সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২২:৩৬
ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে বিকৃত আচরণের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে শার্লট কাউন্টি শেরিফ অফিস। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে বিকৃত আচরণের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে শার্লট কাউন্টি শেরিফ অফিস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পোষা কুকুরকে ঘিরে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালিয়া এলিজাবেথ নুমারডরের বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে যৌন সংস্পর্শের অভিযোগ আনা হয়েছে। শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওকে কেন্দ্র করে তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে নুমারডর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।

 

ঘটনাটি ফ্লোরিডার পোর্ট শার্লটে। শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুমারডরের স্বামী এরিক নুমারডর অভিযোগ করেন যে, তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিডিও ও ছবিসহ প্রমাণ পেয়েছেন। এর পরই বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। তদন্তকারীরা এরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করেন।

 

এরিক তদন্তকারীদের জানান, বাড়ির একটি কয়েন রাখার পাত্র থেকে টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খুঁজে বের করতে তিনি বাড়িতে দুটি নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির সদস্যরা ক্যামেরাগুলোর উপস্থিতি সম্পর্কে জানতেন। পরে শোবার ঘরের ক্যামেরায় ধারণ করা পুরোনো ভিডিও দেখার সময় তিনি নুমারডর ও পরিবারের পোষা কুকুরকে নিয়ে সন্দেহজনক দৃশ্য দেখতে পান বলে তদন্তকারীদের জানান। তিনি পুলিশের কাছে ভিডিওর কিছু ছবি দেন এবং ভিডিও সংরক্ষিত ল্যাপটপ ব্যবহারের সুযোগও দেন।

 

শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ভিডিওটি পর্যালোচনা করেন। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, ফুটেজে নুমারডরকে আংশিক পোশাকহীন অবস্থায় কুকুরটির সঙ্গে এমনভাবে দেখা যায়, যা তদন্তকারীদের কাছে যৌন আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যা অভিযোগের অংশ এবং আদালতে এর সত্যতা নির্ধারণ করা হয়নি।

 

১৫ সেপ্টেম্বর নুমারডরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তিনি ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই এবং সেখানে থাকা কুকুরটি পরিবারের পোষা প্রাণী বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি কোনো যৌন আচরণের কথা অস্বীকার করে জানান, তিনি কেবল কুকুরটিকে আদর করছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তার ব্যাখ্যা অসঙ্গত ছিল। পরে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করা হয়।

 

এর পর নুমারডরকে গ্রেপ্তার করে শার্লট কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। শেরিফের দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ‘প্রাণীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপ’ সংক্রান্ত দ্বিতীয় শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার ডলার।

 

শার্লট কাউন্টির শেরিফ বিল প্রামেল ঘটনাটিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কোনো প্রাণীকে এ ধরনের আচরণের শিকার করা উচিত নয় এবং এমন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেলে তার দপ্তর ব্যবস্থা নেবে। গ্রেপ্তারের পর নুমারডরের কারাগারের ছবিতে হাসিমুখে থাকার বিষয়টিও তিনি মন্তব্য করেন।

 

তবে আইনগতভাবে নুমারডরকে এখনো দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা হবে। শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

 

সূত্র: শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, গালফ কোস্ট নিউজ ও পিপল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি উপাসনালয় ও কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় বছরে ব্যয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় প্রথমবারের মতো বছরে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির উপাসনালয়, স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ও অন্যান্য ইহুদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার পেছনে আনুমানিক ১ দশমিক ০১৫ বিলিয়ন ডলার বা ১০১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার নতুন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।   সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় ছিল প্রায় ৭৬৫ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। নতুন হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইহুদি সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যয় বিবেচনা করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে নিরাপত্তায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ হয়েছে।   এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে নিরাপত্তাকর্মী ও নিরাপত্তা পরিচালনায়। পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি ব্যবস্থা, ক্যামেরা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি স্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ যাচ্ছে। ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার হিসাবে নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।     তবে এই হিসাবের মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ইহুদি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেমন ইহুদি মালিকানাধীন খাবারের দোকান, বাজার, ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান ও বইয়ের দোকানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় এতে ধরা হয়নি। ফলে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় মোট ব্যয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে।   নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা নিয়ে উদ্বেগেরও সম্পর্ক রয়েছে। ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকা বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুমকি ও সহিংসতার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তায় বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী এরিক ফিঙ্গারহাট বলেছেন, নিরাপত্তায় ব্যয় করা প্রতিটি ডলার ইহুদি শিক্ষা, প্রবীণদের সহায়তা ও অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে ব্যয় করার সুযোগ কমিয়ে দেয়।   এফবিআইয়ের ২০২৫ সালের বিদ্বেষমূলক অপরাধের তথ্যেও ইহুদিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই বছর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৬৪ শতাংশ ইহুদিদের লক্ষ্য করে হয়েছিল। দেশটির জনসংখ্যায় ইহুদিদের অংশ প্রায় ২ শতাংশ হলেও ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধে তারা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠী ছিল।   এই পরিস্থিতিতে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইহুদি ধর্মীয় বর্ষের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোতে সিনাগগ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে। ফলে এসব সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।   নিউইয়র্কেও ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে শহরে নিশ্চিত হওয়া ইহুদিবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা ছিল ২২৯টি, যা আগের বছরের একই সময়ের ২১২টির তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এসব অপরাধ শহরের মোট নিশ্চিত হওয়া বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও চলতি বছর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে ৭০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ অর্থ ২৯০টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ভবনের নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কর্মী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।   নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একটি বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। তবে ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তা এখন তাদের সাম্প্রদায়িক কার্যক্রমের একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকা, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২৩:৪২
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান তিন সন্তানের জননী ভেনেসা হোয়েল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নিহত তিন সন্তানের মা

ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে বিকৃত আচরণের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে শার্লট কাউন্টি শেরিফ অফিস। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করল ইলিনয়, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন আইন

দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছে ডালাস ফায়ারকর্মীর চার মাস বয়সী ছেলে কেনজি কামারার। ছবি: সংগৃহীত
ডালাসে চার মাসের শিশুর জীবনরক্ষা, ৭৫ জনের বেশি চিকিৎসাকর্মীর চেষ্টায় বাড়ি ফিরল কেনজি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসের এক ফায়ারকর্মীর চার মাস বয়সী ছেলে কেনজি কামারার দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। জন্মের পর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল শিশুটি। তবে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বয়সে পরীক্ষায় ধরা পড়ে অন্ত্রের একটি জন্মগত জটিলতা, যা দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে।   বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে কেনজিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে বিদায় জানাতে ডালাসের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মেডিকেল সিটি চিলড্রেনস হাসপাতালে জড়ো হন। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি পরিবার ও চিকিৎসকদের জন্যও বিশেষ হয়ে ওঠে।   কেনজির বাবা ইয়ান কামারার ডালাসের একজন ফায়ারকর্মী। মা লিন্ডসে কামারারের সঙ্গে গত কয়েক মাস তাঁদের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হাসপাতালেই। চিকিৎসকেরা জানান, পাঁচ সপ্তাহ বয়সে শিশুটির অন্ত্রে ‘ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন’ বা অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থানগত ত্রুটি শনাক্ত হয়। জন্মের পর এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি বলেও পরিবার জানিয়েছে।   এই সমস্যার কারণে কেনজি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে চারবার অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের ৭৫ জনের বেশি কর্মী বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন।   কেনজির মা লিন্ডসে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে পুরো চিকিৎসক ও হাসপাতালকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, এই সময় তাঁদের পাশে থাকা মানুষদের নিয়ে তাঁদের একটি বড় সহায়তার পরিসর তৈরি হয়েছে।   কেনজির বাবা ইয়ান জানান, জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁর সন্তান হাসপাতালের বাইরে নয়, বরং হাসপাতালেই কাটিয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।   শিশুটির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক ক্রিস বিসানি। কেনজি হাসপাতালে আসার সময় তার অবস্থা কতটা গুরুতর ছিল, সে কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন শিশুটির অবস্থা দেখে তার মা জানতে চেয়েছিলেন, ছেলে বাঁচবে কি না। চিকিৎসক তাঁকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটিকে সামলানোর চেষ্টা করা হবে এবং সবাই মিলে কাজ করবেন।   কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত আরেক চিকিৎসক শ্বেতা মুর্থি অন্ত্রের এই সমস্যার জটিলতা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থান ঠিকভাবে তৈরি না হলে তা পাক খেয়ে যেতে পারে। এতে অন্ত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এর অন্যতম লক্ষণ বমি হতে পারে। তবে সব শিশুর বমির পেছনে এমন গুরুতর সমস্যা থাকে না।   জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন একটি জন্মগত সমস্যা। ভ্রূণের বিকাশের সময় অন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থানে না বসলে এই জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে অন্ত্র আটকে যেতে বা পেঁচিয়ে যেতে পারে। অন্ত্র পেঁচিয়ে গেলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।   বিশেষ করে অন্ত্র পেঁচিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের হঠাৎ বমি, পেট ফুলে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি বা রক্তমিশ্রিত পায়খানার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। জনস হপকিন্স মেডিসিন বলছে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি, কারণ দীর্ঘ সময় রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকলে অন্ত্রের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   তবে কেনজির ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় বিষয়টি আরও অপ্রত্যাশিত ছিল বলে পরিবার ও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়।   বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে কেনজিকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর ডালাসের ফায়ারকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারটির সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। কয়েক মাসের উদ্বেগ ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর ছোট্ট শিশুটির বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি হাসপাতালকর্মীদের কাছেও আবেগঘন হয়ে ওঠে।   কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকেরা জানান, এত জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে শিশুটির সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারা তাঁদের জন্যও বিশেষ তৃপ্তির বিষয়। পরিবারটির জন্য এখন দীর্ঘ হাসপাতালজীবনের পরিবর্তে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে ফেরার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।   সূত্র: ফক্স ৪ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ও জনস হপকিন্স মেডিসিন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২১:৩৭
নিউজার্সির জার্সি সিটিতে অবস্থিত কড়াই কিচেন রেস্তোরাঁর ভেতরের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি মা ও মেয়ের কড়াই কিচেন

নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাইয়ের দাবি করেছেন ম্যানহাটনের এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

অপরিষ্কার থাকার অভিযোগে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই চাকরি গেল নিউইয়র্কের প্রযুক্তিকর্মীর

মিশিগানের ব্লেয়ার টাউনশিপে প্রশিক্ষণের সময় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হাসপাতালে পাইলট

গ্রিন কার্ডের আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে ইউএসসিআইএস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের জন্য নতুন নিয়ম: এখন থেকে যাচাই হবে ক্রেডিট স্কোর

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের Form I-864, Affidavit of Support কার্যকর করার মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।   নতুন Form I-864-এর সংস্করণ তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। এতে ‘Privacy Release’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক বা একাধিক ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ভোক্তা-ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোরও থাকতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এই তথ্য Form I-864-এর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।   Form I-864 হলো গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে এই ফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার আইনগতভাবে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্পনসরের আর্থিক দায়ও তৈরি করতে পারে।   নতুন নিয়মে ক্রেডিট ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ যুক্ত হলেও ইউএসসিআইএস কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করেনি। অর্থাৎ একজন স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার নিচে থাকলেই তাঁর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম নেই। একইভাবে শুধু কম ক্রেডিট স্কোর, ঋণ, ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক তথ্য বা অতীতের দেউলিয়াত্বের ভিত্তিতে স্পনসরশিপ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধানও প্রকাশ করা হয়নি।   স্পনসরদের আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিষয়গুলোও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং করসংক্রান্ত তথ্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরের আয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের আকারের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য স্পনসর করলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনাতেও স্পনসরদের আয় ও করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি বহাল রয়েছে। সাধারণত সাম্প্রতিক কর বছরের আইআরএস ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী আয় প্রমাণের কাগজপত্র এবং সম্পদ ব্যবহার করলে তার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয় নির্ধারিত সীমার নিচে হলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণ বা যৌথ স্পনসরের প্রয়োজন হতে পারে।   নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘ফ্রিজ’। কোনো স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্টে এমন ফ্রিজ চালু থাকলে ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে না পারায় আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রত্যেক স্পনসরকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট ফ্রিজ তুলে ফেলতে হবে, এমন নির্দেশনা নেই। ইউএসসিআইএস তথ্য চাইলে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন ফর্মের ক্ষেত্রে সংস্করণ-তারিখ নিয়েও স্পনসরদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ইউএসসিআইএস ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন 08/24/26 সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো 10/17/24 সংস্করণের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণ গ্রহণ করা হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে 08/24/26 সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে Form I-864-এর মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর হয়ে থাকেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বর্তমান নির্দেশনাতেও পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনে প্রতিটি আর্থিক স্পনসরের Form I-864 এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   তাই নতুন আবেদন প্রস্তুত করার সময় ফর্মের নিচে থাকা সংস্করণ-তারিখ, আয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, সাম্প্রতিক কর নথি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রমাণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের পর পুরোনো সংস্করণের ফর্ম ব্যবহার করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।   ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কারণ নতুন ফর্মে ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি যুক্ত হলেও ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রতিটি মামলার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্কোর-ভিত্তিক মানদণ্ড প্রকাশ করেনি।   সূত্র: ইউএসসিআইএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২০:২৯
মিনেসোটায় চুরির দায়ে গ্রেপ্তার মার্কিন নারী, জেনিফার লোপেজের সঙ্গে চেহারার মিল নিয়ে মগশট ভাইরাল

মিনেসোটায় চুরির দায়ে গ্রেপ্তার মার্কিন নারী, জেনিফার লোপেজের সঙ্গে চেহারার মিল নিয়ে মগশট ভাইরাল

এবার মামদানিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের আগে উত্তেজনা

এবার মামদানিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের আগে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়াতেও অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, উদ্বেগে অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়াতেও অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, উদ্বেগে অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা

0 Comments