যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এআই-নির্ভর সাইবার হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ, বর্জ্যপানি, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি সাইবার হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও পানি শোধনাগারে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজতে হামলাকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ), এফবিআই, এনএসএ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সতর্কতার ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে সিমেন্সের এস৭ সিরিজের প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার বা পিএলসিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাসায়নিক কারখানা ও বিভিন্ন শিল্প স্থাপনার স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সিমেন্সের নিজস্ব নিরাপত্তা সতর্কতাতেও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তাদের এস৭ পিএলসি চলমান সাইবার হুমকি অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জুলাইয়ের হালনাগাদ সতর্কতায় এস৭-১২০০ পিএলসিকেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সিমেন্স জানিয়েছে, তাদের শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এ হুমকির মাধ্যমে সফলভাবে হামলা চালানোর কোনো ঘটনা এখনো তারা শনাক্ত করেনি।
সতর্কতায় বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্মুক্ত থাকা এমন পিএলসি খুঁজছে, যেগুলো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে অথবা যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে। এসব যন্ত্রে প্রবেশাধিকার পাওয়া গেলে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট শিল্প নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কে আরও গভীরভাবে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ, এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করে না। এগুলো বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি ও শিল্প প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে কোনো সিস্টেমে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করা গেলে পানি শোধনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা রাসায়নিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এই সতর্কতার মূল লক্ষ্য পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পরিচালকদের। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পানি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে, এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।
সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ব্যবহারের কারণে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো প্রযুক্তি, ভুলভাবে কনফিগার করা যন্ত্র এবং সরাসরি ইন্টারনেটে যুক্ত শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হামলাকারীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। কারণ এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা এবং অনেক পানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এখনো ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবস্থা আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে।
সিআইএসএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেটে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত পিএলসি বিচ্ছিন্ন করা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার হালনাগাদ করা এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। সিমেন্সও গ্রাহকদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ারওয়ালসহ অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে সিমেন্সের কয়েকটি এস৭-সংশ্লিষ্ট পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ২০২৬ সালেও একাধিক সতর্কতা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ত্রুটির ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার হামলার ঝুঁকি শুধু বড় অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ির রাউটার ও স্মার্ট ডিভাইসে শক্তিশালী আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সম্ভব হলে বহুস্তরীয় যাচাই চালু রাখা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ করা উচিত।
এ ছাড়া অচেনা ই-মেইল, খুদে বার্তা বা ফোনে দেওয়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা বিশ্বাসযোগ্য দেখতে বার্তা ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা বাড়তে পারে বলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে সাইবার হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি মূলত সম্ভাব্য হামলা ও প্রস্তুতি শনাক্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সিআইএসএ ও অন্যান্য সংস্থার সতর্কতার পাশাপাশি সিমেন্সও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়। স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি। ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন। যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া। শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরের সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি? গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির চাহিদা থাকলেও কমছে নির্মাণ, আবাসন সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এআই-নির্ভর সাইবার হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হর্টনে লেকের পাড়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়। চারপাশে নির্মল পানি, প্রশস্ত খোলা জায়গা এবং আধুনিক সব সুবিধা থাকা পাঁচ শয়নকক্ষের এই বাড়িটির বর্তমান তালিকামূল্য ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িটির ঠিকানা ২৬০ পাইন হিল লেক ড্রাইভ। রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটি বিক্রির জন্য সক্রিয় রয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির হর্টনে অবস্থিত বাড়িটি পাইন হিল লেকের তীরে তৈরি। বিক্রির বিজ্ঞাপনে এটিকে এমন একটি আবাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মিশিগানের উত্তরাঞ্চলের অবকাশযাপনের আবহ পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হবে না। বাড়িটির আয়তন ৩ হাজার ৩৫৩ বর্গফুট। এতে পাঁচটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং দুই গাড়ি রাখার গ্যারেজ রয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মিত বাড়িটির নকশাকে আধুনিক প্রেইরি-ধাঁচের বিলাসবহুল স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রিয়েলম্যাক্স মিড-মিশিগান। বাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর লেকমুখী অবস্থান। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির প্রায় ৭৭ ফুট দীর্ঘ জলসীমা রয়েছে এবং এটি ফারওয়েল ও পাইনহিল হ্রদশ্রেণির সঙ্গে যুক্ত এলাকায় অবস্থিত। পাইন হিল লেকের পানি বসন্তের প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা এবং স্বচ্ছ বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের দিক থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির পেছনে রয়েছে বড় আচ্ছাদিত প্যাটিও বা বসার জায়গা। সেখানে আরামদায়ক চেয়ার, পানিতে ডুবে আরাম করার জন্য স্থায়ী গরম পানির ব্যবস্থা, ঘোরানো যায় এমন টেলিভিশন এবং বাইরের রান্নাঘর রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্য বা অতিথিদের নিয়ে দীর্ঘ সময় বাইরে বসে লেকের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্যাটিও থেকে ইটের তৈরি একটি পথ গিয়ে পৌঁছেছে আরেকটি আলাদা বসার জায়গায়। সেখানে রয়েছে অগ্নিকুণ্ড এবং খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা। ফলে সন্ধ্যায় লেকের পাশে বসে সময় কাটানো থেকে শুরু করে অতিথিদের নিয়ে আয়োজন, সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে ঢুকলে বড় প্রবেশপথ থেকে একটি উন্মুক্ত নকশার বসার জায়গায় যাওয়া যায়। উঁচু ছাদ এবং লেকের দিকে থাকা বড় বড় জানালা ঘরগুলোতে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জানালাগুলো থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। প্রধান তলায় রয়েছে বসার ঘর, যেখানে পাথর দিয়ে তৈরি অগ্নিকুণ্ড রয়েছে। এর পাশেই আধুনিক রান্নাঘর। রান্নাঘরে রয়েছে ক্যামব্রিয়া কোয়ার্টজের প্রশস্ত দ্বীপ, স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জাম এবং কাচের টাইলসের পেছনের দেয়াল। রান্নাঘর ও বসার জায়গার উন্মুক্ত বিন্যাস পুরো তলাটিকে আরও প্রশস্ত দেখায়। এই তলাতেই রয়েছে লেকমুখী দুটি শয়নকক্ষ এবং দেড়টি বাথরুম। ভেতরের সিঁড়িটি প্রচলিত সিঁড়ির মতো নয়। ভাসমান কাঠামোর এই সিঁড়ি একটি খোলা সংযোগপথের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় তলায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও তিনটি শয়নকক্ষ ও দুটি পূর্ণাঙ্গ বাথরুম। বাড়িটির প্রধান শয়নকক্ষটি দ্বিতীয় তলায়। এর সঙ্গে রয়েছে আলাদা পোশাক রাখার ঘর এবং ব্যক্তিগত বাথরুম। বাথরুমে রয়েছে আলাদা রাখা বড় পানিতে ভেজার টব এবং ওপর থেকে বৃষ্টির মতো পানি পড়ার ব্যবস্থা করা ঝরনা। বাড়িটির নকশায় অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক বিনোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, তারবিহীন রেলিং, রান্নাঘরের ওপরে ঝুলন্ত ছাদ, বিশেষ নকশার আলোকসজ্জা এবং রঙ পরিবর্তন করা যায় এমন কলসহ বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশস্ত কংক্রিটের প্রবেশপথ, সংরক্ষণাগার এবং পুরো বাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ জেনারেটরও রয়েছে। এসব সুবিধার কারণে বাড়িটি শুধু ছুটির দিনে ব্যবহারের জন্য নয়, সারা বছর বসবাসের উপযোগী হিসেবেও বাজারজাত করা হচ্ছে। লেকের আশপাশেও রয়েছে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ। কাছেই নৌযানের জ্বালানি নেওয়ার জন্য একটি জলপথের ঘাট, আইসক্রিমের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং গলফ কোর্স রয়েছে। ফলে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি আশপাশে বিনোদনের সুযোগও পাওয়া যাবে। বাড়িটি একটি ব্যক্তিগত শান্ত পরিবেশের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। একই সঙ্গে মিশিগানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকার সঙ্গে এর যোগাযোগও তুলনামূলক সহজ। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, মনরো, টলেডো, নোভাই, নর্থভিল, ল্যান্সিং ও অ্যান আরবার থেকে বাড়িটি প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে। বাড়িটি প্রথমবার ২০২৬ সালের ৬ জুন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৮-১৯ জুন এর দাম কমিয়ে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার করা হয়। বর্তমানে সেটিই তালিকাভুক্ত মূল্য হিসেবে রয়েছে। লেকের পানির দৃশ্য, ব্যক্তিগত জলসীমা, বড় প্যাটিও, গরম পানির ব্যবস্থা, বাইরের রান্নাঘর এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা মিলিয়ে বাড়িটি মিশিগানের লেকফ্রন্ট আবাসনের একটি বিলাসবহুল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাই যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান, তাদের জন্য বাড়িটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় মাঝ আকাশে পুলিশ হেলিকপ্টার ও বিমানের সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলে জরুরি বাহিনী
ভার্জিনিয়ায় ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, থাকছে নকীব খান ও প্রতীক হাসানের লাইভ পারফরম্যান্স
দেখলে মনে হবে বাড়ি নয়, জঙ্গলেরই অংশ! নিউইয়র্কের ‘মিরর হাউস’ বিক্রি হচ্ছে ১৫ মিলিয়ন ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ নামের এক ধরনের ছত্রাকের উপস্থিতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশটির ২৭ অঙ্গরাজ্যে এই ছত্রাকের ৩ হাজার ৪৩৭টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। একই সময়ে ২০২৫ সালে ৪ হাজার ২৯০টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ক্যান্ডিডা অরিস মূলত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছড়ায় এবং গুরুতর অসুস্থ, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা কিংবা জটিল চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার যন্ত্র, কেন্দ্রীয় শিরায় ক্যাথেটার বা অন্য কোনো আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্র ব্যবহার করা রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র ও নার্সিংহোমের বাসিন্দারাও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্যান্ডিডা অরিস এক ধরনের ইস্ট বা ছত্রাক। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০০৯ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে। এরপর দেশটিতে প্রতিবছর ক্লিনিক্যাল কেসের সংখ্যা বেড়েছে। সিডিসির ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৮৮২টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২৮ এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ১৯৭-এ পৌঁছায়। তবে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হিসাবেও ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি কেস শনাক্ত হয়েছে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে ৮৭৩টি কেস পাওয়া যায়। এরপর টেক্সাসে ৪৩৩ এবং টেনেসিতে ২৮৩টি কেস শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ক্যান্ডিডা অরিসের অনেক ধরন প্রচলিত ছত্রাকনাশক ওষুধে প্রতিরোধী। সিডিসির জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্যান্ডিডা অরিস নমুনা ফ্লুকোনাজল নামের বহুল ব্যবহৃত ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। সাধারণত এ ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসায় ইকাইনোক্যান্ডিন শ্রেণির ওষুধকে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইকাইনোক্যান্ডিন প্রতিরোধী এবং একাধিক শ্রেণির ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী কিছু ধরনও শনাক্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। তবে ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত হলেই যে ব্যক্তি অসুস্থ, এমন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শরীরে ছত্রাকটির উপস্থিতি কিন্তু কোনো উপসর্গ না থাকাকে ‘কলোনাইজেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ, ছত্রাকটি ত্বক বা শরীরের অন্য কোনো অংশে থাকতে পারে, কিন্তু তখনও সংক্রমণ বা অসুস্থতা তৈরি নাও করতে পারে। সিডিসি বলছে, ক্যান্ডিডা অরিসের ক্লিনিক্যাল সংক্রমণের উপসর্গ নির্দিষ্ট নয়। শরীরের কোন অংশে সংক্রমণ হয়েছে এবং সংক্রমণের মাত্রা কতটা, তার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি রক্তে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। রক্তে ছত্রাক পাওয়া সাধারণত আক্রমণাত্মক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিডিসি জানিয়েছে, ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৩ হাজার ৫০৭টি ক্লিনিক্যাল কেস রিপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল ৪৫ বছর বা তার বেশি। সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তীব্র চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতাল এবং দীর্ঘমেয়াদি তীব্র চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে। ক্যান্ডিডা অরিসের বিস্তার সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর মতো নয়। বরং আক্রান্ত বা ছত্রাক বহনকারী ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শ এবং দূষিত চিকিৎসা-সরঞ্জাম বা পৃষ্ঠের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। হাসপাতালের বিছানার রেলিং, দরজার হাতলসহ বিভিন্ন পৃষ্ঠে ছত্রাকটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। এ কারণে হাসপাতাল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে সুস্থ মানুষের জন্য দৈনন্দিন জীবনে ক্যান্ডিডা অরিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নেই এমন মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে না। বরং দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা, গুরুতর অসুস্থতা, আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্রের ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যান্ডিডা অরিস মোকাবিলায় তাই দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চঝুঁকির রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা করলে শরীরে ছত্রাকটি থাকা অবস্থায়ই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। সিডিসির জুলাই ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাত পরিষ্কার রাখা, ক্যান্ডিডা অরিসের বিরুদ্ধে কার্যকর জীবাণুনাশক ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্পর্শভিত্তিক সতর্কতা এবং রোগী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সময় তার ক্যান্ডিডা অরিসের অবস্থার তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডিডা অরিসের শনাক্তকরণ আরও বাড়তে পারে। এর একটি কারণ হলো এখন আগের তুলনায় বেশি পরীক্ষা ও নজরদারি হচ্ছে। ফলে কেসের সংখ্যা বাড়ার একটি অংশ উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ফলও হতে পারে। সিডিসিও জানিয়েছে, ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং স্ক্রিনিং বাড়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সিডিসির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ক্যান্ডিডা অরিসের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এর বিরুদ্ধে ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই উচ্চঝুঁকির রোগীদের শনাক্তকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং হাসপাতালগুলোতে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।
নিজের মেয়েকেই বিয়ে করেছিলেন বাবা, পরে মেয়েসহ তাদের শিশুসন্তানকে হত্যা
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির ইসলামিক সেন্টারকে ঘিরে অনলাইনে হুমকি, ইসলামোফোবিক প্রচারণার অভিযোগ