ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে ক্যামেরা বসানোর দাবি
ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ওপর শিক্ষকের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর শ্রেণিকক্ষে ক্যামেরা বসানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন অভিভাবকরা। এ বিষয়ে নতুন একটি আইন পাসের জন্য তারা জোরালো আন্দোলন শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
অনলাইনে এ সংক্রান্ত পিটিশনে বেকার্সফিল্ড সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে ১২ হাজার ৮০০ এবং ভিসালিয়া ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্টে ২ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
তিন সন্তানের মা ব্রিটনি কামাচো জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভিসালিয়া পুলিশের কাছ থেকে তিনি প্রথম জানতে পারেন যে তার সন্তানরা তাদের শিক্ষকের কাছে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ ৩৪ বছর বয়সী কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক লেসি অ্যান হর্স্টিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যিনি কামাচোর তিন সন্তানকেই পড়াতেন।
তুলারে কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এপ্রিল মাসে তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের ১০টি অভিযোগ দায়ের করলেও, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। কামাচোর তিন সন্তানের মধ্যে এক মেয়ে 'ইকোলালিয়া' নামক সমস্যায় আক্রান্ত এবং অন্য দুই সন্তান একেবারেই কথা বলতে পারে না, যা এই ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। কামাচোর মতে, এই শিশুদের নিজেদের কথা বলার সামর্থ্য নেই, তাই তাদের সুরক্ষার জন্য শ্রেণিকক্ষে ক্যামেরা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে, অ্যাশলি হপউড নামের আরেক অভিভাবক বেকার্সফিল্ডের শ্রেণিকক্ষগুলোতে ক্যামেরা বসানোর দাবিতে অনলাইনে পিটিশন শুরু করেছেন। তিনি জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা কোনো কষ্ট বা ক্ষতির শিকার হলে তা অন্যদের বোঝাতে পারে না, ফলে ক্যামেরার নজরদারি ছাড়া তারা অবহেলা ও নির্যাতনের চরম ঝুঁকিতে থাকে।
তবে ১৯৭৬ সালের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আইন অনুযায়ী, শিক্ষক ও অধ্যক্ষের সম্মতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার বেআইনি। তাই বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধ্যতামূলক ক্যামেরা বসানোর এই দাবি পূরণে রাজ্য আইনসভার হস্তক্ষেপ ও নতুন আইন প্রণয়নের দিকেই তাকিয়ে আছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর যখন পুরো নিউইয়র্ক শহর শোক ও স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন, তখন এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিক্যাব চালক গুরবিন্দর সিং। হামলার দিন সকালেও তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। এরপর শহরের মানুষের দুর্দশা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট দেখে তিনি নিজের উপার্জনের কথা না ভেবে টানা ৪০ দিন বিনামূল্যে ট্যাক্সি চালিয়েছেন। সেসময় যাদের জরুরি যাতায়াতের প্রয়োজন ছিল, তাদের কাউকেই ফেরাননি এবং কারো কাছ থেকেই কোনো ভাড়া নেননি এই মহানুভব চালক। সম্প্রতি এক্সে শাবোস কেস্টেনবাউম নামের এক যাত্রীর পোস্টের মাধ্যমে ২৫ বছর পর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের গল্পটি নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে এসেছে। পঁয়ত্রিশ বছর আগে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো গুরবিন্দর সিং এখনো নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালান। শাবোস কেস্টেনবাউমের সাথে যাত্রাপথে তিনি তার সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন এবং নিউইয়র্কের তৎকালীন মেয়র রুডি জুলিয়ানির দেওয়া একটি প্রশংসাপত্রও দেখান। ওই চিঠিতে বিপদের সময় শহরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গুরবিন্দরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন মেয়র। ২৫তম বার্ষিকীতে গুরবিন্দর বিশ্ববাসীর প্রতি একটি বার্তাও দিয়েছেন— "সব মানুষকে ভালোবাসুন এবং সম্মান করুন।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা অভিবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে গুরবিন্দরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সাধারণ মানুষের এই ধরনের নিঃস্বার্থ সেবাই যে যেকোনো বড় বিপর্যয় মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, গুরবিন্দরের গল্পটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মিনেসোটায় কোভিড তহবিল জালিয়াতির অভিযোগে পলাতক ফাহাদ, ধরিয়ে দিলে দেড় লাখ ডলার পুরস্কার
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে ক্যামেরা বসানোর দাবি
কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনিকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের
কোনো বিশাল সংবাদ সম্মেলন বা চোখ ধাঁধানো প্রচারণা ছাড়াই জর্জিয়ার একটি ছোট লিবারেল আর্টস স্কুল প্রায় দুই দশক ধরে আমেরিকার সেরা কলেজগুলোর একটি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, স্পেলম্যান কলেজ নামক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি টানা ১৯ বছর ধরে (২০২৬ সালের র্যাঙ্কিং পর্যন্ত) দেশের ১ নম্বর এইচবিসিইউ (ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের জাতীয় লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর তালিকায় এটি ৩৭তম এবং 'সোশ্যাল মোবিলিটি' বা সামাজিক গতিশীলতায় ২য় স্থানে রয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও গ্র্যাজুয়েশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ২য় স্থান তাদের অভাবনীয় সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এই ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৮১ সালে, আটলান্টার ফ্রেন্ডশিপ ব্যাপটিস্ট চার্চের বেজমেন্টে। গৃহযুদ্ধের পর কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও মেয়েদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে সোফিয়া বি. প্যাকার্ড এবং হ্যারিয়েট ই. জাইলস এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের লিবারেল আর্টস কলেজে পরিণত হয়েছে। ছোট ক্লাস সাইজ, স্নাতক পর্যায়ে পড়ানোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের কারণে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় এতটা দক্ষ হয়ে ওঠে যে, স্টেম (STEM) ফিল্ডে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ডক্টরেট অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে স্টাডি অ্যাব্রড বা বিদেশে পড়াশোনার সুযোগও দিচ্ছে তারা। স্পেলম্যান কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশাল অবদান রয়েছে। পুলিৎজার বিজয়ী লেখিকা এলিস ওয়াকার, স্যামস ক্লাব ও ওয়ালগ্রিনসের সাবেক সিইও রোজালিন্ড ব্রুয়ার এবং প্রখ্যাত রাজনীতিক স্টেসি আব্রামস এই কলেজেরই ছাত্রী ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা থেকেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ট্রাস্টি রোন্ডা স্ট্রাইকার ও উইলিয়াম জনস্টনের কাছ থেকে কলেজটি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলারের অনুদান লাভ করে। এছাড়া রিড হেস্টিংস, প্যাটি কুইলিন এবং অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনদের মতো ব্যক্তিত্বরাও বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন। নীরব ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমেই যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়, ৩৫০ স্পেলম্যান লেনের ৩৯ একরের এই ক্যাম্পাসটি আজ তারই এক বাস্তব ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আলাস্কায় নৌকাডুবিতে ভাই-কাজিনের মৃ ত্যু, উল্টে যাওয়া নৌকা আঁকড়ে ৩ দিন বেঁচে রইল ১৫ বছরের কিশোর
ক্যালিফোর্নিয়ার একই হাসপাতালে মা-মেয়ে-নাতনি, ৩০ বছর ধরে মানুষের সেবায় তিন প্রজন্মের নার্স
টেক্সাসে প্রচণ্ড খিঁচুনিতে মায়ের জীবন সংকটে, ৩ বছরের এমির সাহস আর বুদ্ধিতে রক্ষা পেল মায়ের প্রাণ
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমানো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এফ-১, জে-১ এবং আই ভিসা পদ্ধতির নিয়মে ব্যাপক রদবদল আনতে যাচ্ছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বহুল প্রচলিত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈধতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেঁধে দেওয়া হবে, যা কোনোভাবেই চার বছরের বেশি হবে না। প্রস্তাবিত এই নিয়মটি বর্তমানে অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন বা কোর্স চলাকালীন সময়ে শর্তসাপেক্ষে যতদিন খুশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সুযোগ পেতেন। একজন শিক্ষার্থী চাইলে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তীতে পিএইচডি প্রোগ্রামে কোনো জটিলতা ছাড়াই অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর থাকছে না। অভিবাসন আইনজীবী রাহুল রেড্ডির মতে, নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর পুরো ক্ষমতা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর হাতে চলে যাবে। যেসব কোর্সের মেয়াদ চার বছরের বেশি, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে, যা আগের মতো আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে না। নতুন এই নিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে পারেন দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের শিক্ষার্থীরা। কারণ, পিএইচডি বা ডক্টরাল প্রোগ্রাম শেষ করতে সাধারণত পাঁচ থেকে আট বছর সময় লাগে। এ অবস্থায় কোর্স চলাকালীন সময়ে বারবার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। নিয়মটি প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ম্যাসাচুসেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই নিয়ম বাতিলের দাবিতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আতঙ্কিত না হয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নতুন নিয়মের বিষয়ে সতর্ক ও প্রস্তুত হওয়া জরুরি।
ফুড স্ট্যাম্প হারিয়েছেন ৫০ লাখ, নতুন নিয়মে সামনে আরও বড় কাটছাঁটের শঙ্কা
বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় পরিবর্তন, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন পথে