গণিতে পিএইচডি, গণিতের কৌশল ব্যবহার করে লটারি জিতলেন চারবার, পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের লটারি ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি জোয়ান আর. গিন্থার। গণিতে পিএইচডি করা সাবেক কলেজ শিক্ষক ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চারবার বড় অঙ্কের লটারি জিতে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার এই ধারাবাহিক জয়ের ঘটনা একসময় নিছক ভাগ্যের বিস্ময় হিসেবে আলোচিত হলেও পরে পরিসংখ্যানবিদ ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, এর পেছনে হিসাবনির্ভর কৌশল কাজ করে থাকতে পারে।
গিন্থারের প্রথম বড় জয় আসে ১৯৯৩ সালে। টেক্সাস লটারির লোটো টেক্সাস ড্রতে তিনি প্রায় ৫৪ লাখ ডলারের একটি অংশ পান। এরপর ২০০৬ সালে ২০ লাখ ডলারের একটি স্ক্র্যাচ-অফ পুরস্কার, ২০০৮ সালে ৩০ লাখ ডলার এবং ২০১০ সালে ১ কোটি ডলারের সর্বোচ্চ পুরস্কার জেতেন। টেক্সাস লটারির নিজস্ব রেকর্ডেও ২০০৮ সালের ৩০ লাখ ডলারের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেখানে তাকে তিনবার টপ-প্রাইজ বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০১০ সালে চতুর্থবার বড় পুরস্কার জেতার পর তার মোট লটারি জয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তৎকালীন প্রতিবেদনে তার চারটি বড় জয়ের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে তুলে ধরা হয়। শুধু চারটি টিকিটই যদি তিনি কিনে থাকেন, তাহলে এমন ফলের সম্ভাবনা ১৮ সেপ্টিলিয়নের মধ্যে একবারের মতো হতে পারে বলে গণিতবিদদের উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল। তবে তিনি বাস্তবে কতগুলো টিকিট কিনেছিলেন, সেটিই এই হিসাবকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
গিন্থারের ঘটনাটি নিয়ে পরে আরও গভীর অনুসন্ধান হয়। হার্পার্স ম্যাগাজিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি টেক্সাসের বিশপ এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনতেন। স্থানীয় বিক্রেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একসঙ্গে পুরো রোল বা বড় প্যাকেটের টিকিট কিনতেন। ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তার নামে ১ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের অন্তত ২৮টি স্ক্র্যাচ-অফ পুরস্কার পাওয়ার তথ্যও উঠে আসে।
এখানেই সামনে আসে গিন্থারের গণিতের জ্ঞান নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন অনুসন্ধানে বলা হয়, টেক্সাস লটারি স্ক্র্যাচ-অফ গেমে কতগুলো টপ প্রাইজ এখনও বাকি আছে, সেই তথ্য প্রকাশ করত। ফলে কোনো গেমে যখন বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু বড় পুরস্কারের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অবশিষ্ট, তখন একটি টিকিটের প্রত্যাশিত মূল্য তুলনামূলকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
পরিসংখ্যানের ভাষায়, কোনো টিকিটের সম্ভাব্য পুরস্কার ও জয়ের সম্ভাবনা হিসাব করে যদি গড় প্রত্যাশিত রিটার্ন টিকিটের দামের চেয়ে বেশি হয়, সেটিকে Positive Expected Value বা +EV পরিস্থিতি বলা যায়। অনুসন্ধানকারীদের ধারণা ছিল, গিন্থার হয়তো এ ধরনের বিরল পরিস্থিতি শনাক্ত করে বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনতেন। তবে তিনি নিজে কখনো প্রকাশ্যে তার কৌশল ব্যাখ্যা করেননি, ফলে এটি নিশ্চিত প্রমাণ নয়।
বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনার বিষয়টিও তার জয়ের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশপ ও আশপাশের এলাকায় তিনি একাধিক দোকান থেকে হাজার হাজার উচ্চমূল্যের স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনতেন। এমনকি একটি দোকান থেকে একটি নির্দিষ্ট ৫০ ডলারের গেমের ৯ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। বেশি টিকিট কেনার ফলে অবশ্যই জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে, যদিও এতে কোনোভাবেই বড় পুরস্কার নিশ্চিত হয় না।
তৎকালীন টেক্সাস লটারি কর্তৃপক্ষ গিন্থারের জয়ে কোনো কারচুপির সন্দেহের কথা জানায়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, এত বড় ধারাবাহিক সাফল্য কি নিছক ভাগ্যের ফল, নাকি বিপুল টিকিট কেনা, প্রকাশ্য তথ্য বিশ্লেষণ এবং গাণিতিক হিসাবের সমন্বিত ফল। হার্পার্সের অনুসন্ধানেও বলা হয়েছিল, ঘটনাটির রহস্য পুরোপুরি সমাধান করা যায়নি।
গিন্থারের শিক্ষাজীবনও এই গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন এবং বিভিন্ন কলেজে গণিত পড়িয়েছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে তাকে সাবেক কলেজ অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি লটারিতে বারবার বড় পুরস্কার জিতেছিলেন, তার পেশাগত জীবনও ছিল সংখ্যা ও পরিসংখ্যানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
তবে গিন্থারের সাফল্যকে এমন কোনো সহজ ফর্মুলা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না, যা অনুসরণ করলেই লটারিতে নিশ্চিতভাবে লাভ করা সম্ভব। বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনলেও বড় পুরস্কার জেতা নিশ্চিত নয় এবং প্রত্যাশিত মূল্য ইতিবাচক হলেও বাস্তব ফলাফল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ক্ষতির হতে পারে। গিন্থারের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কৌশল কতটা ভূমিকা রেখেছিল, তার নির্ভরযোগ্য উত্তর আজও অজানা।
তবু তার চারটি বড় জয় একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। লটারির মতো সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর বলে বিবেচিত খেলাতেও প্রকাশ্য তথ্য, সম্ভাব্যতা ও বিপুল পরিমাণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার হিসাব বদলে ফেলা যায়। জোয়ান গিন্থারের ক্ষেত্রে সেই গণিত কতটা কাজ করেছিল আর কতটা ছিল ভাগ্য, সেই রহস্যই তাকে লটারি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বিজয়ী করে রেখেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক শহরে সরকারি উদ্যোগে পাঁচটি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এসব দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বরোতে একটি করে দোকান চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইস্ট হারলেমের একটি দোকানের জন্য প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ মুদি ব্যবসায়ীদের বিনা ভাড়ায় জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে তারা দোকান পরিচালনা করতে পারেন। মামদানির প্রশাসনের দাবি, খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ কমানো এবং যেসব এলাকায় তাজা ও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা কম, সেসব এলাকার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নিউইয়র্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সমস্যায় ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্যোগটি নিয়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত দোকানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করলে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই কম লাভে পরিচালিত অনেক দোকান এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে। এ ছাড়া দোকানগুলোর কর্মীদের বেতন, পণ্যে ছাড়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি কীভাবে আর্থিকভাবে টেকসই হবে—এসব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি দোকানে কেনাকাটার জন্য পরিচয়পত্র লাগবে—এমন দাবি ছড়ালেও নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনো পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে না। মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি দোকান ২০২৯ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর প্রভাব এবং প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যকারিতা—এই দুই বিষয়ই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা।
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
গণিতে পিএইচডি, গণিতের কৌশল ব্যবহার করে লটারি জিতলেন চারবার, পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা, পাশে ছিল মেয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় উপস্থিতি কয়েকটি স্টেটকে ঘিরে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশের বসবাস নিউইয়র্কে। ১. নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র নিউইয়র্ক। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি ব্যবসা, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২. মিশিগান প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে মিশিগানও বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় কেন্দ্র। বিশেষ করে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন। ৩. ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসেসহ বিভিন্ন মহানগর এলাকায় শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও পেশাজীবী খাতে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ৪. টেক্সাস প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে টেক্সাসও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির স্টেটগুলোর একটি। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনসহ বড় শহরগুলোতে বাংলাদেশিদের ব্যবসা, পেশাজীবী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। ৫. নিউ জার্সি প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নিউ জার্সিতে বসবাস করেন। নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে স্টেটটি বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বিভিন্ন স্টেটে ছড়িয়ে পড়ছে। নিউইয়র্ক এখনো সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও বাংলাদেশিদের শক্তিশালী ও স্থায়ী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। তবে এখানে ব্যবহৃত জনসংখ্যার হিসাব শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে নিজেদের উল্লেখ করা মানুষদের নিয়ে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই হিসাবের মধ্যে যারা বাংলাদেশি পরিচয়ের পাশাপাশি অন্য কোনো জাতিগত বা এশীয় পরিচয়ও উল্লেখ করেছেন, তারা এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন।
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী
১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা
ক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় শুধু ছয় অঙ্কের বেতন পেলেই যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়িভাড়া, খাবার, পরিবহন, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে থাকতে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণও বেড়েছে। আর্থিক তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানহীন একক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যেই প্রয়োজনীয় আয় ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তান ৪০টি অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ২ লাখ ডলার আয় প্রয়োজন। গবেষণায় ‘স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন’ হিসাব করতে ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আয়ের ৫০ শতাংশ মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে, ৩০ শতাংশ ইচ্ছাধীন খরচে এবং বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধে রাখার হিসাব করা হয়। মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের তথ্য নেওয়া হয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) ‘লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর’ থেকে। গবেষণার হিসাবে, একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে। সেখানে স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার আয় প্রয়োজন। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস, যেখানে প্রয়োজন ১ লাখ ২৭ হাজার ২১৩ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই পরিমাণ ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৭ ডলার, আর নিউইয়র্কে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের হিসাব অবশ্য আরও বেশি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটস। সেখানে দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার আয় প্রয়োজন। হাওয়াইয়ে একই পরিবারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৬৫ ডলার। এই তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কও ওপরের দিকে রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বড় ও ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়ি, খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ সামলানোর পাশাপাশি সঞ্চয় এবং ইচ্ছাধীন খরচের জন্য অর্থ রাখতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি আয় প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম আয়েও স্বচ্ছন্দে থাকা সম্ভব এমন অঙ্গরাজ্যের তালিকায় রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও মিসিসিপি। একক প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রয়োজনীয় আয় সবচেয়ে কম বছরে ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম আয় প্রয়োজন মিসিসিপিতে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার। ২০২৫ সালের তুলনায়ও অনেক অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় বেড়েছে। একক প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গেছে মন্টানায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আয় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। এরপর নিউইয়র্কে বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মেইনে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। তবে সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। ২০২৫ সালের তুলনায় ছয়টি অঙ্গরাজ্যে একক প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় সামান্য কমেছে। এগুলো হলো টেনেসি, মেরিল্যান্ড, লুইজিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিসিসিপি ও টেক্সাস। এর মধ্যে টেনেসিতে সবচেয়ে বেশি কমেছে, প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখানে প্রয়োজনীয় আয় নেমে হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৮ ডলার। স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় আয় ৮০ হাজার ডলারের নিচে নেই। এমনকি তুলনামূলক কম ব্যয়ের অঙ্গরাজ্যগুলোতেও বাড়তি সঞ্চয়, ঋণ পরিশোধ এবং ইচ্ছাধীন খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে প্রয়োজনীয় আয় যথেষ্ট বেশি। গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলো আবাসন, মুদি পণ্য, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ সামলাচ্ছে। স্মার্টঅ্যাসেটের বিশ্লেষণে তাই শুধু ‘কত টাকা আয় করলে বেঁচে থাকা সম্ভব’ তা নয়, বরং প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পাশাপাশি কিছু অর্থ সঞ্চয় এবং জীবনযাত্রার অন্যান্য ব্যয় চালানোর সক্ষমতাকেও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে গবেষণাটি ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার চূড়ান্ত হিসাব নয়। একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যেও শহর, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বাসস্থানের ধরন, পরিবহনব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত খরচের অভ্যাসের ওপরও প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় নির্ভর করে। স্মার্টঅ্যাসেটের এই গবেষণায় এমআইটির ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে বছরওয়ারি পরিবর্তন হিসাব করতে। সব মিলিয়ে গবেষণার চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্বচ্ছন্দ জীবন’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যাপকভাবে বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়তি আয় ছাড়া সঞ্চয়, ঋণ পরিশোধ ও ব্যক্তিগত খরচের মধ্যে ভারসাম্য রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ২ দিন নিখোঁজ, উদ্ধার যুবক
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তিতে টাম্পায় ২৫০ টি গাছ লাগাল ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়