সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বাজারে শীতলতা, ২০২৭ সালেও কমতে পারে দামের গতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৭:৯
যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর অনেক এলাকায় বাড়ির তালিকামূল্য এক বছরের তুলনায় কমেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর অনেক এলাকায় বাড়ির তালিকামূল্য এক বছরের তুলনায় কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গতি কমছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশের বড় বড় শহরের অনেক এলাকায় বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম ও প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে। একই সময়ে উচ্চ মর্টগেজ রেট ক্রেতাদের সামর্থ্যের ওপর চাপ তৈরি করায় বিক্রেতারাও ক্রেতাদের কাছে আসতে দাম কমাতে শুরু করেছেন।

 

রিয়েল্টর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের জাতীয় গড় তালিকামূল্য টানা ১০ মাসের মতো আগের বছরের তুলনায় কমেছে। আগস্টে এই পতন ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশের চারটি প্রধান অঞ্চলের মধ্যে নর্থইস্টে মধ্যম তালিকামূল্য ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, সাউথে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ওয়েস্টে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মিডওয়েস্টে দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।

 

৫০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ৩৬টিতে আগস্টে আগের বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটের তালিকামূল্য কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, টাম্পায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিসে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে প্রভিডেন্সে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, ইন্ডিয়ানাপোলিসে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শিকাগোতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ দাম বেড়েছে।

 

রিয়েল্টর ডটকমের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো ২০২০-২২ সালের আবাসন-বুমের শহরগুলো এখন মহামারির সময়কার অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কিছুটা সমন্বয় করছে। এসব বাজারে মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখন বাড়ির সরবরাহও বেশি।

 

সান ফ্রান্সিসকোতেও আগস্টে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের তালিকামূল্য এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। শহরটির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কম। তবে বাজারটি এখনও প্রতিযোগিতামূলক রয়েছে।

 

ফ্যানি মে-র পক্ষে পালসেনমিক্স পরিচালিত সর্বশেষ হোম প্রাইস এক্সপেকটেশনস সার্ভে-তে ১১৪ জন অর্থনীতিবিদ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষক অংশ নিয়েছেন। তাঁদের গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। এরপর ২০২৮, ২০২৯ ও ২০৩০ সালে বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৭, ৩ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।

 

অর্থাৎ, বর্তমানে যে বাজার-শীতলতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি ২০২৭ সালেও বাড়ির দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঠেকিয়ে রাখতে পারে। তবে জাতীয় পর্যায়ে দাম পতনের বদলে সামান্য বাড়ার পূর্বাভাসই এখন বেশি জোরালো।

 

রয়টার্সের মার্চ ২০২৬-এর একটি অর্থনীতিবিদ জরিপেও ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। একই জরিপে ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে অভিবাসনের বিভিন্ন আইনি পথ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন আইনজীবী রাজু মাহাজান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি পথ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজ, স্থায়ী বসবাস ও অভিবাসনের বিভিন্ন আইনি সুযোগ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে বিশেষ তথ্য অধিবেশনের আয়োজন করছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সংগঠন। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অভিবাসন আইনজীবী ও রাজু ল প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা রাজু মাহাজান শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন।   ‘প্ল্যানিং ফর দ্য ফিউচার: আন্ডারস্ট্যান্ডিং অপশনস’ শিরোনামের এই অধিবেশনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসেল হাউস ভবনের ৩২২ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীসহ স্নাতক শেষ করার কাছাকাছি থাকা সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এতে অংশ নিতে কোনো ফি লাগবে না। আগ্রহীদের অনলাইনে নিবন্ধন বা আগ্রহ প্রকাশের ফরম পূরণ করতে বলা হয়েছে।   অনুষ্ঠানের অতিথি রাজু মাহাজান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও বিনিয়োগ আইন নিয়ে কাজ করেন। ২০২০ সালে তিনি রাজু ল প্রতিষ্ঠা করেন, যার প্রধান কার্যালয় মেরিল্যান্ডের বেথেসডায়। শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবনে প্রবেশ, চাকরিভিত্তিক গ্রিনকার্ড, বিনিয়োগ ভিসা এবং পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা থেকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার সম্ভাব্য পথ নিয়ে তাঁর লেখা একটি বইও রয়েছে।   আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই অধিবেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের সম্ভাব্য আইনি পথগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাবেন। বিশেষ করে চাকরি খোঁজা, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কোন কোন বিকল্প বিবেচনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ব্যক্তিভেদে অভিবাসনের যোগ্যতা ও আইনি শর্ত আলাদা হওয়ায় এ ধরনের আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট ভিসা বা গ্রিনকার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।   ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সংগঠনটি একটি নিবন্ধিত অলাভজনক শিক্ষার্থী সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা ৬০ জনের বেশি। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার বৃহত্তর সমাজে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে সংগঠনটি।   সূত্র: বাংলা বুলেটিন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২৩:৩০
স্ত্রী ও দুই ছোট মেয়েকে রেখে গেছেন ৩১ বছর বয়সী উইলিয়াম ‘স্টোন’ রমবার্গ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় গাঙচিলকে বাঁচাতে গিয়ে সাগরে ডুবে প্রাণ হারালেন দুই সন্তানের বাবা

নিউ ইয়র্ক থেকে ১৪৯ দিনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল হেঁটে ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছান চান্টজ রিভেরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

১৪৯ দিন হেঁটে নিউ ইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায়, পৌঁছাতেই চুরির শিকার যুবক

১৩ হাজার ডলারের কম দামে কেনা পুরোনো টেসলা মডেল এস এক চার্জে চলেছে ২২১ মাইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

১৩ হাজার ডলারের পুরোনো টেসলাও এক চার্জে চলে ২২১ মাইল, অবাক নতুন মালিক!

নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী মূল্যে বড় বাড়ির খোঁজে ম্যানহাটন ছেড়ে কুইন্সে পাড়ি জমাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের বদলে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কুইন্স

নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বাড়ির দাম বেশি হওয়ায় বিকল্প আবাসনের খোঁজ করছেন অনেক ক্রেতা। তাঁদের পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কুইন্স। তুলনামূলক কম দামে বড় বাসা পাওয়ার পাশাপাশি শহুরে জীবনযাপনের সুবিধা ধরে রাখতে পারায় ম্যানহাটন থেকে কুইন্সের দিকে আগ্রহ বাড়ছে বাড়ির ক্রেতাদের। Realtor.com-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চিত্র।   নিউ ইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো, ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে বাড়ির বিজ্ঞাপনে অনলাইন অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বরোগুলোর মধ্যে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে কুইন্স পেয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান। কুইন্সের বাড়ির বিজ্ঞাপনে বাইরের বরো থেকে আসা আগ্রহের মধ্যে ম্যানহাটনের বাসিন্দাদের অংশই ৪৫ শতাংশের বেশি।   বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ম্যানহাটনে বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে নিজ বরোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ অনুসন্ধানকারী। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ অনুসন্ধান অন্য বরোগুলোর বাড়ির বিজ্ঞাপনের দিকে যাচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যান অনলাইন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি। এর অর্থ এই নয় যে ম্যানহাটনের ৮০ শতাংশ বাসিন্দা ইতোমধ্যে অন্য এলাকায় চলে গেছেন বা বাড়ি কিনেছেন।   নিজ নিজ বরোর বাড়ির বিজ্ঞাপনে আগ্রহ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড। সেখানে প্রায় ৮৭ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান নিজ বরোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কুইন্সে এ হার ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ব্রঙ্কসে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ব্রুকলিনে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ম্যানহাটনের কম অনুসন্ধান ধরে রাখতে পারার পেছনে বাড়ির উচ্চমূল্যকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।   বাড়ির দামের ব্যবধানেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। Realtor.com-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ম্যানহাটনে বাড়ির বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একই সময়ে কুইন্সে এই দাম ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা ম্যানহাটনের অর্ধেকেরও কম। ব্রুকলিনে মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার ডলার, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং ব্রঙ্কসে ৩ লাখ ২৯ হাজার ডলার।   কুইন্সের আবাসন বাজারে আগ্রহ বাড়ার আরেকটি কারণ সেখানে বাড়ির তুলনামূলক বেশি সরবরাহ। ২০২৬ সালের আগস্টে বরোটিতে বিক্রির জন্য সক্রিয় বাড়ির সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩৪০টি। বিপরীতে ব্রঙ্কসে ছিল মাত্র ১ হাজার ৪২টি। Realtor.com-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই জুয়ের মতে, ব্রঙ্কসে দাম তুলনামূলক কম হলেও কুইন্সে বাড়ির বিকল্প বেশি থাকায় ক্রেতারা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী বাসা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।   ম্যানহাটন থেকে কুইন্সে আসা ক্রেতাদের বড় অংশই তুলনামূলক বড় জায়গা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান। কুইন্স হোম টিমের আবাসন প্রতিনিধি জেরালডিনে গিরালদো Realtor.com-কে জানান, তাঁর অভিজ্ঞতায় তরুণ দম্পতি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াবাসায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কুইন্সে বাড়ি কেনার আগ্রহ বেশি। তাঁদের অনেকেই অন্তত ৮৫০ বর্গফুটের বাসা খুঁজছেন। বিশেষ করে দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট তাঁদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।   কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটি, অ্যাস্টোরিয়া ও বেসাইড ম্যানহাটন থেকে আসা ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। এসব এলাকায় গণপরিবহনের যোগাযোগ, খাবারের বৈচিত্র্য এবং শহুরে পরিবেশের কারণে আগ্রহ বাড়ছে। এ ছাড়া সানিসাইড ও উডসাইড এলাকাতেও বাড়ির সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতাদের নজর পড়ছে। আবাসন প্রতিনিধি আন্দ্রেস পুলি মনে করেন, এসব এলাকায় ম্যানহাটনের মতো নাগরিক সুবিধা পাওয়া যায়, আবার তুলনামূলক বেশি ব্যক্তিগত পরিসরও মেলে।   কুইন্সে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে নতুন নির্মিত কনডোমিনিয়াম বা ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাপার্টমেন্ট। তবে কেউ কেউ বড় পরিবারের জন্য একক বাড়ি কিনছেন। আবার কয়েকটি পরিবারের একসঙ্গে বসবাস কিংবা বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দিয়ে ঋণের খরচ সামলানোর উদ্দেশ্যে বহুতল আবাসনও কিনছেন অনেকে। তরুণ ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের মধ্যে তুলনামূলক কম দামের কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে।   এদিকে কুইন্সের সানিসাইড এলাকায় আবাসন উন্নয়নের একটি বড় পরিকল্পনাও রয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনায় উঠে এসেছে সানিসাইড ইয়ার্ডের ওপর অবকাঠামো নির্মাণ করে সেখানে প্রায় ১২ হাজার সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন তৈরির প্রস্তাব। প্রকল্পটির জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় তহবিল চেয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন আবাসনের পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে। তবে অর্থায়ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   সব মিলিয়ে বাড়ির উচ্চমূল্য, তুলনামূলক বেশি আবাসন সরবরাহ এবং ম্যানহাটনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগের কারণে কুইন্স নিউ ইয়র্ক সিটির বাড়ির ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। Realtor.com-এর বিশ্লেষণ বলছে, শহরের ভেতরেই তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের কাছে আপাতত সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য কুইন্স।   সূত্র: Realtor.com, নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২১:৫১
২০২৪ সালের নির্বাচনে নাগরিকত্ব ছাড়াই ভোট দেওয়ার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশি প্রবাসী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

ডোরড্যাশের ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষতির শঙ্কায় ডোরড্যাশের নতুন চুক্তির বিরোধিতা করলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি

আইসিইর আটক অভিযান

ক্যালিফোর্নিয়ায় চেহারা ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইসিইর আটক অভিযান নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়, মুক্তির সুযোগে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর ফেডারেল পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত রায় দিয়েছেন, আইনগত অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এবং নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক আটকের বিধানের আওতায় থাকা অভিবাসীদের বন্ড শুনানি পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নেই। আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের ১৭ বিচারকের মধ্যে ১০ জন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং সাতজন বিপক্ষে মত দিয়েছেন। রায়টি সরাসরি টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে প্রযোজ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব আটক অভিবাসীর বন্ড শুনানি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ অরলিন্সভিত্তিক ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি রায়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ড শুনানির অধিকার তৈরি হয় না। তবে প্রত্যেক আটক অভিবাসীর জন্য একই আইন প্রযোজ্য নয়।   মামলাটি মূলত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তিন অভিবাসীর আটকাদেশকে কেন্দ্র করে। তাঁরা ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে আইসিইর হেফাজতে ছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে বন্ড শুনানির সুযোগ ছাড়াই আটক রাখা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। নিম্ন আদালতগুলো তাঁদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে।   এর আগে গত ২ জুলাই পঞ্চম সার্কিটের তিন বিচারপতির একটি প্যানেল অভিবাসীদের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের আটক রাখার যৌক্তিকতা পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্ড শুনানির সুযোগ দিতে হতো। সেখানে বিচারক বিবেচনা করতেন, আটক ব্যক্তি সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না এবং মুক্তি পেলে পরবর্তী আদালত শুনানিতে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা কতটা। তবে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পুনঃশুনানির সিদ্ধান্তের পর আগের রায় বাতিল হয়। পরে ২৩ অক্টোবর নতুন রায়ে নিম্ন আদালতগুলোর সিদ্ধান্তও উল্টে দেওয়া হয়।   সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লেখেন বিচারক কোরি উইলসন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা অভিবাসন আইনের ১২২৫ ধারার অধীনে বাধ্যতামূলক আটকের আওতায় পড়েন। তাই তাঁদের মুক্তির জন্য সংবিধানের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত শুনানির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। বিচারক আরও মন্তব্য করেন, আটক ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে বাস্তবে দেশত্যাগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের আইনি ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এক নয়।   অন্যদিকে সাত বিচারক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষেত্রে যথাযথ বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্নমত দেওয়া বিচারকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বন্ড শুনানির অধিকার সীমিত হলে সরকার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি যাচাই ছাড়াই অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যকর রায়।   এই রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বন্ড শুনানির সাংবিধানিক অধিকার এবং অভিবাসন আইনে বন্ড পাওয়ার সুযোগ এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের ১২২৫ ধারায় নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক আটকের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে ১২২৬ ধারার আওতায় কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে বন্ডের মাধ্যমে মুক্তির আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ইতিহাস, ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং আটকের আইনগত ভিত্তির ওপর।   এ নিয়ে বিভিন্ন ফেডারেল আপিল আদালতের অবস্থানও এক নয়। পঞ্চম ও অষ্টম সার্কিট অভিবাসন আইনের ১২২৫ ধারার ব্যাপক প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিপরীতে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ সার্কিটের আপিল আদালতগুলো সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এই নয়টি আদালত একই সাংবিধানিক প্রশ্নে অভিন্ন রায় দিয়েছে, এমন নয়। তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত কোন আইনি ধারার আওতায় আটক অভিবাসীরা পড়বেন, সেই প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।   অষ্টম সার্কিটের এখতিয়ারে রয়েছে মিনেসোটা, মিসৌরি, আইওয়া, নেব্রাস্কা, আরকানসাস, নর্থ ডাকোটা ও সাউথ ডাকোটা। ফলে এই অঙ্গরাজ্যগুলোতেও সংশ্লিষ্ট বাধ্যতামূলক আটকনীতি নিয়ে অভিবাসীদের আইনি পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। তবে পঞ্চম ও অষ্টম সার্কিটের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি পুরোপুরি এক নয়। পঞ্চম সার্কিটের সর্বশেষ রায়ে সাংবিধানিক প্রশ্নটি সরাসরি বিবেচনা করা হয়েছে, যেখানে অন্য কয়েকটি আদালতের সিদ্ধান্ত মূলত অভিবাসন আইনের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে।   এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ আদালত ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বাধ্যতামূলক আটক বিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে একটি মামলা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে মূল প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কোন আইনি ধারা প্রযোজ্য হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের গৃহীত মামলাটি পঞ্চম সার্কিটের ২৩ অক্টোবরের রায়ে আলোচিত সাংবিধানিক প্রশ্নের সঙ্গে পুরোপুরি অভিন্ন নয়। তাই সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের পরও কিছু আইনি প্রশ্ন পৃথকভাবে বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।   এদিকে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার রয়েছে। অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে আটক ব্যক্তিদেরও এসব কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। ফলে শুধু ওই তিন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের ওপরই রায়ের প্রভাব পড়বে, এমন নয়। কোনো অভিবাসীকে অন্য অঙ্গরাজ্যে আটক করার পর পঞ্চম সার্কিটের আওতাধীন কোনো ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হলে তাঁর আইনি প্রতিকার চাওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।   তবে বন্ড শুনানির সুযোগ সীমিত হওয়া এবং ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বন্ড শুনানিতে সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে ডিপোর্টেশন মামলা চলাকালে আটক রাখা প্রয়োজন কি না, তা পর্যালোচনা করা হয়। অন্যদিকে ডিপোর্টেশন মামলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার রয়েছে কি না। ফলে বন্ড শুনানি না পাওয়ার অর্থ মামলায় পরাজিত হওয়া কিংবা অবিলম্বে ডিপোর্টেশন নিশ্চিত হওয়া নয়।   একইভাবে এই রায় সব গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ভিসাধারী কিংবা অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের আটকের আইনগত ভিত্তি আলাদা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বন্ড শুনানির সুযোগ থাকতে পারে, আবার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক আটকও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই কোনো ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা মামলার বিস্তারিত না জেনে তিনি বন্ড পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য এই পার্থক্যগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইসিইর হাতে আটক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের উচিত আটকের কারণ, প্রযোজ্য আইনি ধারা এবং মামলাটি কোন আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে, তা যাচাই করা। বন্ড শুনানির সুযোগ না থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাসের আবেদনসহ অন্যান্য আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এসব আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফল মামলাভেদে ভিন্ন হতে পারে।   সব মিলিয়ে পঞ্চম সার্কিটের ২৩ অক্টোবরের রায় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘদিন বসবাস করার পর আটক হওয়া ব্যক্তিদের জন্য বন্ড শুনানির সুযোগ সীমিত হয়েছে। তবে দেশজুড়ে একই নিয়ম কার্যকর হয়নি এবং বিভিন্ন আপিল আদালতের মধ্যে আইনি মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এই বিরোধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস, Sosnava Rodriguez v. Vergara, রয়টার্স

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৯:২৬
ছবি: মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতা কাজল

বোরখা পরিহিত নারী

ফ্লোরিডায় সরকারি সভায় আজানের অডিও চালিয়ে বোরখা পরিহিত নারীর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

বয়স্ক সদস্য

বয়স্ক সদস্যের দেখাশোনায় বছরে পরিবারের খরচ ১১ হাজার ডলার, পাঁচ বছরে ব্যয় বেড়েছে ৫৯ শতাংশ

0 Comments