আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের New York অঙ্গরাজ্যের Buffalo শহরে ৫৬ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার গ্রেফতারের সময় ধারণ করা পুলিশের বডি-ক্যাম ফুটেজে তাকে কালেমা পাঠ করতে শোনা গেছে- যা প্রকাশের পর কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে বাফেলোর ডাউনটাউন এলাকার পেরি স্ট্রিট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কয়েকদিন আগেই তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই তার মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। কমিউনিটির অভিযোগ, মুক্তির পর তাকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একটি বন্ধ দোকানের সামনে রেখে যাওয়া হয়। প্রকাশিত বডি-ক্যাম ফুটেজ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট এলাকায় সন্দেহজনক উপস্থিতির অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে নুরুল আমিন শাহ আলমকে শনাক্ত করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাতে একটি সরু রড বা লাঠিসদৃশ বস্তু ছিল এবং পুলিশ বারবার সেটি ফেলে দিতে নির্দেশ দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তারা টেজার ব্যবহার করেন। পরে তাকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরানো হয়। ধস্তাধস্তির মাঝেই তাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” পাঠ করতে শোনা যায়। একই সময়ে তাকে ইংরেজিতে “I can’t breathe” বলতেও শোনা যায়। পুলিশের দাবি, তিনি গ্রেফতারের সময় প্রতিরোধ করেছিলেন এবং দুই কর্মকর্তাকে কামড় দেন। তবে তার আইনজীবী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, শাহ আলম ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন এবং ভাষাগত সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে তার বিরুদ্ধে হামলা ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়। আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে এরি কাউন্টি হোল্ডিং সেন্টারে নেওয়ার পর U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইস) তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করে। জেল থেকে মুক্তির কয়েকদিনের মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তারা পুরো ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি হালনাগাদ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের Buffalo শহরে রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমের রহস্যময় মৃত্যুকে ঘিরে কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এই করুণ পরিণতি ঘটেছে। শাহ আলম ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রায় অন্ধ এই মিয়ানমার নাগরিক স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাফেলোতে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয় অন্যের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ, আঘাত ও ‘অস্ত্র’ রাখার অভিযোগে। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তথাকথিত অস্ত্রটি ছিল একটি পর্দার রড, যা তিনি চলাচলের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতেন। গ্রেফতারের পর তাকে এক বছর রাখা হয় Erie County Holding Center-এ। তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ‘ডিটেইনার’ জারি করে U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইস)। পরিবার আশঙ্কা করেছিল, জামিনে মুক্তি পেলে তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হতে পারে এই ভয়ে দীর্ঘদিন জামিন চাওয়া হয়নি। সম্প্রতি দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তির প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। তবে পরে জানা যায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বর্ডার পেট্রোল সদস্যরা তাকে হোল্ডিং সেন্টার থেকে নিয়ে যায় এবং রাতের দিকে ব্ল্যাক রক এলাকার নায়াগ্রা স্ট্রিটের একটি কফি শপে নামিয়ে দেয়। পরিবার জানায়, তিনি চোখে প্রায় দেখতেন না, ইংরেজি জানতেন না এবং নিজের বর্তমান বাসার ঠিকানাও স্পষ্টভাবে বলতে পারতেন না। ওইদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শাহ আলম। কয়েকদিন পর শহরের পেরি স্ট্রিট এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় অনুসন্ধানী গণমাধ্যম Investigative Post জানায়, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মৃত্যুকে ‘স্বাস্থ্যগত’ বলে উল্লেখ করেছেন; এটি ঠান্ডাজনিত মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ড নয়। তবে কমিউনিটির প্রশ্ন একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, ভাষাজ্ঞানহীন শরণার্থীকে সন্ধ্যার পর শহরের অন্যপ্রান্তে নামিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল? তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কার ছিল? বাফেলোর রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতারা বলছেন, শরণার্থীদের সহায়তা ও তদারকিতে স্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। মানবাধিকার কর্মীরাও বলছেন, এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়—বরং পুরো শরণার্থী ব্যবস্থাপনার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানের ধরন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে জারি করা একটি মেমোর ভিত্তিতে U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইসি) কর্মকর্তাদের বিচারকের স্বাক্ষরবিহীন প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে ব্যক্তিদের বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে একটি হুইসেলব্লোয়ার সংগঠন। সংগঠনটির দাবি, এই মেমোটি ছিল ‘গোপনীয়’, যা তারা পরে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের স্বার্থে বিচারকের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনিক ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে অভিযান চালানো যেতে পারে। এই নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিবাসী কমিউনিটিতে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করছে, হঠাৎ কোনো সময় আইসি কর্মকর্তারা তাদের বাসায় ঢুকে পড়তে পারেন। বিশেষ করে মিশ্র স্ট্যাটাস পরিবারের ক্ষেত্রে উদ্বেগ আরও বেশি—যেখানে পরিবারের কেউ নাগরিক, কেউ অনিবন্ধিত। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী-এর (Fourth Amendment) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যেখানে বাড়িতে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বিচারকের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, বিচারকের নজরদারি ছাড়া এমন ক্ষমতা অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, দ্রুত ও কার্যকর অভিযান নিশ্চিত করতেই প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আইসি বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এদিকে, মেমোটি নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত ও শুনানির দাবি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনে U.S. Congress-এ আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করবে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে লাখো অভিবাসী পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে।
আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে জোরদার করা হয়েছে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান। এই অভিযানের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের এলাকা। হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করে চালানো এই অভিযানে স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি যত উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই সক্রিয় হয়ে উঠছে ‘আইস অবজারভার’ নামে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক নেটওয়ার্কগুলো। এসব স্বেচ্ছাসেবক মূলত ICE–এর অভিযান পর্যবেক্ষণ, ভিডিও ধারণ এবং সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করার কাজ করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘আইস অবজারভার’রা সাধারণ নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী ও কমিউনিটি সংগঠকদের সমন্বয়ে গঠিত। তারা আইনসম্মত দূরত্ব বজায় রেখে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নথিভুক্ত করেন এবং প্রয়োজনে আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে আইনি সহায়তার তথ্য পৌঁছে দেন। তাদের দাবি, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সংঘাত সৃষ্টি নয়; বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও নাগরিক অধিকার রক্ষা। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই অভিযান মূলত অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজন। তবে স্থানীয় নেতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অভিযানের ধরন অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ অভিবাসী পরিবার এমনকি মার্কিন নাগরিকদের মাঝেও ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিনিয়াপোলিসে চলমান এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতি, ফেডারেল ক্ষমতার সীমা এবং নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ককে আরও গভীর করছে। ‘আইস অবজারভার’দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সেই সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধেরই একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস