এআই

ছবি: সংগৃহীত
এআই চাহিদায় চিপের দাম বেড়েছে, বাড়তে পারে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্যের দাম

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রভাব এবার সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল জানিয়েছে, মেমোরি চিপের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যয় নিজস্বভাবে বহনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আর টেকসই নয়।   কুক বলেন, “আমরা গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ না দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরবরাহ সংকট এবং মেমোরি চিপের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।” তবে ঠিক কবে থেকে দাম বাড়ানো হবে বা কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার সম্ভাব্য আইফোন ১৮ সিরিজের দামও বাড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মেমোরি চিপ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার এবং উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামোর ব্যাপক চাহিদার কারণে এসব চিপের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।   বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে র‍্যামের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাও চিপ শিল্পে নতুন সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক হিলিয়াম সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে শিল্প বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির প্রক্রিয়ায় হিলিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর সংকট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়।   ওমডিয়ার স্মার্টফোন বাজার বিশ্লেষক চিউ লে জুয়ান বিবিসিকে বলেন, অ্যাপলের নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে উন্নত এআই সুবিধা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণে আইফোন ১৭ সিরিজের তুলনায় নতুন মডেলগুলোর দাম সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।   তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা ইতোমধ্যে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, বিভিন্ন প্রচারমূলক ছাড় কমিয়েছে অথবা খরচ নিয়ন্ত্রণে কিছু ফিচার সীমিত করেছে। তার ভাষায়, “এটি সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের নতুন বাস্তবতা।”   শুধু অ্যাপল নয়, বিশ্বের অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের চাপের কথা জানিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে তারাও মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে পারে।   টিএসএমসি অ্যাপল, এনভিডিয়া এবং এএমডির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক চিপ তৈরি করে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংও আগে জানিয়েছিল, মেমোরি চিপের সরবরাহ সংকটের কারণে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সনি তাদের প্লেস্টেশন ৫ কনসোলের দাম যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িয়েছে। একইভাবে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নিনটেন্ডোও তাদের সুইচ ২ গেমিং কনসোলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা আইফোন ১৭ সিরিজের বিক্রি এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চীনে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে অ্যাপলের ডিভাইস বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে।   চলতি বছরের শুরুতে অ্যাপল তাদের জনপ্রিয় ম্যাক মিনি কম্পিউটারের সবচেয়ে কমদামি সংস্করণ বাজার থেকে সরিয়ে নেয়। এর ফলে ডিভাইসটির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, চিপ সংকট ও এআই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পেতে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
৬০ বিলিয়ন ডলারে এআই কোডিং সফটওয়্যার কিনে নিল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স

বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় এআই কোডিং সফটওয়্যার কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ারকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে করপোরেট এআই প্রযুক্তির বাজারে স্পেসএক্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।   কয়েক দিন আগেই ইলন মাস্কের এই রকেট ও এআই কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নাসডাক শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। এই ব্লকবাস্টার আইপিও অভিষেকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কারসর সফটওয়্যারটি কিনে নেওয়ার বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করল স্পেসএক্স। মূলত গত এপ্রিল মাস থেকেই কোম্পানিটি কারসরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল।   স্পেসএক্স মূলত তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি এক্সএআই এবং এর চ্যাটবট গ্রককে আরও উন্নত করতে কারসরের এই কোডিং সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সএআই-এর সাথে স্পেসএক্সের একীভূতকরণ হলেও এআই কোডিংয়ের বাজারে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন চুক্তিটি কারসরকে আরও বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং বা ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা সরবরাহ করবে।   এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক-বাজার লেনদেনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের সাথে আরও প্রায় ২৪৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে যাচ্ছে, যার ফলে এর মোট বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ২১১.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা আইপিও চালুর মূল দাম ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এই ধারা বজায় থাকলে স্পেসএক্স শিগগিরই আমাজনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হবে।   ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো কারসরও সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করতে পারে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কারসর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের সাথে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি বার্ষিক প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের করপোরেট রাজস্ব আয় করছে। এর আগে কোম্পানিটি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিনিয়োগসহ ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে নতুন তহবিল সংগ্রহের আলোচনা করছিল।   আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। স্পেসএক্সের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এক্স৬৭-এর সাথে কারসরের এই মার্জার বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। রেগুলেটরি ফাইলিং বা প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, কোনো বিশেষ কারণে এই চুক্তিটি বাতিল হলে স্পেসএক্স কারসরকে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া সরকারি বা আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি সফল না হলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার রেগুলেটরি ফি দিতে হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। ছবি: সংগৃহীত
এআই ব্যবহারে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত, বলেছেন এ কে আজাদ

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলাতে উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি।   রবিবার (৭ জুন) ইকবাল আহসানের সঞ্চালনায় ‘একাত্তর বিজনেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। বায়াররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না।   এ অবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, এ কারণে মানবশক্তি কমাতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর কাঠামোয় নিতে হবে।   তিনি আরও বলেন, হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দক্ষ কর্মী চাকরি হারালে তাদের ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।   এ কে আজাদ বলেন, অনেক কোম্পানি উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে না পেরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।   তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে সক্ষম করে তুলতে হবে। এ জন্য ব্যাংক সুদের হার কমানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ কে আজাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি বৈশ্বিক উৎপাদন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: রয়টার্স
সার্চ ইঞ্জিনে স্বয়ংক্রিয় এআই ‘এজেন্ট’ ও নতুন স্মার্ট চশমা আনছে গুগল

ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তির লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের মূল সার্চ ইঞ্জিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে গুগল। এবার সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় ‘এজেন্ট’ এবং কোডিং টুল। এর পাশাপাশি এক দশকেরও বেশি সময় পর বাজারে নতুন প্রযুক্তির স্মার্ট চশমা বা গ্লাস আনার ঘোষণাও দিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক ‘আই/ও’ কনফারেন্সে মঙ্গলবার এই নতুন উদ্ভাবনগুলো উন্মোচন করা হয়। গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই জানান, তাদের নতুন ‘জেমিমনাই ৩.৫ ফ্ল্যাশ’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সার্চ ইঞ্জিন পরিচালিত হবে। আরও বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান এআই এজেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি।   সুন্দর পিচাই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট নিয়ে কাজ করছি। তবে এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই এজেন্টের ক্ষমতা সাধারণ গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, যাতে এটি সবার দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসে।   গুগল সার্চের এই পরিবর্তনের মূল আকর্ষণ হলো ‘স্পার্ক’ নামের একটি নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই এজেন্টটি ব্যবহারকারীর অনুমতি সাপেক্ষে জিমেইল বা ম্যাপসের মতো সেবাগুলো থেকে তথ্য নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত কাজ গুছিয়ে দেবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাবে। এমনকি ব্যবহারকারীর সরাসরি তদারকি ছাড়াই এটি ইন্টারনেট ঘুরে কেনাকাটা করা, খবরের আপডেট রাখা, নির্দিষ্ট পণ্য খুঁজে দেওয়া বা কোনো অনুষ্ঠানের টিকিট বুকিংয়ের মতো কাজগুলো একাই করতে পারবে।.   গুগলের সার্চ বিভাগের প্রধান লিজ রিড এই প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, সার্চ ইঞ্জিনের সেরা কার্যকারিতার সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সেরা সুবিধাগুলোকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার যাত্রায় এটি আমাদের পরবর্তী ধাপ।   সার্চ ইঞ্জিনের পাশাপাশি মেটা এবং অন্যান্য প্রতিযোগী সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে স্মার্ট চশমার বাজারেও ফিরছে গুগল। ২০১৫ সালে প্রথম সংস্করণের 'গুগল গ্লাস' প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ক্যামেরা ও স্পিকারযুক্ত এই চশমা তৈরিতে গুগল এবার হাত মিলিয়েছে স্যামসাং, ওয়ার্বি পার্কার এবং জেন্টল মনস্টারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে।   বর্তমানে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডেটা এবং নিজেদের বিস্তৃত সেবার সুবিধা নিয়ে এআই বাজারের শীর্ষস্থান দখল করতে চায় গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাণিজ্যিক ব্যবহারে বিশেষ করে প্রফেশনাল কোডিং ও বিজনেস অটোমেশনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক প্রত্যেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার দখল করে আছে, যেখানে গুগলের অংশ মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।   গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস জানান, তাদের নতুন জেমিমনাই ৩.৫ মডেলটি প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড কোড’ বা ওপেনএআইয়ের ‘কোডেক্স’-এর সমকক্ষ হলেও এটি অনেক দ্রুত কাজ করে এবং এর পরিচালনা খরচও প্রায় অর্ধেক। আগামী মাসে জেমিমনাই ৩.৫-এর আরও শক্তিশালী ‘প্রো’ সংস্করণ বাজারে আসবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রযুক্তি বা ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) এখন আর বেশি দূরে নয়।   বিনিয়োগকারীরাও গুগলের এই নতুন প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখছেন। গত ১২ মাসে গুগলের শেয়ারের দাম প্রায় ১৩০ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে এর বাজারমূল্য এখন প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম মে ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
নতুন এআই মডেল বাজারে আনার আগে সরকারের সঙ্গে শেয়ার করবে গুগল, মাইক্রোসফট ও এক্সএআই

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাইবার হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার আগেই সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার ঘোষণা দিয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট এবং এক্সএআই। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী করা হবে।   নতুন এই নীতিগত উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন গত মাসে অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেল মিথোস ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির ওপর সরকারি পর্যায়ে আরও কঠোর পর্যালোচনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন বাজারে আসার আগেই এআই মডেলগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি মডেল প্রকাশের পরেও এই কেন্দ্র গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি এআই মডেল মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।   কেন্দ্রটির পরিচালক ক্রিস ফল এক বিবৃতিতে বলেন, “এআই এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব বোঝার জন্য স্বতন্ত্র ও কঠোর বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অপরিহার্য। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিল্পের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতা জনস্বার্থে আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।” অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তাদের মিথোস মডেল সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যান্য মডেলের তুলনায় উন্নত সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। গত এক মাসে এটি বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যাংক এবং ইউটিলিটি কোম্পানির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মডেলটি আপাতত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি এবং সীমিত কিছু সংস্থাকে এর অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা তাদের উন্নত এআই মডেলগুলো সরকারের পরীক্ষিত সব স্তরে উন্মুক্ত করছে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করা যায়।   জর্জটাউন সেন্টারের ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজির সিনিয়র গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি বলেন, এই অংশীদারত্বের ফলে সিএআইএসআইয়ের জন্য এআই পরীক্ষা আরও সহজ হবে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় সরকারি সংস্থার জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে নতুন এআই মডেলগুলোর সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এটি পূর্বের তুলনায় এআই নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেই আসবে এবং এ বিষয়ে এখন যেসব আলোচনা চলছে তা অনুমাননির্ভর।   মাইক্রোসফটের প্রধান দায়িত্বশীল এআই কর্মকর্তা নাতাশা ক্র্যাম্পটন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে নিজেদের মডেল পরীক্ষা করে থাকে, তবে সিএআইএসআই অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহায়তা দিতে পারবে।   গুগল এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এক্সএআই-এর পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
গাড়িতেও যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা, বড় চমক গুগলের

ড্রাইভিং সিটে বসে এবার রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই কথা বলা যাবে আপনার প্রিয় গাড়ির সঙ্গে। কারণ, গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি’ (Gemini)-কে নিয়ে আসছে গাড়ির অন্দরে। সম্প্রতি গুগলের ‘গুগল বিল্ট-ইন’ (Google built-in) প্রযুক্তিতে এই বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে গাড়িতে থাকা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে জেমিনি এআই-এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা পুরোপুরি বদলে যাবে। আগে নির্দিষ্ট কিছু কমান্ডের মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজ করলেও, জেমিনি যুক্ত হওয়ার ফলে এখন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলেই গাড়িকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া যাবে।   কী কী সুবিধা থাকছে এই আপডেটে?   ১. স্বাভাবিক কথোপকথন: কোনো নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি বলেন, “দুপুরের খাবারের জন্য ভালো কোনো রেস্তোরাঁ খুঁজে দাও,” জেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুগল ম্যাপস থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য নিয়ে আপনাকে সেরা জায়গাটির খোঁজ দেবে।   ২. স্মার্ট নেভিগেশন: রাস্তায় যানজট থাকলে জেমিনি আপনাকে আগেভাগেই সতর্ক করবে এবং বিকল্প পথের পরামর্শ দেবে।   ৩. এআই মেসেজিং ও বিনোদন: গাড়ি চালানোর সময় হাত ব্যবহার না করেই মেসেজ পাঠানো, রিপ্লাই দেওয়া কিংবা ইউটিউব মিউজিক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আরও সহজভাবে।   ৪. জেমিনি লাইভ (Gemini Live): এই ফিচারের মাধ্যমে ড্রাইভার বা যাত্রীরা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় জেমিনির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা বা ট্রাভেল প্ল্যান করতে পারবেন।   গুগল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে এটি উন্মুক্ত করা হবে। শুধু নতুন মডেলের গাড়ি নয়, পুরোনো গাড়িগুলোতেও ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) আপডেটের মাধ্যমে জেমিনি এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ভবিষ্যতে জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গেও এটিকে আরও উন্নতভাবে সংযুক্ত করা হবে।

ইসমাইল হোসাইন মে ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বেইজিং অটো শোতে এক্সপেং-এর উড়ন্ত গাড়ি আর হিউম্যানয়েড রোবট দেখে তাজ্জব বিশ্ব!

ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে (অটো চায়না ২০২৬) চমক দেখালো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সপেং (XPENG)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘ফিজিক্যাল এআই’ (Physical AI) ইকোসিস্টেম প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের শক্তিশালী প্রোডাক্ট লাইনআপের মধ্যে নতুন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি GX, MONA M03, পরবর্তী প্রজন্মের P7 এবং X9 হাইলাইট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট ‘IRON’ এবং উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কার ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’। এক্সপেং-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হে শিয়াওপেং বলেন, “গত ১২ বছরের যাত্রায় আমরা এখন এক নতুন ধাপে পৌঁছেছি। স্মার্ট ইভি থেকে ফ্লাইং কার, এআই চিপ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট—আমরা আমাদের ফিজিক্যাল এআই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল যাতায়াত সহজ করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া।” প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের নতুন ‘VLA 2.0’ ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এই এআই প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম রোবোট্যাক্সি (Robotaxi) প্রোটোটাইপ 'GX' উন্মোচন করেছে, যা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বা L4 অটোনোমাস ড্রাইভিং সক্ষম। এতে রয়েছে শক্তিশালী ‘টুরিং’ এআই চিপ, যা ৩০০০ TOPS কম্পিউটিং পাওয়ার প্রদান করে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে এক্সপেং-এর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ৯৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এআই চালিত স্মার্ট মোবিলিটি বা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মক্কা-মদিনায় হাজীদের সহায়তা দেবে এআই, মিলবে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ও তথ্য

পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এবং মদিনার মসজিদে নববীতে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক বহুভাষিক ‘ইন্টারক্টিভ স্মার্ট স্ক্রিন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই স্ক্রিনগুলো হজযাত্রীদের ডিজিটাল গাইড হিসেবে কাজ করবে। সৌদি আরবের ‘প্রেসিডেন্সি অফ রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হাজিদের কথা চিন্তা করে এই স্ক্রিনগুলোতে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় তথ্য, কোরআনের ডিজিটাল সংস্করণ এবং হজের বিভিন্ন নিয়মাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন। স্মার্ট স্ক্রিনের বিশেষত্ব: ১. নির্ভুল নির্দেশনা: হজযাত্রীরা যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে এই স্ক্রিন থেকে সরাসরি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারবেন। ২. সহজ নেভিগেশন: বিশাল এলাকায় হারিয়ে যাওয়া রোধে এবং যাতায়াতের সঠিক পথ খুঁজে পেতে এই ডিজিটাল ম্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।  ৩. ডিজিটাল লাইব্রেরি: স্ক্রিনগুলোতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে হাজিরা মোবাইলেই ডাউনলোড করতে পারবেন বিভিন্ন দরকারি ইসলামিক বই ও দোয়া। ৪. নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: মক্কার নারী প্রার্থনা এলাকাগুলোতেও আলাদাভাবে এই স্মার্ট স্ক্রিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে যাতে নারী হজযাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তথ্য সেবা পেতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনা হয়েছে। এর ফলে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পাশাপাশি হজযাত্রীরা কোনো সাহায্যকারী ছাড়াই নিজের ভাষায় সবকিছু বুঝে নিতে পারবেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ডিপসিক-ভি৪, এআই দুনিয়ায় এবার রাজত্ব করতে যাচ্ছে চীন?

বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবার আরও তুঙ্গে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং গুগলের জেমিনাই-কে সরাসরি টেক্কা দিতে চীনভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ডিপসিক’ বাজারে এনেছে তাদের লেটেস্ট মডেল ‘ডিপসিক-ভি৪’।  শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কোম্পানিটি এই নতুন মডেলের প্রিভিউ সংস্করণ উন্মোচন করেছে। মার্কিন মডেলের চেয়েও সস্তা:ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় চমক হলো এর অবিশ্বাস্য কম দাম। কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই মডেলটি ব্যবহার করতে খরচ হবে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ কম।  যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের শক্তিশালী মডেলগুলোর এপিআই (API) ব্যবহারের জন্য উচ্চমূল্য রাখে, সেখানে ডিপসিক অত্যন্ত সস্তায় একই মানের বা তার চেয়েও উন্নত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কারিগরি সক্ষমতা: ডিপসিকের নতুন এই মডেলে রয়েছে ‘ভি৪-প্রো’ (V4-Pro) এবং ‘ভি৪-ফ্ল্যাশ’ (V4-Flash) নামক দুটি সংস্করণ। এর মধ্যে প্রো সংস্করণটিতে ১.৬ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এআই মডেলে পরিণত করেছে। এটি গণিত এবং কোডিংয়ের ক্ষেত্রে ওপেন-সোর্স মডেলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং বিশ্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে জেমিনাই ৩.১-প্রো-র ঠিক পরেই এর অবস্থান। ১ মিলিয়ন টোকেন উইন্ডো: গবেষকদের মতে, ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ১ মিলিয়ন টোকেন সমৃদ্ধ কন্টেক্সট উইন্ডো। এর মানে হলো, এই এআই একবারে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বই বা বিশালাকার কোডবেস বিশ্লেষণ করতে পারবে কোনো তথ্য না হারিয়েই। হুয়াওয়ে চিপের প্রভাব: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এনভিডিয়া (Nvidia) চিপের সংকট থাকলেও, ডিপসিক তাদের এই মডেলটিকে চীনের তৈরি হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ড (Huawei Ascend) চিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চীন এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
শ্রমিক সংকট কাটাতে নামানো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চালকবিহীন ট্রাক

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের বন্দরে তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চালকবিহীন ট্রাক। হংকংয়ের কুয়াই তসিং টার্মিনালে এই স্বায়ত্তশাসিত ট্রাকগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই চালকবিহীন ট্রাকগুলো প্রায় ৮,০০০-এর বেশি কন্টেইনার মুভমেন্ট সম্পন্ন করেছে। মূলত বন্দরের ট্রেলার চালকদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত ট্রাক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। হংকংয়ের লজিস্টিক খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার শুধুমাত্র শ্রমিকের অভাবই পূরণ করবে না, বরং বন্দরের সার্বিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আধুনিক এই ট্রাকগুলো সেন্সর এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ভারী কন্টেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মেটা-আলিবাবাকে টেক্কা দিতে হুয়াওয়ের নতুন চমক এআই স্মার্ট গ্লাস

বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করতে হুয়াওয়ে (Huawei) নিয়ে এলো তাদের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত স্মার্ট চশমা। মেটা (Meta), আলিবাবা (Alibaba) এবং রকিড (Rokid)-এর মতো জায়ান্টদের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতেই হুয়াওয়ের এই নতুন সংযোজন।  সোমবার চীনে আয়োজিত 'পুরা' (Pura) সিরিজ লঞ্চ ইভেন্টে হুয়াওয়ের টার্মিনাল বিজি-এর সিইও হে গ্যাং এই চশমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। হুয়াওয়ের এই এআই চশমাটি কেবল ফ্যাশনেবল নয়, এতে রয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব তৈরি এআই চিপ, যা অত্যন্ত দ্রুত ভয়েস কমান্ডের উত্তর দিতে সক্ষম। ১. ক্যামেরা ও লাইভ স্ট্রিমিং: এতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যা দিয়ে প্রথম পারসন ভিউ (First-person perspective) থেকে ছবি তোলা এবং সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। ২. রিয়েল-টাইম অনুবাদ: ভ্রমণের সময় বা মিটিংয়ে তাৎক্ষণিক ভাষা অনুবাদের সুবিধা মিলবে এই চশমায়। ৩. অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ: মেটা-র চশমাকে ব্যাটারির দিক থেকে হুয়াওয়ে বেশ পেছনে ফেলেছে। একবার চার্জ দিলে এটি ১২ ঘণ্টা সাধারণ ব্যবহার এবং টানা ৯ ঘণ্টা মিউজিক শোনার সুবিধা দেয়। ৪. ডিজাইন ও ওজন: এভিয়েশন গ্রেড টাইটানিয়াম হিঞ্জ এবং ওজনে মাত্র ৩৫.৫ গ্রাম হওয়ায় এটি দীর্ঘক্ষণ পরতে কোনো অস্বস্তি হবে না। ৫. পেমেন্ট সুবিধা: চশমা পরে কিউআর কোড স্ক্যান করে আলিপে (Alipay)-র মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট করার ফিচার যুক্ত করা হয়েছে এতে। দাম ও সহজলভ্যতা:চীনে এই চশমাটির দাম শুরু হয়েছে ২,৪৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৩৬৭ মার্কিন ডলার) থেকে। এটি তিনটি রঙে—টাইটানিয়াম সিলভার গ্রে, শিমারিং সিলভার এবং মডার্ন ব্ল্যাক কালারে পাওয়া যাবে। ২০শে এপ্রিল থেকে এর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং ২৫শে এপ্রিল থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিতে, তবু মুনাফায় কিছু খাত—কারা এগিয়ে?

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি-এ অচলাবস্থার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।   বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে।   তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু খাত উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। আল জাজিরা-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন পাঁচটি খাত— বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো লাভবান হয়েছে। মর্গান স্ট্যানলি, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং জেপি মর্গান চেজ—সবগুলোই ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীদের ঘন ঘন লেনদেনই এই মুনাফার মূল কারণ।   ক্রিপ্টো-ভিত্তিক পূর্বাভাস প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেট যুদ্ধকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তার সুযোগে ব্যাপক আয় করছে। ব্যবহারকারীরা যুদ্ধ, রাজনীতি বা অর্থনৈতিক ঘটনার ফলাফল নিয়ে বাজি ধরায় প্ল্যাটফর্মটির আয় দ্রুত বেড়েছে।   বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির ফলে এই খাতেও বড় উত্থান দেখা গেছে। ‘এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডেক্স’ অনুযায়ী, এই খাতে প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত নিট মুনাফা হয়েছে, যা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের গড় প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।   সংকটের মধ্যেও এআই খাতের প্রবৃদ্ধি থেমে নেই। চিপ রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত চাহিদা বাড়ায় তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড আয় করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবেই থাকবে।   জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, শতাধিক দেশে এ খাতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের আকাশে গতিবিধি শনাক্ত, এআই এর কাছে হার মানছে মার্কিন যুদ্ধবিমানও!

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী ও গোপন ‘বি-২ স্পিরিট’ স্টিলথ বা অদৃশ্য বোমারু বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করার দাবি করেছে একটি চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ।  ‘জিংআন টেকনোলজি’ নামক হাংঝু-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব এআই সিস্টেম ‘জিংকি’-এর মাধ্যমে তারা কেবল এই বিমানের অবস্থানই নয়, বরং পাইলটদের কণ্ঠস্বর এবং রেডিও যোগাযোগও সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা আটকাতে সক্ষম হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-২ বোমারু বিমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পারদর্শী। কিন্তু চীনা এই কোম্পানিটির দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক গোপনীয়তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা শত কোটি ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে এই ট্র্যাকিং সম্পন্ন করেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে এই ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেটার বড় চমক: বাজারে এল প্রথম সুপারইন্টেলিজেন্স এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুল আলোচিত ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ টিম কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ওপেনএআই-কে টেক্কা দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই বিশেষ টিম গঠন করেছিলেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। নতুন এই মডেলটি মেটার অভ্যন্তরীণ 'অ্যাভোকাডো' (Avocado) সিরিজের অংশ। শেয়ার বাজারে উল্লম্ফন: এই ঘোষণার পরপরই মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মেটার বিশাল বিনিয়োগ আদৌ কোনো ফল দেবে কি না—বিনিয়োগকারীদের এমন সংশয় দূর করতেই এই দ্রুত ঘোষণা। কী থাকছে মিউজ স্পার্কে? মেটা জানিয়েছে, মিউজ স্পার্ক মডেলটি আকারে ছোট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হলেও এটি বিজ্ঞান, গণিত এবং স্বাস্থ্যের মতো জটিল বিষয়ে যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারী সুবিধা: ব্যবহারকারীরা কোনো খাবারের ছবি তুলে সেটির ক্যালরি নির্ণয় করতে পারবেন। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে কোনো পণ্য (যেমন মগ বা আসবাবপত্র) ঘরের কোথায় কেমন দেখাবে, তাও এই এআই-এর মাধ্যমে দেখা সম্ভব হবে। ইন্টিগ্রেশন: প্রাথমিকভাবে এটি ‘মেটা এআই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসে থাকা বিদ্যমান ল্লামা (Llama) মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ‘মিউজ স্পার্ক’। ব্যয়বহুল প্রতিভা সংগ্রহ: উল্লেখ্য যে, এই সুপারইন্টেলিজেন্স টিমটি গঠন করতে মেটা গত বছর স্কেল এআই-এর সিইও অ্যালেক্স ওয়াংকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়। এছাড়া নামী প্রকৌশলীদের শত মিলিয়ন ডলারের স্যালারি প্যাকেজ দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছিল মেটা। জাকারবার্গের বক্তব্য: এ বিষয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এই মডেলটি আমাদের অগ্রগতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা কত দ্রুত উদ্ভাবনের পথে হাঁটছি। চলতি বছরেই আমরা আরও উন্নত এবং শক্তিশালী মডেল নিয়ে আসব।” প্রযুক্তিবিদদের মতে, ‘মিউজ স্পার্ক’-এর মাধ্যমে মেটা মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তাদের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগনের গোপন এআই প্রজেক্ট: যুদ্ধের রূপ বদলে দিচ্ছে ‘ম্যাভেন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কর্মসূচি ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’ আবার আলোচনায় এসেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং হামলার গতি বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ২০১৭ সালে ছোট একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রোগ্রাম এখন একটি বড় এআই-নির্ভর সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। এটি যুদ্ধ পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করার মাধ্যমে আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে সক্ষম।   প্রজেক্ট ম্যাভেন কী? প্রজেক্ট ম্যাভেন হলো পেন্টাগনের প্রধান এআই উদ্যোগ। শুরুতে এটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে আসা ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণে সাহায্য করতো। বিশ্লেষকদের বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এক ফ্রেম করে দেখার কাজ সহজ করতে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়।   সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাভেন বড় হয়ে এখন শুধু ছবি বিশ্লেষণ নয়, পুরো যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালনায় সহায়তা করে। যুদ্ধের ভাষায় ‘কিল চেইন’ অর্থাৎ লক্ষ্য শনাক্তকরণ থেকে আঘাত পর্যন্ত দ্রুত কাজ করতে সক্ষম এই সিস্টেম।   কীভাবে কাজ করে? ম্যাভেনকে অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রের ‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল’ ও ‘ককপিট’-এর সংমিশ্রণ বলা যায়। এটি বিভিন্ন উৎস থেকে সেন্সর ডেটা, গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট ছবি ও সেনা মোতায়েনের তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর এগুলো একত্র করে পুরো পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার ছবি তৈরি করে।   ফলে কমান্ডাররা দ্রুত বোঝতে পারেন কোথায় শত্রু চলাচল করছে এবং কোথায় আঘাত হানা সম্ভব। ম্যাভেন বিভিন্ন আক্রমণের বিকল্পও প্রস্তাব করে, এবং চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তির কারণে ব্যবহার আরও সহজ হয়েছে। বর্তমানে এই ব্যবস্থার একটি অংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের ক্লাউড মডেলের মাধ্যমে চলছে। তবে এর ব্যবহার নিয়ে পেন্টাগনের সঙ্গে কিছু মতবিরোধ আছে।   গুগলের বিরোধ শুরুর দিকে গুগল প্রজেক্টে যুক্ত ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে তিন হাজারের বেশি কর্মী নৈতিক কারণে বিরোধ জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণ অতিক্রম করছে। পরে গুগল চুক্তি নবায়ন করেনি এবং অস্ত্র ব্যবস্থায় কাজ না করার নীতি ঘোষণা করে।   প্যালান্টিরের ভূমিকা ২০২৪ সালে প্যালান্টির গুগলের জায়গা নেয় এবং ম্যাভেনের প্রধান প্রযুক্তি অংশীদার হয়। কোম্পানির এআই সিস্টেম ‘কিল চেইন’-কে ঘণ্টা থেকে সেকেন্ডে নামিয়ে আঘাতের গতি বাড়াতে সক্ষম।   কার্যকারিতা ম্যাভেনের সঠিক কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ধরণ থেকে ধারণা করা যায়, এটি লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও আঘাতের গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গবেষণা অনুযায়ী, কিছু অপারেশনে প্রতিদিন ৩০০–৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, এক হামলায় ৭–১২ বছর বয়সী ১৬৮ শিশু নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
এআই জগতে গুগলের চমক: উন্মোচিত হলো ওপেন সোর্স মডেল ‘জেম্মা ৪’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। বিশ্বজুড়ে ডেভেলপার এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য গুগল উন্মোচন করেছে তাদের এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেল ‘জেম্মা ৪’ (Gemma 4)।  গুগল ডিপমাইন্ডের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ এই মডেলটি মূলত গুগলের প্রিমিয়াম এআই ‘জেমিনি ৩’-এর প্রযুক্তিতে তৈরি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী চারটি ভিন্ন সংস্করণ গুগল জেম্মা ৪-কে মূলত চারটি ভিন্ন আকারে বাজারে এনেছে। এর মধ্যে সাধারণ স্মার্টফোনের জন্য রয়েছে ‘ইফেক্টিভ ২বি’ ও ‘ইফেক্টিভ ৪বি’ সংস্করণ। অন্যদিকে, বড় ও জটিল কাজের জন্য রাখা হয়েছে ‘২৬বি এমওই’ এবং ‘৩১বি ডেন্স’ মডেল। জেম্মা ৪-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর অফলাইন কার্যক্ষমতা। ছোট ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা রাসবেরি পাই-তেও এটি অনায়াসেই কাজ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি কেবল টেক্সট বা লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিও, ছবি এবং অডিও সরাসরি প্রসেস করতে সক্ষম এই মডেলটি। পাশাপাশি বাংলাসহ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি ভাষায় পারদর্শী জেম্মা ৪, যা এর গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জটিল গাণিতিক যুক্তি বা কোডিং তৈরির ক্ষেত্রে জেম্মা ৪ পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কার্যকর। বড় ডাটাবেজ বিশ্লেষণ বা বড় ডকুমেন্ট মুহূর্তেই স্ক্যান করে ফলাফল দিতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘অ্যাপাচি ২.০’ লাইসেন্সের আওতায় গুগল এই মডেলটি উন্মুক্ত করায় বিশ্বের যেকোনো ডেভেলপার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই এটি ব্যবহার বা পরিবর্তন করতে পারবেন।  প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেন সোর্স এআই-এর বাজারে মেটার ‘লামা’ (Llama)-কে টেক্কা দিতে জেম্মা ৪ গুগলের জন্য একটি ট্রাম্পকার্ড হতে যাচ্ছে। বর্তমানে গুগল এআই স্টুডিও এবং হাগিং ফেস-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এটি বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0