- প্রচ্ছদ
- Topic
আইস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক পরিবহন খাত ও মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালানো হয়েছে এক ব্যাপক যৌথ অভিযান। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা—আইস (ICE) এবং বিভিন্ন রাজ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত ৭২ ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে দুই শতাধিক undocumented অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বহুসংখ্যক বাণিজ্যিক মোটরযান চালকও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডোর ও মহাসড়কগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। এই তিন দিনের টানা কার্যক্রমে ১ হাজারেরও বেশি ভারী বাণিজ্যিক ট্রাক ও কমার্শিয়াল ভেহিকল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তল্লাশি চলাকালীন অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স (CDL) সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২৩০ জনেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, আটককৃতদের মধ্যে ৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তির কাছে কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (CDL) ছিল, যারা নিয়মিতভাবে কমার্শিয়াল ট্রাক পরিচালনা করে আসছিলেন। ফেডারেল ও স্টেট এজেন্সিগুলোর যৌথ এই কড়াকড়ি মূলত বাণিজ্যিক পরিবহন সেক্টরে ভুয়া বা অননুমোদিত লাইসেন্সের ব্যবহার রোধ এবং মহাসড়কে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মূল ভূখণ্ডের লজিস্টিকস ও ফ্রেইট সেক্টরে নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যত্রতত্র অযোগ্য বা অননুমোদিত চালকদের ভারী যান চালানোর প্রবণতা এবং আইনি ফাঁকফোকড় বন্ধে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
নিউইয়র্কের বিখ্যাত ব্রুকলিন সেতুতে প্রকাশ্য দিবালোকে যান চলাচল অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর বিরোধীরা। বুধবার এই আকস্মিক অবরোধের জেরে ওই এলাকায় চরম যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং ডজনখানেকেরও বেশি আন্দোলনকারীকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, প্রায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন আন্দোলনকারীর একটি দল ব্রুকলিন সেতুর ওপর বাবু হয়ে বসে রাস্তা আটকে রেখেছেন। এ সময় তারা নিউইয়র্ক পুলিশ ও আইসের সমালোচনা করে "এনওয়াইপিডি, কেকেকে, আইস, এরা সবাই এক!" বলে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের পরনে থাকা শার্টে "আমার প্রতিবেশীকে দেখেছেন কি?" এবং "অবিলম্বে নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই"-এর মতো প্রতিবাদী বার্তা লেখা ছিল। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, আটকের সময় অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ সদস্যরা রীতিমতো পাঁজাকোলা করে ক্রুজারে তুলে নিয়ে যান, তবে অনেকেই স্বেচ্ছায় পুলিশের সাথে গাড়িতে ওঠেন। বিক্ষোভকারীদের এই জমায়েতের মূল দাবি ছিল অস্কার বেলগাল নামের এক অবৈধ অভিবাসীর মুক্তি। ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে আসা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ব্রঙ্কস এলাকায় আইস এজেন্টদের গুলিতে আহত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। তার আটকের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই মূলত ব্রুকলিন সেতুতে জড়ো হয়েছিলেন ওই অধিকারকর্মীরা, যা শেষ পর্যন্ত পুলিশের ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) দেশজুড়ে তাদের ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটির বিতর্কিত গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে সমালোচনা থাকলেও অনেকেই এর কার্যক্রমে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে থাকেন। এমনই একজন কট্টর আইস-সমর্থক এবং 'ম্যাগা' (MAGA) ব্লগার স্যামুয়েল সে এবার নিজেই অভিবাসন আইনের কঠোরতার মুখে পড়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী স্যামুয়েলের জন্ম ঘানায়; পরবর্তীতে তিনি কানাডা এবং সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। গত ২১ অক্টোবর ওহাইওর কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্রমণের সময় আইস এজেন্টরা তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হওয়ার (ডিপোর্টেশন) ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিজের ‘স্লো টু রাইট’ (SlowToWrite) নামের ব্লগের মাধ্যমে স্যামুয়েল নিজেকে একজন প্রো-লাইফ কর্মী, শিক্ষক এবং পাবলিক স্পিকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইসের বিভিন্ন অভিযানের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, "আপনি যদি আমেরিকাকে ভালোবাসেন, তবে আপনার আইসকে সমর্থন করা উচিত।" আইসের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি এমনও দাবি করেছিলেন যে, যারা আইস-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ঈশ্বর তাদের সমর্থন করেন না এবং এসব আন্দোলনকারী 'শয়তানের দ্বারা প্রভাবিত'। এর আগে আইসের এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তখনও স্যামুয়েল আইস এজেন্টদের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে এটি আত্মরক্ষার অংশ ছিল। তবে আইসের প্রতি এই একনিষ্ঠ সমর্থন স্যামুয়েলকে বিতাড়নের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে থাকার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএইচএস-এর তথ্যমতে, ২০২২ সালে স্যামুয়েল বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার ভিসার মেয়াদ বেশ আগেই শেষ হয়ে যায়। স্যামুয়েলের মুক্তির জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে এবং তার স্ত্রী দাবি করেছেন যে এটি কেবল নথিপত্র সংক্রান্ত একটি ছোট ভুল। তবে ডিএইচএস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তার কোনো অভিবাসন আবেদন অপেক্ষমাণ নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে রাজি হয়েছেন। সংস্থাটি আরও জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত স্যামুয়েলকে আইসের হেফাজতেই থাকতে হবে। তবে তাকে কানাডা নাকি ঘানায় ফেরত পাঠানো হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডিএইচএস মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা কাউকে আলাদাভাবে বিবেচনা করেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) যাতে ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্কিং লট ও গ্যারেজকে অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য সম্পত্তির মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এ উদ্যোগে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার, প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিসসহ শতাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক চিঠিতে তাঁরা পার্কিংয়ের জায়গা আইসকে ভাড়া না দেওয়া, ধার না দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানান। মামদানির এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় আইসের অভিযানের সময় ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। গত ৮ অক্টোবর গাড়িতে থাকা বেলগালকে আটকানোর চেষ্টা চলাকালে এক আইস কর্মকর্তা গুলি করেন। সে সময় তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলেও গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। বেলগালের ঘাড়ে গুলি লাগে। এ ঘটনার আগে কাছের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্কিং লট থেকে আইসের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে মেয়রের কার্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের নিজস্ব সম্পত্তি, পার্কিং লট ও গ্যারেজকে নির্দিষ্ট আইনি অনুমতি ছাড়া কেন্দ্রীয় অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে এই বিধিনিষেধ ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। এ কারণে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকদের স্বেচ্ছায় সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছেন মামদানি ও অন্য জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের চিঠিতে বলা হয়েছে, পার্কিংয়ের জায়গা অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, কর্মী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উদ্বেগের মধ্যে পড়তে পারে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় আইসের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পার্কিং সুবিধা ব্যবহার করেছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কুইন্সের নর্দার্ন বুলেভার্ডে দুটি ব্যাংকের পার্কিং লট এবং ম্যানহাটনের মর্টন স্ট্রিটের একটি গ্যারেজের কথা রয়েছে। মামদানির কার্যালয় জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানানোর পর মর্টন স্ট্রিটের গ্যারেজ থেকে আইসের গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনাকে সামনে রেখে মেয়র বলেছেন, পার্কিংয়ের জায়গার মালিকেরা চাইলে তাঁদের সম্পত্তি অভিবাসন অভিযানের প্রস্তুতিস্থল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে পারেন। এদিকে, মামদানি ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)। বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের রাস্তায় অপরাধ দমনে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকার জন্য মেয়রের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। সংস্থাটি দাবি করেছে, পার্কিংয়ের জায়গা না পেলেও তাদের অভিযান থামবে না। তবে ব্যক্তিগত পার্কিং লট ব্যবহারের বিষয়ে মালিকদের সিদ্ধান্ত এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের আইনগত ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ নতুন নয়। মামদানি প্রশাসন শহরের সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রবেশাধিকার সীমিত করার নীতি অনুসরণ করছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বেলগালকে গুলি করার ঘটনায়ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইসের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তারের সময় তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করেছিলেন। বেলগালের আইনজীবীরা অবশ্য বলেছেন, গুলি চালানোর আগে কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দেননি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও পাসপোর্ট, কাজের অনুমতিপত্র, পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শ্রেণিগত মামলা করেছেন সাতজন। তাঁদের অভিযোগ, আটকাবস্থা শেষ হওয়ার পরও সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছে। এর ফলে অনেকে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন, গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং পরিবারের খরচ মেটাতেও সমস্যায় পড়ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র না থাকায় বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদীরা অভিযোগ করেছেন, আইস এমন একটি কার্যত দেশব্যাপী নীতি অনুসরণ করছে, যার আওতায় সম্পদ আটকে রাখার বৈধ কারণ না থাকলেও মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জিনিসপত্র ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা আদালতের কাছে দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শ্রেণি গঠনের স্বীকৃতি, আটকে রাখা সম্পদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং আটক ব্যক্তিদের জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ফেডারেল প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আইসের নিজস্ব নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। মামলার নথি অনুযায়ী, সাত বাদীর প্রত্যেকেই মুক্তির সময় তাঁদের কিছু না কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। আটকে রাখা জিনিসের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মুঠোফোন, গাড়ির চাবি, নগদ অর্থ, পোশাক এবং একজনের ক্ষেত্রে বিয়ের আংটি। অভিযোগ দায়েরের সময় প্রত্যেক বাদী অন্তত পাঁচ মাস ধরে আইসের হেফাজতের বাইরে থাকলেও তাঁদের কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। বাদীদের দাবি, নথি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আটকে রাখার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান ও অভিবাসনবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটক কার্যক্রমের পরিসরও বেড়েছে। মার্শাল প্রজেক্টের প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আগস্ট পর্যন্ত আইস ছয় লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল। বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের ওপর ভিত্তি করে করা ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তির পর নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও আটক ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। মামলার অন্যতম বাদী ভ্লাদিমির ইজমাইলভ ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া রুশ নাগরিক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁকে আইস আটক করে এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর মুঠোফোন ফেরত দেওয়া হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, মানিব্যাগ, বেল্ট ও বিয়ের আংটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইজমাইলভ তাঁর জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে যোগাযোগ করলে প্রথমে তাঁকে জানানো হয়েছিল, নথিগুলো আইসের এক কর্মকর্তার কাছে ডাকযোগে পাঠানো হবে। পরে তাঁর নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাজিরা কর্মসূচির কর্মকর্তা জানান, আইসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিনিসপত্রগুলো সম্ভবত ধ্বংস করা হয়েছে। নিউজউইককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইজমাইলভ বলেন, তাঁর জিনিসপত্র ফেরত না পাওয়ায় আটক থাকার অভিজ্ঞতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক অবস্থায় কয়েক মাস তাঁকে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াই থাকতে হয়েছিল। মুক্তির পরও কাজের অনুমতিপত্র না থাকায় পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাড়া পরিশোধের জন্য অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হচ্ছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত না পাওয়ায় তিনি গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন লাইসেন্স পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁর দাবি। আরেক বাদী এনিস সুলেইমা লুনা আরদিলা কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত অভিবাসন-সংক্রান্ত সাক্ষাতে উপস্থিত হওয়ার পর আইস তাঁকে আটক করে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর অঙ্গরাজ্য-প্রদত্ত পরিচয়পত্র, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, কলম্বিয়ার পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং পারমিট ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথি না থাকায় তিনি প্রায় পাঁচটি চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেননি। এর মধ্যে এমন একটি চাকরিও ছিল, যেখানে তাঁর বর্তমান মজুরির দ্বিগুণ বেতন এবং আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র বা ইএডি (এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট) ইস্যু করে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা। যোগ্য অভিবাসীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি দেয় এই কার্ড। ফলে এ ধরনের নথি হারানো বা ফেরত না পাওয়া অনেকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মামলার বাদীদের বক্তব্য, বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথি হাতে না থাকায় তাঁরা চাকরি গ্রহণ, পরিচয় যাচাই এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যার মুখে পড়ছেন। মামলার আরেক বাদী রোলান্ডো রামিরেজ ফুয়েন্তেস শৈশবে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাঁর বয়স এখন ৪৬ বছর বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত এপ্রিলে আইসের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও ফ্লোরিডার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় কাজ খুঁজতে অসুবিধা হয়েছে এবং আয় করতে না পারায় হৃদ্রোগের চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, বাসস্থানের খরচ বহন করতে না পেরে তিনি এখন গৃহহীন। ডোমিঙ্গো তত কুইপ নামের গুয়াতেমালার আরেক নাগরিক পোর্টল্যান্ড, মেইনে বাসন ধোয়ার কাজ করতেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইস তাঁকে আটক করে এবং অপসারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ফেডারেল আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও গুয়াতেমালায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আগস্টে তাঁকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থের বড় একটি অংশ, ব্যাকপ্যাক, ফোনের চার্জার, হেডফোন ও পোশাকের অনেক কিছু এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাদীদের আইনজীবীরা বলেছেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত সম্পদ অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার আইসের নেই। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাইকেল পারলফ বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যাতে যথেচ্ছভাবে মানুষের সম্পদ নিয়ে রাখতে না পারেন, সে জন্যই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্ল্যাটকিন এলএলপির অংশীদার ম্যাট প্ল্যাটকিনও বলেন, কাউকে আটক থেকে মুক্তি দেওয়ার পর তাঁর স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নথি আটকে রাখা উচিত নয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে কিছু সম্পদ সাময়িকভাবে আটকে রাখার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে এবং নতুন কোনো বৈধ কারণ তৈরি না হলে সম্পদ ফেরত দেওয়া সংবিধানসম্মত বাধ্যবাধকতা। আইসের নিজস্ব নির্দেশনায়ও কোনো নথি আটকে রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক প্রয়োজন দেখানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যাঁদের নথি জব্দ করা হয়, তাঁদের প্রত্যয়িত অনুলিপি দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাত বাদীর কেউই এমন অনুলিপি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বাদীরা ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে আটক হওয়া এমন ব্যক্তিদের নিয়ে দেশব্যাপী একটি শ্রেণি গঠনের আবেদন করেছেন, যাঁদের মুক্তির পরও বৈধ কারণ ছাড়াই আইস তাঁদের সম্পদ ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁরা দুটি পৃথক উপশ্রেণি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন। একটি সরকারি পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি ফেরত না পাওয়াদের জন্য, অন্যটি ব্যক্তিগত সম্পদ আটকে রাখার শিকার ব্যক্তিদের জন্য। আদালতের কাছে তাঁরা কথিত নীতিকে বেআইনি ঘোষণা, বৈধ ভিত্তি ছাড়া আটকে রাখা জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং সম্পদ সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর আবেদন জানিয়েছেন। আইস ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে নিউজউইকের প্রশ্নের জবাব দেয়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সূত্র: নিউজউইক, ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (মামলার নথি)
নিউইয়র্ক শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এক এজেন্টের গুলিতে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে শহরে সংস্থাটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানী। বৃহস্পতিবার মার্বেল হিল আবাসিক এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেয়র বলেন, আইস এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াবে, আর তিনি চুপ করে থাকবেন—এমনটা কখনোই হতে দেওয়া হবে না। নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি নির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার সময় আইস এজেন্টরা ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। এ সময় বেলগালের গাড়িতে তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেও ছিল। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, একজন সাদা পোশাকের আইস এজেন্ট অস্ত্র হাতে চালকের জানালার কাছে এগিয়ে যান। গাড়িটি সামনের দিকে এগোতে চাইলে এজেন্ট অন্তত সাত রাউন্ড গুলি চালান, যা বেলগালের ঘাড়ে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শিশুটি বর্তমানে পরিবারের হেফাজতে নিরাপদে রয়েছে। ঘটনার পর মেয়র মামদানী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও ভুক্তভোগীর মুক্তির বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। অন্যদিকে, ডিএইচএস-এর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি’ বা আশ্রয়দানকারী নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এসব নীতির কারণে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের সঙ্গে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। মন্ত্রী মুলিন উল্টো মেয়রের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন। ডিএইচএস জানায়, ভুক্তভোগী বেলগাল একজন অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসী, যার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও অস্ত্র রাখাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং গত বছর একজন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তার ওপর হামলায় জড়িত গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল থেকে শুরু করে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গাড়িতে একজন শিশু থাকা অবস্থায় কীভাবে এতগুলো গুলি ছোড়া হলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়র মামদানী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নিউইয়র্ক টাইমস ও এবিসি নিউজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টদের সঙ্গে জড়িত এমন সহিংস ঘটনায় ২০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের দেশব্যাপী কঠোর অভিবাসন নীতির প্রয়োগ এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে পিঠে গুলি থাকা অবস্থায় আটককেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ২৮ বছর বয়সী উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি রোববার টেক্সাসের অস্টিনে ঘটে। গার্সেস পেরেজ তখন ডোরড্যাশের হয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি তার গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর সেটি পুলিশের গাড়ি হিসেবে থামানো হয় এবং আইসের এক কর্মকর্তা তার গাড়িতে গুলি চালান। গুলিতে তার শরীরের ওপরের অংশে আঘাত লাগে। গার্সেস পেরেজের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি এসইউভি তার গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি সেটিকে আক্রমণাত্মক চালকের আচরণ বলে মনে করেন এবং নিজের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে গাড়িটি আবার তার গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং পুলিশি বাতি জ্বালানো হয়। এক কর্মকর্তা তার কাছে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান এবং গাড়ি থেকে নামতে বলেন। গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি গাড়িটি রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আইস কর্মকর্তা গুলি চালান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাইরেন ও গাড়ির টায়ারের শব্দের পর একটি অচিহ্নিত এসইউভি থেকে একজন কর্মকর্তাকে নামতে এবং এরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও গুলির পরিস্থিতি তদন্তাধীন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সেস পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে অস্টিন থেকে প্রায় ১৩০ মাইল দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও তার শরীরে, মেরুদণ্ডের কাছাকাছি, গুলি আটকে ছিল বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের ফোনে জানান, তিনি ভালো নেই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। তার আইনজীবীর দাবি, আটককেন্দ্রে তিনি তীব্র ব্যথায় ছিলেন এবং একপর্যায়ে শরীরের বাম পাশ, হাত ও পায়ে অনুভূতি কমে যায়। পরে পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গের কথা জানানোর পর সোমবার রাতে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এসব অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগটি জানিয়েছে, গার্সেস পেরেজ আটককেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা এবং ব্যথানাশক ওষুধ পাচ্ছিলেন এবং তিনি একটি বিছানায় ঘুমিয়েছেন। শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেনি। তবে গুলি অপসারণ করা হবে কি না, সেটি চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছে বিভাগটি। ঘটনার পর গার্সেস পেরেজের আইনজীবীরা তার মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে অপসারণ বন্ধের দাবিতে মামলা করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবারের আপডেট অনুযায়ী, একজন ফেডারেল বিচারক আপাতত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ বন্ধ রাখার জন্য জরুরি আদেশও দিয়েছেন। গার্সেস পেরেজের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বৈধতা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, তিনি জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে তার আইনজীবী বলছেন, তিনি ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু থাকা সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে বৈধভাবে সীমান্তে প্রবেশের আবেদন করে একটি প্রবেশবন্দরে হাজির হন এবং সেখানেই তাকে পরীক্ষা করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের নির্দিষ্ট প্রবেশবন্দরে সাক্ষাতের সময় নিতে পারতেন। ট্রাম্প প্রশাসন পরে এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবেশ করা অভিবাসীদের বৈধ অবস্থান বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। এদিকে গার্সেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় তদন্তটি পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, গুলি চালানো আইস কর্মকর্তাকে তদন্ত চলাকালে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন ঘটনাটির স্বাধীন ও তৃতীয় পক্ষের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আইস নিজেই এই ঘটনার তদন্ত করলে তা উপযুক্ত হবে না। তিনি অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম ঘিরে ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামনে এলো। এর আগে টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযানের সময় গাড়ি থামিয়ে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি আলাদা এবং গার্সেস পেরেজের ঘটনায়ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলিবর্ষণ আইনসঙ্গত ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) পরিচালক পদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত রিচার্ড শ্রয়ারের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সেনেটে তার মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে আটকে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত জুনে শ্রয়ারকে আইস-এর প্রধান তথা ডিএইচএস-এর সহকারী মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন ট্রাম্প। মিনেসোটায় এজেন্ট-জড়িত গোলাগুলির ঘটনার তদন্তের বিস্তারিত তথ্য দাবি করে শ্রয়ারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া আটকে দেন রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল। ফলে সেনেটের 'হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স' কমিটিতেই আটকে যান শ্রয়ার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছে। গত এপ্রিলে টড লায়ন্স আইস-এর শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বর্তমানে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিড ভেনচুরেলা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর থেকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সেনেট কর্তৃক অনুমোদিত কোনো স্থায়ী পরিচালক পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) আটক করেছে। তবে তাঁর আইনজীবীর দাবি, কর্মকর্তারা আসলে তাঁকে আটক করতে যাননি। অন্য একজনকে খুঁজতে গিয়ে ভুল পরিচয়ের কারণে তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে। ৪৬ বছর বয়সী হুয়ান জেরার্দো আলাতোরে মার্তিনেজকে গত ৩০ জুলাই ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কনওয়ে শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। আইনজীবী লিসা সেইফার্ট নিউজউইককে জানান, মার্তিনেজ সেখানে পূর্ণকালীন কাজ করতেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন। সেইফার্টের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্তিনেজ ২০০০ সালের বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাঁর বড় ভাইয়ের মাধ্যমে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন করেন। আটকের আগের দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে মার্তিনেজ ওই গ্যাস স্টেশনের বাইরে আইসের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখতে পান। পরে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা স্বীকার করেন যে ওই সময় কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেছেন। মার্তিনেজের আইনজীবীর ধারণা, এর সঙ্গে তাঁর সম্প্রতি কেনা একটি রুপালি রঙের হোন্ডা গাড়ির বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। গাড়িটি তিনি আগের মালিকের কাছ থেকে কিনেছিলেন, কিন্তু তখনও গাড়িটির নিবন্ধন নিজের নামে পরিবর্তন করেননি। সেইফার্টের মতে, আইস কর্মকর্তারা গাড়িটির খোঁজ করতে গিয়ে সেটির বর্তমান মালিক মার্তিনেজের কাছে পৌঁছে থাকতে পারেন। তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি শুক্রবার জানায়, ৩০ জুলাই কনওয়েতে মার্তিনেজকে আটকের জন্য আইস একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। বিভাগটি তাঁকে অপরাধে দণ্ডিত অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্তিনেজ ২০১৬ সালে স্থগিত বা বাতিল হওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ২০২০ সালে একই অভিযোগে আবারও তাঁর সাজা হয়। ওই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ পান করতে দেওয়া বা সরবরাহ করার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে মার্তিনেজের আইনজীবী বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আদালতে তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসের হেফাজতে রয়েছেন। বর্তমানে মার্তিনেজ ওয়াশিংটনের টাকোমায় অবস্থিত নর্থওয়েস্ট আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। আগামী ৮ অক্টোবর তাঁর পরবর্তী আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। আইনজীবী আশা করছেন, আদালত তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনা করে তাঁকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেবে। মার্তিনেজের সহায়তায় অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযানও শুরু হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে মার্তিনেজকে কনওয়ের পরিচিত ও প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে তাঁকে মজা করে ‘কনওয়ের মেয়র’ বলে ডাকতেন, কারণ তিনি এলাকার অনেক মানুষকে চিনতেন এবং গ্যাস স্টেশনে কাজ করার সময় নিয়মিত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলতেন। প্রায় নয় বছর আগে মার্তিনেজের সঙ্গে পরিচয় হয় ওয়াশিংটনের বিগ লেকের বাসিন্দা টিম ফেরেলের। তিনি তাঁর বাড়িতে বাগানের কাজসহ বিভিন্ন কাজে মার্তিনেজকে নিয়োগ করেছিলেন। ফেরেল মার্তিনেজকে বুদ্ধিমান, বন্ধুবৎসল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আটকের পর তাঁকে আইনি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতেও ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লিন্ডসে ব্রুকস জানান, গ্যাস স্টেশনে মার্তিনেজের অনুপস্থিতি স্থানীয়দের চোখে পড়ছে। তাঁর ছেলে মার্তিনেজকে আটকের খবর শুনে কষ্ট পেয়েছিল বলেও তিনি জানান। এদিকে আটকের পরও মার্তিনেজ মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। আটক কেন্দ্রে তিনি ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব তৈরি করেছেন বলে আইনজীবী জানান। মার্তিনেজের মামলায় একদিকে তাঁর অতীতের ফৌজদারি দণ্ডের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে তিনি যে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, সেটিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর পরবর্তী শুনানিতে এসব বিষয় কীভাবে সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) তাদের 'থার্ড কান্ট্রি' বা তৃতীয় দেশে বিতাড়ন কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। সিবিএস নিউজের হাতে আসা মার্কিন সরকারের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আফগানিস্তান, কিউবা, নিকারাগুয়াসহ অন্যান্য দেশের ১০০ জনের বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকা মহাদেশের আটটি দেশে বিতাড়িত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আইসের তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এসব নারী-পুরুষকে বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নিরক্ষীয় গিনি, এসওয়াতিনি, লাইবেরিয়া, রুয়ান্ডা এবং সিয়েরা লিওনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিতাড়িত এই অভিবাসীদের কেউই সেসব দেশের নাগরিক নন। গত দেড় সপ্তাহে আফগান, কিউবান ও নিকারাগুয়ানদের পাশাপাশি ইরান, নেপাল, তুরস্ক এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরও আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন সরকারের এই অভ্যন্তরীণ নথিগুলো প্রকাশ্যে আসার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। নিজ দেশের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও চুক্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের সম্পূর্ণ অপরিচিত ও দূরবর্তী দেশে নির্বাসিত করার এই অভিযান ক্রমশ জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। লাতিন আমেরিকার কোস্টারিকা, পানামা ও প্যারাগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। তবে বর্তমানে আফ্রিকার অনেক দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এই চুক্তিতে জড়াচ্ছে, যার মধ্যে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং দক্ষিণ সুদানের মতো সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত দেশগুলোও রয়েছে। ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশগুলো কেবল আফ্রিকার অন্যান্য স্থানের অভিবাসীদের গ্রহণ করলেও এসওয়াতিনি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলো লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আসা বন্দীদেরও গ্রহণ করছে। আফ্রিকায় বিতাড়িত এসব অভিবাসীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও অনেকেই কেবল অবৈধভাবে প্রবেশ বা বৈধ নথিপত্রের অভাবের কারণে আইসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ফ্লাইটে সিয়েরা লিওন এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বন্দীদের নামানো হয়। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 'লেভেল ফোর' সতর্কতা জারি রয়েছে। এদিকে, এ বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে আবেদন করে, তবে আইন অনুযায়ী তাদের জন্য একটি নিরাপদ দেশের ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যদিকে তারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে তাদের বিনা মূল্যে ফ্লাইট এবং ৩ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হয়। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিতাড়িত হওয়া এক ২৪ বছর বয়সী আফগান যুবকের ঘটনা এই নীতির ভয়াবহ দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে। খলিল নামের ওই যুবকের পরিবার আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হয়ে কাজ করেছিল এবং সে নিজেও মার্কিন অভিবাসন আদালতে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে তৃতীয় এই দেশে বিতাড়িত করেছে। মার্কিন মেরিন কর্নেল জাচারি শ্মিডট, যিনি খলিলের ভাইয়ের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, তিনি খলিলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্মিডট জানান, খলিলকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তালেবানরা তাকে হত্যা করবে। খলিলের আইনজীবী আলমা ডেভিডের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার শামিল।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউতে গিয়ে আইসের হাতে আটক হয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক মা। কেনটাকির লুইসভিলে ১২ আগস্ট ঘটে এ ঘটনা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন নাগরিক স্বামী এবং তাদের দেড় বছরেরও কম বয়সী শিশু সন্তান। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক নারীর নাম আর্মেল বন্ডোঙ্গা। তিনি মূলত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর নাগরিক। ২০১৩ সালে শিশু বয়সে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন তিনি।তার আইনজীবী আরিয়ানিত ওসমানি জানান, বন্ডোঙ্গা ও তার স্বামী টেরেন্স ব্র্যাডশ তাদের বিয়ের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তারা নির্ধারিত ইন্টারভিউতে উপস্থিত হয়েছিলেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউ শেষে বন্ডোঙ্গাকে আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বন্ডোঙ্গা নিজেই নিয়ম অনুযায়ী ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউতে হাজির হয়েছিলেন। বন্ডোঙ্গার স্বামী মার্কিন নাগরিক। তাদের ছোট সন্তানও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। স্ত্রী আটক হওয়ার পর শিশুসন্তানের দেখাশোনাসহ পরিবারের দৈনন্দিন দায়িত্ব এখন একাই সামলাচ্ছেন ব্র্যাডশ।তবে আইস এই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি নিউজউইককে জানিয়েছে, বন্ডোঙ্গা ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয় ২০১৪ সালের মার্চে। এরপর তিনি অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। আইসের দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক বন্ডোঙ্গার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিমুভাল অর্ডার দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের একটি কার্যকর আদেশ আগে থেকেই ছিল। এ কারণে ঘটনাটি শুধু একটি সাধারণ গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে গিয়ে হঠাৎ আটকের বিষয় নয়। বন্ডোঙ্গার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চূড়ান্ত রিমুভাল অর্ডার থাকার বিষয়টি মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কোনো বিদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ স্ট্যাটাস বা গ্রিন কার্ড পান না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালায়ও বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যের করা ইমিগ্রেশন পিটিশন নিজে থেকে কোনো ব্যক্তিকে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না এবং সেটি রিমুভাল কার্যক্রমও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে না। বন্ডোঙ্গার আইনজীবী অবশ্য তার আটকের পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, বন্ডোঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করছিলেন এবং সেই উদ্দেশ্যেই স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সরকারি ইন্টারভিউতে গিয়েছিলেন। কেনটাকির ডেমোক্র্যাট স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিমা কুলকার্নিও বন্ডোঙ্গার আটকের সমালোচনা করেছেন। তবে আইস বলছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বৈধ রিমুভাল অর্ডার ছিল এবং তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ঠিক করার চেষ্টা করছেন এমন পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো রিমুভাল অর্ডার, ভিসা ওভারস্টে বা ইমিগ্রেশন কোর্টের মামলা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন চলমান থাকা নিজে থেকে আইসের আটক বা রিমুভাল ঠেকায় না।বন্ডোঙ্গা বর্তমানে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। তার পরিবার ও আইনজীবীরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। অন্য শিশুদের মতো স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাঁচ বছরের নোয়াও। তবে এবার তার সবচেয়ে বড় অপেক্ষা নতুন বই বা স্কুলব্যাগের জন্য নয়, মায়ের জন্য। কারণ নিয়মিত একটি অভিবাসন সাক্ষাৎকারে যাওয়ার পর থেকে তার মা মাইসা লোপেস এলিয়াসের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর হেফাজতে রয়েছেন। আর স্ত্রীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে এখন আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য অ্যালেক্সিস হারামিলো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএএলবি (KALB) জানায়, স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস হারামিলো গত ১১ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া এই বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশের সেবায় গর্বিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে 'প্রতারিত' মনে করছেন। হারামিলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই তিনি, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের ছেলে নোয়া আলাবামার মন্টগোমারিতে একটি নির্ধারিত অভিবাসন সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যান। সাক্ষাৎকার চলাকালে আইস কর্মকর্তারা তার স্ত্রীকে আলাদা কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাদের জানানো হয়, মাইসা লোপেস এলিয়াসেরকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমার ছেলের সামনেই জানানো হয় তার মাকে আটক করা হয়েছে। সেই মুহূর্তের কথা মনে করাও খুব কষ্টের।" ২০১৯ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মাইসা। পরে হারামিলোর সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনও করা হয়। তবে অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল গাহাগান জানান, মাইসা নির্ধারিত একটি বায়োমেট্রিকস (আঙুলের ছাপ ও পরিচয় যাচাই) সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এর ফলে তার আশ্রয় আবেদন বাতিল হয় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়। হারামিলো বলেন, তারা মনে করেছিলেন বিয়ের পর নতুন করে জমা দেওয়া কাগজপত্রের কারণে আগের বায়োমেট্রিকস সাক্ষাতে আর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আইন অনুযায়ী একটি আবেদন অন্য প্রক্রিয়াকে বাতিল করে না। বর্তমানে হারামিলোর আইনজীবী মামলাটি পুনরায় চালুর আবেদন করেছেন। আইনজীবীদের আশা, আদালত আবেদন গ্রহণ করলে আপাতত বহিষ্কারের প্রক্রিয়া স্থগিত হতে পারে। তবে এরই মধ্যে আইস ব্রাজিলের কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। স্ত্রীকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন হারামিলো। তিনি বলেন, মামলার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই চাপ তার ব্যক্তিগত জীবন তো বটেই, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তার ভাষায়, "আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা আমার ছেলে। স্কুল শুরু হয়েছে, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো তার মা তাকে স্কুলের প্রথম দিনে নিয়ে যেতে পারছে না।" বর্তমানে মাইসা লুইজিয়ানার ব্যাসিলে অবস্থিত আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। তার স্বামীর দাবি, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। যদি শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রীকে ব্রাজিলে ফেরত পাঠানো হয়, সেটিই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন বলে মন্তব্য করেন হারামিলো। তিনি বলেন, "আমরা আইন ভাঙার চেষ্টা করছি না। বরং আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চেয়েছি।" হারামিলো যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের প্রতি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের ব্যয় মেটাতে একটি গোফান্ডমি তহবিলও চালু করেছেন। এদিকে, এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও আইসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: কেএএলবি (KALB), গ্রে নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) কর্মকর্তাদের জন্য বিদ্যুৎ শক দিতে সক্ষম বিশেষ ধরনের গ্লাভস কিনতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত একটি ক্রয়সংক্রান্ত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রকাশের পরই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিএইচএসের নোটিশ অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে আইসের কর্মকর্তা ও এজেন্টদের ব্যবহারের জন্য হাজার হাজার 'গ্লোভ (Generated Low Output Voltage Emitter)' কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো তৈরি করে কেন্টাকির লেক্সিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই গ্লাভস সাধারণ টহল গ্লাভসের মতোই ব্যবহার করা যায়। তবে প্রয়োজনে একটি সুইচ চাপলে এটি বিদ্যুৎ শক দেওয়ার মোডে চলে যায়। কারও খোলা ত্বকে স্পর্শ করালে এটি তীব্র ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং সাধারণত তিন সেকেন্ডেরও কম সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এতে পোড়া দাগ, ক্ষত বা স্থায়ী চিহ্ন পড়ে না। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এ প্রযুক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তুলনামূলক কম দৃশ্যমান এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক একটি পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কারাগারেও এ ধরনের গ্লাভস ব্যবহারের নজির রয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য প্রিভেনশন অব ইন-কাস্টডি ডেথসের সভাপতি জন পিটার্স, যিনি এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বিদ্যুৎ শকের অনুভূতি অনেকটা মৌমাছির হুল ফোটানোর মতো তীব্র ও তাৎক্ষণিক। তার মতে, কেউ প্রতিরোধ করলে কর্মকর্তাদের জন্য এটি কার্যকর একটি নিয়ন্ত্রণমূলক সরঞ্জাম হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতি বাস্তবায়নের সময় আইসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ আগেই উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ শক দেওয়ার নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ আরও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) পুলিশিং প্রকল্পের উপপরিচালক জেন রলনিক বোরকেটা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগে এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তার গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষায়, "গত এক বছরে আইস দেখিয়েছে যে তারা খুব দ্রুত বলপ্রয়োগে যায়। এখন একটি বোতাম চাপলেই তারা বিদ্যুৎ শক ব্যবহার করতে পারবে, যা হয়তো অন্য কেউ দেখতেও পারবে না। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।" অন্যদিকে জন পিটার্সের ধারণা, আইসের এই ক্রয়াদেশ সম্ভবত কোম্পানিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে যাচ্ছে। তার মতে, গাড়ি, বাড়ি বা আটককেন্দ্রে সহযোগিতা না করা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মকর্তারা এ গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এটি কোনোভাবেই শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। শুধু মৌখিকভাবে প্রতিবাদ বা অসহযোগিতা করছেন, এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর এ গ্লাভস ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ নিকলাস ই-মেইলে জানান, এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে অপারগ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জুলাই মাসে দেশজুড়ে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসের আটকের সংখ্যা জুন মাসের তুলনায়ও বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আইস এর হেফাজতে প্রায় ৬৮ হাজার ব্যক্তি রয়েছেন, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের নির্দেশনার পরই এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইস এর অভিযান শুধু কর্মস্থল বা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। বিমানবন্দর, অভিবাসন চেক-ইন অফিস, ট্রাফিক স্টপ, আদালত প্রাঙ্গণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বা অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা অনেক অভিবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অভিবাসন যাচাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাদের অভিবাসন মামলা চলমান বা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তারা ভ্রমণের আগে আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে এসব অভিবাসীর একটি বড় অংশ বহিষ্কারের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, যদি তারা অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন সুবিধা অর্জন করতে না পারেন। অভিযান জোরদারের মধ্যেই গত মাসে টেক্সাস ও মেইনে পৃথক ঘটনায় আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুটি ঘটনাই এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, বর্তমান প্রশাসনের অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। বিভাগের তথ্যমতে, এর মধ্যে আনুমানিক ২২ লাখ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন। একই সময়ে ৯ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে বহিষ্কার এবং ১০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নিজস্ব তথ্য। এগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে যাদের অভিবাসন আবেদন বিচারাধীন, যাদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা অন্যান্য অস্থায়ী সুবিধা রয়েছে, কিংবা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে কোনো জটিলতা আছে, তাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে নতুন ধারা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর অভিযান জোরদার করেছে। একই সময়ে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই দুটি পরিবর্তনের ফলে যাদের অ্যাসাইলাম, স্ট্যাটাস পরিবর্তন, গ্রিন কার্ড বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের জন্য বিমান ভ্রমণ আগের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, লাস ভেগাস, ডেনভার, ন্যাশভিলসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে যাত্রীদের আটক করার ঘটনা বেড়েছে। এসব অভিযানে শুধু চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই নন, কিছু ক্ষেত্রে বিচারাধীন ইমিগ্রেশন আবেদন বা ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়েছে। এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ঘটে যাওয়া একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। গত সপ্তাহে বাল্টিমোর ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিডব্লিউআই) অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক ফাতিমা আমেকাকে আইস আটক করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, তিনি ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণেই অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী, গবেষক ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিমানবন্দরে অভিযানের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য আইস এর কাছে পাঠায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ৮০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়। ডিএইচএস বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের স্বার্থে সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান প্রদান আইনসম্মত। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের জন্য তৈরি যাত্রী তথ্যব্যবস্থা এখন বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগেও ব্যবহৃত হওয়ায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এদিকে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন। ইউএসসিআইএস সম্প্রতি একটি অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত বিধি কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার না নিয়েই আবেদনটি সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠাতে পারবেন। সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের মামলার জট কমানো এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন আইন কর্মকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, সাক্ষাৎকারের সুযোগ কমে গেলে অনেক আবেদনকারী তাদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বা আশ্রয় চাওয়ার কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে পারেন। যদিও কোনো আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠানো মানেই সেটি বাতিল নয়। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ পাবেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরাও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, যাদের অ্যাসাইলাম মামলা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন, গ্রিন কার্ড বা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন এখনো বিচারাধীন, তারা অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণের আগে অবশ্যই নিজেদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। একই সঙ্গে ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা। ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিচারাধীন আবেদন থাকা মানেই সবাইকে আটক করা হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। প্রতিটি মামলার আইনি অবস্থা, নথিপত্র এবং ব্যক্তির অভিবাসন ইতিহাস আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, ডিএচএস, ইউএসসিআইএস এবং অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ অনুসরণ করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ফেডারেল সংস্থা অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট (ওআরআর) থেকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কাছে তথ্য সরবরাহের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ১২ হাজারের বেশি শিশু, তাদের অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ওআরআর অভিভাবকহীন শিশু, তাদের অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি তথ্য ও তদন্তসূত্র আইসের কাছে পাঠিয়েছে। অতীতে শিশু কল্যাণ কার্যক্রমকে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম থেকে আলাদা রাখা হলেও বর্তমান নীতিতে সেই অবস্থান বদলে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ২৪ বছর বয়সী এক অভিবাসী মা, ছদ্মনাম অরোরার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় নিজের ছয় বছরের মেয়েকে ফিরে পেতে তিনি ছয় মাস চেষ্টা করেন। মা ও মেয়ের পুনর্মিলনের কয়েক দিনের মধ্যেই দুজনকে আইস আটক করে টেক্সাসের একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রে পাঠায়। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও অরোরাকে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে নিয়মিত কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওআরআর ১৯৮০ সালে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো সীমান্তে একা আসা শিশুদের আশ্রয় ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সংস্থাটিকে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের আইনের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের দ্রুত নিরাপদ অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিভাবকদের অভিবাসনগত অবস্থান নির্বিশেষে পারিবারিক পুনর্মিলন নিশ্চিত করা। বাইডেন প্রশাসনের সময় ওআরআরের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেন স্মায়ার্স রয়টার্সকে বলেন, শিশু সুরক্ষার জন্য আগে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে এবং শিশু কল্যাণ কর্মসূচিকে আরও বেশি মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ওআরআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুদের গ্রেপ্তারে তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন। অন্যদিকে ডিএইচএস বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপর্যাপ্তভাবে যাচাই করা বা অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যেই ওআরআর থেকে আইসের তদন্ত শাখায় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈধভাবে বসবাসকারী এক গ্রিনকার্ডধারী নারীকে গত এক বছর ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ ধরে নিয়ে যাওয়া ওই নারীর মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তার দুই কন্যা। প্রায় ১২ মাস ধরে বন্দি থাকা এই নারীর মুক্তি ও ডিপোর্টেশন (দেশত্যাগ) ঠেকানোর চেষ্টায় এখন আন্তর্জাতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম শিকাগো ট্রিব্রিউন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আটক ওই নারীর নাম বেয়াটা সিমিওনকোভিক। তিনি পোল্যান্ডের নাগরিক হলেও ১৯৯৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। ২০০৩ সালে তিনি দেশটির স্থায়ী বাসিন্দার অনুমোদন বা গ্রিনকার্ড অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করেছিলেন তিনি। পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রবীণদের সেবিকা বেয়াটা তার দুই মেয়েকে নিয়ে রাউন্ড লেক এলাকায় বসবাস করতেন। ঘটনাবলির সূত্রপাত ২০২৫ সালের আগস্টে। শিকাগোর শহরতলি ডেস প্লেইনসে নিজ মেয়ের বাড়ির বাগানে গাছপালার পরিচর্যা করছিলেন বেয়াটা। সে সময় হঠাৎ সাধারণ পোশাকে মুখে মাস্ক পরা দুই আইসিই কর্মকর্তা সেখানে হাজির হয়ে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। সেদিনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তার মেয়ে ক্লাউদিয়া (২৫) জানান, খবরটি প্রথম তারা জানতে পারেন তাদের সত্-বাবা জনের ফোনের মাধ্যমে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের জানিয়েছিলেন, চোখের সামনে থেকে মুহূর্তের মধ্যে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তার কিছুই করার ছিল না। গ্রেপ্তারের পর তাকে কেন্টাকির ক্যাম্পবেল কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রায় ৬০ জন নারীর সঙ্গে গাদাগাদি করে তাকে রাখা হয়, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী। নোংরা পরিবেশ, অপরিস্কার সেল এবং এমনকি মারাত্মক অপরাধীদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল তাকে। আইসিই সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ২০০৫ এবং ২০১১ সালে দোকানে ছোটখাটো চুরির অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বেয়াটার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০০১ সালে অভিবাসন সুবিধার জন্য ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তার পরিবার ও আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, বহু বছর আগেই জরিমানা এবং আদালতের নজরদারির মেয়াদ শেষ করে সেই পুরনো আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছিল। কঠিন সময়ে সন্তানদের জন্য ছোটখাটো চুরির ভুলের এত বছর পর এমন কঠোর পদক্ষেপকে অন্যায় বলে দাবি করছেন তার পরিবার। তবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র শিকাগো ট্রিব্রিউনকে বলেছেন, "গ্রিনকার্ড থাকা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ। দেশের আইন লঙ্ঘন বা অপব্যবহার করা হলে সেই অনুমোদন বাতিল করার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।" গত বছরের ডিসেম্বরে অভিবাসন আদালত তার ডিপোর্টেশনের নির্দেশ দিলেও তার পরিবার এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে। এদিকে বেয়াটার মতোই একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন ডোনা হিউজ-ব্রাউন নামের এক আইরিশ নাগরিক। তবে সম্প্রতি তার ওপর থেকে ডিপোর্টেশনের আদেশ বাতিল করে আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে। ডোনা এখন বেয়াটার মুক্তির জন্য জোর দাবি তুলছেন এবং আশা করছেন যে তার মামলার আইনি নজির ব্যবহার করেই বেয়াটাকে আইসিই-এর বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে। মায়ের আইনি লড়াইয়ের খরচ চালানো এবং ঘরের বন্দক পরিশোধ করতে গিয়ে ছোট মেয়ে গ্যাবি (২১) তার নার্সিং পড়াশোনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। দুই বোন মিলে মায়ের আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইলিনয়ের প্রভাবশালী সিনেটর ডিক ডারবিনের কার্যালয়ও এই পরিবারটিকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। নিজের জন্মভূমি পোল্যান্ডে এখন আর বেয়াটার চেনা কেউ নেই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার, সন্তান ও জীবন ছেড়ে তাকে আবারও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার।
মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কথা বলে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন অফিসে গত ৩ জুন সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে আটক হন কনর রিড নামের ওই তরুণ। প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাকে যুক্তরাজ্যে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টির চ্যাথামে জন্ম নেওয়া কনর রিড ২০০৭ সালে পরিবারের সঙ্গে শিক্ষার্থী ভিসার অধীনে নির্ভরশীল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি আমেরিকান স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন এবং জীবনের সিংহভাগ সময় দেশটিতে কাটালেও মাত্র একবার যুক্তরাজ্যে যান। ২০১১ সালে প্রথমবার তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, বয়সের কারণে তিনি 'ড্যাকা' (DACA) কর্মসূচির আওতায় আইনি সুরক্ষা ও কাজ করার অনুমতি পান। তবে পরবর্তীতে অ্যালকোহল গ্রহণ, মাদকের সরঞ্জাম রাখা এবং পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ২২ বছর বয়সে তার ড্যাকা স্ট্যাটাস নবায়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি অনুযায়ী তাকে ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে মার্কিন নাগরিক জায়লিনকে বিয়ে করেন কনর। তাদের তিন বছর বয়সী দুটি জমজ সন্তানও রয়েছে। বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের বা ‘গ্রিন কার্ড’ পেতে তিনি আবেদন করেছিলেন। ৩ জুন টাম্পার ইমিগ্রেশন সেন্টারে সাক্ষাৎকার চলাকালেই চারজন আইস কর্মকর্তা তাকে হঠাৎ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। তাকে প্রথমে পিনেল্যাস কাউন্টি জেলে এবং পরবর্তীতে লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। আইস (ICE)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন নির্দেশনায় গুরুতর ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হচ্ছে। কনর বর্তমানে এই চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে অন্তত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন শিকাগো এলাকার এক নারী। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) হেফাজতে থাকা ওই নারীকে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবিসি৭ শিকাগোর অনুসন্ধানী বিভাগ আই টিম। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে তাকে ইলিনয়ের ব্রডভিউ আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে ইন্ডিয়ানার ব্রাজিল শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জায়গাটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ভিডিও কলে তিনি এবিসি৭ শিকাগোকে বলেন, “মানুষ তাদের বিড়াল-কুকুরেরও এর চেয়ে ভালো যত্ন নেয়। জায়গাটি এতটাই খারাপ ছিল যে এটি সম্ভবত বন্ধ করে দেওয়া উচিত।” বর্তমানে তিনি কেন্টাকির একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। সেখানে একই কক্ষে আরও ১৩ জন নারীর সঙ্গে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একবারও তাজা ফল বা সবজি পাননি। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে খোলা বাতাসে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এদিকে তার স্বামী মার্ক গুল্ড একজন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি শিকাগো এলাকায় বসবাস করছেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বর্তমানে ৩০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব। সাম্প্রতিক এক ভিডিও কলে মার্ক গুল্ড বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি তার একটি বার্তার অপেক্ষায় থাকি। প্রথম মেসেজটি পেলেই কিছুটা স্বস্তি পাই।” বর্তমানে দম্পতির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেক্সট বার্তা এবং মাঝে মধ্যে বন্দিদের জন্য অনুমোদিত ভিডিও কল। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই নারী। তিনি বলেন, যেকোনো সময় তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে তিনি আশা হারাননি। তার ভাষায়, “সেই দিন আসবে। আমি জানি খুব শিগগিরই আসবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা আবার একসঙ্গে হব, আর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।” পরে প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই নারীর নাম এয়ারিদা গুল্ড। তিনি মূলত ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়ার নাগরিক। মার্কিন নাগরিক মার্ক গুল্ডকে বিয়ের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন এবং বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। সেই আবেদনের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়েই তিনি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন। এবিসি৭ শিকাগোর প্রতিবেদনে তার আইনজীবী জানান, এয়ারিদা গুল্ডের অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। প্রতিবেদনে তাকে আটকের নির্দিষ্ট আইনি কারণ বা তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অ্যামাজনের পার্সেল সরবরাহের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর হাতে আটক হয়েছেন চীনের মানবাধিকার আইনজীবী উ শাওপিং। তাঁর এসাইলাম আবেদন এখনো বিচারাধীন থাকলেও তাঁকে আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও চীনা ভিন্নমতাবলম্বীরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির মাউন্ট হলি স্প্রিংস এলাকায় অ্যামাজনের পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার সময় আইস কর্মকর্তারা উ শাওপিংকে থামান। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁর নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইলে তিনি বিচারাধীন আশ্রয় আবেদনের নথি দেখিয়ে জানান যে তিনি বৈধভাবে পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপরও তাঁকে আটক করে পেনসিলভানিয়ার একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। উ শাওপিং ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে মানবাধিকার আইনজীবীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের সময় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০২০ সালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, যার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এ সময় তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা মানবাধিকারকর্মীদের বিভিন্ন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। চীনে থাকাকালে উ শাওপিং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ফালুন গং অনুসারী এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের জিয়ামেনে মানবাধিকারকর্মীদের একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ডিং জিয়াশি ও শু ঝিয়ং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দণ্ডিত হন। ওই ঘটনার পরপরই উ শাওপিং যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। উ শাওপিংয়ের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর স্বামী সবসময় চীনের সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিলেন। কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার সমালোচনার কারণেই তিনি নিপীড়নের শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উ শাওপিংয়ের অভিবাসন আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৭ জুলাই নির্ধারিত রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের আশঙ্কা, তাঁকে যদি চীনে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সেখানে তিনি কারাবাসসহ গুরুতর নিপীড়নের মুখে পড়তে পারেন। এ ঘটনার বিষয়ে আইস এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেয়নি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আটক এবং অভিবাসন প্রয়োগ নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বৈধভাবে বসবাসের পরও ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে নামের এক গ্রিন কার্ডধারীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। জ্যামাইকায় ছুটি কাটিয়ে শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসন অভিবাসন আইন কঠোর করার পর থেকে লিন্ডসের মতো বহু বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদেরও এখন অভিবাসন দপ্তরের কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এবং আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে মূলত জ্যামাইকার নাগরিক হলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে বৈধ পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ইলিনয়ের জোলিয়েটে একটি ওয়ালমার্ট ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি রেস্তোরাঁয় শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে গত ছয় বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং তাদের যৌথ পরিবারে ৫ সন্তান ও ৭ নাতি-নাতনি রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ও’হেয়ার বিমানবন্দরে নামার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা লিন্ডসেকে আটকে দেন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করায় বিমানবন্দরে সাধারণ গ্রিন কার্ডধারীদের নথিপত্র এবং অতীত ইতিহাস পুনরায় নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১৪ সালে লিন্ডসের বিরুদ্ধে একটি পারিবারিক সাধারণ সহিংসতার (মিসডিমিনর ডোমেস্টিক ব্যাটারি) অভিযোগ এবং প্রায় ১০ বছর আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিইউআই) একটি ট্রাফিক মামলা ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম ডব্লিউজিএন ৯ (WGN 9) জানায়, লিন্ডসে এর আগেও বহুবার কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেছেন। আদালতের রায়ে বিচারক উল্লেখ করেছেন যে, লিন্ডসের অতীত অপরাধগুলো এককভাবে বিবেচনা করলে তেমন গুরুতর নয়, তবে একসঙ্গে দেখলে তা আইনের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞার ইঙ্গিত দেয়। লিন্ডসে জামিন পাওয়ার যোগ্য হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মুক্তি না দিয়ে কেন্টাকির হপকিন্স কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর লিন্ডসের স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই, কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ডও নেই। সে শতভাগ বৈধ একজন মানুষ, তাও আইস তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে।” দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। লিন্ডসের আইনজীবীরা গত জুন মাসে কেন্টাকির ফেডারেল আদালতে একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ (অবৈধ আটকাদেশ চ্যালেঞ্জকারী রিট) পিটিশন দায়ের করেছেন। প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসের এই ধরপাকড় চ্যালেঞ্জ করে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যা বিগত তিনটি প্রশাসনের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। কেন্টাকির যে কেন্টাকি ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে লিন্ডসের মামলাটি বিচারাধীন, সেখানে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি রিট আবেদন জমা পড়েছে। ইউসি বার্কলের ‘ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে আইস গ্রেপ্তার করেছে। জুন মাসের শেষ দিকে মাত্র ৫ দিনে ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়। বর্তমানে আইসের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, শুধু লিন্ডসে একাই নন, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নাতক মাহমুদ খলিল এবং মিলওয়াকি ইসলামিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসুরের মতো দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ডধারীদেরও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক মাস করে আটকে রাখা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তারা মুক্তি পান। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, যারা অবৈধ বা নিয়মের বাইরে আছেন, তাদের নিজ খরচে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। লিন্ডসের পরিবার এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।