- প্রচ্ছদ
- Topic
এআই
ঢাকার একটি মেসে বসে ফেসবুকে মজার কার্টুন ও মিম তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন বাংলাদেশের দুই তরুণ। কুমিল্লার লাকসামের দুই ভাই নাজমুস শাহাদাত ও নাজমুস সাকিবের এই উদ্যোগ এখন আন্তর্জাতিক অনলাইন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ২০২৪ সালেই তাঁদের ব্যবসার পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি টাকা। তাঁদের পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে সম্মিলিত ফলোয়ারের সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমুস শাহাদাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর বড় ভাই নাজমুস সাকিব পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের খরচ চালানো এবং পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর চিন্তা থেকেই দুই ভাই অনলাইনে আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। শুরুতে তাঁদের হাতে বড় কোনো পুঁজি ছিল না। ছিল একটি ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিছু করার আগ্রহ। শাহাদাত প্রথমে সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন। কিছুদিন কাজও করেন এই পেশায়। পরে ইউটিউবে বিভিন্ন ছবি দিয়ে স্লাইড শো তৈরি করে আপলোড করতে থাকেন। কিন্তু সেখান থেকে প্রত্যাশিত দর্শক কিংবা আয় কোনোটিই আসছিল না। এরপর দুই ভাই ফেসবুকের কনটেন্ট থেকে আয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। বিশেষ করে ছবি, রিল ও অন্যান্য কনটেন্টের মাধ্যমে দর্শক তৈরি এবং সেখান থেকে ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করেন তাঁরা। এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে কার্টুন ছবি তৈরি করতে শুরু করেন শাহাদাত। এসব কার্টুনের সঙ্গে যুক্ত করা হতো দৈনন্দিন জীবন, বয়স, অবসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্ত মানুষের পরিচিত অভিজ্ঞতা নিয়ে মজার মন্তব্য। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি রসিকতাগুলো ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকে। নিজেদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন বড় গ্রুপেও সেগুলো শেয়ার করতেন দুই ভাই। প্রথম দিকে তেমন সাড়া না পেলেও একসময় তাঁদের তৈরি কয়েকটি মিম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়তে থাকে ফলোয়ার ও দর্শকের সংখ্যা। এরপর তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে একাধিক ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপ তৈরি করেন। এসব গ্রুপে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠী গড়ে তোলার চেষ্টা চালান। ফেসবুকের ইনসাইট বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের কনটেন্টের দর্শকদের প্রায় ৮০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও প্রবীণদের মধ্যে এসব মিমের জনপ্রিয়তা বেশি। এই তথ্য থেকেই নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। দুই ভাই ভাবতে শুরু করেন, ফেসবুকে জনপ্রিয় হওয়া মজার কথাগুলো যদি টি-শার্টে ছাপিয়ে বিক্রি করা যায়, তাহলে কেমন হয়। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে যুক্ত হন তাঁদের খালাতো ভাই মোহাম্মদ হাসান রাফি। ডিজাইনের কাজে দক্ষ রাফিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা অনলাইন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ শুরু করেন। তবে নিজেরা কোনো কারখানা স্থাপন করেননি। পণ্য তৈরি কিংবা সরবরাহের জন্যও বড় বিনিয়োগ করতে হয়নি তাঁদের। তাঁরা বেছে নেন প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসার মডেল। এই পদ্ধতিতে ক্রেতার অর্ডার পাওয়ার পর নির্ধারিত ডিজাইন অনুযায়ী পণ্য তৈরি করা হয়। এ জন্য একটি বিদেশি প্রিন্ট অন ডিমান্ড প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তাঁরা। নিজেদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ডিজাইনের পণ্য প্রদর্শন করেন। কোনো ক্রেতা অর্ডার দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পণ্য প্রিন্ট, প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির দায়িত্ব পালন করে। ফলে বাংলাদেশে বসেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশের ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁদের। প্রথমে টি-শার্ট দিয়ে ব্যবসা শুরু হলেও পরে পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে সোয়েটশার্ট, হুডি ও টাম্বলার ফ্লাস্ক। প্রতিটি পণ্যের ডিজাইনে গুরুত্ব দেওয়া হয় তাঁদের ফেসবুক দর্শকদের পছন্দের বিষয়গুলোকে। জনপ্রিয় মিমের রসিকতা এবং পরিচিত জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠেছে এসব পণ্যের মূল আকর্ষণ। প্রথম আলোকে শাহাদাত জানিয়েছেন, ব্যবসার শুরুর কয়েক মাস তাঁরা আয় করার চেয়ে দর্শক তৈরি এবং ফেসবুক কমিউনিটি গড়ে তোলার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কোনো পেইড বিজ্ঞাপন কিংবা পোস্ট বুস্ট না করে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরে সেই দর্শকদের একটি অংশ তাঁদের অনলাইন স্টোরের ক্রেতায় পরিণত হয়। তাঁদের ব্যবসায় মৌসুমি চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিক্রি বেশি হয় বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ও ক্রিসমাসের মতো উৎসবকে সামনে রেখে বিশেষ ডিজাইনের পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। এসব উৎসবের সময় উপহার কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। বর্তমানে কাউ ক্রনিকলস, ডাকস গন ওয়াইল্ড, হার্ড হিউমার ও হিলারিয়াস ক্যাটসহ বিভিন্ন নামে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ পরিচালনা করছেন তাঁরা। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব পেজ ও গ্রুপ মিলিয়ে তাঁদের ফলোয়ার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। দুই ভাইয়ের দাবি, ২০২৪ সালে তাঁদের ব্যবসার পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকায় পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকেও স্বীকৃতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এক কোটি টাকা তাঁদের মোট বিক্রির পরিমাণ, নাকি সব খরচ বাদ দেওয়ার পর মুনাফা, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আয়ের এই হিসাবও উদ্যোক্তাদের নিজস্ব বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। এই উদ্যোগের সঙ্গে এখন ১৫ জনের বেশি তরুণ যুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের কেউ কনটেন্ট তৈরি, কেউ ডিজাইন, আবার কেউ অনলাইন ব্যবসার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন। ফলে দুই ভাইয়ের ব্যক্তিগত আয়ের চেষ্টা থেকে শুরু হওয়া উদ্যোগটি অন্য তরুণদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশে বসে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের পছন্দ বুঝে কনটেন্ট তৈরি এবং সেই দর্শকদের কাছে পণ্য বিক্রির এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ই-কমার্সের একটি উদাহরণ। এখানে শুধু ভাইরাল কনটেন্ট নয়, দর্শকদের আগ্রহ বিশ্লেষণ, নিয়মিত যোগাযোগ এবং পণ্য নির্বাচনের কৌশলও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ঢাকার মেসে একটি ল্যাপটপ দিয়ে শুরু করা দুই ভাইয়ের উদ্যোগ এখন দেশের বাইরের ক্রেতাদের কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালানোর উদ্দেশ্যে শুরু করা কাজটি তাঁদের দাবি অনুযায়ী কোটি টাকার ব্যবসায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বসে বিদেশি বাজারের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট ও পণ্য তৈরির সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে তাঁদের অভিজ্ঞতা। সূত্র: প্রথম আলো
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবৈধ মদ তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির মূল অভিযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাসায়নিক সংগ্রহ করে তৈরি করা তরল পুরোনো মদের বোতলে ভরে বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ভারতের ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এআইয়ের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশের ভাষ্য, এআই থেকে পাওয়া তথ্য ছিল অসম্পূর্ণ। এরপর তিনি ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামের একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করেন অজয়। ১ অক্টোবর রাসায়নিক পাওয়ার পর সহযোগীদের নিয়ে বাড়িতে অবৈধভাবে মদ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। পরে পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি তরল ভরে বিক্রি করা হয়। আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, ৬ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে এসব মদ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করা হয়। মূলত গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পুরোনো বোতল এবং আসল মদের সঙ্গে মিশ্রণের কারণে ক্রেতাদের পক্ষে নকল পানীয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবৈধ সরবরাহের সঙ্গে কয়েকটি বৈধ মদের দোকানের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয়কর্মীদেরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে ইন্দোরের ব্যবসায়ী আমান কাসলিওয়ালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া উদ্ধার করা মদের বোতল ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দেওয়াস জেলার চান্দানা ও বিনজানা গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব মৃত্যুর সঙ্গে বিষাক্ত মদপানের সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। তবে জেলা প্রশাসন শুরুতে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছিল। পরে বিষয়টি তদন্তে রাজ্য সরকার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও নকল মদের সঙ্গে মৃত্যুগুলোর সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত দুজনের দেহের নমুনা, উদ্ধার করা মদ এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু ও দ্য ডেইলি স্টার।
উচ্চশিক্ষার একাধিক ডিগ্রি অর্জনের পরও শেখার আগ্রহে ভাটা পড়েনি মিহিরকান্ত উপাধ্যায়ের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের গ্লোবাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই পেশাজীবী ৪১ বছর বয়সে ভর্তি হয়েছেন হাইব্রিড এমবিএ প্রোগ্রামে। তাঁর লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জন এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল করপোরেট দুনিয়ায় নিজের দক্ষতা প্রাসঙ্গিক রাখা। পিএইচডি ও দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি থাকার পরও নতুন করে এমবিএ করার সিদ্ধান্ত পেশাজীবীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য সময়ের সঙ্গে দক্ষতা হালনাগাদ করার গুরুত্ব তাঁর এই সিদ্ধান্তে নতুন করে সামনে এসেছে। মিহিরকান্তের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে এআইনির্ভর কর্মপরিবেশে নিজেকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনার কৌশল বদলে যাচ্ছে। ফলে শুধু পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। হাইব্রিড এমবিএ প্রোগ্রামে অনলাইন ও সরাসরি শিক্ষার সমন্বয় থাকে। কর্মজীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এ ধরনের প্রোগ্রাম পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মিহিরকান্ত উপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও শেখার নতুন সুযোগ গ্রহণ করা যায়। বয়স কিংবা আগে অর্জিত ডিগ্রির সংখ্যা নতুন কিছু শেখার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এআইয়ের বিস্তারের কারণে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা, দুই ক্ষেত্রেই নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, এমবিএ প্রোগ্রামের নাম এবং ভর্তির সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করার সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য এআই সম্পর্কে শেখা এবং পরিবর্তনশীল করপোরেট পরিবেশে নিজের দক্ষতা ধরে রাখা।
জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে এবার থেকে বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন ব্যবহারকারীরা। সম্প্রতি নিজেদের প্রাইভেসি পলিসি বা গোপনীয়তা নীতি আপডেট করার ঘোষণা দিয়েছে এর মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির 'ফ্রি' (Free) এবং 'গো' (Go) প্ল্যানের ব্যবহারকারীদের চ্যাটবক্সে এখন থেকে বিভিন্ন স্পনসর্ড বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। তবে যারা প্লাস, প্রো, এন্টারপ্রাইজ, বিজনেস এবং এডুকেশন প্ল্যানের মতো প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করেন, তাদের কোনো বিজ্ঞাপন দেখতে হবে না। ব্যবহারকারীদের মনে স্বস্তি দিয়ে ওপেনএআই স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিজ্ঞাপনগুলো কোনোভাবেই চ্যাটজিপিটির উত্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। বিজ্ঞাপনগুলোকে মূল উত্তর থেকে আলাদা রাখতে স্পষ্টভাবে ‘স্পনসর্ড’ লেবেল যুক্ত করা থাকবে। ব্যবহারকারীর চ্যাটের প্রাসঙ্গিকতা এবং পূর্ববর্তী বিজ্ঞাপনে ক্লিকের ওপর ভিত্তি করে পার্সোনালাইজড বা ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন দেখানো হবে, যা ব্যবহারকারীরা চাইলে সেটিংস থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং কথোপকথন সম্পূর্ণ গোপন ও সুরক্ষিত থাকবে। ওপেনএআই নিশ্চিত করেছে যে, বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ব্যবহারকারীর চ্যাট হিস্ট্রি, মেমরি বা ব্যক্তিগত কোনো তথ্য শেয়ার করা হবে না। বিজ্ঞাপনদাতারা কেবল তাদের বিজ্ঞাপনের মোট ভিউ বা ক্লিকের মতো সামগ্রিক পারফরম্যান্সের তথ্যই দেখতে পাবেন। এই নতুন আপডেটের মাধ্যমে ওপেনএআই বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা চালু রাখার পাশাপাশি নিজেদের আয়ের নতুন একটি পথ তৈরি করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমকে বিয়ের সম্পর্কে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে নিজের সব ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে তাঁর অপেক্ষায় ছিল চরম হতাশা। যাঁকে এত দিন নিজের স্বপ্নের নারী বলে বিশ্বাস করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। এডিমার মার্টিন্স নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে জেসিকার প্রতি গভীর আবেগ তৈরি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, এই নারীই তাঁর জীবনের কাঙ্ক্ষিত সঙ্গী, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাটাতে চান তিনি। একাকিত্ব কাটিয়ে জীবনে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশায় মার্টিন্স এই সম্পর্ককে বাস্তব জীবনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, জেসিকার সঙ্গে দেখা করে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্কটিকে স্থায়ী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের কাছে থাকা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে যাত্রার খরচ জোগাড় করেন। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানহাও রাজ্য থেকে রওনা দেন মার্টিন্স। তাঁর গন্তব্য ছিল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে। সেখানে পৌঁছানোর পর ১১ অক্টোবর থেকে জেসিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই ব্যক্তির আশা ছিল, অবশেষে স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে দেখা হবে এবং একসঙ্গে জীবন শুরু করার পথ খুলবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জেসিকার দেখা পাননি মার্টিন্স। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, জেসিকা নামে ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এত দিন যাঁকে সত্যিকারের মানুষ মনে করে ভালোবেসেছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। এই খবর জানার পর মার্টিন্সের সামনে তৈরি হয় নতুন সংকট। যাত্রার জন্য নিজের সম্পদ বিক্রি করে ফেলায় তাঁর হাতে অর্থও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বেলো হরিজন্তেতে অবস্থান করার মতো সামর্থ্য না থাকায় তিনি স্থানীয় সিটি হলে যান। সেখানে একজন সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতি খুলে বলেন। পরে তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়। মার্টিন্স জানান, একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আশাতেই তিনি এত দূরের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু যে সম্পর্ককে সত্যি ভেবে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তা তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি পরিচয় এবং এআই-নির্ভর কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেসিকা অলিভেইরা নামের অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি নারী চরিত্রটিকে বলতে শোনা যায়, তিনি এমন একজন পুরুষের সন্ধান করছেন, যাঁকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে অ্যাকাউন্টটি অনুসরণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা যায়। তবে মার্টিন্স ঠিক কোন বিষয়গুলো দেখে ওই চরিত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা বাস্তব কোনো নারী নন; তিনি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি যোগাযোগও হয়নি। অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকছেন। তাঁর পরিকল্পনা, আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন। তবে এবার কোনো কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে নয়, বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজতেই সেখানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা আমান সাঙ্গার। তাঁর সহপ্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোডিং প্ল্যাটফর্ম কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ার ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চুক্তিতে অধিগ্রহণ করেছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। গত ১৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পেসএক্স। মাত্র চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনার সময় তিন বন্ধুকে নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেছিলেন আমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাইকেল ট্রুয়েল, সুয়ালেহ আসিফ ও আরভিড লুনেমার্ক। ২০২২ সালে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত অ্যানিস্ফিয়ার পরবর্তী সময়ে কারসর নামের এআই কোডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। অল্প সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে প্রযুক্তিটি। কারসর মূলত এমন একটি সফটওয়্যার, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রোগ্রামিং কোড লেখা, সংশোধন, ব্যাখ্যা করা এবং ভুল শনাক্ত করা যায়। একজন ডেভেলপার সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিলেই সফটওয়্যারটি সেই অনুযায়ী কোড তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত কোড এডিটরের সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে সরাসরি যুক্ত করার কারণেই কারসর দ্রুত প্রযুক্তি খাতে পরিচিতি পায়। আমান সাঙ্গারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কে। তাঁর পরিবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বাবা অরবিন্দ সাঙ্গার ভারতের আইআইটি বোম্বের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিনিয়োগ খাতের একজন পেশাজীবী। মা শিল্পা সাঙ্গার একজন অর্থোডন্টিস্ট ও উদ্যোক্তা। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আমানের। পরে তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেন আমান। এর আগে গুগল ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। নিজস্ব এআইভিত্তিক উদ্যোগ নিয়েও পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহপাঠীর সঙ্গে মিলে অ্যানিস্ফিয়ার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির শুরুটা অবশ্য বর্তমান কারসরের মতো ছিল না। প্রতিষ্ঠাতারা প্রথম দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরির সম্ভাবনা পরীক্ষা করছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের পুরো প্রক্রিয়াতেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই ধারণা থেকেই কারসরের উন্নয়ন শুরু হয়। কারসর জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ এর ব্যবহারপদ্ধতি। সাধারণ কোডিং সফটওয়্যারে ডেভেলপারকে বিভিন্ন কাজ নিজে করতে হয়। কিন্তু কারসরে এআইকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে একাধিক ফাইলের কোড পরিবর্তন, নতুন ফিচার তৈরি কিংবা বিদ্যমান কোডের সমস্যা সমাধানে সহায়তা নেওয়া যায়। ফলে সফটওয়্যার তৈরির সময় ও শ্রম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিটি দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যানিস্ফিয়ারের ব্যবসায়িক মূল্যও বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালের জুনে বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯৯০ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে এআই কোডিং প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিটির মূল্যায়ন আরও বৃদ্ধি পায়। স্পেসএক্সের সঙ্গে কারসরের সম্পর্ক শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। সে সময় দুই প্রতিষ্ঠান এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়। চুক্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে অ্যানিস্ফিয়ার অধিগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছিল। পরে ১৬ জুন আনুষ্ঠানিক অধিগ্রহণ চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নথি অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট অধিগ্রহণ কার্যকর হওয়ার পর অ্যানিস্ফিয়ার স্পেসএক্সের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চুক্তির আওতায় অ্যানিস্ফিয়ারের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য স্পেসএক্সের প্রায় ৩৮ কোটি ৯৩ লাখ সাধারণ শেয়ার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। লেনদেনে অ্যানিস্ফিয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলার। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর কারসরের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্পেসএক্সের বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় আরও উন্নত এআই মডেল তৈরি এবং গ্রাহকদের তুলনামূলক কম খরচে সেবা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মূলত মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটিং অবকাঠামোতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। কারসর অধিগ্রহণ সেই সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যানিস্ফিয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমান বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পণ্যের প্রসার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ৬ হাজার কোটি ডলারের অধিগ্রহণমূল্যকে আমানের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন। প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত সম্পদ নির্ভর করে তাঁদের মালিকানাধীন শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থার ওপর। আমানের এই উদ্যোক্তা যাত্রা প্রযুক্তি খাতে তরুণ প্রতিষ্ঠাতাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চার বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এআই সফটওয়্যার কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। স্পেসএক্সের অধীনে যাওয়ার পর কারসর কত দ্রুত নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের বাজারে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এর মধ্যেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আলোচনায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হ ত্যা র ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, প্রধান অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী জে কেনেথ হ ত্যা কাণ্ডের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষকে আ ক্র ম ণ ও অক্ষম করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তার ল্যাপটপের অনুসন্ধান ইতিহাস পরীক্ষা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত ২২ জুন বেঙ্গালুরুর কে আর পুরম এলাকার সিগেহাল্লির সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টে। নি হ তরা হলেন কেনেথের লিভ ইন পার্টনার শ্বেতা সোমাসুন্দরের বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া। তিনজনই ধারালো অ স্ত্রের আঘাতে নি হ ত হন। মামলায় কেনেথ ও শ্বেতা দুজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর বেঙ্গালুরু পুলিশ আদালতে ২ হাজার ৮৫ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেয়। সেই চার্জশিটের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনেথের ল্যাপটপে বেশ কিছু উদ্বেগজনক অনুসন্ধানের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, কেনেথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে রান্নাঘরের ছুরি ব্যবহার করে কাউকে প্রা ণ ঘা তীভাবে আ ক্র ম ণ করা, ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে কাউকে সাময়িকভাবে দৃষ্টিহীন করা, একাধিক ব্যক্তিকে অক্ষম করা এবং হা ম লার পরিস্থিতিতে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি ইতিহাসে ব্যবহৃত প্রা ণ ঘা তী অ স্ত্র সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রশ্নের উত্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী জানিয়েছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার সময় কেনেথের ল্যাপটপে থাকা গুগলের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রশ্নগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা তাই এখন পর্যন্ত মূলত তার করা অনুসন্ধানগুলোকে ডিজিটাল প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। এর আগে জুলাই মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, কেনেথ কয়েক মাস ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হ ত্যা কাণ্ড এবং পরে প্রমাণ গোপন করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কীভাবে র ক্তের দাগ পরিষ্কার করা যায়, ম র দে হ সরানো বা গোপন করা যায় এবং পরিকল্পিত ক্লাউড কিচেনের জন্য তৈরি একটি চুল্লি অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, এমন বিষয়ও তার অনুসন্ধানে ছিল বলে তখন দাবি করেছিলেন তদন্তকারীরা। মামলার সাম্প্রতিক চার্জশিটে আর্থিক বিরোধকেও সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্বেতা এক বছরের মধ্যে কেনেথের জন্য মোট প্রায় ৫২ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ব্যবসার জন্য ৩০ লাখ রুপির ঋণ, দুটি ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ এবং বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় একটি ব্যাংকের নোটিশ শ্বেতার বাবা-মায়ের বাড়িতে পৌঁছায়। এর পরই তার পরিবার বড় অঙ্কের ঋণের বিষয়টি জানতে পারে। চার্জশিট অনুযায়ী, এ নিয়ে শ্বেতার বাবা-মা ও কেনেথের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সোমাসুন্দর কেনেথের কাছে অর্থের ব্যবহার এবং ঋণের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ২২ জুন রাতে সেই বিরোধের পর শ্বেতার বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়ার ওপর হা ম লা চালান কেনেথ। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় সোমাসুন্দর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি পর্যন্ত যেতে সক্ষম হন। সেখানে তিনি নিরাপত্তাকর্মী ও অন্যদের কাছে ভেতরে তার স্ত্রী ও মেয়ের ওপর হা ম লার কথা জানান বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে তার মৃ ত্যু হয়। মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়াকেও একাধিক ধারালো অ স্ত্রের আঘাতসহ পাওয়া যায় এবং তারা মা রা যান। আদালতে রেকর্ড করা শ্বেতার বক্তব্যও চার্জশিটে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি কেনেথের বিরুদ্ধে তার বাবা-মা ও বোনকে আ ক্র ম ণের অভিযোগ করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেনেথ ও শ্বেতাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়ার মিশ্রণ থাকা একটি বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সাইদুলু আদাভাত জানিয়েছেন, বোতলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ল্যাপটপে পাওয়া অনুসন্ধানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের এই আলামতের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার ফল ও আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে। ঘটনার দুই দিন পর ২৪ জুন পুদুচেরি থেকে শ্বেতাকে গ্রে প্তা র করে পুলিশ। এর দুই দিনের মধ্যে কেনেথকেও গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত সংগ্রহ করা হয়। এই মামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও তদন্তকারীরা এখনো বলেননি যে কোনো এআই ব্যবস্থা হ ত্যা কাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল বা অ প রা ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল। পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি অ প রা ধের আগে কী ধরনের তথ্য খুঁজেছিলেন এবং সেই অনুসন্ধানগুলো পরিকল্পিত হ ত্যা র অভিযোগের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত। বেঙ্গালুরু পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটের ভিত্তিতে এখন আদালতেই নির্ধারিত হবে ডিজিটাল অনুসন্ধান, আর্থিক বিরোধ, ফরেনসিক আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ মিলিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শুনানি শুরু করেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই শুনানিকে শহরটির জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি এআই নিয়ে শহর পর্যায়ে প্রথম বড় ধরনের নজরদারি শুনানিগুলোর একটি। শুনানিতে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ওপর এআই প্রযুক্তির প্রভাব, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক অংশে প্রবেশ করেছে। চাকরি খোঁজা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, ব্যবসা, যোগাযোগ, ছবি তৈরি, ভিডিও সম্পাদনা এবং গ্রাহকসেবা—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, এর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তত বাড়ছে। বিশেষ করে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত, কর্মসংস্থানে প্রভাব এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে এসব বিষয় নিয়েই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হচ্ছে। কাউন্সিল জানতে চাইছে, কোম্পানিগুলো তাদের এআই সিস্টেমের মাধ্যমে মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এআইয়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার করে এমন কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো আগে মানুষ করতেন। একই সময়ে এআই নতুন ধরনের চাকরিও তৈরি করছে। নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে এই পরিবর্তনের প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, মিডিয়া, বিজ্ঞাপন, আইন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ করেন। এসব খাতে এআই ব্যবহারের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। কাউন্সিলের শুনানিতে তাই শুধু প্রযুক্তির সুবিধা নয়, এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এআই ব্যবহার করে কর্মী নিয়োগ, ঋণ অনুমোদন, চাকরি বাতিল বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেই সিদ্ধান্তের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আরেকটি বড় বিষয় হলো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। মানুষ প্রতিদিন এআই অ্যাপ ও সেবায় বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করছেন। কেউ লিখছেন ব্যক্তিগত বার্তা, কেউ ছবি দিচ্ছেন, কেউ ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবহার করছেন, আবার কেউ স্বাস্থ্য বা আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করছেন।এসব তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এই শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু ও তরুণদের নিরাপত্তা। স্কুল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা লেখালেখি, গবেষণা, অনুবাদ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজে এআই ব্যবহার করছে। কিন্তু একই সঙ্গে পরীক্ষায় প্রতারণা, ভুল তথ্য, অনুপযুক্ত কনটেন্ট এবং শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের জন্য কী ধরনের নিয়ম থাকা উচিত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করলে দেশটির জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রককে প্রশ্ন করেছিলেন বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মাদুরোকে আটক করার প্রায় এক মাস আগে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি গ্রকের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর করেন। এর মধ্যে ছিল তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি। একপর্যায়ে ট্রাম্প জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র যদি মাদুরোকে আটক করে, তাহলে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কীভাবে বিষয়টি গ্রহণ করবে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রক মাদুরোকে অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও দমনমূলক শাসক হিসেবে বর্ণনা করে এবং ধারণা দেয় যে অনেক ভেনেজুয়েলান তাঁর পতনকে স্বাগত জানাতে পারেন। এর প্রায় এক মাস পর, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই অভিযানের আগে কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি ও মহড়া চালানোর কথা জানিয়েছিলেন। অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় মাদুরোবিরোধী মানুষের আনন্দ প্রকাশের খবরও আসে। টাইমের সূত্রের দাবি, এ ঘটনা ট্রাম্পকে গ্রকের পূর্বাভাস সম্পর্কে আরও মুগ্ধ করে এবং তিনি চ্যাটবটটির সক্ষমতাকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রক সরাসরি ট্রাম্পকে মাদুরোকে আটক করার পরামর্শ দিয়েছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মূলত জানতে চেয়েছিলেন সম্ভাব্য আটকের পর ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে। অর্থাৎ, “এআইয়ের পরামর্শ নিয়ে ট্রাম্প মাদুরোকে আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন”—এমন সরল দাবি এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মাদুরোকে আটক করার অভিযানটি যে কয়েক মাসের সামরিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ফল ছিল, তা ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামরিক পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রনীতিতে বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রশ্ন। বিশেষ করে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের আগে সম্ভাব্য জনমত সম্পর্কে একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন—এমন তথ্য এআইয়ের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসছে। ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ঘরে বসেই প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এ জন্য অনলাইনভিত্তিক নতুন একটি এআই সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন সরকারি ওয়েবসাইট America.gov উদ্বোধনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাসপোর্ট সেবাকে আরও সহজ ও আধুনিক করার এই পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের বর্তমান আবেদন প্রক্রিয়ার তুলনায় আরও সুবিধাজনকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন ব্যবস্থাটির একটি প্রদর্শনীও দেখানো হয়। সেখানে একজন ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটের সার্চ বক্সে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম জানতে চাইলে প্ল্যাটফর্মটি প্রয়োজনীয় ধাপ, কী কী নথি লাগবে এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়। পরিকল্পিত পাসপোর্ট সেবায় আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নিজের ছবি তোলার প্রক্রিয়া এবং পাসপোর্টে ছবিটি কেমন দেখাবে, তার নমুনা দেখার সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি অনলাইনে পাসপোর্টের ফি পরিশোধের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে America.gov উদ্বোধন করেন। সরকারি এই প্ল্যাটফর্মটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও সেবা সম্পর্কে সাধারণ ভাষায় প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটিতে সরকারি ফরম পূরণ, বিভিন্ন সেবার জন্য আবেদন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণের মতো সুবিধাও যুক্ত করা হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অনুমোদিত পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। সেখানে নাগরিকত্বের প্রমাণ, পরিচয়পত্র, ছবি এবং নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী নাগরিকদের জন্য অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের সুবিধা ইতোমধ্যেই রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার বিশেষত্ব হলো, প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদনকারীদেরও অনলাইন প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনকারীদের বর্তমান সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে আসতে পারে। তবে পুরো সেবাটি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কারা এর আওতায় থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ আলোচিত এক ঘটনা। এবার কোনো মানুষ নয়, মোটরসাইকেলে বহন করা গিটারকেই হেলমেটবিহীন যাত্রী ভেবে ট্রাফিক মামলা করেছে ক্যামেরা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বেঙ্গালুরুর হেব্বাল এলাকার বাসিন্দা সৌভিক দত্ত তাঁর স্ত্রীর বৈদ্যুতিক স্কুটার নিয়ে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। পরে স্কুটারের নিবন্ধিত মালিক তাঁর স্ত্রী একটি ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালান পান। অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, স্কুটারে থাকা পিলিয়ন যাত্রী হেলমেট পরেননি। কিন্তু চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। পিঠে বাঁধা গিটারকেই ক্যামেরা সম্ভবত দ্বিতীয় আরোহী হিসেবে শনাক্ত করেছিল। সৌভিক দত্ত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন। তিনি বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে চালানটি বাতিল করার অনুরোধ জানান। তাঁর পোস্টে চালানের নোটিশ নম্বর 86202541 উল্লেখ ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট ই-মেইলে যোগাযোগ করতে বলে। পরবর্তী এক আপডেটে দত্ত জানান, চালানটি বাতিল করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের Intelligent Traffic Enforcement Management System (ITEMS)-এ স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক-ভায়োলেশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটিতে ২৫০টি ANPR ক্যামেরা এবং ৮০টি ভায়োলেশন-এভিডেন্স ক্যামেরা রয়েছে, যা শহরের ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জংশনে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি হেলমেট না পরা, অতিরিক্ত আরোহী, লাল বাতি অমান্য, স্টপলাইন অতিক্রম, অতিরিক্ত গতি, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক লঙ্ঘন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম সব পরিস্থিতি শতভাগ নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে না। একটি প্রতিবেদনে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ ধরনের ভুল শনাক্তকরণ মাঝে মাঝে হতে পারে এবং অভিযোগ করা হলে তা যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থায় মানবিক যাচাই ও ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
হেলমেট পরে একাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ভারতের বেঙ্গালুরুর এক যুবক। কিন্তু পরদিন তার স্ত্রীর মোবাইলে আসে ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের বার্তা। অভিযোগ, মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যাত্রী হেলমেট পরেননি। চালানের ছবি দেখেই চমকে ওঠেন যুবকটি। কারণ, তার মোটরসাইকেলে কোনো যাত্রীই ছিলেন না—পেছনে বাঁধা ছিল একটি গিটার। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। সৌভিক দত্ত নামে ওই যুবক গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার স্ত্রীর ই-স্কুটার নিয়ে হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীর মোবাইলে একটি ই-চালানের বার্তা আসে। সেখানে ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’-এর অভিযোগে ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারের পেছনে কোনো মানুষ নেই। বরং সৌভিকের পিঠে থাকা গিটারটিই ক্যামেরার নজরে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা গিটারটিকে পেছনে থাকা একজন যাত্রী হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন সৌভিক। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং তার পিঠে ছিল একটি গিটার। একই সঙ্গে তিনি ভুল চালানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পোস্টে তিনি চালানের নোটিশ নম্বর ৮৬২০২৫৪১ উল্লেখ করেন। সৌভিকের পোস্ট নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাকে বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পাশাপাশি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর এবং নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনাটি এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, প্রযুক্তির এমন ভুলের সম্ভাবনাও রয়েছে। একটি গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জরিমানা বা চালানের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রযুক্তির শনাক্তকরণ সঠিক কি না, তা যাচাই করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই প্রযুক্তি কোনো এলাকায় গ্রাহকরা একটি খাবারের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্টের জন্য দামের সুপারিশ দিচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকডোনাল্ডসের এই প্রাইসিং ইঞ্জিন প্রতিদিনের লাখ লাখ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্ট ও মেনু আইটেমের জন্য একটি ‘সেরা’ বা উপযুক্ত দাম নির্ধারণের সুপারিশ তৈরি করে। এর মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ, স্থানীয় বাজার এবং আশপাশের প্রতিদ্বন্দ্বী রেস্টুরেন্টের দামও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর ফলে একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টেও আলাদা হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে রয়টার্সের যাচাইয়ে দেখা গেছে, একটি ম্যাকডোনাল্ডসের অ্যাপে বিগ ম্যাকের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬৯ ডলার। মাত্র দুই মাইল দূরের আরেকটি রেস্টুরেন্টে একই বার্গারের দাম ছিল ৬ দশমিক ৮৯ ডলার। তবে ওই নির্দিষ্ট দামের পার্থ্যকটি এআইয়ের সুপারিশের কারণেই হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, এআই কোনো খাবারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করে না। প্রাইসিং টুল মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য সুপারিশ দেয় এবং শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদেরই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নয়; বরং রেস্টুরেন্ট মালিকদের তথ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। তবে রয়টার্সকে পাঁচজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক জানিয়েছেন, তারা এসব এআইভিত্তিক প্রাইসিং টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানির চাপ অনুভব করেছেন। কোম্পানির নথিতে এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে সুপারিশ করা দামের সঙ্গে কোনো রেস্টুরেন্টের প্রকৃত দামের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা আইন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের প্রাইসিং পোর্টালের আইনি শর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে তারা একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে একই প্রযুক্তির মাধ্যমে দামের বিষয়ে সমন্বয় হলে অ্যান্টিট্রাস্ট বা প্রতিযোগিতা আইনের বিষয় সামনে আসতে পারে। এদিকে বিগ ম্যাকের দাম ১৮ ডলার পর্যন্ত ওঠার একটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। কানেকটিকাটের এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের মামলায় দাবি করা হয়, ২০২৩ সালে প্রাইসিং টুল তার রেস্টুরেন্টে বিগ ম্যাক মিলের দাম প্রায় ১৮ ডলার রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। ম্যাকডোনাল্ডস ওই মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের দাবি, তাদের লক্ষ্য শুধু দাম বাড়ানো নয়। বরং মূল্যস্ফীতির সময়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে তুলনামূলক কম দামের খাবার ও অফার চালুর বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নির্দেশনা দিচ্ছে। তবে বাড়তে থাকা শ্রম, ভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের কারণে কিছু রেস্টুরেন্ট মালিক এসব দামের সুপারিশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এআইভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টে কেন এতটা আলাদা হবে? ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হাতেই রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কোনো ‘ভুয়া খবর’ বা ‘ফেক নিউজ’ নয়; বরং এসব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও। সোমবার চার দিনের ফ্রান্স সফর শেষে রোমে ফেরার পথে বিমানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কীভাবে এআইয়ের বিপর্যয়কর ঝুঁকি থেকে মানবতাকে রক্ষা করা যায় এবং এ বিষয়ে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে পোপ লিও এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময়ে এই সতর্কবার্তা দিলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের বিপদকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত ইতিহাসের প্রথম পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিও তাঁর ১৬ মাসের মেয়াদে শুরু থেকেই এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে আসছেন। এমনকি তিনি তাঁর প্রথম ‘এনসাইক্লিকাল’ বা পোপের আনুষ্ঠানিক পত্রটিও এআই এবং এর প্রভাব থেকে মানবতাকে রক্ষার ওপর উৎসর্গ করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে পোপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদেরও তীব্র সমালোচনা করেন, যারা এআই প্রযুক্তির ওপর কোনো ধরনের সুরক্ষাবলয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধী। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের উদাহরণ টেনে পোপ লিও সংশয় প্রকাশ করেন। কারণ তিনি একদিকে এআই মডেলে নিরাপত্তা বেষ্টনী যুক্ত করার কথা বললেও, অন্যদিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন এবং এআই নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। পোপ নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এআই প্রযুক্তিকে মানবতার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন পোপ লিও। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে ভ্যাটিকানের সেতুবন্ধন তৈরির অংশ হিসেবে, গত মে মাসে ভ্যাটিকানে অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এআই বিষয়ক তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পত্র প্রকাশ করেন। বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সোমবার পোপ লিও বলেন, রাজনৈতিক নেতা, এআই বিশেষজ্ঞ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এআই যাতে মানবতা ধ্বংসের মতো কোনো বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সংলাপ ও গবেষণার ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে পোপ সতর্ক করে বলেন, “আমরা শুধু হাত গুটিয়ে বসে থেকে এমন ভান করতে পারি না যে, কিছুই ঘটবে না। আমাদের এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির দৃশ্য এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বে এরিয়ায় এবার রোবট দিয়ে ঘর পরিষ্কারের সেবা চালু হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্টার্টআপ টাউ রোবোটিকস ঘণ্টায় ৩০ ডলারে এই সেবা দিচ্ছে। এই সেবায় হিউম্যানয়েড রোবট ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ভ্যাকুয়াম করা, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, ময়লা পরিষ্কার ও বিভিন্ন জায়গা মুছে দেওয়ার মতো কাজ করে। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি রোবটগুলো গভীর পরিষ্কারের কাজও করতে পারে। এর মধ্যে বেসবোর্ডের জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার, টাইলসের ফাঁকের ময়লা ঘষে তোলা এবং রান্নাঘরের যন্ত্রপাতির নিচে ও পেছনে পরিষ্কার করার মতো কাজ রয়েছে। হাত, পা ও মাথায় রোবোটিক ক্যামেরা থাকা এসব মেশিনকে গ্রাহকের ঘরের পরিবেশ ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কখ জানিয়েছেন, সেবাটি চালুর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেশ শক্তিশালী। তবে আপাতত এই সেবা শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিং সেশন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত। কোম্পানির ভাষ্য, সীমিত সক্ষমতার কারণে চাহিদা ও গ্রাহকের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত ইনভাইট কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোবটগুলো এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিটি রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি দূরে থাকা একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাকুয়াম করা, ময়লা ফেলা, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কিংবা মেঝের বাইরের কোনো জায়গায় পড়ে থাকা তরল পরিষ্কারের মতো কাজও তারা করতে পারে। টাউ রোবোটিকসের কাছে বর্তমানে মোট আটটি হিউম্যানয়েড রোবট রয়েছে। তবে এর বেশির ভাগই এখনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে সান ফ্রান্সিসকোর কয়েকটি রোবট ক্লিনারের আলাদা বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘চেলসি’ রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কারে দক্ষ। ‘ইলন’ নিয়মিতভাবে মিশন ও নোয়ে ভ্যালি এলাকায় সাপ্তাহিক পরিষেবায় যায়। আর ‘টনি’ মূলত গভীর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সেবার সঙ্গে বড় একটি গোপনীয়তার বিষয়ও জড়িত। রোবটগুলোর মাথা ও দুই কবজিতে একাধিক ক্যামেরা রয়েছে। পরিষ্কার করার সময় একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সরাসরি ক্যামেরার ভিডিও দেখতে পারেন। কোম্পানি জানিয়েছে, এসব ভিডিও শুধু পরিষ্কার করার কাজের জন্য নয়, ভবিষ্যতে রোবটকে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করানোর জন্য এআই মডেল প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গ্রাহকের ঘরের ভিডিওই তাদের প্রশিক্ষণ ডেটার অংশ। কোম্পানির দাবি, ভিডিওতে থাকা মানুষের মুখও আনব্লার অবস্থায় থাকতে পারে। তবে টাউ রোবোটিকস বলেছে, তারা কখনো এসব ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন করবে না, ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে না এবং বিভিন্ন ভিজিটের মধ্যে মুখ মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো ফেস টেমপ্লেট তৈরি করবে না। রোবটগুলোর মাইক্রোফোন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে কোনো অডিও রেকর্ড হয় না। রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে দূরের অপারেটর গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, তবে অপারেটর গ্রাহকের কথা শুনতে পারেন না। পরিষ্কার করার কাজের ভিডিও ব্যবহার করে কোম্পানি প্রতিটি কাজের রেকর্ডও তৈরি করে। সেখানে কী পরিষ্কার করা হয়েছে, কত সময় লেগেছে এবং কাজের সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য রাখা হয়। এসব সার্ভিস রেকর্ড সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। গোপনীয়তা রক্ষায় কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া রোবট বেডরুম বা বাথরুমে যায় না। চাইলে গ্রাহক ঘরের অন্য কোনো কক্ষ, জায়গা বা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতেও রোবটের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। গ্রাহক পরিষ্কার করার পর ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধও করতে পারেন। তবে ভিডিও যদি এরই মধ্যে এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় চলে যায়, তখন নির্দিষ্ট কোনো ভিজিটের ভিডিও মডেল থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোম্পানি। টাউ রোবোটিকস এখনো জানায়নি, কবে আমন্ত্রণভিত্তিক সেবা তুলে দেওয়া হবে। সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারা কোম্পানির ওয়েটলিস্টে ই-মেইল ও নিজেদের এলাকার তথ্য দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে পারেন। ভবিষ্যতে শুধু ঘর পরিষ্কার নয়, বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজেও এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর বে এরিয়ার আরও এলাকায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতেও এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। শুক্রবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ২৫৭.৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৭৪৯.২৬ ডলারে নেমে আসে। এই পতনের ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় জাকারবার্গ চতুর্থ অবস্থান থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যান। তার ওপরে উঠে আসেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন ও ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। শুক্রবার জাকারবার্গের ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ কমার পরিমাণ ছিল ওই দিনের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন। মেটার শেয়ারে এই পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে নতুন উদ্বেগ। গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে, মেটাসহ এআই অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিপুল মূলধনী ব্যয় পুষিয়ে নিতে এআইভিত্তিক সেবা থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হতে পারে। শুধু বিনিয়োগের খরচ পুষিয়ে নেওয়া নয়, উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত এআই সেবা থেকে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এআই চিপ কেনা, ডেটা সেন্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে এ বছর এআই হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনী ব্যয় প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আগামী বছর তা ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে। তবে এর আগে সেপ্টেম্বরজুড়ে মেটার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গিয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ার মাসটিতে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছিল। মেটার নতুন ব্যক্তিগত এআই সহকারী ‘Muse’ বাজারে আসার পর এ উত্থান আরও জোরালো হয়। Sensor Tower-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই সপ্তাহেই Muse প্রায় ২৮ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। বৃহস্পতিবার মেটার বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের পতনে সেই গতি কিছুটা থেমে যায়। এদিকে একই দিনে ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেলের সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে যায়, ফলে তিনি জাকারবার্গ ও সের্গেই ব্রিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ওপরে উঠে আসেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর কূটনৈতিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পাঠানো এক ইমেইলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা ওই ইমেইলে ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইকেল ড্রেগার কর্মকর্তাদের সরকারি ডকুমেন্ট, অবস্থানপত্র ও প্রেস স্টেটমেন্টে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ইমেইলটির বিষয় ছিল—‘এআই থেকে এসআই নাম পরিবর্তন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল কিছু হিসেবে উপস্থাপন করে। এ কারণে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি ব্যবহারের কথা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যরাও এই শব্দ ব্যবহার করবে। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই নির্দেশ পুরো মার্কিন সরকার বা পররাষ্ট্র দপ্তারের সব শাখার জন্য প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশটি মূলত পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিমালা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে শব্দ পরিবর্তনের এই নির্দেশ সামনে এলো। তবে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নামকরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চাকরির বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং অনেক পেশায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শুধু চাকরি নয়, তরুণদের নিজস্ব চিন্তা, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। জানুয়ারি থেকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১২ হাজার। সংখ্যা কিছুটা কমলেও তরুণদের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকার হার এখনো উদ্বেগজনক। এর মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তার চাকরির বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের, খণ্ডকালীন ও প্রশাসনিক চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। লন্ডন সিটি হলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর অন্তত ১০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে ‘উচ্চ বা উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে। চাকরির পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতাতেও চাপ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের এআই ও কর্মসংস্থানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ কার্ল-বেনেডিক্ট ফ্রের মতে, এআইয়ের প্রভাব শুধু অফিসের চাকরি বা প্রযুক্তিনির্ভর পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন কারিগরি পেশাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি মানুষ এআই ব্যবহার করে আগে যেসব কাজের জন্য পেশাদারের ওপর নির্ভর করত, সেসব কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাড়ির কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে আগে যেখানে মিস্ত্রিকে ডাকা হতো, এখন কেউ এআইয়ের সাহায্যে সমস্যার ছবি তুলে সেটি নিজেই ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন। এতে সরাসরি ব্যাপক বেকারত্ব না হলেও কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। একইভাবে তরুণ শিক্ষানবিশদের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যেসব তুলনামূলক সহজ কাজ তারা করত, সেগুলোও যদি এআইয়ের সহায়তায় মানুষ নিজেই করতে শুরু করে, তাহলে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে। তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ কিংস কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন এআই ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করতে পারে। প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেশি। তাদের ৩৪ শতাংশ মনে করেন, এআই-নির্ভর বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এলেনা সিম্পারল বলেন, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও এখন জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান—সব মিলিয়ে তরুণরা একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এআইকে শুধু ভয় পাওয়ার বদলে এর সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়ানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে করণীয় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং তরুণদের এমন দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যা এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। সৃষ্টিশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত জ্ঞান মুখস্থ করানোর বদলে শিক্ষার্থীদের কীভাবে এআইকে একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো জরুরি। অর্থাৎ এআই যেন তরুণদের হয়ে চিন্তা না করে; বরং তরুণরা যেন এআইকে ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও একইভাবে পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। যারা এআইয়ের কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের নতুন দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগদাতাদের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অধ্যাপক সিম্পারলের মতে, এআইয়ের পরিবর্তনকে নিজেদের ওপর ঘটতে দেওয়ার বদলে সমাজ ও সরকারকে সক্রিয়ভাবে এর দিকনির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সৃষ্টিশীলতা কি তাহলে হারিয়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারলেও মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বড় পরিবর্তনটি হতে পারে মানুষের কাজের ধরনে। তরুণরা যদি এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নিজেরা চিন্তা করা, নতুন ধারণা তৈরি করা কিংবা কোনো সমস্যার নিজস্ব সমাধান খোঁজার অভ্যাস দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যদি মানুষ নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বিকশিত করতে পারে, তাহলে প্রযুক্তিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে সহযোগীও হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু এআই কতগুলো চাকরি নিয়ে নেবে—তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, এআইয়ের যুগে তরুণরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, দক্ষতা ও চিন্তার স্বাধীনতা কীভাবে ধরে রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম মেয়াদে গঠিত স্পেস ফোর্সের আদলে কাজ করবে। একই সঙ্গে এআই কার্যক্রমের জন্য একজন নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন এআই ফোর্সের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ওপর নজর রাখা হবে। তবে নতুন বাহিনীটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে থাকবে, এর বাজেট কত হবে বা এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ট্রাম্প নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগকে ‘হোক্স’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এআইকে বাধাগ্রস্ত না করে এর বিকাশে সহায়তা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে চীন ও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নত এআই দ্রুত ব্যবহারের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’ ঘোষণার পরও এর বাস্তব কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। এটি স্পেস ফোর্সের মতো একটি স্বতন্ত্র সামরিক শাখা হবে, নাকি প্রশাসনের অধীনে একটি নতুন সমন্বয়কারী বা তদারকি কাঠামো হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো বিস্তারিত জানাননি। ফলে ঘোষণাটি আপাতত একটি নতুন ফেডারেল উদ্যোগের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে। এদিকে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ট্রাম্প বলেছেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ‘এআই ফোর্স’ ও এআই ‘জার’ নিয়োগের মাধ্যমে সেই নীতিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই খাতে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়বে। গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, মেলানিয়া ট্রাম্প এই বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে এআই-কে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক এই এআই টুলগুলো ব্যবহার করে এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগে কখনও উদ্ভাবিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই হয়তো কেউ ভবিষ্যতের সেরা রোবটটি তৈরি করবে এবং সেটি হোয়াইট হাউজে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে এনভিডিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) কর্মসূচির এই অংশীদারিত্ব এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া অ্যাশ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ১,৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ‘স্টাডিফেচ’ (StudyFetch)-এর চার বছর মেয়াদি সাবস্ক্রিপশন লাইসেন্স প্রদান করবে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো ডেভেলপার কিট’ (Jetson Nano Developer Kits) দেওয়া হবে, যা তাদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির চর্চা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে। এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি। সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়। এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে। সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।