ২০২৫ সালের গ্রীষ্মেই নাসায় তার মূল বেতনের অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে।   বর্তমানে ভয়েসওভারের কাজ থেকে পাওয়া অর্থে তিনি ভ্রমণ করছেন, গাড়ি কিনেছেন এবং মেয়ের কলেজের পড়াশোনার জন্য সঞ্চয় করছেন। তবে নাসার চ্যালেঞ্জিং চাকরিটি ছাড়ার কোনো ইচ্ছে তার আপাতত নেই। বরং সম্প্রতি তিনি ভিডিও গেম এবং অ্যানিমেটেড কমিকসে চরিত্রভিত্তিক ভয়েসওভারের কাজও শুরু করেছেন এবং ২০২৫ সালের আগস্টে ডালাসে একটি ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। একসময় নিজেকে কেবল বিজ্ঞান ও অঙ্কের মানুষ ভাবা এরিন এখন নিজের এই শৈল্পিক সত্তা এবং অভাবনীয় আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ও চিন্তামুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৮:৩৩
ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মীদের ওজন কমাতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়

ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মীদের ওজন কমাতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়, সিইও বলছেন ‘সার্থক বিনিয়োগ’

নিউইয়র্কে ডোমিনিকান ডে প্যারেডে হামলা, ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে কু পিয়ে জখম

নিউইয়র্কে ডোমিনিকান ডে প্যারেডে হামলা, ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে কু পিয়ে জখম

নিউইয়র্কে অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ, রিফান্ড চাইছেন বাড়ির মালিকরা

নিউইয়র্কে অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ, রিফান্ড চাইছেন বাড়ির মালিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের খাদে গাড়ি, নি হত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের খাদে গাড়ি, নি হত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে গেলে পাঁচ কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মেসা কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত পাঁচজনেরই বয়স ১৭ বছর এবং তারা সবাই গ্র্যান্ড জংশন এলাকার বাসিন্দা। শনিবার গভীর রাতে গ্র্যান্ড জংশনের একটি আবাসিক এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ বিভাগ জানায়, রোববার স্থানীয় সময় সকাল আটটার কিছু আগে লুকআউট লেনের ২০০০ ব্লকে একটি গাড়ি পাহাড়ের খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তল্লাশি চালিয়ে তারা পাহাড়ের ঢালে বিধ্বস্ত গাড়িটির সন্ধান পান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ওই পাঁচ কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।   প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তা থেকে ছিটকে পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পেছনে গাড়ির অতিরিক্ত গতি অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। করোনার অফিস সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, গাড়ির চালক ও সামনের সিটের যাত্রীর পাশাপাশি অপর একজন সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন। তবে বাকি দুজনের সিটবেল্ট বাঁধা না থাকায় দুর্ঘটনার প্রচণ্ড ধাক্কায় তারা গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান।   একাধিক সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। নিহতরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নীতিমালার কারণে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ বিভাগ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৭:২৩
ফ্লোরিডায় স্ত্রী ও দুই অবুঝ সৎমেয়েকে হ ত্যার ১৪ বছর পর আদালতে দোষ স্বীকার পাষণ্ড স্বামীর

ফ্লোরিডায় স্ত্রী ও দুই অবুঝ সৎমেয়েকে হ ত্যার ১৪ বছর পর আদালতে দোষ স্বীকার পাষণ্ড স্বামীর

ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে মিলল কিশোরীর সন্ধান

ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে এফবিআইয়ের হাতে উদ্ধার কিশোরী

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে দাদির অসুস্থতার অজুহাতে গলফে জালিয়াতি, ফেক ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করে বিপাকে খেলোয়াড়

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে দাদির অসুস্থতার অজুহাতে গলফে জালিয়াতি, ফেইক ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করে বিপাকে খেলোয়াড়

0 Comments