রিয়েল এস্টেট

বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতায় যুক্তরাষ্ট্রে ফোরক্লোজারের হারে শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে বন্ধকী জব্দের হার ইতিহাসে সর্বোচ্চ, যুক্তরাষ্ট্রে ছয় মাসে ২১%

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ফোরক্লোজারের মুখে পড়া বাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিয়েল এস্টেট তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের সর্বশেষ মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৮টি সম্পত্তির বিরুদ্ধে ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। এই সময়ে ফোরক্লোজারের হারে দেশের শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা।    রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় প্রতি ১০ হাজার আবাসিক ইউনিটের মধ্যে প্রায় ২৭টি ফোরক্লোজারের আওতায় এসেছে। এই হার যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। তালিকায় এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, ইন্ডিয়ানা, ডেলাওয়্যার ও ইলিনয়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুধু সংখ্যায় বাড়েনি, আগের তুলনায় দ্রুতও শেষ হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে একটি সম্পত্তির ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শেষ হতে গড়ে ৫৬৩ দিন লেগেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম এবং ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে কম সময়।    অ্যাটমের তথ্য বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকারি সহায়তা কর্মসূচির কারণে ফোরক্লোজারের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সেই কর্মসূচিগুলো শেষ হওয়ার পর থেকে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এবং ফোরক্লোজারের সংখ্যাও বাড়ছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট-পরবর্তী সময়ের তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। সে সময়ের তুলনায় এখনো ফোরক্লোজারের হার কয়েক গুণ কম।    অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তুলনায় সবচেয়ে বেশি বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গেছে আইডাহোতে, যেখানে ফোরক্লোজার ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এরপর রয়েছে কলোরাডো, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মিসিসিপি।    মহানগর এলাকার মধ্যে ফ্লোরিডার পুন্তা গোরদায় ফোরক্লোজারের হার সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড। এছাড়া জ্যাকসনভিল, কেপ কোরাল ও ওকালাও সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে।    এদিকে রিয়েলটর ডটকমের পৃথক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফোরক্লোজার শেষে ব্যাংকের মালিকানায় চলে যাওয়া এবং পরে বিক্রির জন্য বাজারে আসা বাড়িগুলো সাধারণ বাড়ির তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এসব বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য সম্ভাব্য বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল। একই সঙ্গে এসব সম্পত্তির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও তুলনামূলক বেশি।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নায়াগ্রা ফলসের পর্যটকদের চাহিদায় বাফালো অঞ্চলে বাড়ছে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত
নায়াগ্রা ফলসের পর্যটক, বাফালোর সাশ্রয়ী বাড়ি নিয়ে এয়ারবিএনবি বিনিয়োগে কেন বাড়ছে প্রবাসীদের আগ্রহ

বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র নায়াগ্রা ফলসকে ঘিরে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজারে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন অনেক প্রবাসী বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফালো শহরে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাওয়ায় অনেকের নজর এখন এয়ারবিএনবি-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের দিকে। বাজার বিশ্লেষণ, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যটন প্রবাহ সব মিলিয়ে বাফালোকে সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের নায়াগ্রা ফলস এলাকায় আমেরিকা বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী অ্যান্ডি ও সুজানের। তারা যৌথভাবে নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ি কিনে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।   তাদের অভিজ্ঞতায়, পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে প্রায় পুরো সময়ই তাদের বাসাগুলো বুকড থাকে। এমনকি পর্যটক তুলনামূলক কম আসার সময় বাদ দিলে বছরের অধিকাংশ সময়ই নিয়মিত অতিথি পাওয়া যায়। তাদের মতে, নায়াগ্রা ফলস এমন একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সারা বছরই পর্যটক আসেন। ফলে পরিবার বা দল নিয়ে ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবিতে থাকতে আগ্রহী হন।   অ্যান্ডি ও সুজান জানান, কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাফালো একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। তাদের মতে, বাফালোতে তুলনামূলক কম মূল্যে বাড়ি কিনে অথবা আইনগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে সেটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে।   স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বাজার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এয়ারডিএনএ এর তথ্য অনুযায়ী, বাফালোতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার সক্রিয় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার তালিকা রয়েছে। এসব সম্পত্তির গড় দখল হার ৫০ শতাংশের বেশি এবং পর্যটন মৌসুমে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করে সম্পত্তির অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা, ব্যবস্থাপনা এবং মৌসুমি চাহিদার ওপর।   কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রামদীপ সিং জানান, নায়াগ্রা ফলস ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক বাফালো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই এক বা একাধিক রাতের জন্য হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবির বাসা বেছে নেন। ফলে বাফালো ও আশপাশের এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আবাসনের চাহিদা বছরজুড়েই থাকে।   রামদীপ সিংয়ের মতে, শুধু বাড়ির দাম কম দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সম্ভাব্য ভাড়া, দখল হার, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি কর, বীমা এবং মর্টগেজের কিস্তিসহ সব ধরনের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি। তার ভাষায়, সঠিক লোকেশন নির্বাচন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাফালোতে এয়ারবিএনবি ব্যবসায় ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট শহরের শর্ট-টার্ম রেন্টাল নীতিমালা, জোনিং আইন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। কারণ বিভিন্ন শহরে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   বাফালো শহর থেকে নায়াগ্রা ফলসে গাড়িতে পৌঁছাতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে অনেক পর্যটক কম খরচে থাকার জন্য বাফালোকে বেছে নেন। একই সঙ্গে শহরটির বিমানবন্দর, মহাসড়ক যোগাযোগ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে এয়ারবিএনবি ব্যবসাকে বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা, স্থানীয় আইন মেনে পরিচালনা এবং বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষণার মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বাফালো অঞ্চলে এয়ারবিএনবি খাত ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
১৯১৯ সালে নির্মিত স্প্যানিশ রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহাসিক বাড়িটি ১৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হলিউডের তারকাপাড়ায় বড় রিয়েল এস্টেট চুক্তি, অপরার সম্পত্তি কিনলেন অ্যাডাম লেভিন

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা অপরা উইনফ্রে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে অবস্থিত তার বিখ্যাত ‘প্রমিসড ল্যান্ড’ (Promised Land) এস্টেটের আরও একটি অংশ বিক্রি করেছেন। নতুন মালিক হয়েছেন মার্কিন ব্যান্ড ম্যারুন ফাইভ–এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী অ্যাডাম লেভিন এবং তার স্ত্রী, নামিবিয়ান সুপারমডেল বেহাতি প্রিন্সলু।   রিয়েল এস্টেটবিষয়ক একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চার একর আয়তনের এই সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য ১৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জানা গেছে, সম্পত্তিটি মূলত ১৯১৯ সালে স্প্যানিশ রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়। ২০১৯ সালে অপরা এটি অস্কারজয়ী অভিনেতা জেফ ব্রিজেসের কাছ থেকে ৬ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিলেন। এরপর তার ৬৬ একর আয়তনের বিশাল এস্টেটের কিছু অংশ ধীরে ধীরে বিক্রির পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবার এই জমি বিক্রি করলেন তিনি।   অন্যদিকে, অ্যাডাম লেভিন ও বেহাতি প্রিন্সলুও সম্প্রতি মন্টেসিটোতেই তাদের আগের বাড়িটি প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছেন। ফলে একই এলাকায় এই নতুন সম্পত্তি কেনাকে তারকাদের আবাসন বিনিয়োগে নতুন রদবদল হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকরা। নতুন কেনা বাড়িটির আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৫১৭ বর্গফুট। এতে রয়েছে দুটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং একতলা নকশার বিস্তৃত বসবাসের ব্যবস্থা। বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ পাঁচটি অগ্নিকুণ্ড, মূল নকশার জানালা ও দরজা, বিশাল বাগান, আধুনিকভাবে সংস্কার করা রান্নাঘর ও বাথরুম এবং নিরিবিলি পরিবেশ।   বাড়ির ভেতরে কাঠের উন্মুক্ত বিম, প্রশস্ত বসার ঘর, বড় বড় জানালা এবং প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংস্কার করা রান্নাঘরে রয়েছে কোয়ার্টজ পাথরের কাউন্টার, বড় আইল্যান্ড, পেশাদার মানের রান্নার চুলা এবং কাঠের তৈরি ক্যাবিনেট। প্রধান শয়নকক্ষে অগ্নিকুণ্ড, বড় জানালা এবং ফরাসি ধাঁচের দরজা রয়েছে, যেখান থেকে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখা যায়। সংযুক্ত বাথরুমে রয়েছে উষ্ণ মেঝে, মার্বেলের শাওয়ার, আলাদা বাথটাব এবং ডাবল ভ্যানিটি। এছাড়া দুটি ওয়াক-ইন ক্লোজেটও রয়েছে।   অতিথিদের জন্য আলাদা স্যুট, সুইমিং পুল, পুল হাউস, খোলা আকাশের নিচে ফায়ার পিট, পাথরের ঝরনাসহ প্রাঙ্গণ, বিশাল সবুজ লন এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী একটি বড় বার্ন-স্টাইল কাঠামোও সম্পত্তিটির অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাডাম লেভিন ও বেহাতি প্রিন্সলু বাড়িটি কেনার পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের পরিকল্পনা করেছেন। নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বাড়ি ও এর আশপাশের পরিবেশ নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে চান তারা।   মন্টেসিটো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলঘেঁষা এই এলাকায় অপরা উইনফ্রে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলসহ হলিউড ও ব্যবসা জগতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বাসস্থান রয়েছে। ফলে এখানকার যেকোনো বড় সম্পত্তি কেনাবেচা সাধারণত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অনেক অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন সংকটের মধ্যেও নিউইয়র্কে খালি পড়ে আছে ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট

নিউইয়র্ক সিটিতে একদিকে যখন আবাসন সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে রয়েছে। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরের পাঁচটি বরো মিলিয়ে প্রায় ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি সংস্কার ব্যয়, ভাড়া বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এসব বাসা নতুন ভাড়াটিয়াদের কাছে হস্তান্তর করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক বাড়ির মালিক।   দ্য সিটি রিপোর্টার রাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের শূন্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এক দশক আগে, ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তথ্যগুলো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবনের মালিকদের স্বপ্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগ্রহ করেছে ডিভিশন অব হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল।   করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ সালে এই শূন্যতার হার সাময়িকভাবে ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। সে সময় নিউইয়র্ক সিটির জনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ম্যানহাটন ছাড়া শহরের বাকি চারটি বরোতেই খালি অ্যাপার্টমেন্টের হার বেড়েছে। তবে কোন কারণে এসব অ্যাপার্টমেন্ট খালি রয়েছে বা কতগুলো বাসায় সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে তথ্যভান্ডারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা নেই।   ব্রঙ্কসভিত্তিক ইউনিভার্সিটি নেবারহুড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক ব্রেন্ডন মিচেলের মতে, মহামারির সময় উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অনেক মামলা জমে ছিল। পরে আদালত সেগুলো নিষ্পত্তি শুরু করলে কিছু অ্যাপার্টমেন্ট খালি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন নিউইয়র্ক অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর কর্মকর্তা মাইকেল জনসন। তার দাবি, সমস্যার মূল কারণ অর্থনৈতিক। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করতে যে ব্যয় হয়, নির্ধারিত ভাড়ায় তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না।   তার ভাষায়, শহরে আবাসনের চাহিদা ব্যাপক হলেও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কিছু অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নতুন ভাড়াটিয়ার কাছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু কম ভাড়ার ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে সংস্কার ব্যয় আদায় করা কঠিন হওয়ায় অনেক মালিক সেগুলো খালিই রেখে দিচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় এলাকায় ভবন মালিকদের পরিচালন মুনাফা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কুইন্সে তা বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ, ব্রুকলিনে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রঙ্কসে পরিচালন আয় কমেছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসব ভবনের অনেক মালিকের দাবি, বড় ধরনের সংস্কার করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের নেই। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরোনো চার শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ সংস্কার করতে ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। অথচ মাসিক ভাড়া যদি মাত্র ৮০০ ডলার হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাড়া বৃদ্ধির আইনি সীমাবদ্ধতা। নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড নির্দিষ্ট সীমার বাইরে ভাড়া বাড়ানোর অনুমতি দেয় না। সম্প্রতি সংস্থাটি আগামী দুই বছরের জন্য ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছে। এছাড়া ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কার্যকর হওয়া হাউজিং স্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড টেন্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি হলেও মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে পারেন না।   ব্রঙ্কসের ৫০টি ভবন পরিচালনাকারী সাইকামোর বার্চ ম্যানেজমেন্ট-এর সভাপতি মার্ক বোরবো বলেন, অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীর মতে, বর্তমান নিয়মে বড় ব্যয়ে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে আর্থিক লাভ করা কঠিন। কারণ সংস্কারের পরও ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ নেই।   আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে আবাসন সংকট নিরসনে শুধু নতুন ভবন নির্মাণই নয়, দীর্ঘদিন খালি থাকা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো কীভাবে আবার বাজারে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিও এখন বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের বাড়ি বিক্রিতে বড় ধাক্কা, দুই মাসে দুই দফা কমল দাম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুখ্যাত সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের আসামি জোয়েল রিফকিনের সাবেক বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে আসার পর দ্বিতীয়বারের মতো মূল্য কমানো হয়েছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাড়িটির দাম কয়েক দফায় হ্রাস পাওয়ায় বিষয়টি দেশটির আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   লং আইল্যান্ডের ইস্ট মেডো এলাকার একটি শান্ত আবাসিক সড়কে অবস্থিত চার শয়নকক্ষের বাড়িটি চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। তখন এর মূল্য ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার ডলার। তবে বাজারে আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।   পরে ২৬ মে বাড়িটি আবার বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হলে দাম কমিয়ে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ আরও ২০ হাজার ডলার কমিয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।   রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটিকে একটি সুপরিচর্যিত ও প্রশস্ত আবাসন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের কোণার জমির ওপর নির্মিত বাড়িটিতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো, আধুনিকায়ন করা রান্নাঘর, বড় আকারের শয়নকক্ষ এবং অতিরিক্ত সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমান মালিকরা ২০১১ সালে জোয়েল রিফকিনের পরিবারের কাছ থেকে বাড়িটি ৩ লাখ ২২ হাজার ডলারে কিনেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা সেখানে বসবাস করেছেন।   জোয়েল রিফকিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ ইতিহাসে বহুল আলোচিত একটি নাম। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্ক অঞ্চলে একাধিক নারী হত্যার ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে একাধিক হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে তার নাম যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কুখ্যাত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মামলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বাড়ির সঙ্গে আলোচিত অপরাধের ইতিহাস জড়িত থাকলে তা অনেক সময় সম্পত্তির বাজারমূল্য এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের আগ্রহের ওপর প্রভাব ফেলে। যদিও বাড়িটির অবস্থান, আয়তন ও রক্ষণাবেক্ষণের মানকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবুও এর অতীত ইতিহাস বিক্রয় প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে এমন অনেক বাড়ি রয়েছে, যেগুলো ঐতিহাসিক বা আলোচিত ঘটনার কারণে সাধারণ আবাসনের চেয়ে বেশি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে। ইস্ট মেডোর এই বাড়িটিও বর্তমানে সেই ধরনের সম্পত্তির তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Unknown জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই রিয়েল এস্টেট বাজারে বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। দুবাই-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালুস্ট্র্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে আবাসন বিক্রি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান লেনদেনের এই হার গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।   ভ্যালুস্ট্র্যাট-এর আবাসন গবেষণা বিভাগের প্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, বৈশ্বিক মহামারির পর থেকে তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় ধরনের বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে দুবাইয়ের আরেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেইডিন’-এর পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে মাসে দুবাইয়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (৬.১ বিলিয়ন ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক।   দুবাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে শূন্য আয়কর নীতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের আগমনে আবাসন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার এসেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিশেষ করে মার্চ মাসে দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি হলেও বাজার কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।   আবাসন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধস ঠেকাতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের বিক্রেতারা এখন কোটি কোটি টাকা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত দামি সম্পত্তি কেনাবেচায় নিয়োজিত এক এজেন্ট জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। গত দেড় বছরে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা অতি-ধনী ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিরত থাকছেন।   গত ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংকে পেছনে ফেলে বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইয়ের এই অবস্থান এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিব্রাজক অতি-ধনীরা এখন দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। এই আকস্মিক ধসের কারণে দুবাইয়ে গড়ে ওঠা শত শত ছোট রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এজেন্সি এখন ব্যবসা বন্ধ করার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় একই এলাকায় ৩৬২ মিলিয়ন ডলারের দুই বাড়ি, উত্তপ্ত মিয়ামির বিলাসবহুল আবাসন বাজার

ফ্লোরিডার বিলাসবহুল আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মিয়ামির উপকূলবর্তী অভিজাত এলাকা কী বিসকেইন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় বিক্রির জন্য উঠে এসেছে দুটি অতি-বিলাসবহুল জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ, যার সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৬২ মিলিয়ন ডলার। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দক্ষিণ ফ্লোরিডার উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে নতুন করে গতি সঞ্চার করেছে।   প্রথমে বাজারে আসে বহুল আলোচিত ‘স্কারফেস ম্যানশন’। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুটের এই প্রাসাদটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ মিলিয়ন ডলার। বিশাল আয়তনের জমি, ব্যক্তিগত জলপথ সুবিধা এবং বিলাসবহুল নকশার কারণে সম্পত্তিটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট বাজারের নজর কেড়ে নেয়।   এর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাশের আরেকটি জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ বিক্রির খবর সামনে আসে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা ব্যবসায়ী নিকোলাস এস্ট্রেলা সিনিয়রের মালিকানাধীন এই সম্পত্তির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন ডলার। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে সম্পত্তিটি ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।   সম্পত্তিটির বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে ডগলাস এলিম্যানের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লুর্দেস আলাত্রিস্তে ও কার্স্টেন স্মিথ। তবে তারা বিক্রেতার পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ামি ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চল গত কয়েক বছরে বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং তারকাদের অন্যতম পছন্দের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়কর না থাকা, তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাত্রা এবং উচ্চমাত্রার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধনীদের এই অঞ্চলের প্রতি আকৃষ্ট করছে।   দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু আবাসিক এলাকা ইতোমধ্যে ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এসব এলাকায় বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বসবাস ক্রমেই বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অতিধনীদের জন্য নির্মিত সম্পত্তির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে।   রিয়েল এস্টেট খাতের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ২৩৭ মিলিয়ন ডলারের ‘স্কারফেস ম্যানশন’ এবং ১২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রাসাদ—এই দুই সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য ৩৬২ মিলিয়ন ডলার হওয়ায় কী বিসকেইন আবারও আন্তর্জাতিক আবাসন বাজারের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দুটি সম্পত্তির যেকোনো একটি বিক্রি হলেও তা চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যয়বহুল আবাসন লেনদেনের তালিকায় স্থান করে নিতে পারে।   বিলাসবহুল আবাসনের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ প্রমাণ করছে, মিয়ামির অভিজাত এলাকাগুলো এখনও বিশ্বের ধনকুবেরদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় ঠিকানা হয়ে রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম
নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেনের সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট অঙ্গনে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয়ভাবে ধারাবাহিক পেশাদার সেবা, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার কারণে তার নেতৃত্বাধীন “নাজমুল রিয়েল এস্টেট টিম” এখন পশ্চিম নিউইয়র্ক অঞ্চলে পরিচিত একটি নাম।   সম্প্রতি বাফেলোভিত্তিক প্রকাশনা বাফেলো রিয়েল প্রডিউসারস ম্যাগাজিন-এর বিশেষ সংখ্যায় স্থান পেয়েছে “দ্য এমডি নাজমুল হুসেইন টিম”। সাধারণত রিয়েল এস্টেট খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ তুলে ধরতেই এ ধরনের প্রকাশনা বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। সেখানে একটি বাংলাদেশি নেতৃত্বাধীন টিমের অন্তর্ভুক্তি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।   জানা গেছে, নাজমুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি কেনাবেচা, বিনিয়োগ পরামর্শ এবং নতুন ক্রেতাদের সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে বাড়ি কেনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরা এবং নির্ভরযোগ্য পরামর্শ দেওয়ার কারণে তার টিম দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।   স্থানীয় কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য জানান, ভাষা ও সংস্কৃতিগত বোঝাপড়ার কারণে বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলো নাজমুল হোসেনের টিমের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারছেন। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য বাড়ি কেনা বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়াও তুলনামূলক সহজ হচ্ছে।   প্রতিক্রিয়ায় নাজমুল হোসেন বলেন, রিয়েল এস্টেট শুধু ব্যবসা নয়, এটি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের অংশ। তাই প্রতিটি গ্রাহকের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছেন। তিনি এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি এখন শুধু ছোট ব্যবসা বা রেস্টুরেন্ট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক খাতের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেটেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। বাফেলো অঞ্চলে নাজমুল হোসেনের এই সাফল্য সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আগামী দিনে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন। তার ভাষায়, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখাই তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।   সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট খাতে নাজমুল হোসেন ও তার টিমের এই সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০