আইসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের আক্রমণ করতেন, এবার সেই আইসের হেফাজতে ম্যাগা ব্লগার
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) দেশজুড়ে তাদের ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটির বিতর্কিত গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে সমালোচনা থাকলেও অনেকেই এর কার্যক্রমে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে থাকেন। এমনই একজন কট্টর আইস-সমর্থক এবং 'ম্যাগা' (MAGA) ব্লগার স্যামুয়েল সে এবার নিজেই অভিবাসন আইনের কঠোরতার মুখে পড়েছেন।
৩৯ বছর বয়সী স্যামুয়েলের জন্ম ঘানায়; পরবর্তীতে তিনি কানাডা এবং সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। গত ২১ অক্টোবর ওহাইওর কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্রমণের সময় আইস এজেন্টরা তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হওয়ার (ডিপোর্টেশন) ঝুঁকিতে রয়েছেন।
নিজের ‘স্লো টু রাইট’ (SlowToWrite) নামের ব্লগের মাধ্যমে স্যামুয়েল নিজেকে একজন প্রো-লাইফ কর্মী, শিক্ষক এবং পাবলিক স্পিকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইসের বিভিন্ন অভিযানের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, "আপনি যদি আমেরিকাকে ভালোবাসেন, তবে আপনার আইসকে সমর্থন করা উচিত।" আইসের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি এমনও দাবি করেছিলেন যে, যারা আইস-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ঈশ্বর তাদের সমর্থন করেন না এবং এসব আন্দোলনকারী 'শয়তানের দ্বারা প্রভাবিত'।
এর আগে আইসের এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তখনও স্যামুয়েল আইস এজেন্টদের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে এটি আত্মরক্ষার অংশ ছিল।
তবে আইসের প্রতি এই একনিষ্ঠ সমর্থন স্যামুয়েলকে বিতাড়নের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে থাকার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএইচএস-এর তথ্যমতে, ২০২২ সালে স্যামুয়েল বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার ভিসার মেয়াদ বেশ আগেই শেষ হয়ে যায়। স্যামুয়েলের মুক্তির জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে এবং তার স্ত্রী দাবি করেছেন যে এটি কেবল নথিপত্র সংক্রান্ত একটি ছোট ভুল। তবে ডিএইচএস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তার কোনো অভিবাসন আবেদন অপেক্ষমাণ নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে রাজি হয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত স্যামুয়েলকে আইসের হেফাজতেই থাকতে হবে। তবে তাকে কানাডা নাকি ঘানায় ফেরত পাঠানো হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডিএইচএস মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা কাউকে আলাদাভাবে বিবেচনা করেন না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের বয়স্ক, অসুস্থ কিংবা প্রতিবন্ধী সদস্যের দেখাশোনা করতে গিয়ে ক্রমেই বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন স্বজনেরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যত্ন নিতে একজন সেবাদানকারীকে বছরে গড়ে নিজের পকেট থেকে ১১ হাজার ৫০৮ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। ২০২১ সালে এই ব্যয় ছিল ৭ হাজার ২৪২ ডলার। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। একই সঙ্গে পরিচর্যার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেককে চাকরির সময়সূচি পরিবর্তন, সঞ্চয় কমানো কিংবা ঋণ নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এএআরপি বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য জানিয়েছে। ২০২৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে ২ হাজার ৫৩৮ জন পারিবারিক সেবাদানকারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, পরিচর্যার ব্যয় একজন সেবাদানকারীর পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৩১ শতাংশের সমান। ফলে নিজেদের সংসারের খরচের পাশাপাশি অন্যের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পরিবারের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হচ্ছে। এএআরপির হিসাব অনুযায়ী, বছরে ১১ হাজার ৫০৮ ডলার খরচের অর্থ মাসে গড়ে প্রায় ৯৫৯ ডলার। এই অর্থ শুধু চিকিৎসার জন্য ব্যয় হচ্ছে না। খাবার, বাসস্থান, ওষুধ, যাতায়াত, চিকিৎসাসামগ্রী এবং বাড়িতে পরিচর্যার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খরচ এর অন্তর্ভুক্ত। অনেক পরিবারকে বয়স্ক সদস্যের চলাচলের সুবিধার্থে বাড়িতে পরিবর্তন আনতে হয়। আবার কর্মজীবী সেবাদানকারীদের কেউ কেউ কাজের সময় পরিবারের সদস্যের দেখাশোনার জন্য অন্য ব্যক্তির সহায়তা নেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিচর্যাসংক্রান্ত ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে বাসস্থান ও গৃহস্থালির প্রয়োজনে। এই খাতে বছরে গড়ে ৪ হাজার ৭৯৭ ডলার খরচ হচ্ছে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৪২ শতাংশ। চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয় বছরে গড়ে ৩ হাজার ৩১৩ ডলার, যা মোট খরচের প্রায় ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ বাসস্থান ও চিকিৎসা মিলিয়ে একজন সেবাদানকারীর মোট ব্যয়ের প্রায় ৭১ শতাংশ চলে যাচ্ছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয়ের মধ্যেও একাধিক খাত রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম, কো-পে, কো-ইনস্যুরেন্স এবং সরাসরি চিকিৎসাসেবার মূল্য পরিশোধে চিকিৎসা খরচের ৩৭ শতাংশের বেশি ব্যয় হচ্ছে। এর বাইরে প্রেসক্রিপশন ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার খরচও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিমা থাকলেও সব ধরনের সেবার ব্যয় পুরোপুরি বহন করা হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের পকেট থেকে অর্থ দিতে হচ্ছে। কম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই চাপ আরও বেশি। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার ডলারের কম, তাদের পরিচর্যার জন্য বছরে গড়ে ১১ হাজার ৪৪৮ ডলার খরচ হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, এই ব্যয় সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীদের পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৭৬ শতাংশের সমান। তবে ৭৬ শতাংশ একটি জরিপভিত্তিক গড় অনুপাত, সব পরিবারের আয়ের একই অংশ ব্যয় হচ্ছে এমন নয়। এর ফলে বাড়িভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ বিল ও নিজেদের চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় খরচ চালানো অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে আলঝেইমার কিংবা অন্য ধরনের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেখাশোনার ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এ ধরনের রোগীর পরিচর্যায় বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৮৪৬ ডলার খরচ করছেন সেবাদানকারীরা। ডিমেনশিয়া নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গড় ব্যয় ১০ হাজার ২২১ ডলার। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন কাজে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এসব কারণে পরিচর্যার খরচও বেড়ে যেতে পারে। শুধু অর্থনৈতিক ব্যয় নয়, পরিবারের সদস্যের দেখাশোনার দায়িত্ব কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া কর্মজীবী সেবাদানকারীদের ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিচর্যার কারণে তাঁদের চাকরি বা কাজের সময়সূচিতে অন্তত একবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কেউ কাজের সময় কমিয়েছেন, কেউ ছুটি নিয়েছেন, আবার কেউ পরিচর্যার খরচ মেটাতে অতিরিক্ত কাজ করেছেন। এসব পরিবর্তন পরিবারের বর্তমান আয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলছে। এএআরপির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাঁরা পরিচর্যার দায়িত্ব পালনের জন্য পরিকল্পনার আগেই অবসরে গেছেন, তাঁদের বছরে গড়ে ১৮ হাজার ৯৪০ ডলার খরচ হচ্ছে। এটি জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। আগেভাগে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কারণে নিয়মিত আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয় বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ব্যয়ের মধ্যেও পার্থক্য পাওয়া গেছে। এশীয় আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জীয় বংশোদ্ভূত সেবাদানকারীদের বছরে গড় ব্যয় ১৬ হাজার ৭১৬ ডলার, যা জরিপে অন্তর্ভুক্ত জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ সেবাদানকারীরা নিজেদের পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৫২ শতাংশ পরিচর্যার পেছনে ব্যয় করছেন। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য পৃথক গড় খরচ নির্ধারণ করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে পরিবারের সদস্য বা পরিচিত ব্যক্তির নিয়মিত যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন বলে এএআরপি জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিনা বেতনে এই দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, ওষুধ খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দেওয়া, খাবার তৈরি এবং দৈনন্দিন চলাফেরায় সহায়তার মতো কাজ তাঁদের নিয়মিত করতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পরিবারগুলো প্রিয়জনের পাশে থাকতে পারলেও সেবাদানকারীদের ওপর আর্থিক ও সময়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। এএআরপির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেবরা হুইটম্যান জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যায় বছরে সাড়ে ১১ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় অনেক মানুষের আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। তাঁর মতে, এই পরিমাণ অর্থ গড় সোশ্যাল সিকিউরিটি রিটায়ারমেন্ট সুবিধার প্রায় অর্ধবছরের সমান। অন্যদিকে সংস্থাটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ন্যান্সি লিয়ামন্ড বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা হারানো উচিত নয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিচর্যাকারীদের জন্য ট্যাক্স ক্রেডিট, সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়িতে সেবা, সাময়িক বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা এবং চাকরির সুরক্ষাসহ বেতনযুক্ত পারিবারিক ছুটির সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এএআরপি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যার জন্য অর্থ দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব সব অঙ্গরাজ্যে কার্যকর কোনো নতুন সরকারি সুবিধার ঘোষণা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা বয়স্ক বাবা-মা, অসুস্থ স্বজন বা প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যের দেখাশোনা করছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের পাশাপাশি চাকরির সময় সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অঙ্গরাজ্যভেদে মেডিকেইডের হোম অ্যান্ড কমিউনিটি-বেইজড সার্ভিসেস, স্থানীয় প্রবীণসেবা সংস্থা এবং কর্মক্ষেত্রের ছুটিসংক্রান্ত সুবিধা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। তবে এসব সুবিধার যোগ্যতা ও প্রাপ্যতা এক নয়। এএআরপির সর্বশেষ গবেষণা দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের যত্ন নেওয়া এখন অনেক মানুষের জন্য বড় আর্থিক দায়িত্ব। পাঁচ বছরে খরচ প্রায় ৫৯ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি কর্মজীবন, সঞ্চয় এবং অবসর পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বেশি। ফলে পরিচর্যাকারীদের আর্থিক সহায়তা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঘরের কাজে আসছে টেসলার মানবসদৃশ রোবট, গৃহিণীদের কাজ কতটা সহজ করবে নতুন প্রযুক্তি?
যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ, চাকরি না থাকলেও রয়েছে একাধিক পথ
স্মৃতি হারালেও হারায়নি সুরের টান, হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় নগর পরিচ্ছন্নতা বিভাগের একটি ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী সিওবান লিঞ্চ। বুধবার, ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার খবর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ক্রপসি অ্যাভিনিউ ও বে পার্কওয়ের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রাকটি মোড় নেওয়ার সময় রাস্তা পার হচ্ছিলেন লিঞ্চ। ট্রাকের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁকে দ্রুত ব্রুকলিনের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। একটি সাধারণ সন্ধ্যা যে কারও জীবনে এমন চরম পরিণতি নিয়ে আসতে পারে, এই ঘটনা আবারও তা মনে করিয়ে দিয়েছে। একজন মানুষের আকস্মিক মৃত্যু তাঁর পরিবার ও কাছের মানুষদের জীবনে যে শূন্যতা তৈরি করে, তা কোনোভাবেই সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে লিঞ্চের পরিবারের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় তাঁদের অনুভূতি নিয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রপসি অ্যাভিনিউ ও বে পার্কওয়ের সংযোগস্থলে যান চলাচল এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। নির্মাণকাজ ও সড়কের আলোর ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের অভিযোগও রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংযোগস্থলে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছরেও ওই এলাকায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল। এই ঘটনার দিন নিউইয়র্ক নগর প্রশাসন সন্ধ্যা ও অন্ধকারে পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন সচেতনতামূলক উদ্যোগের কথা জানায়। শরৎ ও শীতকালে দিনের আলো কমে যাওয়ায় চালকদের মোড় নেওয়ার সময় বিশেষ সতর্ক থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ সড়ক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, চালকদের গতি কমানো, মোড় নেওয়ার আগে পথচারীদের ভালোভাবে দেখা এবং পথচারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় গাড়ি থামানো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রাণহানির ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়; এটি পুরো এলাকার সড়কব্যবস্থা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। সড়কে চলাচলকারী প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক, নগর কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ পথচারী—সবার সচেতনতা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা, ২ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন খাবার ও গ্রোসারি ডেলিভারি বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে গ্রোসারি ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাকার্টকে অধিগ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে খাবার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশ। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর দুই কোম্পানি এ চুক্তির ঘোষণা দেয়। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে রেস্টুরেন্টের খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডোরড্যাশের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে ইনস্টাকার্টের সুপারমার্কেট ও গ্রোসারি সরবরাহব্যবস্থা। দুই কোম্পানির ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইনস্টাকার্টের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫ ডলার। প্রস্তাবিত মূল্য ২২ অক্টোবরের শেয়ারদরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। মোট লেনদেনের অন্তত ৭৫ শতাংশ নগদ অর্থে পরিশোধ করা হবে। বাকি অংশের জন্য শেয়ার দেওয়ার সুযোগ থাকবে, তবে পুরো লেনদেনে ডোরড্যাশের শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি হবে না। চুক্তি অনুযায়ী, ইনস্টাকার্টের শেয়ারহোল্ডাররা নগদ অর্থ, ডোরড্যাশের শেয়ার অথবা নগদ ও শেয়ারের সমন্বয়ে মূল্য গ্রহণের বিকল্প বেছে নিতে পারবেন। তবে শেয়ারের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে আবেদন এলে সে অনুযায়ী বরাদ্দ সমন্বয় করা হবে। কোম্পানি দুটি জানিয়েছে, অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৮ সালের প্রথমার্ধ। এর আগে ইনস্টাকার্টের শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি প্রয়োজন। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ডোরড্যাশ ও ইনস্টাকার্ট আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ করবে। ইনস্টাকার্টের নাম ও অ্যাপ থাকছে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ইনস্টাকার্টের নিজস্ব ব্র্যান্ড, অ্যাপ এবং ব্যবসায়িক প্রযুক্তি পণ্য চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ডোরড্যাশের। ফলে গ্রাহকদের জন্য ইনস্টাকার্টের পরিচিত সেবাটি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও ডেলিভারি নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। কোম্পানিগুলোর ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইনস্টাকার্টের গ্রাহকেরা অতিরিক্ত ৫০ হাজারের বেশি দোকানে কেনাকাটার সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে ডোরড্যাশের ড্যাশপাস এবং ইনস্টাকার্ট প্লাসের সদস্যদের জন্য একটি সদস্যপদ ফিতে দুই সেবার সুবিধা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবায়নের বিস্তারিত সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত নয়। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আগে গ্রাহকদের বর্তমান সেবায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসছে না। স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুন কৌশল ডোরড্যাশের মূল শক্তি রেস্টুরেন্টের খাবার ডেলিভারি এবং বিস্তৃত ডেলিভারি নেটওয়ার্ক। অন্যদিকে, ইনস্টাকার্ট দীর্ঘদিন ধরে সুপারমার্কেট ও গ্রোসারি ব্যবসার সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে অনলাইন কেনাকাটা ও হোম ডেলিভারি সেবা দিয়ে আসছে। দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক দক্ষতা একত্র হলে ছোট ও মাঝারি গ্রোসারি দোকানগুলোও অনলাইন অর্ডার গ্রহণ, গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং বড় খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। অন্তত এ লক্ষ্য সামনে রেখেই চুক্তির কথা জানিয়েছে কোম্পানি দুটি। ডোরড্যাশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী টনি শু বলেছেন, ইনস্টাকার্টের গ্রোসারি ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সঙ্গে ডোরড্যাশের ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তি যুক্ত হলে বিভিন্ন আকারের দোকানকে আরও কার্যকরভাবে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, ইনস্টাকার্টের প্রধান নির্বাহী ক্রিস রজার্সের মতে, দুই প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক একত্র হলে গ্রাহক, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং ডেলিভারি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ওয়ালমার্ট ও অ্যামাজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এই অধিগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনলাইন গ্রোসারি বাজারে প্রতিযোগিতা আরও জোরদার হওয়া। ওয়ালমার্ট ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অনলাইন অর্ডার, দ্রুত ডেলিভারি এবং গ্রাহক ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন সেবা সম্প্রসারণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ডোরড্যাশের ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ও ইনস্টাকার্টের গ্রোসারি ব্যবসায়িক সম্পর্ক একত্র হওয়া প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গ্রাহক এখন রেস্টুরেন্টের খাবারের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও অনলাইনে অর্ডার করেন। একই প্ল্যাটফর্মে একাধিক ধরনের পণ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে গ্রাহকদের জন্য কেনাকাটা সহজ হতে পারে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে দাম, ডেলিভারি ফি এবং সদস্যপদের খরচ কতটা বদলাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডেলিভারি কর্মীদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডেলিভারি কর্মীদের কাজের সুযোগ। ডোরড্যাশের ডেলিভারি কর্মী এবং ইনস্টাকার্টের গ্রোসারি শপাররা দুই প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আরও বেশি অর্ডার পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে কোম্পানিগুলো জানিয়েছে। ডোরড্যাশের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইনস্টাকার্টের শপাররা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কাজের সময় নির্ধারণ এবং কোন অর্ডার গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে আগের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বজায় রাখবেন। তাঁরা চাইলে ডোরড্যাশের অর্ডারও গ্রহণ করতে পারবেন, আবার শুধু ইনস্টাকার্টের কাজেও সীমাবদ্ধ থাকতে পারবেন। তবে বেশি অর্ডারের সুযোগ তৈরি হলেই যে কর্মীদের আয় নিশ্চিতভাবে বাড়বে, তা বলা যাচ্ছে না। কাজের পরিমাণ, দূরত্ব, গ্রাহকের টিপস, খরচ এবং অর্ডার বণ্টনের নিয়মের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করবে। লেনদেনের অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের এই অধিগ্রহণের নগদ অংশের অর্থায়নে নিজেদের হাতে থাকা অর্থের পাশাপাশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ডোরড্যাশ। এ জন্য জেপি মরগ্যান চেজ ব্যাংকের সঙ্গে অর্থায়নসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিপত্রও সম্পন্ন হয়েছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে। ইনস্টাকার্টের পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৯ শতাংশ শেয়ারের মালিকেরা লেনদেনের পক্ষে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তারপরও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হবে না। চুক্তিটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের খাবার ও গ্রোসারি ডেলিভারি শিল্পে বড় ধরনের একীভূতকরণ ঘটবে। গ্রাহক, স্থানীয় ব্যবসা এবং ডেলিভারি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাজারে প্রতিযোগিতা, সেবার মূল্য এবং কর্মীদের আয়ের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে অধিগ্রহণ-পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের
জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার