ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী আফগান বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট আয়েশা ওয়াহাব
নভেম্বরের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও বর্তমান কংগ্রেস সদস্য আয়েশা ওয়াহাব। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের প্রার্থী মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি। নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ওয়াহাব পেয়েছেন ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। আলামেডা কাউন্টির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ফলাফলে ওয়াহাবের পক্ষে ৬৮ হাজার ৬১২টি এবং হার্নান্দেজের পক্ষে ৫২ হাজার ৭৫৫টি ভোট দেখানো হয়েছে।
এই আসনটি ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন, ফ্রিমন্ট, হেওয়ার্ড ও লিভারমোরসহ সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার কয়েকটি শহরকে প্রতিনিধিত্ব করে। সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকজন নারী যৌন নিপীড়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ তোলার পর গত এপ্রিলে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। সোয়ালওয়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসনটির বাকি মেয়াদ পূরণের দায়িত্ব পান ওয়াহাব। এবার পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবারও জয় পেলেন তিনি।
আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান প্রতিনিধি। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। নির্বাচনী প্রচারে তিনি আবাসন ব্যয় কমানো, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এসব বিষয়কে সামনে রেখেই তিনি তুলনামূলক প্রগতিশীল অবস্থান নিয়ে প্রচার চালান।
অন্যদিকে মেলিসা হার্নান্দেজ ছিলেন বে এরিয়া র্যাপিড ট্রানজিট (বার্ট) বোর্ডের প্রেসিডেন্ট এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরের সাবেক মেয়র। প্রচারে তিনিও আবাসন ও সামাজিক নানা সমস্যা সমাধানের কথা বলেন, তবে ব্যবসাবান্ধব নীতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। নির্বাচনী বিতর্কে হার্নান্দেজ ওয়াহাবের তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। এ বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে ওয়াহাব বলেছিলেন, এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেখে তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ বিরক্ত।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার এই আসনে ওয়াহাবের অবস্থান আরও শক্ত হলো। তবে তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে একই দলের দুই প্রার্থীর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা প্রতিদ্বন্দ্বিতারও অবসান ঘটল। কেটিভিইউ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন এবং আলামেডা কাউন্টির নির্বাচনী ফলাফলের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreক্ষমতা ছাড়ার আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ বন্দির সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ডে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে এসব বন্দিকে প্যারোল বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তির সুযোগ ছাড়াই বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ইতিহাসে একসঙ্গে এতসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তনের উদ্যোগ এটিই সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে আট বছরের দায়িত্ব শেষ করে আগামী জানুয়ারিতে বিদায় নেওয়ার কথা নিউসমের। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। এবার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে রাজ্যের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব বন্দির সাজা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেন তিনি। তাঁর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ৫৪৮ বন্দির মধ্যে ৫২৯ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। তবে নিউসমের ঘোষণার অর্থ এই নয় যে, সব বন্দির সাজা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, একাধিক অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের সাজা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন। নিউসমের কার্যালয়ের হিসাবে, মোট ৫৪৮ বন্দির মধ্যে ৩৮২ জনের সাজা পরিবর্তনে আদালতের সম্মতি নিতে হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আইনি অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা বন্দির সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। তবে এতে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের কারামুক্তির কোনো সুযোগ তৈরি হবে না। তাঁদের প্যারোল ছাড়াই আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের বিধানও বাতিল হচ্ছে না। ভবিষ্যতে নতুন মামলায় আদালত চাইলে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবেন। রাজ্যটিতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ২০০৬ সালে। নিউসমের এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনটির মতে, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে বর্ণগত বৈষম্য এবং ভুল রায়ে নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা পাওয়ার ঝুঁকি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডে স্বজন হারানো পরিবারের একাংশ এবং মৃত্যুদণ্ডের সমর্থকেরা সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের সাজা পরিবর্তন করলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিউসম তাঁর ঘোষণায় বলেছেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কাউকে হত্যা করা ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি বিচারব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা, ভুল বিচারের ঝুঁকি এবং অপরাধের শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দেশটিতে মতভেদ দীর্ঘদিনের। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের কার্যালয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী আফগান বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট আয়েশা ওয়াহাব
যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের ৫০০ দিন পর ভিডিও গেমের সাহায্যে উদ্ধার পেলেন কিশোরী
নিউ ইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ, নিয়োগ চলছে
অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি কিম্বার্লি ইয়ে। ফক্স ১০ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। নর্টন দাবি করেছেন, কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারেন। তবে তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। মামলার আনুষ্ঠানিক নথি জমা দেওয়ার আগে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও জনসমক্ষে আসেনি। এটি নর্টনের প্রথম মানহানির মামলা নয়। ২০২২ সালে অ্যারিজোনার প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে কংগ্রেসম্যান ডেভিড শোয়েইকার্টের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করেছিলেন নর্টন। সে সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, শোয়েইকার্টের সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ওই মামলার শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয় এবং নর্টনের দাবি অনুযায়ী, শোয়েইকার্ট তাঁকে অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। এবারের মামলায় কোনো সমঝোতায় যেতে চান না বলে জানিয়েছেন নর্টন। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং নীতি, কর্মপরিকল্পনা ও কাজের রেকর্ড নিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এবার মামলাটি বিচার পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। নির্বাচনী রাজনীতি থেকে আপাতত সরে গিয়ে নিজের ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট নিক ম্যানসুরের প্রতি সৌজন্য দেখিয়েছেন নর্টন। পরাজয় স্বীকার করার পর তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং একসঙ্গে পানীয় পান করার আমন্ত্রণও দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে কিম্বার্লি ইয়ে ভবিষ্যতে আবার কোনো নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁর বিরোধিতা করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নর্টন। ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে অ্যারিজোনার মারিকোপা কাউন্টিতে মামলাটি দায়ের করার কথা রয়েছে। তবে মামলা দায়েরের আগে পর্যন্ত নর্টনের অভিযোগগুলো তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কিম্বার্লি ইয়ের বিরুদ্ধে আনা দাবিগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স, অ্যারিজোনার নির্বাচনী ফলাফল।
যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার ইউসি বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
নির্বাচনে জয়ের এক দিন পরই গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অ্যান্থনি ইলি
নিউ ইয়র্ক টাইমসে ১৬ পদে বেতনসহ ফেলোশিপ, আবেদন ২০ নভেম্বর পর্যন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মিলওয়াকিতে প্রথম ডেটে গিয়ে নৃশংস খুনের শিকার হওয়া ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর শরীরের আরও কিছু খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি উইসকনসিনের কুডাহির ওয়ার্নিমন্ট পার্কে সাদে রবিনসন নামের ওই তরুণীর চোয়ালের হাড় ও দাঁত উদ্ধার হয়। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত তরুণীর মা শিনা স্কারব্রো জানান, পার্কে হাঁটতে বের হওয়া এক পথচারী একটি পাথরের ওপর চোয়ালটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মিলওয়াকি কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয় যে উদ্ধার হওয়া দেহাংশটি রবিনসনেরই। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল। এদিন ম্যাক্সওয়েল অ্যান্ডারসন নামের এক যুবকের সঙ্গে জীবনের প্রথম ডেটে গিয়েছিলেন সাদে রবিনসন। এরপর আর কখনোই তার খোঁজ মেলেনি। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, ডেটে যাওয়ার পর অ্যান্ডারসন ওই তরুণীকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তার মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে মিলওয়াকি কাউন্টির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়। এমনকি অপরাধের সব আলামত চিরতরে মুছে ফেলতে ঘাতক অ্যান্ডারসন রবিনসনের ব্যবহৃত গাড়িটিও পুড়িয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৬ জুন জুরি বোর্ড অ্যান্ডারসনকে রবিনসন হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাকে প্যারোলের সুযোগবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন, যার ফলে তার আর কখনোই মুক্তির সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘ সময় পর মেয়ের নতুন দেহাংশ উদ্ধারের ঘটনায় রবিনসনের পরিবার আবারও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মিলওয়াকি কাউন্টি শেরিফ অফিস এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, "এই দুঃসংবাদটি গ্রহণ করার কঠিন সময়ে আমরা রবিনসনের পরিবারের পাশে আছি এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।"
ক্যালিফোর্নিয়ায় পার্কে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় নারী কাউন্সিলরকে পিটিয়ে জখম
মাত্র তিন বছরেই বিদায় সাইবারট্রাক, উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা ইলন মাস্কের