সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আটক আফগানদের দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা আদালতে স্থগিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:২৯
যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি আদালত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট আফগান নাগরিকদের প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে।

 

আদালতের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতি এবং আফগান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানে ফেরত গেলে নির্যাতন বা নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন তৈরি করে।

 

নিউইয়র্কের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট জজ ভ্যালেরি ক্যাপ্রোনি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত আটক আফগান নাগরিকদের আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তানে ডিপোর্ট করতে পারবে না মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

 

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ২০০ আফগান নাগরিককে প্রথমে পাকিস্তানে পাঠিয়ে পরে সেখান থেকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল বলে সিবিএস নিউজকে জানান এক মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁদের অনেকে লুইজিয়ানার আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার্টার্ড ফ্লাইটে পাকিস্তানে নেওয়ার পর স্থলপথে তাঁদের আফগানিস্তানে পাঠানোর কথা ছিল।

 

আদালতে সরকারি আইনজীবীরা জানান, চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে পাঠানোর জন্য আইসিইর কোনো নির্ধারিত কিংবা নিশ্চিত ফ্লাইট নেই। সরকারের এই বক্তব্য মেনে চলার নির্দেশ দিয়েই বিচারক সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন।

 

আফগান নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা অতীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন অথবা যাঁদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছিলেন। তাঁদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তালেবান সরকারের অধীনে প্রতিশোধমূলক নির্যাতন, আটক কিংবা প্রাণনাশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৬৬ সদস্য সম্ভাব্য ডিপোর্টেশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা আফগান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন আফগানইভ্যাক আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংগঠনটির সভাপতি শন ভ্যানডাইভার জানিয়েছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।

 

অন্যদিকে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, তৃতীয় দেশে কাউকে ডিপোর্ট করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নোটিশ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিশ্চয়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পাকিস্তান হয়ে আফগানদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি সংস্থাটি।

 

আদালতের এই আদেশে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের ডিপোর্টেশন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিও হয়নি। আগামী ৭ নভেম্বরের পর স্থগিতাদেশ বাড়ানো হবে কি না, তা পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।

 

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের
মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করার পর নিজের বিজয়ী ভাষণে তিনি তার সমালোচক ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে তিনি নিজের এই বিজয়কে একটি ‘মধুর পরিহাস’ বলে মন্তব্য করেছেন।   ভাষণে জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে এল-সায়েদ আরবি আদরের ডাক ‘হাবিবি’ (আমার প্রিয়) শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, "জেডি, হাবিবি, এর চেয়ে মধুর পরিহাস আর কী হতে পারে যে, আগামী জানুয়ারিতে সাংবিধানিকভাবে তুমিই আমাকে শপথ পাঠ করাতে বাধ্য থাকবে!" মিশিগান ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, "এর মানে হলো— ভলভারিন ১, বাকআই ০।   " উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারণায় ভ্যান্স তাকে ‘সাইকোপ্যাথ’ এবং ‘শ্বেতাঙ্গবিরোধী বিদ্বেষ’ ছড়ানোর কারিগর বলে আক্রমণ করেছিলেন। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে তাচ্ছিল্য করে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকতেন এবং দাবি করেছিলেন যে, সিনেটে গেলে এল-সায়েদকে মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া জবাবে তিনি বলেন, "ডোনাল্ড, আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে আপনার কষ্ট হয়। তাই জেডি আমাকে শপথ পড়ানোর পর থেকে আপনি আমাকে শুধু ‘সিনেটর’ বলে ডাকলেই চলবে।"   প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকেও ছাড় দেননি এল-সায়েদ। নির্বাচনের আগে রজার্স অভিযোগ করেছিলেন যে, এল-সায়েদ কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ইসলামবিদ্বেষী ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা। বিজয়ী ভাষণে রজার্সকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আপনি বেছে নিয়েছিলেন ঘৃণাকে, আর মিশিগান বেছে নিয়েছে আশাকে।   আমরা যেন এই অঙ্গরাজ্যে আপনার মতো কাউকে আর কখনো দেখতে না পাই।" এল-সায়েদের এই আত্মবিশ্বাসী ও ব্যঙ্গাত্মক ভাষণ মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের শক্তিশালী উপস্থিতিরই একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১২:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর দুর্গম পাহাড়ে নিখোঁজ দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পাহাড়ে হাইকিং এর সময় দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা

ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক

দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাচ্ছে ২৩ দেশের নাগরিক, বাংলাদেশীদের জন্য দুঃসংবাদ

ছবি: শাজিয়া হক, মন্টেবেলো সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী। (সংগৃহীত)
নির্বাচনে জয় আসেনি, তবুও দমে না যাওয়ার প্রত্যয় বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী শাজিয়া হকের

প্রতিবেদন: আমেরিকা বাংলা | লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী প্রার্থী শাজিয়া হক। গতকাল ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শহরটির ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচনে জয় না এলেও দমে যেতে রাজি নন এই প্রার্থী। ভবিষ্যতে আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার শেষ নয়; বরং নতুন অভিজ্ঞতা ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা।   মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১-এর নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে জর্জিনা তামায়ো বিজয়ী হয়েছেন। অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কিম্বারলি কোবোস কাথর্ন এবং রাফায়েল সান্তোয়া। এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, জর্জিনা তামায়ো পেয়েছেন ৫৩ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট, কিম্বারলি কোবোস কাথর্ন ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, রাফায়েল সান্তোয়া ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং শাজিয়া হক পেয়েছেন ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট। ফলাফলটি প্রকাশিত প্রাথমিক ভোট গণনার ভিত্তিতে।   নির্বাচনে পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে শাজিয়া হক তাঁর নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে জীবনে এই প্রথম কোনো সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী হিসেবে সাহস নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে তিনি নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বলে মনে করেন। তাঁর মতে, নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও নতুন প্রজন্মের জন্য একটি পথ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী রাজনীতিতে অংশ নিতে উৎসাহিত হন।   নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন শাজিয়া। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচারণার জন্য তিনি দুই মাসেরও কম সময় পেয়েছিলেন। মন্টেবেলো শহরে তাঁর বসবাসের সময়ও মাত্র তিন বছর। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পরিচিতি তৈরি করা, ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নিজের নির্বাচনী পরিকল্পনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও জানান, চারজন প্রার্থীর মধ্যে বাকি তিনজনই হিস্পানিক সম্প্রদায়ের ছিলেন। শহরের স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশের সঙ্গে তাঁর আগে থেকে পরিচিতি না থাকায় প্রচারণায় বাড়তি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।   শাজিয়া হক তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন ও পরিবারবান্ধব প্রতিবেশ, ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়ন, উন্নত সড়ক ও অবকাঠামো এবং নগরবাসীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল ‘পুটিং আওয়ার রেসিডেন্টস ফার্স্ট’—অর্থাৎ বাসিন্দাদের স্বার্থকে সবার আগে রাখা। এসব বিষয়কে সামনে রেখে স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।   পরাজয়ের পরও নিজের প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট শাজিয়া। তিনি জানান, পরিবার, ব্যক্তিগত ও পেশাগত দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি গত দুই মাস কঠোর পরিশ্রম করেছেন। যারা তাঁকে ভোট দিয়েছেন, প্রচারণায় সহযোগিতা করেছেন, পাশে থেকেছেন এবং সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।   শাজিয়া হক স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্বাচন তাঁর জীবনের শেষ নির্বাচন নয়। ভবিষ্যতের জন্য তিনি আশাবাদী এবং নতুন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও এগিয়ে যেতে চান। নির্বাচনে জয় না এলেও তাঁর এই অংশগ্রহণ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নারীদের স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ও উৎসাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

আটক আফগানদের দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা আদালতে স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে বুকে পাথর বেধে ডেমোক্র্যাটদের শুভেচ্ছা জানালেন ট্রাম্প, বললেন ‘ভালো কাজ করেছে’

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দিয়েও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

রিপাবলিকানদের পেছনে ৪৪ কোটি ডলার সহায়তা, পরাজয়ে ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে ইলন মাস্কের রসিকতা

প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব পাস
ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের জন্য বড় সুখবর, প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব পাস

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকদের প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ‘অ্যামেন্ডমেন্ট ৩’ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে নিজস্ব বাড়িতে বসবাসকারী যোগ্য বাসিন্দাদের জন্য হোমস্টেড এক্সেম্পশন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। নতুন নিয়মে অনেক বাড়ির মালিকের বছরে এক হাজার থেকে দুই হাজার ডলারের বেশি প্রপার্টি ট্যাক্স সাশ্রয় হতে পারে।   ফ্লোরিডা ডিভিশন অব ইলেকশনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, অ্যামেন্ডমেন্ট ৩-এর পক্ষে ভোট পড়েছে প্রায় ৪৯ লাখ এবং বিপক্ষে প্রায় ৩০ লাখ। অঙ্গরাজ্যটির সংবিধান সংশোধনের জন্য কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। প্রস্তাবটি সেই সীমা অতিক্রম করায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২ নিউজ এবং সিবিএস মায়ামি ভোটারদের অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ির মালিকদের জন্য নন-স্কুল প্রপার্টি ট্যাক্সের হোমস্টেড এক্সেম্পশন ২০২৭ সালে বেড়ে হবে দেড় লাখ ডলার। ২০২৮ সালে তা আরও বাড়িয়ে আড়াই লাখ ডলার করা হবে। এরপর ২০২৯ সাল থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে এই সুবিধার পরিমাণ বাড়ানো হবে। বর্তমানে যোগ্য বাড়ির মালিকেরা সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের প্রচলিত হোমস্টেড এক্সেম্পশন সুবিধা পান। নতুন ব্যবস্থায় তার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।   হোমস্টেড এক্সেম্পশন হলো নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত বাড়ির করযোগ্য মূল্য থেকে নির্দিষ্ট অঙ্ক বাদ দেওয়ার সুবিধা। যেমন, কোনো বাড়ির নির্ধারিত করযোগ্য মূল্য চার লাখ ডলার হলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালে নন-স্কুল প্রপার্টি ট্যাক্স হিসাবের ক্ষেত্রে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত এক্সেম্পশন পাওয়া যেতে পারে। ফলে অবশিষ্ট মূল্যের ওপর সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। তবে স্কুল পরিচালনার জন্য ধার্য প্রপার্টি ট্যাক্স এই ছাড়ের আওতায় পড়বে না।   করনীতি গবেষণা সংস্থা ফ্লোরিডা ট্যাক্সওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের গড় নন-স্কুল ট্যাক্স রেট বিবেচনায় একজন যোগ্য বাড়ির মালিক ২০২৭ সালে বছরে প্রায় ১ হাজার ৩৫ ডলার এবং ২০২৮ সালে প্রায় ২ হাজার ৮৫ ডলার সাশ্রয় করতে পারেন। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে বাড়ির অ্যাসেসড ভ্যালু, কাউন্টি, স্থানীয় ট্যাক্স রেট এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়মের ওপর।   তবে ফ্লোরিডায় নতুন বসবাস শুরু করা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শর্ত রয়েছে। যাঁরা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্লোরিডার বাসিন্দা হবেন না, তাঁরা যোগ্যতা অর্জনের পর প্রথমে প্রচলিত হোমস্টেড এক্সেম্পশন পাবেন। বাড়তি সুবিধা পেতে তাঁদের হোমস্টেড এক্সেম্পশন পাওয়ার পঞ্চম বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই বিধান যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কার্যকর হবে। এ কারণে নতুন বাড়ির ক্রেতা ও ফ্লোরিডায় স্থানান্তরিত পরিবারগুলোর নিয়মটি বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।   অ্যামেন্ডমেন্ট ৩-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ভাড়ার বাড়ি, দ্বিতীয় বাড়ি এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তির অ্যাসেসড ভ্যালু বৃদ্ধির বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা। এতে এসব সম্পত্তির মালিকেরাও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কর বৃদ্ধির চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে ভাড়াটিয়ারা সরাসরি হোমস্টেড এক্সেম্পশনের সুবিধা পাবেন না।   এদিকে প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্তে স্থানীয় সরকারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। ফ্লোরিডা ট্যাক্সওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকারগুলোর প্রায় ৪ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী অর্থবছরে প্রায় ৮ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব কমার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রাস্তা, পার্ক, লাইব্রেরি, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবার অর্থায়নে চাপ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে এই পরিবর্তন বাড়ির মালিকদের বড় আর্থিক স্বস্তি দেবে।   ফ্লোরিডার বাড়ির মালিকেরা নিজ নিজ কাউন্টির প্রপার্টি অ্যাপ্রেইজার অফিসের মাধ্যমে হোমস্টেড এক্সেম্পশনের যোগ্যতা ও করযোগ্য সম্পত্তির মূল্য যাচাই করতে পারবেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ব্যক্তিগত প্রপার্টি ট্যাক্স কতটা কমতে পারে, তা জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:৩০
অভিনেতা রবার্ট রাজপল

মায়ের ১২ লাখ পাউন্ডের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন, বোনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের অভিনেতার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়,  জয়ী ৬০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন

ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়, জয়ী ৬০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন

0 Comments