সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৮:২
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্রুকলিনে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ রাজুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জেসাস অ্যাকোস্টা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বেআইনি হামলা এবং ডাকাতির চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ রয়েছে।

 

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার ৮৪২ রকওয়ে অ্যাভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশি মালিকানাধীন 'আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা' নামের রেস্তোরাঁয় এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে কর্মরত ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ৩৯ বছর বয়সী রাসেল নামের অপর এক কর্মীও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন।

 

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি তল্লাশি শেষে গত ২৯ আগস্ট ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে অভিযুক্ত জেসাস অ্যাকোস্টাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ ডিসেম্বর।

 

নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের শিকার মোহাম্মদ ইউসুফ রাজুর দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগরে। উন্নত জীবনের আশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও তার স্ত্রী ও দুই সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশেই বসবাস করছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিহতের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জালিয়াতি, পাকিস্তানে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জালিয়াতি, পাকিস্তানে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল সার্ভিসে (ইউএসপিএস) ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বিশাল আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফাহিম আকরাম নামের ৩৩ বছর বয়সী ওই যুবককে ১০ দিনের টানা অভিযানের পর পাকিস্তানের সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংস্থা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।   আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৫১ লাখেরও বেশি জাল মার্কিন শিপিং লেবেল বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। এই বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির অর্থ লেনদেনের জন্য অভিযুক্ত ফাহিম তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের তদন্ত সংস্থা।   ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি ফাহিম আকরামকে 'লেবেলসব্যাংক ডটকম' (LabelsBank.com) নামের একটি অননুমোদিত ওয়েবসাইট পরিচালনার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন এ. রেডিং কুইনোনেস জানান, ফাহিমের প্রতারণার কৌশলটি ছিল অত্যন্ত সহজ কিন্তু ব্যাপক।   প্যাকেজের ওজন, আকার বা গন্তব্য যাই হোক না কেন, অনলাইনে মাত্র ২ ডলারের বিনিময়ে এই ভুয়া লেবেলগুলো বিক্রি করা হতো। এর ফলে গ্রাহকরা বৈধ পোস্টাল চার্জ ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেতেন, যা মার্কিন ডাক বিভাগের বিপুল রাজস্ব ঘাটতি এবং অতিরিক্ত শিপিং খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পোস্টাল পরিদর্শকদের মতে, ৫ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ এই ওয়েবসাইট থেকে ভুয়া শিপিং লেবেল কিনেছেন। এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশে ওয়েবসাইটটি জব্দ করে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের মিয়ামি বিভাগের পরিদর্শক ব্লাদিসমির রোজো এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের নজরদারি শুধু দেশের সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র যারা এই ধরনের ভুয়া পোস্টেজ বা ডাকটিকিটের ব্যবসা করছে, তাদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা এবং ভুয়া পোস্টেজ লেবেল তৈরি ও বিক্রির ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে ফাহিম আকরামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে ভুয়া লেবেল বিক্রির দায়ে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং প্রতিটি ওয়্যার ফ্রড বা ইলেকট্রনিক প্রতারণার অভিযোগে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৮:৫৫
গাড়ি চালানোর সময় প র্নোগ্রাফি দেখতে মগ্ন ছিলেন চালক! মুহূর্তের অসতর্কতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল এক যাত্রীর

গাড়ি চালানোর সময় প র্নোগ্রাফি দেখতে মগ্ন ছিলেন চালক! মুহূর্তের অসতর্কতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল এক যাত্রীর

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ১১ হাজার ডলারের স্কলারশিপ, সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ১১ হাজার ডলারের স্কলারশিপ, সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের চিকিৎসাসেবা সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে।   তবে এই আদেশের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট বিস্তারিত কোনো আইনি ব্যাখ্যা দেয়নি। রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস এই নীতি কার্যকরের পক্ষে মত দিলেও বাকি বিচারপতিদের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগটি আপাতত আটকে গেল।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের পর কেন্দ্রীয় কারা ব্যুরো এই নতুন চিকিৎসা নীতি গ্রহণ করেছিল। নীতিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার, হরমোন থেরাপি এবং মেকআপ বা পরচুলা ব্যবহারের মতো সামাজিক সুবিধাগুলো বন্ধ করা, যাতে সরকারি তহবিলের অর্থ এ ধরনের কাজে ব্যয় না হয়।   তবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এই ধরনের চিকিৎসাসেবা কারাগারের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আইনজীবীরা এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানালে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ রয়েস ল্যাম্বার্থ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।   তিনি তার রায়ে উল্লেখ করেন, জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সঠিক চিকিৎসা না হলে তা বন্দীদের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যার প্রবণতার মতো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৬০০ জন ট্রান্সজেন্ডার বন্দী হরমোন থেরাপি গ্রহণ করছিলেন। হঠাৎ এই সেবা বন্ধ করে দিলে তা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান। এছাড়া, গত ৩০ বছর ধরে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের হরমোন থেরাপি দেওয়ার কারণে কারাগারে কোনো নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও সরকার দাখিল করতে পারেনি।   যদিও এর আগে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় নিষেধাজ্ঞা এবং নারীদের খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষেই রায় দিয়েছিল, তবে এবার বন্দীদের মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারিতে ১৫–৩০% সাশ্রয়ের সুযোগ, ডোরড্যাশ-উবার ইটসকে টক্কর দিতে ওলোর নতুন অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারিতে ১৫–৩০% সাশ্রয়ের সুযোগ, ডোরড্যাশ-উবার ইটসকে টক্কর দিতে ওলোর নতুন অ্যাপ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এনামুলকে আটক করেছে আইস, তাঁর দুঃসময়ে নীরব পুরো কমিউনিটি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এনামুলকে আটক করেছে আইস, তাঁর দুঃসময়ে নীরব পুরো কমিউনিটি

৬৩ বছরের দাম্পত্য, আজও একা খেতে বসেন না বৃদ্ধ, সঙ্গে রাখেন প্রয়াত স্ত্রীর ছবি

৬৩ বছরের দাম্পত্য, আজও একা খেতে বসেন না বৃদ্ধ, সঙ্গে রাখেন প্রয়াত স্ত্রীর ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নবিত্ত ও অভাবী পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত ‘ফুড স্ট্যাম্প’ বা স্ন্যাপ (SNAP) প্রকল্প থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিশেষ জালিয়াতি-দমন টাস্কফোর্স। গত বুধবার সিনসিনাটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচ জানান, এই বিশাল অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   অভাবী মানুষের পেটের খাবার কেড়ে নিয়ে এই চক্রটি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল জীবনযাপনে সেই অর্থ ব্যয় করেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যানচ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই চুরি যাওয়া অর্থ দিয়ে পুরো অক্টোবর মাসজুড়ে ২ লাখ ২০ হাজার আমেরিকান নাগরিকের খাবারের ব্যবস্থা করা যেত।   এই জালিয়াতির অন্যতম হোতা হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন আটলান্টার জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ও র‍্যাপার মার্সিডিজ নিউ, যিনি অনলাইনে ‘শটি ড্রেড’ (Shawty Dred) নামে পরিচিত। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নিজের কোম্পানিকে ভুয়া স্ন্যাপ (SNAP) রিটেইলার হিসেবে দেখিয়ে এবং শত শত ভুয়া ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে তিনি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাইভেট জেট ও বিলাসবহুল রোলস-রয়েস গাড়ির প্রদর্শনী করার পাশাপাশি একটি ভিডিওতে তাকে নগদ ডলার পুড়িয়ে উল্লাস করতেও দেখা যায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংবাদ সম্মেলনে ওই র‍্যাপারের ভিডিওটি প্রদর্শন করে বলেন, স্ন্যাপ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধার্ত শিশুদের খাবার দেওয়া, শটি ড্রেডের মতো কাউকে প্রাইভেট জেটে ঘোরানো নয়।   শটি ড্রেড ছাড়াও ওহাইওতে জোরাগ ইয়াসিন ও রামি কানান নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ডলার জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা শিকাগোভিত্তিক নিজেদের মুদি দোকানের মাধ্যমে হাজার হাজার স্ন্যাপ গ্রাহকের ইবিটি (EBT) অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করে এই বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়।   এছাড়াও এই মেগা-জালিয়াতির আওতায় চুরি করা অর্থে বেবি ফর্মুলা কিনে কালোবাজারে বিক্রি, ভুয়া শস্য বিমা দাবি এবং অবৈধ অভিবাসীদের দ্বারা সাধারণ আমেরিকানদের পরিচয় চুরি করে বিভিন্ন সরকারি ভাতা আত্মসাতের মতো গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে টাস্কফোর্স। এই ঘটনাগুলো সাধারণ করদাতাদের অর্থের চরম অপচয় এবং প্রকৃত অভাবীদের অধিকার হরণের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:৯
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের ‘টপ ডক্টর’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ফিলাডেলফিয়ার ‘টপ ডক্টর’ তালিকায় ষষ্ঠবার বাংলাদেশি জিয়াউদ্দিন আহমেদ

শিশুদের অনলাইনে যৌন শোষণের অভিযোগে অস্টিন জান সাই ইয়াতকোকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত

শিশু যৌন শোষণে এফবিআই এর মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে ইয়াতকোর, পুরস্কার ২৫ হাজার ডলার

চিকিৎসকের নির্দেশ শোনার জন্য চালু রাখা অডিও রেকর্ডে চিকিৎসাকর্মীদের অপমানজনক মন্তব্য ধরা পড়ায় মামলায় ক্ষতিপূরণ পান যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক রোগী। ছবি: সংগৃহীত

অপারেশনের সময় অচেতন ভেবে রোগীকে বিদ্রূপ, অডিও রেকর্ড করে জিতলেন ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

0 Comments