এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ১২ কোটি টাকার স্কলারশিপ পেলেন নাবিল
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাননি। প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় শুনতে হয়েছে নানা সমালোচনা ও কটূক্তি। তবে সেই ফলাফলকে নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী নাবিল। যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ১২ কোটি টাকা সমমূল্যের স্কলারশিপের প্রস্তাব পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে তাঁর। এর মধ্যে নক্স কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক পড়ার জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন তিনি।
রাজধানীর মতিঝিল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী নাবিল। এইচএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আশপাশের মানুষের সমালোচনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা নিয়েও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।
দেশের প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন নাবিল। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তে পরিবারের সদস্যসহ পরিচিত অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
এসব বাধা সত্ত্বেও নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি নাবিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্কলারশিপের প্রস্তাব পান। তাঁর পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নক্স কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি।
নক্স কলেজ ছাড়াও আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তির প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানা গেছে। সব মিলিয়ে এসব প্রস্তাবের আর্থিক মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অর্থ একসঙ্গে পাওয়া নগদ অর্থ নয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া পৃথক স্কলারশিপের সম্মিলিত মূল্য হিসেবে অঙ্কটি উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গেলসবার্গ শহরে অবস্থিত নক্স কলেজ একটি বেসরকারি লিবারেল আর্টস কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরও স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। নাবিল এই কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসাও পেয়েছেন নাবিল। ফলে দেশটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছেন তিনি।
নাবিলের এই অর্জন এমন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশিত না হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনুসন্ধানের পথ খোলা থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানভেদে আবেদনকারীর অন্যান্য যোগ্যতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামগ্রিক প্রোফাইলও বিবেচনা করা হয়।
এইচএসসির ফলাফল নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া নাবিলের উচ্চশিক্ষার যাত্রা তাই নতুন এক সম্ভাবনার গল্প। জিপিএ-৫ না পাওয়ার হতাশা পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এই তরুণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়ে নতুন নজির গড়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আবদুল এল সাঈদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। তবে শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য গবেষণায় তাঁর দীর্ঘদিনের কাজও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একজন চিকিৎসক, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হওয়াকে বিজ্ঞানভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী আবদুল এল সাঈদ মিশিগানে বেড়ে ওঠা মিসরীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। রাজনীতিতে আসার আগেই একাডেমিক গবেষণায় পরিচিতি অর্জন করেন এল সাঈদ। তাঁর নামে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত একাধিক পিয়ার রিভিউড গবেষণাপত্র রয়েছে। গুগল স্কলারেও তাঁর গবেষণার প্রোফাইল রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গবেষণায় তাঁর প্রকাশনার উদ্ধৃতির তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গবেষণাকাজ হাজার হাজারবার উদ্ধৃত হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে উদ্ধৃতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। জনস্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে কাজ করেছেন এল সাঈদ। স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব বিষয় পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এবারের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে মেডিকেয়ার ফর অল কর্মসূচির পক্ষে তাঁর অবস্থান ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে তাঁর জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্যও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সাফল্য। নির্বাচনে জয়ী হলেও আবদুল এল সাঈদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। তিনি অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তাঁর নির্বাচনী সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে একজন সক্রিয় গবেষকের আইনসভায় প্রবেশ বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য ও সরকারি নীতিনির্ধারণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়ে নতুন নজির গড়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আবদুল এল সাঈদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। তবে শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য গবেষণায় তাঁর দীর্ঘদিনের কাজও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একজন চিকিৎসক, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হওয়াকে বিজ্ঞানভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী আবদুল এল সাঈদ মিশিগানে বেড়ে ওঠা মিসরীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। রাজনীতিতে আসার আগেই একাডেমিক গবেষণায় পরিচিতি অর্জন করেন এল সাঈদ। তাঁর নামে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত একাধিক পিয়ার রিভিউড গবেষণাপত্র রয়েছে। গুগল স্কলারেও তাঁর গবেষণার প্রোফাইল রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গবেষণায় তাঁর প্রকাশনার উদ্ধৃতির তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গবেষণাকাজ হাজার হাজারবার উদ্ধৃত হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে উদ্ধৃতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। জনস্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে কাজ করেছেন এল সাঈদ। স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব বিষয় পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এবারের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে মেডিকেয়ার ফর অল কর্মসূচির পক্ষে তাঁর অবস্থান ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে তাঁর জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্যও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সাফল্য। নির্বাচনে জয়ী হলেও আবদুল এল সাঈদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। তিনি অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তাঁর নির্বাচনী সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে একজন সক্রিয় গবেষকের আইনসভায় প্রবেশ বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য ও সরকারি নীতিনির্ধারণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
মার্কিন সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ ও তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রীর চমৎকার প্রেমকাহিনি
‘আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় হয়ে গেছি’, স্ত্রীকে নিয়ে আবদুল এল-সায়েদের রসিকতা
এক ঘণ্টার নৌযাত্রায় বেড়িয়ে তিন মাস সমুদ্রে! ৪ জনের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ৫
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাননি। প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় শুনতে হয়েছে নানা সমালোচনা ও কটূক্তি। তবে সেই ফলাফলকে নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী নাবিল। যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ১২ কোটি টাকা সমমূল্যের স্কলারশিপের প্রস্তাব পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে তাঁর। এর মধ্যে নক্স কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক পড়ার জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন তিনি। রাজধানীর মতিঝিল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী নাবিল। এইচএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আশপাশের মানুষের সমালোচনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা নিয়েও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। দেশের প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন নাবিল। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তে পরিবারের সদস্যসহ পরিচিত অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এসব বাধা সত্ত্বেও নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি নাবিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্কলারশিপের প্রস্তাব পান। তাঁর পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নক্স কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি। নক্স কলেজ ছাড়াও আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তির প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানা গেছে। সব মিলিয়ে এসব প্রস্তাবের আর্থিক মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অর্থ একসঙ্গে পাওয়া নগদ অর্থ নয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া পৃথক স্কলারশিপের সম্মিলিত মূল্য হিসেবে অঙ্কটি উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গেলসবার্গ শহরে অবস্থিত নক্স কলেজ একটি বেসরকারি লিবারেল আর্টস কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরও স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। নাবিল এই কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসাও পেয়েছেন নাবিল। ফলে দেশটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছেন তিনি। নাবিলের এই অর্জন এমন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশিত না হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনুসন্ধানের পথ খোলা থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানভেদে আবেদনকারীর অন্যান্য যোগ্যতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামগ্রিক প্রোফাইলও বিবেচনা করা হয়। এইচএসসির ফলাফল নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া নাবিলের উচ্চশিক্ষার যাত্রা তাই নতুন এক সম্ভাবনার গল্প। জিপিএ-৫ না পাওয়ার হতাশা পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এই তরুণ।
অভিবাসন নীতির শর্তে সরকারি অনুদান বন্ধের চেষ্টা আটকাল আদালত, স্বস্তি পেল ২৩ অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে আরও এক মৃত্যু, সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কম বলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় ১৫ লাখ আবেদন, জানুন স্টেটভিত্তিক নতুন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক আদালতের রায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় ভাড়ার অনুমতিপত্র না থাকলে বাড়িওয়ালারা ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করতে আইনি বাধার মুখে পড়তে পারেন। ৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আউটলিয়ার মিডিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে রায় দেন। রায়ে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ভাড়ার অনুমতিপত্র ছাড়া কোনো বাড়ির ভাড়ার চুক্তি আইনগতভাবে কার্যকর না-ও হতে পারে। মামলাটি ওকল্যান্ড কাউন্টির একটি ভাড়াবাড়িকে কেন্দ্র করে হলেও এর প্রভাব ডেট্রয়েটের ভাড়াবাড়ির বাজারেও পড়তে পারে। কারণ শহরটির অনেক ভাড়াবাড়ির প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হলে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকা বাড়ির মালিকদের জন্য ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা কঠিন হতে পারে। তবে এই রায়ের অর্থ এমন নয় যে ভাড়াটিয়ারা ইচ্ছামতো ভাড়া দেওয়া বন্ধ করতে পারবেন। বাড়িওয়ালারা ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তি নবায়ন না করার মতো অন্য আইনি পথেও ব্যবস্থা নিতে পারেন। ডেট্রয়েটের সংশ্লিষ্ট আদালত নতুন রায়টি কীভাবে প্রয়োগ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি ভাড়াটিয়াদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িওয়ালার সঙ্গে কোনো বিরোধ তৈরি হলে নিজের ভাড়ার চুক্তি, বাড়ির অনুমতিপত্র এবং স্থানীয় আইনের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন। ভাড়া বন্ধ করার আগে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। এই রায় ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এটি মিশিগানের সব ভাড়াটিয়ার জন্য উচ্ছেদ বন্ধের নিশ্চয়তা নয়। মামলার পরবর্তী আইনি প্রয়োগের ওপরই এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর নীতিতে ক্ষুব্ধ ভারতীয় আমেরিকানরা, কমছে রিপাবলিকান সমর্থন
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে জিপ কিনতে গিয়ে জাল চেকে গ্রেপ্তার নারী, জামিন করাতে এসে ধরা সঙ্গিনীও