ফ্লোরিডায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তরুণী পাইলট, শেষ মুহূর্তের সাহসিকতায় গর্বিত বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২০ বছর বয়সী তরুণী কো-পাইলট নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাসের শেষ মুহূর্তের সাহসিকতার কথা তুলে ধরেছেন তাঁর বাবা। দুর্ঘটনার আগে মেয়ের পাঠানো শেষ রেডিও বার্তাগুলো বারবার শুনছেন তিনি। মেয়েকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁর পেশাদারত্ব ও সাহসিকতা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন বাবা অ্যালান ফিলগেইরাস। একই সঙ্গে কম বয়সে এত বড় বিমান পরিচালনার যোগ্যতা নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফ্লোরিডার গ্রিনএকরস এলাকায় লিয়ারজেট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নাথালিয়াসহ মোট নয়জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর শুক্রবার কোরাল গেবলসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের শেষ মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অ্যালান। তিনি নিজেও একজন পাইলট এবং মেয়েকে বিমান চালানো শেখানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অ্যালান জানান, দুর্ঘটনার আগে নাথালিয়ার সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কথোপকথনের রেকর্ডিং তিনি বারবার শুনেছেন। বিমানটি যখন দ্রুত নিচের দিকে নামছিল, তখনো নাথালিয়া শান্তভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য জানিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবার ভাষায়, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও তাঁর মেয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন।
দুর্ঘটনার আগে বিমানটি বজ্রঝড়ের মধ্যে পড়ে। এ সময় বিমানে বরফ জমার বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান নাথালিয়া। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে বিমানটি প্রায় ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওপর-নিচে ওঠানামা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
শেষ রেডিও বার্তায় নাথালিয়াকে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করতে শোনা যায়। তিনি জানান, বিমানটি অতিরিক্ত গতিতে প্রতি মিনিটে প্রায় ২০ হাজার ফুট নিচে নামছে। এত দ্রুত বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিল যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বিমানের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে ৫৫ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন জেফ গ্রেগরি।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যালান বলেন, তিনি মেয়ের পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, বিমানের ভেতরে থেকে তাঁকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। মেয়ের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নাথালিয়া তাঁকে দেখিয়েছেন প্রকৃত বীরত্ব কাকে বলে। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ অনেক পাইলটও মানসিক স্থিরতা ধরে রাখতে পারেন না, অথচ তাঁর মেয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
মেয়েকে হারানোর কষ্ট প্রকাশ করে অ্যালান বলেন, পরিবারের কাছে এই মৃত্যু বুক থেকে হৃদয় ছিঁড়ে নেওয়ার মতো। এখন তাঁকে নতুন করে বেঁচে থাকার পথ খুঁজতে হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাথালিয়ার বয়স ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মাত্র ২০ বছর বয়সে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিজনেস জেটের কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা তাঁর ছিল কি না, তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
তবে পরিবার ও প্রশিক্ষকেরা এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, নাথালিয়া সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টার বেশি বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। পাশাপাশি কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স এবং লিয়ারজেট পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সনদও অর্জন করেছিলেন তিনি।
পরিবারের আইনজীবী স্টুয়ার্ট গ্রসম্যান জানান, সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য শুধু নাথালিয়ার স্মৃতি ধরে রাখা নয়, তাঁর পেশাগত সুনামও রক্ষা করা। তিনি বলেন, নাথালিয়া প্রশিক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে অসাধারণ ফল করেছিলেন এবং বয়স কম হলেও কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য পুরোপুরি যোগ্য ছিলেন।
নাথালিয়ার প্রশিক্ষক ও মেন্টর ক্রিস কার্ক জানান, কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘ প্রশিক্ষণ এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। গত মার্চে লিয়ারজেট ৬০ পরিচালনার দক্ষতা পরীক্ষায় তাঁর পারফরম্যান্স দেখে পরীক্ষক মনে করেছিলেন, নাথালিয়ার পাঁচ হাজার ঘণ্টার বেশি বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ক্রিস কার্কের মতে, দুর্ঘটনার আগে নাথালিয়ার শেষ রেডিও বার্তাগুলো তাঁর পেশাদারত্বের প্রমাণ। প্রচণ্ড সংকটের মধ্যেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে পেরেছিলেন, যা দুর্ঘটনার তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিচে নামার সময় বিমানটির গতি নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক মাইল দূরে বিমানের লেজের অংশ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীরা একটি ইঞ্জিনের অংশও উদ্ধার করেছেন। তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এখনো পাওয়া যায়নি।
নাথালিয়ার বাবা জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে মেয়েকে প্রথম বিমানে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে নিজেই তাঁকে বিমান চালানো শেখাতে সাহায্য করেন। পাইলট হিসেবে চাকরি পাওয়ার পর নাথালিয়া বাবাকে বলেছিলেন, নিজের সবচেয়ে পছন্দের কাজটি করার জন্য বেতন পাচ্ছেন, এটি তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য আনন্দের বিষয়।
দুর্ঘটনায় নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প এবং তাঁদের দুই শিশু সন্তান। পরিবারের ন্যানি আনা মারিয়া রামিরেজ সেতিনাও নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হন্ডুরাসের আরকা বুটিক হোটেলের মালিক র্যাচেল রিড ও চার্মি ফেরও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে নাথালিয়ার পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেয়ের পেশাগত যোগ্যতা ও শেষ মুহূর্তের সাহসিকতার স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে দুই ছোট মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবন বিপন্ন করেছেন এক মা। তিনতলা বাড়ির ভেতরে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় আটকে পড়ার পর সন্তানদের বাঁচাতে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে হিউস্টনের শ্যাডি একরস এলাকায় বেল স্ট্রিটের কাছে একটি টাউনহাউসে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশে। পরিবারের গাড়িতেও আগুন ধরে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি জানিয়েছে, বাড়িটিতে বসবাস করতেন ক্যাসি গঞ্জালেস ও তাঁর স্বামী এফ্রেইন গঞ্জালেস। তাঁদের দুই মেয়ের বয়স মাত্র চার ও পাঁচ বছর।আগুন লাগার পর বাবা এফ্রেইন পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেন। পরিবারের গাড়িতে বিস্ফোরণের পর তিনি আগুনের মধ্যে ছুটে যান। শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেলেও পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধোঁয়ার কারণে তিনি আর ভেতরে এগোতে পারেননি। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে বাড়ির তৃতীয় তলায় দুই মেয়েকে নিয়ে আটকা পড়েন মা ক্যাসি। চারদিকে কালো ধোঁয়া, আগুনের তীব্রতা এবং বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের বাঁচাতে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।নিচে তখন প্রতিবেশীরা ছুটে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জন বাউয়ার ও আরেক প্রতিবেশী। আগুনের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে তাঁরা বাড়ির পেছনে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। সন্তানদের সাহস জোগাতে মা বলেন, সাহসী হতে হবে। এরপর তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে দুই মেয়েকে নিচে নামিয়ে দেন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিবেশীরা দুই শিশুকেই ধরে ফেলেন। সৌভাগ্যক্রমে শিশু দুটির দৃশ্যমান কোনো আঘাত লাগেনি।কিন্তু সন্তানদের নিরাপদে পাঠানোর পর নিজের জীবন বাঁচাতে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন ক্যাসি। ততক্ষণে ধোঁয়া এতটাই ঘন হয়ে গিয়েছিল যে প্রতিবেশীরা তাঁকে নিরাপদে ধরতে পারেননি। তিনি তিনতলা থেকে নিচে পড়ে আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেশী জন বাউয়ার জানান, আগুনের শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে কমলা রঙের আগুনের আলো দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটে যান। তিনি জানতেন না ঠিক কাকে বা কতজনকে ধরে ফেলতে হবে। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে পিছিয়ে যাননি।বাউয়ার বলেন, তিনি শুধু সেই মুহূর্তে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নায়ক হিসেবে দেখলেও নিজের কাজকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন তিনি। এদিকে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন। পরিবারের গাড়িটি ২০২৫ সালের কিয়া টেলুরাইড বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।এই মুহূর্তে পরিবারের সবচেয়ে বড় লড়াই হলো সুস্থ হয়ে ফিরে আসা। হাসপাতালে মা চিকিৎসাধীন, বাবা আশঙ্কাজনক অবস্থায় জীবনযুদ্ধ করছেন। আর দুই ছোট শিশু ভয়াবহ সেই রাতের স্মৃতি নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। একটি পরিবারের জীবনে কয়েক মুহূর্তেই সবকিছু বদলে গেল। তবে বিপদের সেই রাতে প্রতিবেশীদের মানবিক সাহস দুই শিশুর জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম মাংস, খেয়ে হতাশ খাদ্যবিশেষজ্ঞ, গন্ধ প্লাস্টিকের মতো!
পুলিশ দেখলেই আতঙ্ক নয়, অভিবাসী পরিবারকে স্বস্তি দিতে নতুন সিদ্ধান্ত হিউস্টনে
ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় আহত পথচারীকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক এফবিআই এজেন্ট গ্রেপ্তার
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট আয়োজন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী মার্কিন র্যাপার ম্যাকলেমোর। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানার পর যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় ভেন্যু কনসার্টের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দুই দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (৭ নভেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন ম্যাকলেমোর। তিনি জানান, ইউরোপের তিনটি শহরে সফলভাবে কনসার্ট আয়োজনের পর একই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রেও নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ম্যাকলেমোরের পরিকল্পনা ছিল ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় ভেন্যুতে কনসার্ট আয়োজন করা। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং তাঁদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করেও নয়টি বড় ভেন্যু থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন এই শিল্পী। প্রত্যাখ্যান করা ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, প্রুডেনশিয়াল সেন্টার, বার্কলেস সেন্টার ও ইউবিএস এরিনা। এ ছাড়া ইনটুইট ডোম, কিয়া ফোরাম, ক্রিপ্টো ডটকম এরিনা, চেজ সেন্টার এবং ক্লাইমেট প্লেজ এরিনার নামও উল্লেখ করেছেন ম্যাকলেমোর। তাঁর দাবি, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তাঁর দল এসব ভেন্যুতে বছরের শেষ পর্যন্ত কনসার্ট আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ পেয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে জানার পর সেই সুযোগ আর দেওয়া হয়নি। ইনস্টাগ্রামের বিবৃতিতে ম্যাকলেমোর বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় ভেন্যু তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যায়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দেশে কনসার্ট আয়োজন করেছেন ম্যাকলেমোর। কিন্তু এতগুলো বড় ভেন্যু থেকে একই ধরনের প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই মার্কিন শিল্পী। এ ঘটনার জন্য বিনোদনশিল্পের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছেন ম্যাকলেমোর। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া শিল্পীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। ম্যাকলেমোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ কোন শিল্পী কোন মানবিক উদ্যোগের পক্ষে দাঁড়াতে পারবেন, তা প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিরা নির্ধারণ করবেন কেন—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পী ও সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং তাঁদের বক্তব্য প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন ম্যাকলেমোর। একই ধরনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে আগে প্রকাশ্যে কথা না বলার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাধার মুখে পড়লেও ইউরোপে অনুষ্ঠিত কনসার্টগুলোর অভিজ্ঞতা ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন ম্যাকলেমোর। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন, ফ্রান্সের প্যারিস ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আয়োজিত তিনটি কনসার্টের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ইউরোপের ওই তিনটি অনুষ্ঠানে কয়েক দশ হাজার দর্শক অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সংহতি জানাতে ৪০ জনের বেশি শিল্পী ও বক্তাও এসব আয়োজনে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুগুলো থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন ম্যাকলেমোর। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আরও কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামের বিবৃতিতে ম্যাকলেমোর জানান, ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের জন্য অর্থ সংগ্রহের অঙ্গীকার আগের মতোই রয়েছে। বড় ভেন্যুতে সুযোগ না পেলেও নিজেদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, অন্যরা মঞ্চ ব্যবহারের সুযোগ না দিলে তাঁরা নিজেদের মঞ্চ তৈরি করবেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং মানবিক সহায়তার জন্য সংগীতের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই মার্কিন শিল্পী। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ভেটেরানস ডেতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল দপ্তরে ছুটি, বন্ধ থাকবে বিভিন্ন আদালত
ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম নারী সাবা হায়দার
ওয়ার্ক পারমিট থাকা সত্ত্বেও অ্যাসাইলাম ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষায় থাকা স্টেট ট্রুপারকে আটক করল আইসিই
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে কংগ্রেসের আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তন করলেও প্রত্যাশিত ফল পায়নি রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদে অতিরিক্ত পাঁচটি আসন জয়ের লক্ষ্য থাকলেও এবারের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটিতে দলটির নিট একটি আসন কমেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ টেক্সাসের লাতিনো অধ্যুষিত রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালির চারটি কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের একটিতেও জয় পায়নি রিপাবলিকানরা। এবিসি নিউজের ভোটার জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লাতিনো ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত টেক্সাস আইনসভা কংগ্রেসের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করে। এই রিডিস্ট্রিক্টিং পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের জন্য আরও পাঁচটি আসন জয়ের সুযোগ তৈরি করা। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন বৃদ্ধির পর দক্ষিণ টেক্সাসের চারটি লাতিনো অধ্যুষিত ডিস্ট্রিক্টকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের নির্বাচনে পরিস্থিতি বদলে যায়। এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালির চারটি ডিস্ট্রিক্টেই রিপাবলিকান প্রার্থীরা দুই অঙ্কের ব্যবধানে পরাজিত হন। টেক্সাসে প্রতিনিধি পরিষদের আসনের হিসাবে দলটির নিট একটি আসন কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকদের ৩০ শতাংশের বেশি হিস্পানিক। রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালির চারটি কাউন্টিতে এই জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি আরও বেশি। সেখানে মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি হিস্পানিক বাসিন্দা। এবিসি নিউজের ভোটার জরিপে দেখা গেছে, টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়া হিস্পানিক ভোটারদের ৬৭ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত পদক্ষেপ অতিরিক্ত কঠোর হয়ে গেছে। একই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ ভোটার। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট সান আন্তোনিওর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জন টেইলর এবিসির সহযোগী সংবাদমাধ্যম কেএসএটিকে বলেন, দক্ষিণ টেক্সাস ও সান আন্তোনিও এলাকার অনেক মানুষের পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা পরিচিত কেউ আইসিইর অভিযানে আটক হয়েছেন। তাঁর মতে, এসব অভিজ্ঞতা ভোটারদের সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ পাওয়া গেছে। এবিসি নিউজের জরিপ অনুযায়ী, ৮৩ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে খুব ভালো নয় অথবা খারাপ বলে মূল্যায়ন করেছেন। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে এই হার ৬৩ শতাংশ। একই জরিপে সিনেট নির্বাচনে ভোট দেওয়া হিস্পানিকদের ৭৫ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে একই মত দিয়েছেন ৫২ শতাংশ। লাতিনো ভোটারদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন মি ফামিলিয়া ভোটার প্রধান হেক্টর ই. সানচেজ বারবা এবিসি নিউজকে বলেন, রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালির শ্রমজীবী পরিবারগুলো অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির প্রভাব বিশেষভাবে পড়েছে শ্রমজীবী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর। এবার রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালির চারটি কাউন্টিতেই ২০২২ সালের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। হিদালগো কাউন্টিতে উপস্থিতি বেড়েছে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ, ক্যামেরনে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ, উইলাসিতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং স্টার কাউন্টিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। পুরো টেক্সাসে ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ টেক্সাসের প্রধানত হিস্পানিক অধ্যুষিত দুটি ডিস্ট্রিক্টও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে জিতে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এসব এলাকায় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। এবিসি নিউজের ভোটার জরিপে আরও দেখা যায়, টেক্সাসের হিস্পানিক ভোটারদের ৬৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোকে এবং ৬৫ শতাংশ গভর্নর প্রার্থী জিনা হিনোজোসাকে সমর্থন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে ডেমোক্র্যাটদের অঙ্গরাজ্যজুড়ে নির্বাচনী সাফল্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মি ফামিলিয়া ভোটার প্রধান বারবার মতে, শ্রমজীবী পরিবারের প্রয়োজন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা লাতিনো ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এই জনগোষ্ঠীর ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। টেক্সাসের এবারের ফলাফল দেখিয়েছে, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তনের পাশাপাশি ভোটারদের অভিবাসন ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: এবিসি নিউজ
ফ্লোরিডায় প্রতিবেশীর বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র বাইরে ফেলার অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার
মুসলিম অধিকার সংগঠন সিএআইআরকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিত