সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

কিম জং উনের সঙ্গে কথা বলতে মরিয়া ট্রাম্প, তবে ট্রাম্পের ফোন ধরছেন না কিম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২১:৪৭
কিমের সঙ্গে কথা বলতে চান ট্রাম্প, কিন্তু সাড়া মিলছে না পিয়ংইয়ং থেকে। ছবি: সংগৃহীত
কিমের সঙ্গে কথা বলতে চান ট্রাম্প, কিন্তু সাড়া মিলছে না পিয়ংইয়ং থেকে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার ইচ্ছা কখনোই গোপন রাখেননি। নিজের প্রথম মেয়াদে তিনবার কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে এখনো পর্যন্ত তাদের সরাসরি দেখা হয়নি। ট্রাম্প দাবি করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বহুল কাঙ্ক্ষিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

 

তবে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন সম্ভবত ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। দুই নেতার মধ্যে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের এই আগ্রহে সাড়া দেওয়ার পরিবর্তে পিয়ংইয়ং উল্টো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ কোরিয়া—কারো সঙ্গেই তারা আলোচনায় বসবে না। অথচ দক্ষিণ কোরিয়া গত কয়েক মাস ধরেই তার এই যুদ্ধংদেহী উত্তরের প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কিমকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারছে না।

 

গত বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তার সঙ্গে কিমের কথা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি দ্রুতই উড়িয়ে দিয়েছেন কিমের বোন এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ভাইয়ের 'চমৎকার সম্পর্ক' রয়েছে, তবে দুই নেতার মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগের কথা তিনি নিশ্চিত করেননি। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।"

 

এদিকে, গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প হঠাৎ করেই তা সীমিত করার ঘোষণা দেন। তারপরও উত্তর কোরিয়ার মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পিয়ংইয়ং বরাবরই এসব মহড়ার তীব্র সমালোচনা করে আসছে এবং এগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে।

 

বার্ষিক এই যৌথ মহড়ার বিষয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার প্রতি "একটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী বার্তা দেয়।" তার এই মন্তব্যকে অনেকেই পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। যদিও ট্রাম্প একই সঙ্গে এই মহড়া কমানোকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এক ধরনের শাস্তি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সিউল জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

 

'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' নামের এই সামরিক মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই, আগামী শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কিম ইয়ো জং এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "মার্কিন পক্ষ যদি তাদের এই পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের 'সদিচ্ছার নিদর্শন' হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে, তবে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তর পাবে না।"

 

গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সীমান্তের ওপারে লাউডস্পিকারে বাজানো প্রোপাগান্ডা সম্প্রচার বন্ধ করে দেন। লি দ্রুত "অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনার দুষ্টচক্র" শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে গত মে মাসে পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে সিউলের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের কয়েক দশকের পুরনো লক্ষ্য থেকে সরে আসে। এরও প্রায় দেড় বছর আগে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের "প্রধান শত্রু" হিসেবে ঘোষণা করেছিল।\

 

প্রযুক্তিগতভাবে কোরীয় উপদ্বীপের দেশ দুটি এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কেবল লড়াই থেমেছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ-এর বরাত দিয়ে গত শুক্রবার দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থামানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনাই হলো সবচেয়ে "বাস্তবসম্মত" উপায়। ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, "আন্তঃকোরীয় বিনিময় বর্তমানে পুরোপুরি থমকে আছে।"

 

কিম জং উন কেন ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় অনাগ্রহী, তার পেছনের কারণও বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্প কিম সম্পর্কে বলেছিলেন, "আমার মনে হয় সে আমাকে মিস করে।" তিনি উত্তর কোরিয়ার এই নেতাকে একজন "স্মার্ট লোক" এবং "ধর্মীয় উন্মাদ নয়" বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন।

 

তবে গত বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেশ কিছু পদক্ষেপে উত্তর কোরিয়া ক্ষুব্ধ হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উত্তর কোরিয়াকে একটি "দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র" (রোগ স্টেট) বলে আখ্যায়িত করলে পিয়ংইয়ং এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা এই মন্তব্যকে "অমার্জিত ও অযৌক্তিক" উল্লেখ করে বলে যে, এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে অবিবেচকের মতো ক্ষুণ্ন করেছে।

 

এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের 'গোল্ডেন ডোম' বা পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র হামলাসহ সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের স্মৃতি এখনো কিমের মনে গেঁথে আছে। সেবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রাগার নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় ট্রাম্প হঠাৎ করেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, "মাঝে মাঝে আপনাকে আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়।"

 

উত্তর কোরিয়া এখন নিজেদের একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে চায় এবং তারা কখনোই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।

 

গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেছেন, সিউলের মূল্যায়ন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এই সংখ্যাটি আগের দিন ট্রাম্পের দাবি করা ৫৭টির চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শুরুতে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছিলেন যে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে প্রায় ৬০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে পরিবেশবাদী রাজনীতিক মারিনা সিলভা। ছবি: সংগৃহীত
রাবার শ্রমিকের মেয়ে থেকে ব্রাজিলের মন্ত্রী: যিনি ১৬ বছর বয়সেও পড়তে জানতেন না তিনি বাঁচালেন আমাজন বন

১৬ বছর বয়সেও পড়তে ও লিখতে জানতেন না তিনি। ছোটবেলায় ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে পরিবারের জীবিকা চালাতে সাহায্য করতেন। সেই মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন এবং আমাজন বন রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত নেতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। তিনি মারিনা সিলভা।   ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আকরের একটি রাবার সংগ্রহকারী পরিবারে জন্ম মারিনার। ১১ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। শৈশব কেটেছে আমাজনের বনাঞ্চলের কাছাকাছি অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন।   শৈশবেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ১৫ বছর বয়সে মাকে হারান মারিনা। এর আগেও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গিয়েছিলেন। শৈশবে নিজেও একাধিকবার ম্যালেরিয়া ও হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। ১৬ বছর বয়সে হেপাটাইটিসের চিকিৎসার জন্য আকরের রাজধানী রিও ব্রাঙ্কোয় যান তিনি। সেখানেই জীবনের বড় একটি পরিবর্তন আসে।   চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচালিত একটি সাক্ষরতা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে প্রথমবারের মতো পড়তে ও লিখতে শেখেন মারিনা। অর্থাৎ যে বয়সে অধিকাংশ শিশু-কিশোর বিদ্যালয়ের পড়াশোনা অনেকটা এগিয়ে নেয়, সেই বয়সেই তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। রিও ব্রাঙ্কোয় গিয়ে জীবিকার জন্য গৃহকর্মীর কাজও করেন তিনি। পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব আকরে ইতিহাস বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের এই যাত্রাই তাকে ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে নিয়ে যায়।   আমাজনের বন রক্ষার আন্দোলনে মারিনার যুক্ত হওয়া ছিল তার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাবার সংগ্রহকারী নেতা ও পরিবেশকর্মী চিকো মেন্ডেসের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বন উজাড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮০-এর দশকে আকরে বন উজাড় ও বনভূমি থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মারিনা ও মেন্ডেস।   রাজনীতিতে তার উত্থানও ছিল দ্রুত। রিও ব্রাঙ্কোর স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং পরে জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেন তিনি। ১৯৯৫ সালে আকরের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রীও হন। ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রথম মেয়াদে পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মারিনা। তার দায়িত্বকালে আমাজনে বন উজাড় কমানোর জন্য নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হয়। বিশেষ করে উপগ্রহের মাধ্যমে বন উজাড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পরিবেশ সুরক্ষার নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।   মারিনার মন্ত্রীত্বের সময় ব্রাজিলের আমাজনে বন উজাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বন উজাড়ের হার প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছিল। এই সময়কার নীতির মধ্যে বন উজাড় প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত সরকারি কর্মপরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।   আমাজনের বন রক্ষায় উপগ্রহভিত্তিক নজরদারি ছিল এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোথায় বন উজাড় হচ্ছে, কোন এলাকায় তা ঘটছে এবং কোথায় দ্রুত আইন প্রয়োগ প্রয়োজন, এসব শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপে বর্তমানে ডিইটিইআর ও প্রোদেসের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাজনের বন উজাড় পর্যবেক্ষণ করে।   তবে মারিনা সিলভার পরিবেশনীতি শুধু বন রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, টেকসই অর্থনীতি এবং বন সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা। ব্রাজিলের সরকারও পরবর্তী সময়ে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে বন উজাড় শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।   লুলার সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদেও মারিনা আবার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে আমাজনে বন উজাড় কমানোর প্রবণতা আবারও দেখা গেছে। ব্রাজিলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আমাজনে বন উজাড় আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমেছিল। পরবর্তী সময়েও এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।   মারিনার জীবনের গল্প তাই শুধু একজন রাজনীতিকের উত্থানের গল্প নয়। এটি ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের প্রান্তিক একটি পরিবারের মেয়ের শিক্ষা অর্জন, সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়া এবং পরে জাতীয় পর্যায়ের পরিবেশনীতি প্রভাবিত করার দীর্ঘ যাত্রার গল্প। একসময় যে মেয়েকে ১৬ বছর বয়সে নতুন করে পড়তে ও লিখতে শিখতে হয়েছিল, তিনিই পরে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিচিত পরিবেশবাদী রাজনীতিকদের একজন হয়ে ওঠেন। আমাজনের বন রক্ষার আন্দোলনে তার দীর্ঘ ভূমিকার জন্য ১৯৯৬ সালে তিনি গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজও পান।   ২০২৬ সালে মারিনা আবারও নির্বাচনী রাজনীতির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। মে মাসের এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বান্দনিউজ জানিয়েছিল, তিনি সাও পাওলো থেকে সিনেট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে সময় তিনি অর্থনীতি ও পরিবেশকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে দুটিকে একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।   মারিনার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। শুরুটা যেখানে ছিল দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও শিক্ষার সুযোগের অভাব দিয়ে, সেখান থেকে তিনি ধীরে ধীরে উঠে এসে ব্রাজিলের পরিবেশনীতি ও আমাজন সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত হয়েছেন। তার জীবনের পথ দেখায়, দেরিতে শুরু করলেও সঠিক সময়ে নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২২:২৮
কিমের সঙ্গে কথা বলতে চান ট্রাম্প, কিন্তু সাড়া মিলছে না পিয়ংইয়ং থেকে। ছবি: সংগৃহীত

কিম জং উনের সঙ্গে কথা বলতে মরিয়া ট্রাম্প, তবে ট্রাম্পের ফোন ধরছেন না কিম

প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট

বাগদাদের আকাশে ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিমান, হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট

ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল
ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল

উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করায় বিতর্কে জড়িয়েছেন ১৭ বছর বয়সী ইসরায়েলি শিক্ষার্থী ইয়োতাম বুদনিক। পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় আয়োজকেরা তার সনদ বাতিল করেছেন এবং প্রতিযোগিতার সরকারি ফলাফলের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দিয়েছেন। তবে স্বর্ণপদক ফেরত দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ইসরায়েলের রেহোভট শহরের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বুদনিক ৯ থেকে ১৬ আগস্ট উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে অংশ নেন। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই কম্পিউটারভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ ফল করে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন।   পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঞ্চে ওঠার পর বুদনিক নিজের সঙ্গে থাকা একটি ইসরায়েলি পতাকা বের করে কাঁধে জড়িয়ে নেন। পরে এই পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের সাধারণ পরিষদ ২০২৪ সালে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ইসরায়েলকে আর আলাদা জাতীয় দল হিসেবে প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। তবে দেশটির সর্বোচ্চ চারজন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন এবং তাদের অংশগ্রহণ হবে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পতাকার অধীনে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে বুদনিকসহ ইসরায়েলি শিক্ষার্থীরা জাতীয় দলের পরিচয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। এরপর স্বর্ণপদক পাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করেন।   ঘটনার পর আয়োজকেরা তার কাছে স্বর্ণপদক ফেরত দেওয়ার দাবি জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বুদনিক পদক ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর পর তার সনদ প্রত্যাহার করা হয় এবং সরকারি ফলাফলের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হয়।   বুদনিক তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনার ফল। তার মতে, বিজ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বিষয়কে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া উচিত নয়।   আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াড বিশ্বের প্রধান আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। এতে বিভিন্ন দেশের স্কুলশিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তরুণদের মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও তারা জাতীয় দলের পরিচয়ে অংশ নিতে পারবেন না। তাদের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পতাকার অধীনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।   বুদনিকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় জাতীয় পরিচয়, পতাকা প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আয়োজকেরা প্রতিযোগিতার নির্ধারিত নিয়ম ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করার অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে বুদনিকের পদক্ষেপ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ও জাতীয় পরিচয় প্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৫১
ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর

ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর

সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক

পার্কে ডেটে গিয়েছিলেন তরুণী, সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক

মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইলেক্ট্রোকেমোথেরাপি নিয়ে সুস্থ হয়েছে চেস্টার চিড়িয়াখানার অজগর জোডি ফস্টার। ছবি: সংগৃহীত

মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় সুস্থ হলো ১৫ ফুটের অজগর, বিশ্বে প্রথমবারের মতো নতুন চিকিৎসা

ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে বাধ্য হয়েই চড়া দামে পণ্য কিনছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিধিনিষেধে গাজায় জমজমাট কালোবাজার: মুনাফা লুটছে ইসরায়েলি সেনা ও ব্যবসায়ীরা, নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা

ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে বিশাল এক কালোবাজার বা চোরাচালান অর্থনীতি। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চড়া দামে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ব্যাটারি বা ওষুধ কিনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই চোরাচালানের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনা, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী এবং গাজার হামাস সরকার সবাই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আদালতের নথি, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এপি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ইসরায়েল। বর্তমানে এই পণ্যটি চোরাকারবারিদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে।   শুধু সিগারেট নয়, আইফোন, সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে জ্বালানি ও চেতনানাশক ওষুধও অবৈধভাবে গাজায় ঢুকছে। ইসরায়েল কিছু পণ্যের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে এবং অনেক পণ্যকে 'দ্বৈত ব্যবহারের' অজুহাতে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। ইসরায়েলের দাবি, কংক্রিট, গাড়ির যন্ত্রাংশ বা এক্স-রে মেশিনের মতো জিনিসগুলো হামাস সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে। গাজায় পণ্য প্রবেশের ওপর ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বাধ্য হয়েই অনেকেই চোরাচালানের পথ বেছে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কিছু সদস্য অর্থের বিনিময়ে এই অবৈধ বাণিজ্যে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এক ব্যবসায়ী বলেন, দখলদাররা তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা রাখেনি, তাই চোরাচালান এখন রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তাদের এবং ইসরায়েলি সেনাদের লাভ হওয়ার পাশাপাশি গাজার মানুষও অন্তত খাবার বা পণ্যটুকু পাচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা চোরাচালান রোধে কঠোরভাবে কাজ করছে এবং কোনো সেনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সব ধরনের পণ্য প্রবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইসরায়েল। বর্তমানে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থার পাশাপাশি মাত্র ১২ জন ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীকে গাজায় বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি চালানের আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা তাই চোরাকারবারিদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এমনকি হাসপাতালগুলোও জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য এই কালোবাজারের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা 'সমন্বয়ক' বা কো-অর্ডিনেটরদের কাছে পণ্যের তালিকা পাঠান। এই সমন্বয়করা ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের মধ্যস্বত্বভোগী। পণ্যগুলো মূলত দক্ষিণ গাজার কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে ঢোকে। চোরাকারবারিরা অনেক সময় ইসরায়েলি সেনাদের ঘুষ দিয়ে ট্রাক পার করে, আবার কখনো কখনো সরাসরি সামরিক যানে করেও পণ্য ভেতরে আনা হয়। আদালতের নথিতে 'আবু বাসেল' নামে এক রহস্যময় চোরাচালান সমন্বয়কের নাম উঠে এসেছে, যার সাথে ইসরায়েলি পুলিশের গভীর সখ্যতা রয়েছে। গাজার ব্যবসায়ীদের মতে, আবু বাসেল এই জগতের অঘোষিত সম্রাট; তার ইশারা ছাড়া গাজায় কিছুই ঢোকে না।   গাজার ব্যবসায়ীদের দাবি, চোরাচালান হওয়া পণ্যের ওপর হামাস পরিচালিত সরকারও মোটা অঙ্কের 'কর' বা ভাগ বসায়। ফিলিস্তিনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারবাখ জানান, ব্যবসায়ীরা নিজে থেকে জানালে সরকার পণ্যের মূল্যের ২০ শতাংশ নেয়। কিন্তু না জানিয়ে ধরা পড়লে তা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। হামাস প্রশাসনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চোরাচালান হওয়া পণ্য থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবী ও পুলিশদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আদালতেও চোরাচালানে জড়িত থাকার দায়ে বেশ কয়েকজন রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে শিন বেত-এর প্রধানের ভাই বেজালেল জিনির নামও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সামরিক যানে করে সিগারেট পার করার জন্য তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ঘুষ নিয়েছিলেন। এছাড়া আলগারাবলি নামের দুই ভাই মাত্র তিন মাসে চোরাচালান থেকে প্রায় ২২ লাখ ডলার আয় করেছেন।   কালোবাজারের এই রমরমা বাণিজ্যের চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে গাজার সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধের আগে যে গাড়ির ব্যাটারির দাম ছিল ১৪০ ডলার, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ ডলারে। ১৬ সেন্টের সোলার প্যানেল বিক্রি হচ্ছে ৩.২৫ ডলারে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সিগারেটের। এক প্যাকেট সিগারেটের দাম কখনো কখনো ১৪০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের সম্পূর্ণ অবরোধের সময় এটি ১০০০ ডলারেও বিক্রি হয়েছিল। রাফাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া মোহাম্মদ আবুয়েল-এনেইন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ফ্যানের মতো সাধারণ জিনিসও ইসরায়েল ঢুকতে দিচ্ছে না। ক্রসিং দিয়ে ফ্যান ঢুকলে কী ক্ষতি হবে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ফ্যান দিয়ে কেউ রকেট বানাবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, তীব্র গরমে বাচ্চাদের গায়ে পানি ছিটিয়ে তাদের দিন পার করতে হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২২:৩২
আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল, সম্প্রতি এটি কিনেছেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডে ১৯ শতকের দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ, মূল্য হতে পারে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত

১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

0 Comments