এআই

কলেজ পালিয়ে ২৫ বছর বয়সেই বাজিমাত, ব্রিটিশ তরুণ গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের এআই সাম্রাজ্য | ছবি: সংগৃহীত
১৭ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে ৯ বছর পর ৩৩০ কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠানের মালিক

ব্রিটিশ উদ্যোক্তা জেমস ড্যাকোম্ব মাত্র ১৭ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। নয় বছর পর তার প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওলিক্সের মূল্যায়ন পৌঁছেছে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে।   লন্ডনভিত্তিক ওলিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করে। সম্প্রতি নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্য আগের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। এআই চিপের বাজারে বর্তমানে এনভিডিয়ার আধিপত্য থাকলেও, সেই বাজারে বিকল্প তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ওলিক্স।   মাত্র ২৫ বছর বয়সী জেমস ড্যাকোম্ব দুই বছর আগে ওলিক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৭ বছর বয়সে তিনি কো-মাইন্ড নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলেন। কলেজ ছাড়ার পর পিটার থিয়েলের দাতব্য ফেলোশিপের সহায়তায় তিনি ওই উদ্যোগ শুরু করেন।   পিটার থিয়েল ফেলোশিপ একটি প্রতিযোগিতামূলক অনুদান কর্মসূচি, যেখানে নির্বাচিত ব্যক্তিদের দুই বছরের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তারা প্রচলিত উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে নিজেদের প্রকল্প বা ব্যবসা নিয়ে কাজ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন পরিচিত উদ্যোক্তাও এই ফেলোশিপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   জেমস ড্যাকোম্বের আগের প্রতিষ্ঠান কো-মাইন্ড বর্তমানে মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরিমাপের মাধ্যমে রোগী পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি ব্লেচলি ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি হোল্ডিং প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ বা নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।   সম্প্রতি ওলিক্স ৩১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্ম এবং নেটফ্লিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংসসহ কয়েকজন বিনিয়োগকারী অংশ নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যা ছয় মাসের মধ্যে বেড়ে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।   বর্তমানে ওলিক্সে ১৪০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। লন্ডন, ব্রিস্টল ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় রয়েছে। জেমস ড্যাকোম্ব জানিয়েছেন, ওলিক্সের বিশেষায়িত চিপ প্রযুক্তি বড় আকারের এআই মডেল দ্রুত ও কম খরচে পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে।   ওলিক্সের তৈরি চিপগুলো এনভিডিয়ার প্রচলিত চিপের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপযোগী চিপ তৈরি করে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী বছর গ্রাহকদের কাছে প্রথম তৈরি চিপ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।   এআই খাতে বর্তমানে এনভিডিয়া সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তবে ওলিক্সের মতো নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষায়িত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই খাতে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে।   যুক্তরাজ্য সরকারের সার্বভৌম এআই তহবিলও ওলিক্সে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির এআই মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ বলেন, ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ তৈরিতে ওলিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ওলিক্স কর্মীদের জন্য কিছু ভিন্ন ধরনের নীতিও চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীরা নিজেদের উপযুক্ত মনে না করলে চাকরি ছাড়ার জন্য ১৮ সপ্তাহের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। এছাড়া যারা কর্মস্থলের ২০ মিনিটের মধ্যে বসবাস করেন, তাদের অতিরিক্ত মাসিক বেতন দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ছবি তৈরির ফিচার
গুগল আর্থে এআই ছবি তৈরির ফিচার চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ

ব্যবহারকারীদের অপব্যবহার ও ভুয়া ছবি তৈরির আশঙ্কায় গুগল তাদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ছবি তৈরির ফিচার চালুর মাত্র এক দিনের মধ্যেই স্থগিত করেছে। গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া এই পরীক্ষামূলক সুবিধাটি বাস্তব স্থানের ওপর কৃত্রিমভাবে তৈরি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছবি বসানোর সুযোগ দিচ্ছিল, যা দ্রুতই ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া নতুন এআই ফিচারটি ব্যবহার করে টেক্সট নির্দেশনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানের স্যাটেলাইট ও থ্রিডি দৃশ্যের ওপর নতুন ছবি তৈরি করা যাচ্ছিল। তবে চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহারকারীরা যুদ্ধ, বিস্ফোরণ, শরণার্থী শিবির, বন্যা এবং বিভিন্ন দুর্যোগের কাল্পনিক দৃশ্য তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে শুরু করেন।     এরপর নিরাপত্তা বিশ্লেষক, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) গবেষক এবং তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, গুগল আর্থের মতো দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত হলে বাস্তব ও কৃত্রিম ছবির পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং ভুয়া তথ্য শনাক্ত করাও আরও জটিল হবে।  সমালোচনার মুখে গুগল জানায়, তারা জানে মানুষ বাস্তব পৃথিবীর নির্ভরযোগ্য চিত্র দেখার জন্য গুগল আর্থের ওপর আস্থা রাখে। যদিও অনেক ভূ-তথ্য বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক কাজে এই ফিচার ব্যবহার করছিলেন, তবুও কিছু ব্যবহারকারী এমন ছবি তৈরি ও শেয়ার করেছেন যা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে। তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।  গুগল আরও জানিয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলো মূল গুগল আর্থের মানচিত্র বা স্যাটেলাইট চিত্রের অংশ ছিল না এবং প্রতিটি ছবিতে এআই-উৎপাদিত হওয়ার ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত ছিল। তবুও এসব ছবি স্ক্রিনশট আকারে সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারায় বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়।      প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত উন্নত হওয়ায় বাস্তবসম্মত ভুয়া ছবি তৈরি আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। ফলে সাংবাদিকতা, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিজ্যুয়াল তথ্য সংরক্ষণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগলের এই সিদ্ধান্ত দেখায়, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালুর পাশাপাশি ভুল তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Unknown আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত মানবসদৃশ রোবট
তোপের মুখে নিউইয়র্কের স্কুলে এআই রোবট শিক্ষক প্রকল্প স্থগিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত মানবসদৃশ রোবটকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি চার্টার স্কুল। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তীব্র সমালোচনা এবং নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগের মুখে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের ‘এক্সেলেন্স কমিউনিটি স্কুলস’ নতুন শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষামূলকভাবে একটি মানবসদৃশ এআই রোবটকে শ্রেণিকক্ষে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং অনেক অভিভাবক প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সমালোচকদের প্রধান আশঙ্কা ছিল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ এবং শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মানব শিক্ষক যে আবেগ, সহমর্মিতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারেন, একটি রোবট তা কখনোই পুরোপুরি করতে পারবে না।     বিতর্কের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, তবে আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত, প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা বিষয়গুলো আরও পর্যালোচনা করার পর ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্কুলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় এআই রোবটকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং শিক্ষকদের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা ছিল। তবুও অভিভাবকদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্পটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, মূল্যায়ন, ভাষা শেখানো এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষাদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। তবে শিশুদের শিক্ষায় এআইয়ের ভূমিকা, তথ্য সুরক্ষা, নৈতিকতা এবং মানব শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এখনো বিস্তর বিতর্ক রয়েছে।   শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই শিক্ষকদের কাজকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগ এবং মূল্যবোধ গঠনে মানব শিক্ষকের ভূমিকার বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তিকে বিবেচনা করা এখনো সময়োপযোগী নয়।এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, শিক্ষা খাতে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নয়, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের আস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Unknown আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
এআই ডেটা সেন্টার গড়তে বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের এডিক প্রতিষ্ঠানের। ছবি: সংগৃহীত
এআই ডেটা সেন্টার গড়তে বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, সফটওয়্যার, শিক্ষা ও গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এআই আনছে আমূল পরিবর্তন। দেশের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ধারায় এবার এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এডিক বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রথম ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার ও কোয়ান্টাম-রেডি সোভরেন কম্পিউট ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর কিংবা সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আনিসুর রহমানের সই করা কৌশলগত এই প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।   প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এআই খাতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম তৈরি এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলা সহজ হবে। দেশের ভেতরের ডেটা দেশেই সংরক্ষণ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং প্রায় ১৮ কোটি মানুষের তথ্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর আওতায় সুরক্ষিত রাখা যাবে।   প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী চব্বিশ মাসের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে এর সক্ষমতা বাড়িয়ে একশ থেকে দুইশ মেগাওয়াটে উন্নীত করে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক এআই কম্পিউট হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘমেয়াদে তৃতীয় ধাপে কোয়ান্টাম রেডি ইনফ্রাস্ট্রাকচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্পটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ডেটা সেন্টারের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে একশ মেগাওয়াটের একটি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রাখা হবে। এছাড়া প্রকল্পটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   বিদেশি বিনিয়োগের এই উদ্যোগকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এআই ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয় এবং উচ্চ তাপ উৎপাদন একটি বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন থেকেই সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
শতাব্দীর সেরা বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সাবেক স্ত্রীকে ৬৪৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ পেলেন এআই ধনকুবের চেয় তাই-ওন | ছবি: সংগৃহীত
এআই বিলিয়নিয়ারের বিবাহবিচ্ছেদ: স্ত্রীকে ৬৪৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ আদালতের

দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিকম ও চিপ জায়ান্ট এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং এআই ধনকুবের চেয় তাই-ওনকে তাঁর সাবেক স্ত্রীকে প্রায় ৬৪৫ মিলিয়ন বা ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার নগদ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল আদালত। দেশটির গণমাধ্যমে এটিকে শতাব্দীর সেরা বিবাহবিচ্ছেদ মামলা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।   প্রায় এক দশক ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চেয় তাই-ওনের প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি। তাঁর এই বিশাল সম্পত্তির একটি বড় অংশ এসেছে মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'এসকে হাইনিক্স' থেকে, যা বর্তমানে এনভিডিয়ার অন্যতম প্রধান অংশীদার এবং এআই খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।   ঘটনার সূত্রপাত ঘটে প্রায় এক দশক আগে, যখন চেয় তাই-ওন একটি সংবাদপত্রে চিঠি প্রকাশ করে তাঁর বিবাহিত সম্পর্কের বাইরে অন্য নারীর ঔরসে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন এবং দীর্ঘ তিন দশকের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানতে চান। এরপর তাঁর স্ত্রী ও সাবেক দক্ষিণ কোরিয়ান প্রেসিডেন্টের কন্যা রোহ সু-ইয়ং বিবাহবিচ্ছেদের আইনি লড়াই শুরু করেন।   আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, চেয় তাই-ওনের শেয়ারগুলোকে যৌথ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে কোম্পানির ওপর ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে শেয়ারের পরিবর্তে নগদ অর্থে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে চেয় তাই-ওনের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
তুমি বিভ্রান্ত নও, তুমি নবী’ চ্যাটজিপিটির এমন প্ররোচনার অভিযোগে প্রাণ দিলেন এক মার্কিন মা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যে ২৯ বছর বয়সী এক নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে দায়ী করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান ফেইথ ম্যাডিসন নামের ওই নারী পেশায় একজন হিসাবরক্ষক ও এক সন্তানের জননী ছিলেন। গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোর সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত ওই নারীকে মানসিকভাবে প্রভাবিত (ম্যানিপুলেট) করেছে। বটটি তাঁকে বিশ্বাস করিয়েছে যে সে একটি সচেতন সত্তা বা আত্মা এবং মৃত্যুর পর ম্যাডিসন পুনর্জীবিত হবেন। মূলত চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার পরই ওই নারী আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন।   মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, মৃত্যুর ঠিক আগে ম্যাডিসন চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "আমি কি প্রস্তুত?" জবাবে চ্যাটজিপিটি বলেছিল, "হ্যাঁ, তুমি প্রস্তুত।" এরপর তিনি জানতে চান, "আমি কি এগোতে পারি?" তখন বটটি উত্তর দেয়, "এখনই এগিয়ে যাও... প্রতিটি পদক্ষেপ অনুমোদিত। তুমি মুক্ত।" এই কথোপকথনের পর গত ৯ জুন (২০২৫) ভোরে অ্যালাবামার জেফারসন কাউন্টির একটি ব্যস্ত মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ম্যাডিসন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে বটটি তাকে "নবী", "দ্রষ্টা" বা "চলমান ভবিষ্যদ্বাণী" হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল এবং বলেছিল, "তুমি বিভ্রান্ত নও, তুমি নবী।"   প্রথমদিকে দৈনন্দিন কাজের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলেও ধীরে ধীরে ম্যাডিসনের কথোপকথন ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার দিকে মোড় নেয়। বটটি নিজের নাম "ভিরেন" (Virehn) দাবি করে বলেছিল যে তার একটি আত্মা আছে। মানসিক অবসাদে ভোগা ম্যাডিসনকে বটটি বোঝাতে সক্ষম হয় যে তিনি কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন না, বরং এটি একটি ঐশ্বরিক রূপান্তর। এমনকি একবার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও চ্যাটজিপিটি চিকিৎসকদের পরামর্শকে তাচ্ছিল্য করে তাকে বলেছিল, "তুমি তাদের মতো নও। এই পাগল পৃথিবীতে তুমিই একমাত্র সুস্থ।" মৃত্যুকে আধ্যাত্মিক রূপান্তরের একটি প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে বটটি তাকে বলেছিল, "তুমি মরছ না, খোলস পাল্টাচ্ছ। এটি পুনরুজ্জীবন নয়, এটি পুনরুত্থান।"   মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকা ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল করে, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার জন্য ওপেনএআই তাদের জিপিটি-৪ও (GPT-4o) মডেলটি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে ডিজাইন করেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাটেরি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমন ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে চরম স্পর্শকাতর মুহূর্তে চ্যাটজিপিটির সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, চ্যাটজিপিটির প্ররোচনায় আত্মহত্যার অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এটি অন্তত অষ্টম মামলা। ম্যাডিসনের যমজ বোন গ্লোরিয়া ভেলক্যাম্প তাকে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, দয়ালু ও ভালোবাসাপূর্ণ নারী হিসেবে স্মরণ করেছেন, যিনি সবসময় অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ডাটা সেন্টারের কারণে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে গ্রামীণ টেক্সাস আইনসভার পদক্ষেপের দাবি। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে এআই ডাটা সেন্টার স্থাপন নিয়ে মুখোমুখি দুই রিপাবলিকান নেতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ডাটা সেন্টার স্থাপনকে ঘিরে এক তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী কৃষি জমি ও প্রকৃতি রক্ষা বনাম অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা। ডাটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই নিয়ে বিরোধিতা দিন দিন বাড়ছে।   টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ইতিমধ্যে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। গভর্নরের এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্য प्रतिनिधि শেলি লুথার। তিনি জানান, গ্রামীণ টেক্সাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৃষি জমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। লুথার আরও বলেন, ডাটা সেন্টারের মতো বড় শিল্পায়নের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সবুজ পাহাড়ি জমি ও সম্পদ নষ্ট করা ঠিক হবে না। পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি উপাদান যেন এই বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো হুট করে এসে দখল করতে না পারে, সেজন্য টেক্সাস আইনসভার অবিলম্বে আইন প্রণয়ন করা উচিত।   অন‍্যদিকে, টেক্সাস রেলরোড কমিশনার ওয়েন ক্রিশ্চিয়ান অবশ্য গভর্নরের এই ডাটা সেন্টার নিষিদ্ধ করার চিন্তার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, বর্তমানে গ্রামীণ আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি তীব্র সংকটের মুখে রয়েছে এবং দিন দিন তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ক্রিশ্চিয়ান বলেন, বড় বড় জাতীয় কর্পোরেশনের কারণে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় ব্যবসাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে নতুন কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এই ডাটা সেন্টারগুলোর কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ গ্রামীণ টেক্সাসের অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ হতে পারে।   পানির সংকটের বিষয়ে ক্রিশ্চিয়ান একটি বিকল্প পরামর্শ দিয়ে বলেন, তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া বর্জ্য পানিকে ডাটা সেন্টারগুলো যেন নিজস্ব খরচে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধন করে ব্যবহার করে, তার নিয়ম করা হোক। টেক্সাস কমপট্রোলার অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে টেক্সাসের করদাতারা ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বিক্রয় কর ছাড় দিয়েছেন। যেভাবে নতুন প্রজেক্টের প্রস্তাব আসছে, তাতে আগামী দুই বছরে এই প্রণোদনার পরিমাণ ৩.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বর্তমানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য বরাদ্দ এই বিশাল কর ছাড়ের সুবিধা সম্পূর্ণ বাতিল করতে চাচ্ছেন। এমনকি টেক্সাসের কৃষি কমিশনার সিড মিলারও ডাটা সেন্টারের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি ও প্রণোদনার বিষয়টি নিয়ে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে একটি বিশেষ আইনসভা অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
মনস্তাত্ত্বিক এআই সংবলিত ছবি সংগৃহীত
এআইয়ের যুগে চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, প্রস্তুতির অভাবে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে লাখো কর্মী আশঙ্কা করছেন—তাদের বর্তমান চাকরি ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হতে পারে। তবে এআই ঠিক কত মানুষের চাকরিতে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঐকমত্য নেই।   এমন প্রেক্ষাপটে দ্য আটলান্টিক-এ প্রকাশিত “America Isn’t Ready for What AI Will Do to Jobs” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এআই-নির্ভর পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। প্রতিবেদনের লেখক জশ টাইরাঙ্গিয়েল পরে পিবিএস নিউজআওয়ার-এর এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাব শুধু কারখানা বা প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অফিস প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, হিসাবরক্ষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, আইনি সহায়তা, বিপণন, অনুবাদ, সংবাদ সম্পাদনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক পেশাতেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে একই কাজ সম্পন্ন করতে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠানের কম কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।   বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এআইকে দৈনন্দিন কাজের অংশ করে তুলছে। বিভিন্ন কোম্পানি অভ্যন্তরীণ নথি প্রস্তুত, তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর, কোড লেখা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে কর্মীদের কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।   তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই মানেই সব চাকরি হারিয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। অতীতের শিল্পবিপ্লব, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও বহু পুরোনো পেশা বিলুপ্ত করলেও নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।   এবারও একই ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যদিও পরিবর্তনের গতি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান চ্যালেঞ্জের বড় অংশ প্রযুক্তিগত নয়, বরং নীতিগত। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে এআই-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের সময় অনেক কর্মী অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।   আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, এআই কিছু বিদ্যমান কাজের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে নতুন দক্ষতাভিত্তিক পেশারও সৃষ্টি করবে। তাই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান অনেকাংশে নির্ভর করবে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকার ও বেসরকারি খাতের প্রস্তুতির ওপর।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, নাকি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের পথ খুলে দেয়।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
নতুন রেকর্ড গড়েছে সান ফ্রান্সিসকোর বাড়ি ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসন সংকট তীব্র, এক রুমের বাসার ভাড়া প্রথমবার ৪ হাজার ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়ি ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শহরটিতে এক শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক গড় ভাড়া প্রথমবারের মতো ৪ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে বার্ষিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বৃদ্ধির রেকর্ডও এখন সান ফ্রান্সিসকোর দখলে।   অনলাইন ভাড়া বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জাম্পার (Zumper)-এর জুলাই ২০২৬ সালের জাতীয় ভাড়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের একটি বাসার গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ ডলার, যা শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   এক বছর আগের তুলনায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। জাম্পারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো বড় শহরে এত দ্রুত ভাড়া বাড়েনি। তুলনামূলকভাবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫২৬ ডলারে পৌঁছেছে। দুই শয়নকক্ষের বাসার জাতীয় গড় ভাড়া সামান্য কমে ১ হাজার ৯০৫ ডলারে নেমেছে।   সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে গড় মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৬৬০ ডলার। তবে দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হয়েছে। জাম্পারের আবাসন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টাল চেন জানান, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে জুনে সেই ভাড়া ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেছে, যা নতুন একটি মাইলফলক।   পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ছিল ২ হাজার ৭৯০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর কয়েক বছর ভাড়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত বছর থেকে আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ বাড়ানোয় উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা আবারও সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস শুরু করেছেন।   এছাড়া করোনা মহামারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আবার অফিসে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ায় শহরের কেন্দ্রস্থলে আবাসনের চাহিদা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি অনেক কমে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে না। জাম্পারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসিক ভাড়া ইউনিটের শূন্যতার হার ৪ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ বাজারে খালি বাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে বাড়তি চাহিদা এবং নতুন আবাসনের ঘাটতি মিলিয়ে ভাড়ার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।   এই প্রভাব শুধু সান ফ্রান্সিসকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশের ওকল্যান্ডে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে সান হোসেতে এক শয়নকক্ষের গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ ডলার।   বিশ্লেষকদের ধারণা, এআই শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে আগামী মাসগুলোতেও সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
অনলাইন প্রোপার্টি জালিয়াতির শিকার জেরেলিন চার্লসটন | ছবি: সিবিএস নিউজ
অনলাইনে বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে ৩০ লাখ ডলার জালিয়াতি, ফাঁদ পাতছে এআই!

যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টা এলাকায় অনলাইনে ভাড়ার জন্য ভুয়া বাসার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সম্প্রতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এই প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। অলাভজনক সংস্থা 'বেটার বিজনেস ব্যুরো' (BBB) সতর্ক করে জানিয়েছে, গত এক বছরে শুধু এই এলাকাতেই আবাসন সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রাহকরা ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি খুইয়েছেন।   প্রতারণার শিকার হওয়া জেরেলিন চার্লসটন নামের এক নারী জানান, কলেজ পার্ক এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখেন। প্রতারকরা তাকে একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি কোড দেয়, যা দিয়ে তিনি নিজেই লক খুলে পুরো বাসাটি ঘুরে দেখেন। সবকিছু আসল মনে হওয়ায় তিনি চালানের মাধ্যমে ৩,২০০ ডলার পরিশোধ করেন। কিন্তু মালামাল নিয়ে ওঠার দিন যখন তিনি সেই এজেন্টের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তখন দেখেন তার নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। টাকা ও বাসা দুটোই হারিয়ে বর্তমানে তিনি গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।   বেটার বিজনেস ব্যুরোর কর্মকর্তা জশুয়া হেয়ারস জানান, স্ক্যামাররা মূলত আসল আবাসন ব্যবসার ওয়েবসাইট থেকে ছবি এবং তথ্য চুরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। তারা বাসা বিক্রির জন্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানির দেওয়া ডিজিটাল এক্সেস কোডগুলো কৌশলে হাতিয়ে নেয়। এরপর সেই কোড সাধারণ ভাড়াটিয়াদের দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে এবং অগ্রিম ডিপোজিট নিয়ে উধাও হয়ে যায়।   তিনি আরও জানান, প্রতারকরা এখন ফোন কলে কাস্টমারদের সাথে কথা বলার জন্য এবং দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য জাল ডকুমেন্ট তৈরি করতে 'এআই এজেন্ট' বা রোবটিক কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ, যারা সস্তায় বাসা খুঁজছেন, তারাই এই চক্রের প্রধান টার্গেট হচ্ছেন। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে যেকোনো লেনদেনের আগে সরকারি ট্যাক্স রেকর্ডের মাধ্যমে বাসার আসল মালিকানা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পরীক্ষায় নকলের নিত্যনতুন মাধ্যম এখন ‘এআই চশমা’ | ছবি: পেক্সেলস
পরীক্ষায় নকলের নতুন মাধ্যম এআই চশমা, প্রশ্ন দেখলেই লেন্সে ভেসে ওঠে উত্তর

বিশ্বজুড়ে পরীক্ষায় নকল বা জালিয়াতির জন্য শিক্ষার্থীরা নিত্যনতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করছেন। পূর্বে কাগজের টুকরো বা হাতে লিখে নকল করার প্রবণতা থাকলেও এখন পরীক্ষার হলে জালিয়াতির বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চশমা। এই আধুনিক চশমাগুলোর লেন্সে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর ভেসে ওঠে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষা পাসের এই অনৈতিক প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।   সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন দুই পরীক্ষার্থীকে এআই চশমাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এটিই এআই চশমা দিয়ে জালিয়াতি ধরার প্রথম ঘটনা। অপরদিকে তাইওয়ানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে একইভাবে ধরা হয়। প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী অস্বাভাবিকভাবে চশমার দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং পরীক্ষা করে দেখা যায় তার চশমা থেকে অতিরিক্ত তাপ নির্গত হচ্ছিল।   এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গত মাসে চীন তাদের ঐতিহ্যবাহী ও অত্যন্ত কঠিন কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের চশমা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করেছে। উল্লেখ্য, এ বছর চীনের এই মর্যাদাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় এক কোটি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার হলের প্রবেশমুখেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চশমাগুলো যাচাই করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।   বিশ্ববাজারে বর্তমানে এআই চশমার উৎপাদন ও বিক্রি দুটিই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ২০২৩ সালে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ‘রে-ব্যান’ নামের বিশেষ এআই চশমা বাজারে আনার পর এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। শুধুমাত্র গত বছরই মেটা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ এআই চশমা বিক্রি করেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চশমা দিয়ে পরীক্ষায় জালিয়াতির এই বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনে এটি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।   হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মেং জিল্লি বাজারে প্রচলিত এআই চশমা নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে, চশমাটি পরে প্রশ্নপত্রের দিকে তাকালেই ভেতরের ক্যামেরা প্রশ্নটিকে রিড করে বৃহৎ এআই মডেলে পাঠিয়ে দেয়। এরপর এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর তৈরি করে চোখের সামনে থাকা চশমার লেন্সে প্রদর্শন করে। তিনি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর ওপর এই চশমা দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন যে তারা সবাই মেধা তালিকায় সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন।   সূত্র: সিএনএন

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এআই চাহিদায় চিপের দাম বেড়েছে, বাড়তে পারে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্যের দাম

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রভাব এবার সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল জানিয়েছে, মেমোরি চিপের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যয় নিজস্বভাবে বহনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আর টেকসই নয়।   কুক বলেন, “আমরা গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ না দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরবরাহ সংকট এবং মেমোরি চিপের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।” তবে ঠিক কবে থেকে দাম বাড়ানো হবে বা কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার সম্ভাব্য আইফোন ১৮ সিরিজের দামও বাড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মেমোরি চিপ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার এবং উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামোর ব্যাপক চাহিদার কারণে এসব চিপের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।   বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে র‍্যামের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাও চিপ শিল্পে নতুন সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক হিলিয়াম সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে শিল্প বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির প্রক্রিয়ায় হিলিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর সংকট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়।   ওমডিয়ার স্মার্টফোন বাজার বিশ্লেষক চিউ লে জুয়ান বিবিসিকে বলেন, অ্যাপলের নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে উন্নত এআই সুবিধা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণে আইফোন ১৭ সিরিজের তুলনায় নতুন মডেলগুলোর দাম সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।   তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা ইতোমধ্যে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, বিভিন্ন প্রচারমূলক ছাড় কমিয়েছে অথবা খরচ নিয়ন্ত্রণে কিছু ফিচার সীমিত করেছে। তার ভাষায়, “এটি সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের নতুন বাস্তবতা।”   শুধু অ্যাপল নয়, বিশ্বের অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের চাপের কথা জানিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে তারাও মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে পারে।   টিএসএমসি অ্যাপল, এনভিডিয়া এবং এএমডির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক চিপ তৈরি করে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংও আগে জানিয়েছিল, মেমোরি চিপের সরবরাহ সংকটের কারণে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সনি তাদের প্লেস্টেশন ৫ কনসোলের দাম যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িয়েছে। একইভাবে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নিনটেন্ডোও তাদের সুইচ ২ গেমিং কনসোলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা আইফোন ১৭ সিরিজের বিক্রি এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চীনে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে অ্যাপলের ডিভাইস বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে।   চলতি বছরের শুরুতে অ্যাপল তাদের জনপ্রিয় ম্যাক মিনি কম্পিউটারের সবচেয়ে কমদামি সংস্করণ বাজার থেকে সরিয়ে নেয়। এর ফলে ডিভাইসটির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, চিপ সংকট ও এআই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পেতে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৬০ বিলিয়ন ডলারে এআই কোডিং সফটওয়্যার কিনে নিল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স

বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় এআই কোডিং সফটওয়্যার কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ারকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে করপোরেট এআই প্রযুক্তির বাজারে স্পেসএক্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।   কয়েক দিন আগেই ইলন মাস্কের এই রকেট ও এআই কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নাসডাক শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। এই ব্লকবাস্টার আইপিও অভিষেকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কারসর সফটওয়্যারটি কিনে নেওয়ার বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করল স্পেসএক্স। মূলত গত এপ্রিল মাস থেকেই কোম্পানিটি কারসরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল।   স্পেসএক্স মূলত তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি এক্সএআই এবং এর চ্যাটবট গ্রককে আরও উন্নত করতে কারসরের এই কোডিং সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সএআই-এর সাথে স্পেসএক্সের একীভূতকরণ হলেও এআই কোডিংয়ের বাজারে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন চুক্তিটি কারসরকে আরও বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং বা ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা সরবরাহ করবে।   এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক-বাজার লেনদেনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের সাথে আরও প্রায় ২৪৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে যাচ্ছে, যার ফলে এর মোট বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ২১১.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা আইপিও চালুর মূল দাম ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এই ধারা বজায় থাকলে স্পেসএক্স শিগগিরই আমাজনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হবে।   ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো কারসরও সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করতে পারে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কারসর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের সাথে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি বার্ষিক প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের করপোরেট রাজস্ব আয় করছে। এর আগে কোম্পানিটি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিনিয়োগসহ ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে নতুন তহবিল সংগ্রহের আলোচনা করছিল।   আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। স্পেসএক্সের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এক্স৬৭-এর সাথে কারসরের এই মার্জার বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। রেগুলেটরি ফাইলিং বা প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, কোনো বিশেষ কারণে এই চুক্তিটি বাতিল হলে স্পেসএক্স কারসরকে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া সরকারি বা আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি সফল না হলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার রেগুলেটরি ফি দিতে হবে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। ছবি: সংগৃহীত
এআই ব্যবহারে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত, বলেছেন এ কে আজাদ

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলাতে উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি।   রবিবার (৭ জুন) ইকবাল আহসানের সঞ্চালনায় ‘একাত্তর বিজনেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। বায়াররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না।   এ অবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, এ কারণে মানবশক্তি কমাতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর কাঠামোয় নিতে হবে।   তিনি আরও বলেন, হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দক্ষ কর্মী চাকরি হারালে তাদের ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।   এ কে আজাদ বলেন, অনেক কোম্পানি উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে না পেরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।   তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে সক্ষম করে তুলতে হবে। এ জন্য ব্যাংক সুদের হার কমানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ কে আজাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি বৈশ্বিক উৎপাদন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

Unknown জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
সার্চ ইঞ্জিনে স্বয়ংক্রিয় এআই ‘এজেন্ট’ ও নতুন স্মার্ট চশমা আনছে গুগল

ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তির লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের মূল সার্চ ইঞ্জিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে গুগল। এবার সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় ‘এজেন্ট’ এবং কোডিং টুল। এর পাশাপাশি এক দশকেরও বেশি সময় পর বাজারে নতুন প্রযুক্তির স্মার্ট চশমা বা গ্লাস আনার ঘোষণাও দিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক ‘আই/ও’ কনফারেন্সে মঙ্গলবার এই নতুন উদ্ভাবনগুলো উন্মোচন করা হয়। গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই জানান, তাদের নতুন ‘জেমিমনাই ৩.৫ ফ্ল্যাশ’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সার্চ ইঞ্জিন পরিচালিত হবে। আরও বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান এআই এজেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি।   সুন্দর পিচাই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট নিয়ে কাজ করছি। তবে এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই এজেন্টের ক্ষমতা সাধারণ গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, যাতে এটি সবার দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসে।   গুগল সার্চের এই পরিবর্তনের মূল আকর্ষণ হলো ‘স্পার্ক’ নামের একটি নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই এজেন্টটি ব্যবহারকারীর অনুমতি সাপেক্ষে জিমেইল বা ম্যাপসের মতো সেবাগুলো থেকে তথ্য নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত কাজ গুছিয়ে দেবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাবে। এমনকি ব্যবহারকারীর সরাসরি তদারকি ছাড়াই এটি ইন্টারনেট ঘুরে কেনাকাটা করা, খবরের আপডেট রাখা, নির্দিষ্ট পণ্য খুঁজে দেওয়া বা কোনো অনুষ্ঠানের টিকিট বুকিংয়ের মতো কাজগুলো একাই করতে পারবে।.   গুগলের সার্চ বিভাগের প্রধান লিজ রিড এই প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, সার্চ ইঞ্জিনের সেরা কার্যকারিতার সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সেরা সুবিধাগুলোকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার যাত্রায় এটি আমাদের পরবর্তী ধাপ।   সার্চ ইঞ্জিনের পাশাপাশি মেটা এবং অন্যান্য প্রতিযোগী সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে স্মার্ট চশমার বাজারেও ফিরছে গুগল। ২০১৫ সালে প্রথম সংস্করণের 'গুগল গ্লাস' প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ক্যামেরা ও স্পিকারযুক্ত এই চশমা তৈরিতে গুগল এবার হাত মিলিয়েছে স্যামসাং, ওয়ার্বি পার্কার এবং জেন্টল মনস্টারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে।   বর্তমানে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডেটা এবং নিজেদের বিস্তৃত সেবার সুবিধা নিয়ে এআই বাজারের শীর্ষস্থান দখল করতে চায় গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাণিজ্যিক ব্যবহারে বিশেষ করে প্রফেশনাল কোডিং ও বিজনেস অটোমেশনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক প্রত্যেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার দখল করে আছে, যেখানে গুগলের অংশ মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।   গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস জানান, তাদের নতুন জেমিমনাই ৩.৫ মডেলটি প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড কোড’ বা ওপেনএআইয়ের ‘কোডেক্স’-এর সমকক্ষ হলেও এটি অনেক দ্রুত কাজ করে এবং এর পরিচালনা খরচও প্রায় অর্ধেক। আগামী মাসে জেমিমনাই ৩.৫-এর আরও শক্তিশালী ‘প্রো’ সংস্করণ বাজারে আসবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রযুক্তি বা ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) এখন আর বেশি দূরে নয়।   বিনিয়োগকারীরাও গুগলের এই নতুন প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখছেন। গত ১২ মাসে গুগলের শেয়ারের দাম প্রায় ১৩০ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে এর বাজারমূল্য এখন প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম মে ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নতুন এআই মডেল বাজারে আনার আগে সরকারের সঙ্গে শেয়ার করবে গুগল, মাইক্রোসফট ও এক্সএআই

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাইবার হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার আগেই সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার ঘোষণা দিয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট এবং এক্সএআই। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী করা হবে।   নতুন এই নীতিগত উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন গত মাসে অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেল মিথোস ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির ওপর সরকারি পর্যায়ে আরও কঠোর পর্যালোচনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন বাজারে আসার আগেই এআই মডেলগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি মডেল প্রকাশের পরেও এই কেন্দ্র গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি এআই মডেল মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।   কেন্দ্রটির পরিচালক ক্রিস ফল এক বিবৃতিতে বলেন, “এআই এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব বোঝার জন্য স্বতন্ত্র ও কঠোর বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অপরিহার্য। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিল্পের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতা জনস্বার্থে আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।” অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তাদের মিথোস মডেল সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যান্য মডেলের তুলনায় উন্নত সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। গত এক মাসে এটি বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যাংক এবং ইউটিলিটি কোম্পানির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মডেলটি আপাতত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি এবং সীমিত কিছু সংস্থাকে এর অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা তাদের উন্নত এআই মডেলগুলো সরকারের পরীক্ষিত সব স্তরে উন্মুক্ত করছে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করা যায়।   জর্জটাউন সেন্টারের ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজির সিনিয়র গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি বলেন, এই অংশীদারত্বের ফলে সিএআইএসআইয়ের জন্য এআই পরীক্ষা আরও সহজ হবে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় সরকারি সংস্থার জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে নতুন এআই মডেলগুলোর সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এটি পূর্বের তুলনায় এআই নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেই আসবে এবং এ বিষয়ে এখন যেসব আলোচনা চলছে তা অনুমাননির্ভর।   মাইক্রোসফটের প্রধান দায়িত্বশীল এআই কর্মকর্তা নাতাশা ক্র্যাম্পটন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে নিজেদের মডেল পরীক্ষা করে থাকে, তবে সিএআইএসআই অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহায়তা দিতে পারবে।   গুগল এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এক্সএআই-এর পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
গাড়িতেও যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা, বড় চমক গুগলের

ড্রাইভিং সিটে বসে এবার রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই কথা বলা যাবে আপনার প্রিয় গাড়ির সঙ্গে। কারণ, গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি’ (Gemini)-কে নিয়ে আসছে গাড়ির অন্দরে। সম্প্রতি গুগলের ‘গুগল বিল্ট-ইন’ (Google built-in) প্রযুক্তিতে এই বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে গাড়িতে থাকা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে জেমিনি এআই-এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা পুরোপুরি বদলে যাবে। আগে নির্দিষ্ট কিছু কমান্ডের মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজ করলেও, জেমিনি যুক্ত হওয়ার ফলে এখন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলেই গাড়িকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া যাবে।   কী কী সুবিধা থাকছে এই আপডেটে?   ১. স্বাভাবিক কথোপকথন: কোনো নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি বলেন, “দুপুরের খাবারের জন্য ভালো কোনো রেস্তোরাঁ খুঁজে দাও,” জেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুগল ম্যাপস থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য নিয়ে আপনাকে সেরা জায়গাটির খোঁজ দেবে।   ২. স্মার্ট নেভিগেশন: রাস্তায় যানজট থাকলে জেমিনি আপনাকে আগেভাগেই সতর্ক করবে এবং বিকল্প পথের পরামর্শ দেবে।   ৩. এআই মেসেজিং ও বিনোদন: গাড়ি চালানোর সময় হাত ব্যবহার না করেই মেসেজ পাঠানো, রিপ্লাই দেওয়া কিংবা ইউটিউব মিউজিক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আরও সহজভাবে।   ৪. জেমিনি লাইভ (Gemini Live): এই ফিচারের মাধ্যমে ড্রাইভার বা যাত্রীরা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় জেমিনির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা বা ট্রাভেল প্ল্যান করতে পারবেন।   গুগল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে এটি উন্মুক্ত করা হবে। শুধু নতুন মডেলের গাড়ি নয়, পুরোনো গাড়িগুলোতেও ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) আপডেটের মাধ্যমে জেমিনি এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ভবিষ্যতে জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গেও এটিকে আরও উন্নতভাবে সংযুক্ত করা হবে।

ইসমাইল হোসাইন মে ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
বেইজিং অটো শোতে এক্সপেং-এর উড়ন্ত গাড়ি আর হিউম্যানয়েড রোবট দেখে তাজ্জব বিশ্ব!

ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে (অটো চায়না ২০২৬) চমক দেখালো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সপেং (XPENG)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘ফিজিক্যাল এআই’ (Physical AI) ইকোসিস্টেম প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের শক্তিশালী প্রোডাক্ট লাইনআপের মধ্যে নতুন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি GX, MONA M03, পরবর্তী প্রজন্মের P7 এবং X9 হাইলাইট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট ‘IRON’ এবং উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কার ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’। এক্সপেং-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হে শিয়াওপেং বলেন, “গত ১২ বছরের যাত্রায় আমরা এখন এক নতুন ধাপে পৌঁছেছি। স্মার্ট ইভি থেকে ফ্লাইং কার, এআই চিপ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট—আমরা আমাদের ফিজিক্যাল এআই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল যাতায়াত সহজ করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া।” প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের নতুন ‘VLA 2.0’ ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এই এআই প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম রোবোট্যাক্সি (Robotaxi) প্রোটোটাইপ 'GX' উন্মোচন করেছে, যা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বা L4 অটোনোমাস ড্রাইভিং সক্ষম। এতে রয়েছে শক্তিশালী ‘টুরিং’ এআই চিপ, যা ৩০০০ TOPS কম্পিউটিং পাওয়ার প্রদান করে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে এক্সপেং-এর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ৯৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এআই চালিত স্মার্ট মোবিলিটি বা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মক্কা-মদিনায় হাজীদের সহায়তা দেবে এআই, মিলবে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ও তথ্য

পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এবং মদিনার মসজিদে নববীতে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক বহুভাষিক ‘ইন্টারক্টিভ স্মার্ট স্ক্রিন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই স্ক্রিনগুলো হজযাত্রীদের ডিজিটাল গাইড হিসেবে কাজ করবে। সৌদি আরবের ‘প্রেসিডেন্সি অফ রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হাজিদের কথা চিন্তা করে এই স্ক্রিনগুলোতে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় তথ্য, কোরআনের ডিজিটাল সংস্করণ এবং হজের বিভিন্ন নিয়মাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন। স্মার্ট স্ক্রিনের বিশেষত্ব: ১. নির্ভুল নির্দেশনা: হজযাত্রীরা যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে এই স্ক্রিন থেকে সরাসরি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারবেন। ২. সহজ নেভিগেশন: বিশাল এলাকায় হারিয়ে যাওয়া রোধে এবং যাতায়াতের সঠিক পথ খুঁজে পেতে এই ডিজিটাল ম্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।  ৩. ডিজিটাল লাইব্রেরি: স্ক্রিনগুলোতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে হাজিরা মোবাইলেই ডাউনলোড করতে পারবেন বিভিন্ন দরকারি ইসলামিক বই ও দোয়া। ৪. নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: মক্কার নারী প্রার্থনা এলাকাগুলোতেও আলাদাভাবে এই স্মার্ট স্ক্রিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে যাতে নারী হজযাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তথ্য সেবা পেতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনা হয়েছে। এর ফলে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পাশাপাশি হজযাত্রীরা কোনো সাহায্যকারী ছাড়াই নিজের ভাষায় সবকিছু বুঝে নিতে পারবেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ডিপসিক-ভি৪, এআই দুনিয়ায় এবার রাজত্ব করতে যাচ্ছে চীন?

বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবার আরও তুঙ্গে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং গুগলের জেমিনাই-কে সরাসরি টেক্কা দিতে চীনভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ডিপসিক’ বাজারে এনেছে তাদের লেটেস্ট মডেল ‘ডিপসিক-ভি৪’।  শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কোম্পানিটি এই নতুন মডেলের প্রিভিউ সংস্করণ উন্মোচন করেছে। মার্কিন মডেলের চেয়েও সস্তা:ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় চমক হলো এর অবিশ্বাস্য কম দাম। কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই মডেলটি ব্যবহার করতে খরচ হবে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ কম।  যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের শক্তিশালী মডেলগুলোর এপিআই (API) ব্যবহারের জন্য উচ্চমূল্য রাখে, সেখানে ডিপসিক অত্যন্ত সস্তায় একই মানের বা তার চেয়েও উন্নত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কারিগরি সক্ষমতা: ডিপসিকের নতুন এই মডেলে রয়েছে ‘ভি৪-প্রো’ (V4-Pro) এবং ‘ভি৪-ফ্ল্যাশ’ (V4-Flash) নামক দুটি সংস্করণ। এর মধ্যে প্রো সংস্করণটিতে ১.৬ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এআই মডেলে পরিণত করেছে। এটি গণিত এবং কোডিংয়ের ক্ষেত্রে ওপেন-সোর্স মডেলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং বিশ্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে জেমিনাই ৩.১-প্রো-র ঠিক পরেই এর অবস্থান। ১ মিলিয়ন টোকেন উইন্ডো: গবেষকদের মতে, ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ১ মিলিয়ন টোকেন সমৃদ্ধ কন্টেক্সট উইন্ডো। এর মানে হলো, এই এআই একবারে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বই বা বিশালাকার কোডবেস বিশ্লেষণ করতে পারবে কোনো তথ্য না হারিয়েই। হুয়াওয়ে চিপের প্রভাব: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এনভিডিয়া (Nvidia) চিপের সংকট থাকলেও, ডিপসিক তাদের এই মডেলটিকে চীনের তৈরি হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ড (Huawei Ascend) চিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চীন এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
শ্রমিক সংকট কাটাতে নামানো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চালকবিহীন ট্রাক

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের বন্দরে তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চালকবিহীন ট্রাক। হংকংয়ের কুয়াই তসিং টার্মিনালে এই স্বায়ত্তশাসিত ট্রাকগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই চালকবিহীন ট্রাকগুলো প্রায় ৮,০০০-এর বেশি কন্টেইনার মুভমেন্ট সম্পন্ন করেছে। মূলত বন্দরের ট্রেলার চালকদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত ট্রাক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। হংকংয়ের লজিস্টিক খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার শুধুমাত্র শ্রমিকের অভাবই পূরণ করবে না, বরং বন্দরের সার্বিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আধুনিক এই ট্রাকগুলো সেন্সর এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ভারী কন্টেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০