সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের চিকিৎসাসেবা সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে।

 

তবে এই আদেশের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট বিস্তারিত কোনো আইনি ব্যাখ্যা দেয়নি। রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস এই নীতি কার্যকরের পক্ষে মত দিলেও বাকি বিচারপতিদের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগটি আপাতত আটকে গেল।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের পর কেন্দ্রীয় কারা ব্যুরো এই নতুন চিকিৎসা নীতি গ্রহণ করেছিল। নীতিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার, হরমোন থেরাপি এবং মেকআপ বা পরচুলা ব্যবহারের মতো সামাজিক সুবিধাগুলো বন্ধ করা, যাতে সরকারি তহবিলের অর্থ এ ধরনের কাজে ব্যয় না হয়।

 

তবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এই ধরনের চিকিৎসাসেবা কারাগারের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আইনজীবীরা এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানালে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ রয়েস ল্যাম্বার্থ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।

 

তিনি তার রায়ে উল্লেখ করেন, জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সঠিক চিকিৎসা না হলে তা বন্দীদের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যার প্রবণতার মতো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৬০০ জন ট্রান্সজেন্ডার বন্দী হরমোন থেরাপি গ্রহণ করছিলেন। হঠাৎ এই সেবা বন্ধ করে দিলে তা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান। এছাড়া, গত ৩০ বছর ধরে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের হরমোন থেরাপি দেওয়ার কারণে কারাগারে কোনো নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও সরকার দাখিল করতে পারেনি।

 

যদিও এর আগে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় নিষেধাজ্ঞা এবং নারীদের খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষেই রায় দিয়েছিল, তবে এবার বন্দীদের মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গাড়ি চালানোর সময় প র্নোগ্রাফি দেখতে মগ্ন ছিলেন চালক! মুহূর্তের অসতর্কতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল এক যাত্রীর
গাড়ি চালানোর সময় প র্নোগ্রাফি দেখতে মগ্ন ছিলেন চালক! মুহূর্তের অসতর্কতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল এক যাত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রের জুয়াব কাউন্টিতে হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। গত জুনে ঘটা ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। অভিযুক্ত ৪৪ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্রিস্টিন চাওয়ের বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি ফেলোনি অটোমোবাইল হোমিসাইড’ বা গাড়ি দ্বারা হত্যার গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখে আই-১৫ (I-15) হাইওয়েতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে সড়ক মেরামতের কাজ চলায় স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য গাড়ির গতি কিছুটা ধীর ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, সামনের দুটি গাড়ি গতি কমালেও ক্রিস্টিন চাওয়ের চালিত তৃতীয় গাড়িটি পেছনের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়।   এর ফলে পেছনের গাড়িটি ছিটকে সামনের গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং তিনটি গাড়িই একসঙ্গে রাস্তার বাইরে চলে যায়। পেছনের গাড়িতে থাকা এক যাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।   দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ক্রিস্টিন নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গাড়ির কোনো ব্রেক মার্ক পাননি, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সংঘর্ষের আগে তিনি গাড়ির গতি কমানোর কোনো চেষ্টাই করেননি।   পরবর্তীতে আদালতের ওয়ারেন্ট নিয়ে ক্রিস্টিনের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে পুলিশ। ফোন পরীক্ষার পর তদন্তকারীরা জানান, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার দুই মিনিটেরও কম সময় আগে তিনি একটি সুপরিচিত পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৮:৪২
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ১১ হাজার ডলারের স্কলারশিপ, সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ১১ হাজার ডলারের স্কলারশিপ, সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারিতে ১৫–৩০% সাশ্রয়ের সুযোগ, ডোরড্যাশ-উবার ইটসকে টক্কর দিতে ওলোর নতুন অ্যাপ
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারিতে ১৫–৩০% সাশ্রয়ের সুযোগ, ডোরড্যাশ-উবার ইটসকে টক্কর দিতে ওলোর নতুন অ্যাপ

খাবার ডেলিভারি সেবায় ডোরড্যাশ ও উবার ইটসের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কড়া প্রতিযোগিতায় ফেলতে নতুন একটি অ্যাপ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে রেস্তোরাঁর অর্ডারিং সফটওয়্যার কোম্পানি 'ওলো' (Olo)। নতুন এই গ্রাহকমুখী অ্যাপটির সবচেয়ে বড় চমক হলো ‘জিরো মেন্যু মার্কআপ’।   অর্থাৎ, সরাসরি রেস্তোরাঁয় বসে খেলে গ্রাহকদের খাবারের যে দাম দিতে হয়, ওলোর অ্যাপে অর্ডার করলেও সেই একই দাম পরিশোধ করতে হবে। সাধারণত অন্যান্য থার্ড-পার্টি ডেলিভারি অ্যাপগুলো রেস্তোরাঁর মূল দামের চেয়ে বেশ চড়া মূল্যে খাবার বিক্রি করে থাকে। ওলোর দাবি, তাদের এই ইন-স্টোর প্রাইসিং বা মূল দামের সুবিধা গ্রহণ করে গ্রাহকরা প্রতিটি অর্ডারে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন।   কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও নোয়াহ গ্লাস জানান, এই উদ্যোগটি ভোক্তাদের জন্য যেমন একটি দারুণ অভিজ্ঞতা তৈরি করবে, তেমনি রেস্তোরাঁগুলোর জন্যও এটি একটি টেকসই মডেল হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে মেন্যুর দাম অকারণে বাড়বে না এবং রেস্তোরাঁ ও গ্রাহকের মাঝে কোনো অদৃশ্য দেয়াল থাকবে না।   বর্তমান সময়ে মানুষ অন্যান্য খাতের বাজেট কমালেও খাবার ডেলিভারির পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। তাই অ্যাপের নিজস্ব মার্কআপ ও ডেলিভারি চার্জ গ্রাহকদের বারবার অর্ডার করার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। এই বাজারে ডোরড্যাশ, উবার ইটস এমনকি ওয়ালমার্টের মতো জায়ান্টরাও যখন নিজেদের ডেলিভারি সেবা সম্প্রসারণ করছে, ঠিক তখনই ওলোর এই মূল্য-সাশ্রয়ী মডেল বাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।   ২০০৫ সালে স্মার্টফোন যুগের আগে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে রেস্তোরাঁয় অর্ডার করার সুবিধা দিয়ে ওলো তাদের যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে কোম্পানিটি প্রায় ৮০০টি রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ অর্ডার সফলভাবে পরিচালনা করছে। চমকপ্রদ বিষয় হলো, খাবার ডেলিভারির জন্য ওলোর নিজস্ব কোনো রাইডার বা কর্মী বাহিনী নেই।   এর পরিবর্তে তারা নিজেদের অত্যাধুনিক ডিসপ্যাচ সার্ভিস ব্যবহার করে গ্রাবহাবের (Grubhub) মতো অন্যান্য থার্ড-পার্টি ডেলিভারি পার্টনারদের অপশনগুলো তুলনা করে। এরপর খরচ ও গতির ওপর ভিত্তি করে তারা গ্রাহকের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও দ্রুততম অপশনটি বেছে নেয়। প্রাথমিকভাবে ফাইভ গাইজ (Five Guys) এবং ডেভস হট চিকেন-সহ (Dave's Hot Chicken) প্রায় ২৫০টি নামিদামি রেস্তোরাঁ থেকে গ্রাহকরা ওলোর নতুন এই ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করার সুযোগ পাবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৬:৫১
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এনামুলকে আটক করেছে আইস, তাঁর দুঃসময়ে নীরব পুরো কমিউনিটি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এনামুলকে আটক করেছে আইস, তাঁর দুঃসময়ে নীরব পুরো কমিউনিটি

৬৩ বছরের দাম্পত্য, আজও একা খেতে বসেন না বৃদ্ধ, সঙ্গে রাখেন প্রয়াত স্ত্রীর ছবি

৬৩ বছরের দাম্পত্য, আজও একা খেতে বসেন না বৃদ্ধ, সঙ্গে রাখেন প্রয়াত স্ত্রীর ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের ‘টপ ডক্টর’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ার ‘টপ ডক্টর’ তালিকায় ষষ্ঠবার বাংলাদেশি জিয়াউদ্দিন আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের ‘টপ ডক্টর’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। ম্যাগাজিনের চিকিৎসক পরিচিতি পাতায় নেফ্রোলজি বিভাগে তাঁর নাম রয়েছে। টেম্পল হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে টানা ছয় বছর তিনি এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।   চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত তালিকায় ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলের ৩ হাজার ৮৬ জন চিকিৎসককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে টেম্পল হেলথের ২৯৬ জন চিকিৎসক রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত নামের তালিকাতেও জিয়াউদ্দিন আহমেদকে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পাওয়া গিয়েছে।   ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ‘টপ ডক্টর’ তালিকা তৈরিতে চিকিৎসকদের মনোনয়ন নেওয়া হয়। এরপর মনোনীত চিকিৎসকদের শিক্ষা, পেশাগত সুনাম, গবেষণা, হাসপাতাল ও শিক্ষকতার দায়িত্বসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে স্বাস্থ্যসেবা গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ক্যাসল কনলি। এটি পাঠকদের চিকিৎসক খুঁজতে সহায়তার জন্য প্রকাশিত একটি নির্বাচিত তালিকা।   জিয়াউদ্দিন আহমেদ ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল নেফ্রোলজিতে চিকিৎসাসেবা দেন। টেম্পল হেলথের পরিচিতি অনুযায়ী, ডায়ালাইসিস, নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ এবং গুরুতর অবস্থায় কিডনি রোগের চিকিৎসা তাঁর কাজের ক্ষেত্র। ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের পরিচিতিতে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ ও কিডনিতে পাথরকেও তাঁর বিশেষ দক্ষতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে।   টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তালিকায় তিনি লুইস কাটজ স্কুল অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন। টেম্পল হেলথের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কিডনি রোগ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৩:১৭
শিশুদের অনলাইনে যৌন শোষণের অভিযোগে অস্টিন জান সাই ইয়াতকোকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত

শিশু যৌন শোষণে এফবিআই এর মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে ইয়াতকোর, পুরস্কার ২৫ হাজার ডলার

চিকিৎসকের নির্দেশ শোনার জন্য চালু রাখা অডিও রেকর্ডে চিকিৎসাকর্মীদের অপমানজনক মন্তব্য ধরা পড়ায় মামলায় ক্ষতিপূরণ পান যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক রোগী। ছবি: সংগৃহীত

অপারেশনের সময় অচেতন ভেবে রোগীকে বিদ্রূপ, অডিও রেকর্ড করে জিতলেন ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রে সিয়েরা নেভাডা গ্রেজিয়ার্স ব্র্যান্ডের কাঁচা দুধের চিজ থেকে ই. কোলাই সংক্রমণে নয়টি রাজ্যে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কাঁচা দুধের চিজ থেকে ই. কোলাই সংক্রমণে ১৩ জন অসুস্থ, ৯ রাজ্যে সতর্কতা

0 Comments