অপমানের ভিডিও ভাইরাল, চার সন্তানের বাবার জন্য প্রায় ৮ লাখ ডলার দিলেন মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানের শিকার হওয়া এক কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন হাজারো মানুষ। চার সন্তানের বাবা ওই কর্মীর জন্য অনলাইন তহবিলে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ডলার অনুদান জমা পড়েছে। মানুষের এমন অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
ওই কর্মীর নাম ওয়াল্ট জেরড। তিনি রেড ব্যারন ব্র্যান্ডের পিৎজা সরবরাহ ও দোকানের ফ্রিজে পণ্য সাজানোর কাজ করেন। সম্প্রতি একটি মুদি দোকানে কাজ করার সময় দুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁকে নিয়ে একটি কৌতুকের ভিডিও ধারণ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ওয়াল্টের কাছে সময় জানতে চান। সময় দেখার জন্য তিনি নিজের ফোন বের করলে ওই ব্যক্তি তাঁর ফোনে টাকা লেনদেনের মতো শব্দ বাজিয়ে দাবি করেন, তিনি ওয়াল্টের কাছ থেকে ১০ ডলার নিয়ে নিয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আরও ঠাট্টা করতে থাকেন তাঁরা।
প্রথমে ওয়াল্ট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বারবার বিরক্ত করার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের কষ্টের কথা জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার চেয়েও বেশি সময় কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। বাড়িতে তাঁর চার সন্তান অপেক্ষা করছে। অথচ পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরদিন ভোর ৫টায় উঠে আবার কাজে যেতে হবে এবং একাধিক দোকানে পণ্য সরবরাহ করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে এ ধরনের ঠাট্টা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই ওই কর্মীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাঁকে অপমান করার ঘটনায় ক্ষোভ জানান।
এরপর লুক ওকেনশিল্ড নামের অ্যারিজোনার এক ব্যক্তি ওয়াল্টের সহায়তায় গত ২৭ অক্টোবর অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওয়াল্টকে চিনতেন না। তবে ভিডিওটি দেখে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ ওই তহবিলে অর্থ পাঠাতে শুরু করেন। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮০০ জনের অনুদানে জমা পড়ে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৩ ডলার। প্রাথমিকভাবে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ লাখ ডলার।
এদিকে কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানও। রেড ব্যারনের মূল প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তাঁর সুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।
এত মানুষের ভালোবাসা ও সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওয়াল্ট। তবে পরিবারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
৫ নভেম্বর দেওয়া সর্বশেষ বার্তায় তিনি জানান, মানুষের সহযোগিতায় পরিবারের সঙ্গে বাড়তি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অনুদান সংগ্রহ কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
যাঁরা অন্যদের সাহায্য করতে চান, তাঁদের স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠান, অসহায় পরিবার কিংবা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একটি অপমানের ভিডিও শেষ পর্যন্ত হাজারো মানুষের মানবিকতার গল্পে পরিণত হয়েছে। একজন পরিশ্রমী বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ দেখিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু অপমান ছড়ানোর মাধ্যম নয়, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিশালী জায়গাও হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানের শিকার হওয়া এক কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন হাজারো মানুষ। চার সন্তানের বাবা ওই কর্মীর জন্য অনলাইন তহবিলে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ডলার অনুদান জমা পড়েছে। মানুষের এমন অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। ওই কর্মীর নাম ওয়াল্ট জেরড। তিনি রেড ব্যারন ব্র্যান্ডের পিৎজা সরবরাহ ও দোকানের ফ্রিজে পণ্য সাজানোর কাজ করেন। সম্প্রতি একটি মুদি দোকানে কাজ করার সময় দুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁকে নিয়ে একটি কৌতুকের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ওয়াল্টের কাছে সময় জানতে চান। সময় দেখার জন্য তিনি নিজের ফোন বের করলে ওই ব্যক্তি তাঁর ফোনে টাকা লেনদেনের মতো শব্দ বাজিয়ে দাবি করেন, তিনি ওয়াল্টের কাছ থেকে ১০ ডলার নিয়ে নিয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আরও ঠাট্টা করতে থাকেন তাঁরা। প্রথমে ওয়াল্ট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বারবার বিরক্ত করার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের কষ্টের কথা জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার চেয়েও বেশি সময় কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। বাড়িতে তাঁর চার সন্তান অপেক্ষা করছে। অথচ পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরদিন ভোর ৫টায় উঠে আবার কাজে যেতে হবে এবং একাধিক দোকানে পণ্য সরবরাহ করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে এ ধরনের ঠাট্টা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই ওই কর্মীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাঁকে অপমান করার ঘটনায় ক্ষোভ জানান। এরপর লুক ওকেনশিল্ড নামের অ্যারিজোনার এক ব্যক্তি ওয়াল্টের সহায়তায় গত ২৭ অক্টোবর অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওয়াল্টকে চিনতেন না। তবে ভিডিওটি দেখে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ ওই তহবিলে অর্থ পাঠাতে শুরু করেন। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮০০ জনের অনুদানে জমা পড়ে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৩ ডলার। প্রাথমিকভাবে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ লাখ ডলার। এদিকে কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানও। রেড ব্যারনের মূল প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তাঁর সুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে। এত মানুষের ভালোবাসা ও সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওয়াল্ট। তবে পরিবারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৫ নভেম্বর দেওয়া সর্বশেষ বার্তায় তিনি জানান, মানুষের সহযোগিতায় পরিবারের সঙ্গে বাড়তি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অনুদান সংগ্রহ কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন। যাঁরা অন্যদের সাহায্য করতে চান, তাঁদের স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠান, অসহায় পরিবার কিংবা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একটি অপমানের ভিডিও শেষ পর্যন্ত হাজারো মানুষের মানবিকতার গল্পে পরিণত হয়েছে। একজন পরিশ্রমী বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ দেখিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু অপমান ছড়ানোর মাধ্যম নয়, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিশালী জায়গাও হতে পারে।
নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ডুবন্ত ব্যক্তিকে বাঁচালেন মা, কৃতজ্ঞতা জানাতে ফিরলেন তিনি
স্নাতকোত্তরে ঋণ কমায় উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে বেসরকারি ঋণের পথে লাখো শিক্ষার্থী
সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা ও দাঁতের চিকিৎসার সুবিধা বদলের সুযোগ ৯ নভেম্বর থেকে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার আশায় অপরিচিত মানুষের বাড়ির দরজায় জোরে লাথি মেরে পালানোর একটি বিপজ্জনক প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি এলাকায়। গভীর রাতে ঘুমন্ত পরিবারের দরজায় হঠাৎ প্রচণ্ড আঘাতের শব্দে আতঙ্কিত হচ্ছেন বাসিন্দারা। কোনো কোনো বাড়ির দরজা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ক্ষতিও হয়েছে। ‘ডোর কিক চ্যালেঞ্জ’ নামে পরিচিত এই প্রবণতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সাধারণত রাতের বেলায় অপরিচিত বাড়ির সামনে গিয়ে দরজায় জোরে লাথি বা আঘাত করেন। এরপর ঘটনাটি ভিডিও করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। উদ্দেশ্য থাকে বাড়ির ভেতরের মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া। হাওয়াই নিউজ নাউয়ের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাউই লানি এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত জুন থেকে তাঁদের এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় রাতের বেলায় কিশোরদের দরজায় আঘাত করে পালানোর দৃশ্যও ধরা পড়েছে। এক বাড়ির মালিক ম্যাট জানিয়েছেন, রাত দেড়টার দিকে ঘুমের মধ্যে দরজায় প্রচণ্ড আঘাতের শব্দ শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁর ভাষায়, দরজার ওপাশে কতজন আছে কিংবা তাদের উদ্দেশ্য কী, তা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। তিনি জানান, বাড়ির ক্ষতি মেরামত এবং নিরাপত্তা বাড়াতে তাঁর প্রায় ১৪ হাজার ডলার খরচ হয়েছে। প্রতিশোধের আশঙ্কায় তিনি নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি। এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন ইওয়া বিচ এলাকার বাসিন্দা মেও। তিনি জানান, এক রাতে তাঁর বাড়ির সামনের দরজায় প্রায় পাঁচবার জোরে আঘাত করা হয়। আঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, কেউ হয়তো জোর করে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক মুহূর্তের জনপ্রিয়তার জন্য অন্যের বাড়িতে আতঙ্ক তৈরি করা কোনোভাবেই নিরীহ মজা হতে পারে না। এ ধরনের কাজের কারণে সম্পত্তির ক্ষতি, অনধিকার প্রবেশ বা ভাঙচুরের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, বাড়ির ভেতরের কেউ ঘটনাটিকে সত্যিকারের ডাকাতি বা বাড়িতে হামলার চেষ্টা মনে করে আত্মরক্ষায় বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। হাওয়াইয়ের মাউই এলাকার পুলিশকে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো ঘটনা ঘটলে নিজে ধাওয়া না করে নিরাপদ স্থানে থেকে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা সচল রাখা এবং সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে সময় ও ভিডিও সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদেরও সন্তানদের বোঝানো জরুরি যে অনলাইনে ভিডিওর জনপ্রিয়তার চেয়ে মানুষের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির প্রতি সম্মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি অনলাইন চ্যালেঞ্জের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও অন্য একটি পরিবারের জন্য বড় ধরনের আতঙ্ক, আর্থিক ক্ষতি এবং আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার নামে এমন বিপজ্জনক আচরণ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা।
সরকারি সহায়তা নিলে গ্রিন কার্ডে কী প্রভাব পড়বে, নতুন নির্দেশনায় বাড়ছে অভিবাসীদের প্রশ্ন
২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, চিকিৎসা খরচ নিয়ে নতুন চাপে পরিবারগুলো
২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, চিকিৎসা খরচ নিয়ে নতুন চাপে পরিবারগুলো
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শীত মৌসুমে বাড়ির জ্বালানি ও গরম রাখার খরচ মেটাতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন শুরু হয়েছে। হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা হিপ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবার সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৬ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। গত ২ নভেম্বর থেকে নিয়মিত কর্মসূচির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। শীতকালে বাড়ি গরম রাখার জন্য জ্বালানি কেনা কিংবা প্রয়োজনীয় গরম ও ঠান্ডা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামের খরচ মেটাতে এই সহায়তা দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, মাসিক আয়, বাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির ধরন এবং পরিবারের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্য আছেন কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার মাসে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৯৪৮ ডলার আয় করলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য হতে পারে। জ্বালানির ধরন অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণও আলাদা। তেল, কেরোসিন ও প্রোপেন ব্যবহারকারী যোগ্য পরিবার সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার এবং কাঠ, কাঠের গুঁড়ি থেকে তৈরি জ্বালানি ও কয়লা ব্যবহারকারী পরিবার সর্বোচ্চ ৭০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। যেসব পরিবার অন্য সরকারি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পাচ্ছে না, তাদের আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কের বাসিন্দারা অনলাইনে, ডাকযোগে অথবা স্থানীয় সামাজিক সেবা দপ্তরে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা অ্যাকসেস এইচআরএ পোর্টালের মাধ্যমেও আবেদন করতে পারবেন। তবে এই সহায়তা সবার জন্য নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীর আয়, পরিবারের অবস্থা ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আবেদন গ্রহণ করা হবে আগে এলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে এবং বরাদ্দ শেষ হলে আবেদন বন্ধ হতে পারে। যোগ্য পরিবারগুলোকে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সহায়তার অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যেসব পরিবার শীতকালে বাড়ি গরম রাখার খরচ নিয়ে চাপে রয়েছে, তারা নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারেন। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://otda.ny.gov/programs/heap/ নিউইয়র্ক সিটি: https://a069-access.nyc.gov/
দিল্লির বস্তি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র নিত্যা রমন
মিশিগানের শিশুদের ‘আরবি সংখ্যা’ শেখাবেন আবদুল এল সাঈদ, পোস্ট ভাইরাল