রিপাবলিকানদের পেছনে ৪৪ কোটি ডলার সহায়তা, পরাজয়ে ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে ইলন মাস্কের রসিকতা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ৪৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থসহায়তা দিয়েও বড় পরাজয় ঠেকাতে পারলেন না বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার নিজের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রসিকতা করে বলেন, এবার বোধ হয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী তাঁর মহাকাশের লেজার কাজ করেনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বড় সাফল্য পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। নির্বাচনের এই ফল সামনে আসার পর বুধবার ভোরে এক্সে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন মাস্ক। তাঁর মন্তব্যটি ছিল নিজের রাজনৈতিক প্রভাব এবং নির্বাচনে বিপুল অর্থব্যয় নিয়ে রসিকতা, বাস্তবে কোনো লেজার ব্যবহার করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের স্বীকারোক্তি নয়।
নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রিপাবলিকান প্রার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পক্ষে মাস্কের অর্থসহায়তা প্রায় ৪৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল ১৪ অক্টোবরের মধ্যেই। পরবর্তী অনুদান যোগ হলে এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যয়ের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর এক নির্বাচনী চক্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া ব্যক্তিগত দাতা হিসেবে উঠে এসেছেন তিনি।
মাস্কের দেওয়া অর্থের বড় অংশ গেছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা পিএসি এবং রিপাবলিকানদের সমর্থনকারী সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে। বিশেষ করে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে জেতাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। সেপ্টেম্বরে মাস্কের দেওয়া প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকানদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এএফপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে পরাজিত হন প্যাক্সটন।
টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনেও মাস্কের সমর্থিত রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট পরাজিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোহোসার কাছে। নির্বাচনী প্রচারণায় হিনোহোসা বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ ও পানির ওপর সেগুলোর প্রভাব নিয়ে সরব ছিলেন। নির্বাচনে তাঁর জয়ের পর মাস্ক আরেকটি পোস্টে রসিকতা করে লেখেন, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণাটি এখন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।
এদিকে বিজয়ের পর টেক্সাসের রাজধানী অস্টিনে দেওয়া ভাষণে জেমস তালারিকো নির্বাচনে বিপুল অর্থের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শক্তি ছিল। তারপরও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জয় অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
ইলন মাস্ক ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ট্রাম্পের অন্যতম বড় আর্থিক সমর্থক ছিলেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসনে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রশাসন ছাড়ার পর দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবার রিপাবলিকানদের সহায়তায় বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।
তবে এত বড় বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় মাস্কের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে টেসলা, স্পেসএক্স এবং তাঁর অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি চুক্তি ও নিয়ন্ত্রক তদারকির ক্ষেত্রেও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: এএফপি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে সাড়া দিতে গিয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে এক শেরিফ ডেপুটি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরেক ডেপুটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর বেঁচে থাকার আশা দেখছেন না বলে জানিয়েছে স্থানীয় শেরিফ অফিস। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্পোকেন কাউন্টি শেরিফ অফিস এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে স্পোকেন কাউন্টির স্প্যাঙ্গল এলাকার সাউথ স্মাইথ রোডের একটি বাড়িতে গুলির খবর পায় পুলিশ। এক নারী প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে জানান, তাঁর ভাই তাঁকে গুলি করেছেন। একই বাড়িতে আরও কয়েকজন আটকা থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাঁর কাছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র থাকার আশঙ্কাও ছিল। বাড়ির ভেতরে অন্যদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষায়িত সোয়াট টিমকে ডাকা হয়। বিকেল সোয়া তিনটার দিকে কর্মকর্তারা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে হঠাৎ গুলি চালানো হয়। এতে সোয়াট টিমের দুই ডেপুটি গুরুতর আহত হন। অন্য কর্মকর্তারা পাল্টা গুলি চালানোর পাশাপাশি আহত সহকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গুলিবিদ্ধ দুই ডেপুটিকে দ্রুত প্রভিডেন্স সেক্রেড হার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তাঁদের একজন মঙ্গলবার রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যজনের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বুধবার শেরিফ অফিস জানায়, দ্বিতীয় কর্মকর্তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি অঙ্গদাতা হিসেবে নিবন্ধিত থাকায় তাঁর অঙ্গদানের বিষয়েও প্রস্তুতি চলছে। নিহত কর্মকর্তা স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। অন্য আহত কর্মকর্তারও দুই সন্তান রয়েছে। এদিকে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীসহ তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ বাড়ির উঠানে এবং অন্য দুজনের মরদেহ বাড়ির ভেতরে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি কীভাবে মারা গেছেন, তা এখনো তদন্তাধীন। যে নারী প্রথমে পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্পোকেন কাউন্টির শেরিফ জন নাওয়েলস জানিয়েছেন, আহত দুই কর্মকর্তা সোয়াট টিমের অপেক্ষাকৃত তরুণ সদস্য ছিলেন। অন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে তাঁরা বিপদের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো শেরিফ অফিস শোকাহত। ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসনও নিহত ও আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে স্পোকেন ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ রেসপন্স টিম। তদন্তে সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন স্টেট প্যাট্রোল। পুলিশের পাল্টা গুলি চালানোর ঘটনা এবং প্রাথমিক পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ—দুটি বিষয়ই তদন্তের আওতায় রয়েছে। নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে পরিবারগুলোকে বিষয়টি জানানো এবং তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
ইরান যুদ্ধের বিতর্কেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলগামী মার্কিন শিক্ষার্থীকে আটক ও হাত ভাঙার অভিযোগ, হাসপাতালে অস্ত্রোপচার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল সাঈদ, গবেষণাতেও উজ্জ্বল
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন ৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ। তবে তার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ডা. সারাহ জুকাকুর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমকাহিনি। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ডেট্রয়েটের এক সমাবেশে স্বামীর হয়ে সারাহর দেওয়া একটি আবেগঘন ও জোরালো বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তাকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়। মিশরীয় বংশোদ্ভূত এল-সায়েদ এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত সারাহর প্রেমকাহিনির শুরুটা হয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়ার সময়। সেখানে মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং দ্রুতই সেই বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয়। সারাহ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী, তখনই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এল-সায়েদ। দুজনে একসঙ্গে পথ চলার ও বিকশিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০০৬ সালের মে মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। বর্তমানে এই দম্পতির এমিলি ও সেরিন নামের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এল-সায়েদ রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই দীর্ঘ এই যাত্রায় তার ছায়াসঙ্গী হিসেবে পাশে থেকেছেন সারাহ। পেশায় একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট) ডা. সারাহর জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তার শেকড় ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকালে। তার দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন সাবেক মহীশূর রাজ্যের একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদ। অন্যদিকে, স্ত্রী সারাহর কারণে এল-সায়েদও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি দারুণ অনুরক্ত হয়ে উঠেছেন। এক সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে তিনি বলেছিলেন, "আমি ২০ বছর ধরে এক দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে যুক্ত... আমি হয়তো এখন আরবের চেয়েও বেশি ভারতীয়!" স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে গর্ব করে নিজেকে 'দেশি নারীদের দিয়ে ঘেরা' একজন সৌভাগ্যবান মানুষ বলেও দাবি করেন ইতিহাস গড়া এই সিনেটর।
‘আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় হয়ে গেছি’, স্ত্রীকে নিয়ে আবদুল এল-সায়েদের রসিকতা
এক ঘণ্টার নৌযাত্রায় বেড়িয়ে তিন মাস সমুদ্রে! ৪ জনের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ৫
এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ১২ কোটি টাকার স্কলারশিপ পেলেন নাবিল
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি বিরোধে নতুন মোড় এসেছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার শর্ত পূরণ না করলে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যকে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা খাতের নির্দিষ্ট সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না—এমন শর্ত আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। রয়টার্সের ৪ নভেম্বর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র এ বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষে রায় দেন। ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি কেন্দ্রীয় সরকারের ওই শর্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। নিউ জার্সির নেতৃত্বে এই আইনি লড়াইয়ে অংশ নেয় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য। বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্দিষ্ট দুটি অনুদান কর্মসূচিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত যেসব শর্ত আরোপ করেছিল, সেগুলো আইনসম্মত নয়। আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে এসব শর্ত কার্যকর করা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিরত রেখেছেন। বিতর্কের মূল বিষয় ছিল, অঙ্গরাজ্যগুলোকে নির্দিষ্ট ফেডারেল অনুদান পেতে হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এর মধ্যে অঙ্গরাজ্যের হেফাজতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং তাঁদের মুক্তির বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে অবহিত করার মতো শর্তও ছিল। অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের অনুমোদিত অনুদান কর্মসূচিতে বিচার বিভাগ নিজ উদ্যোগে এমন অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করতে পারে না। তাদের দাবি, এ ধরনের শর্ত আরোপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন নীতির সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ অর্থকে রাজনৈতিক বা অভিবাসন নীতির শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। এই অনুদান কর্মসূচিগুলো অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন জননিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করে। এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরঞ্জাম কেনা, মাদক পাচার মোকাবিলা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং শিশু-কিশোরদের বিচারব্যবস্থাসংক্রান্ত কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদানের সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ওই অনুদানের শর্ত প্রত্যাহার করে প্রশাসন। এবারের রায় নির্দিষ্ট কিছু ফেডারেল অনুদান কর্মসূচিতে অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত আরোপের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যগুলোর অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এটি আইসিইর অভিযান বা কেন্দ্রীয় সরকারের সব ধরনের অভিবাসন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাও নয়। আদালত মূলত নির্দিষ্ট সরকারি অনুদানের সঙ্গে যুক্ত করা শর্তগুলোর বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের জননিরাপত্তা কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় অনুদানের ভূমিকা রয়েছে। তবে এই রায় কোনো ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা, গ্রিন কার্ড, ভিসা বা নির্বাসনসংক্রান্ত মামলায় সরাসরি পরিবর্তন আনে না। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ করা অভিবাসনসংক্রান্ত শর্তের মুখে পড়বে না। অভিবাসন নীতি ও অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিতর্কে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে আরও এক মৃত্যু, সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কম বলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় ১৫ লাখ আবেদন, জানুন স্টেটভিত্তিক নতুন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য