সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ডলারের নকশায় বড় পরিবর্তন, নতুন নোটে থাকছে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মার্চ ২৬, ২০২৬ ২০:১৩
ডলারের নকশায় বড় পরিবর্তন, নতুন নোটে থাকছে ট্রাম্পের স্বাক্ষর
ডলারের নকশায় বড় পরিবর্তন, নতুন নোটে থাকছে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

যুক্তরাষ্ট্রের কাগজের মুদ্রার নকশায় আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন ঘোষণায় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে ছাপানো নতুন ডলারের নোটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প এর স্বাক্ষর যুক্ত করা হবে।

 

এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কাগজের মুদ্রায় শুধুমাত্র ট্রেজারি সেক্রেটারি এবং ইউএস ট্রেজারারের স্বাক্ষর ব্যবহারের নিয়ম চালু ছিল। এবার সেই প্রচলিত নিয়ম ভেঙে বিশেষ স্মারক হিসেবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ট্রেজারি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সাল থেকে ধাপে ধাপে নতুন নোট বাজারে ছাড়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ১০০ ডলারের নোটে এই পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

 

সরকার জানিয়েছে, ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার পর ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ২৫০ বছর পূর্ণ করবে। এই উপলক্ষে বিশেষ নকশার মুদ্রা ও স্মারক প্রকাশের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন ডলারে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত করা হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক হলেও এটি বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে, কারণ আগে কখনো কোনো প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সরাসরি কাগজের মুদ্রায় ব্যবহার করা হয়নি।

 

নতুন নোট কবে থেকে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ট্রেজারি বিভাগ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে নাস্তানাবুদ ট্রাম্প!
চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে নাস্তানাবুদ ট্রাম্প! ডিনারে নির্ধারিত বক্তব্যের বাইরে ‘বিশেষ আয়োজনের’ ঘোষণা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে নির্ধারিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে অতিথিদের নির্মাণাধীন নতুন বলরুম দেখার আমন্ত্রণ জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শি ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সফর উপলক্ষে এই আমন্ত্রণকে তিনি ‘বিশেষ আয়োজন’ বলে উল্লেখ করেন।    বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, নৈশভোজের পর আগ্রহী অতিথিরা বলরুমের নির্মাণস্থল ঘুরে দেখতে পারবেন। শি ও পেংয়ের সম্মানে তাঁদেরই সেখানে প্রথম প্রবেশের সুযোগ দিতে চান বলে জানান তিনি। বলরুমটি তখনো নির্মাণাধীন; নৈশভোজ সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি।    ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, নতুন বলরুমের কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর লাগবে। বর্তমান আয়োজনস্থলের তুলনায় সেখানে অনেক বেশি অতিথিকে একসঙ্গে রাখা যাবে বলেও তিনি দাবি করেন। নৈশভোজে শিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক টাকমাথা ঈগলের একটি ভাস্কর্যও উপহার দেন ট্রাম্প।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১১:৬
আইওয়ায় শিক্ষা সফরে গিয়ে  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

আইওয়ায় শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার, চলছে তদন্ত

সোশ্যাল সিকিউরিটির পূর্ণ অবসরভাতা ৬০ বছরেই! তবে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়

সোশ্যাল সিকিউরিটির পূর্ণ অবসরভাতা ৬০ বছরেই! তবে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়

নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? সারাবছর নিয়োগ হয়, জেনে নিন এমন ১০ পেশা

নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? সারাবছর নিয়োগ হয়, জেনে নিন এমন ১০ পেশা

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ কানাডা থেকেও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিউ ইয়র্কে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।   নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে তারেক রহমানকে দেখতে পেয়ে বাইরে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের একাংশ বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দিতে থাকেন। এ সময় তাঁকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধন করে সরাসরি দেখা করার আকুতি জানাতেও শোনা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কি দেউলে হয়ে গেছে, ভাইয়া?” আরেকজন বলেন, “ভাইয়া, আমরা আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।”   ভিডিওতে আরও একজনকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই।” কানাডা থেকে আসা একজনকেও বলতে শোনা যায়, “আমরা কানাডা থেকে আসছি, ভাইয়া।”   এ সময় হোটেলের ওপরের দিক থেকে নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনছিলেন তারেক রহমান। ভিডিওতে তাঁকে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে, মুচকি হাসতে এবং মাঝে মাঝে হাত নাড়তে দেখা যায়।   পরে নিচে থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমানকে কিছু বলতে দেখা গেলেও দূরত্বের কারণে তাঁর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট শব্দ ভিডিওতে স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।   এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছান তারেক রহমান। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্কে নেওয়া হয়। তাঁর সফরকে ঘিরে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্বাগত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   গতকাল সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কে তাঁর সফর ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও যোগাযোগও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনায় এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৯:২৬
অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নিউইয়র্কে চাকরি খোঁজার কয়েকটি সরকারি সুযোগ রয়েছে

অভিজ্ঞতা ছাড়াও নিউ ইয়র্কে চাকরি খোঁজার সাতটি পথ, জেনে নিন

কার্ড পেতে সাজানো বিয়ের মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন আন্তোনিয়া মিরচা

নিউ জার্সিতে গ্রিন কার্ড পেতে সাজানো বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানীয় নারীর

নিউইয়র্কে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা খুঁজছেন নতুন অভিবাসীরা

নিউইয়র্কে বাসা খুঁজছেন? বাংলাদেশিদের কাজে আসবে এই ৫ সাইট ও জরুরি কিছু নিয়ম

আদালতে পোশাক নিয়ে বিচারকের আপত্তির কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মারিয়া মেডিনা
হাতাকাটা পোশাকেই আদালতে বিপত্তি, আইনজীবীকে ব্লেজার পরতে বললেন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আদালতে এক নারী আইনজীবীর হাতাকাটা পোশাক নিয়ে বিচারকের আপত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সান অ্যান্টোনিওর ক্রিমিনাল ডিফেন্স আইনজীবী মারিয়া মেডিনার দাবি, সংক্ষিপ্ত শুনানিতে অংশ নিতে গেলে বিচারক তার পোশাককে আদালতের জন্য ‘অনুপযুক্ত’ বলে প্রশ্ন তোলেন এবং সঙ্গে ব্লেজার আছে কি না জানতে চান।   ঘটনাটি ২১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের বেক্সার কাউন্টির একটি আদালতে ঘটে। ৩২ বছর বয়সী মেডিনা আগে সান অ্যান্টোনিওতে টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। ওই দিন তিনি ধূসর রঙের হাতাকাটা জে.ক্রু শিফট ড্রেস পরে আদালতে গিয়েছিলেন। পোশাকটি হাঁটুর কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের ছিল।   মেডিনার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারক তাকে বেঞ্চের কাছে ডেকে পোশাকটি দেখতে চান। অন্য আইনজীবী ও আসামিদের সামনেই তাকে পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিচারক জানতে চান, তিনি সত্যিই মনে করেন কি না যে এই পোশাক পরে জুরি ট্রায়ালে অংশ নেওয়া উপযুক্ত। এরপর তার গাড়িতে কোনো ব্লেজার আছে কি না জানতে চাওয়া হয়।   ঘটনার পর নিজের পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মেডিনা। তিনি জানান, একই পোশাক টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের সময় বহুবার পরেছেন এবং এর আগেও বিভিন্ন আদালতে এটি পরে গেছেন। কোথাও আপত্তির মুখে পড়েননি। তাই বিচারকের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে জানান।   মেডিনা আরও দাবি করেন, আদালতের বাইরে পোশাকসংক্রান্ত যেসব নিষেধাজ্ঞা লেখা রয়েছে, তার পোশাক সেগুলোর কোনোটি লঙ্ঘন করেনি। বেক্সার কাউন্টির ক্রিমিনাল কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তাদের ব্যবসায়িক বা পেশাদার পোশাক পরতে হয়। তবে নির্দিষ্ট আদালতে তুলনামূলক কম আনুষ্ঠানিক পোশাক গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে বিচারকের কিছু বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।   মেডিনা জানিয়েছেন, ওই দিন তার মামলাটি জুরি ট্রায়ালে যাচ্ছিল না; এটি ছিল সংক্ষিপ্ত শুনানি। তারপরও ভবিষ্যতে ওই বিচারকের আদালতে গেলে তিনি ব্লেজার পরবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতের কর্তৃত্বের প্রতি তার সম্মান রয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের প্রতি অসম্মান দেখানোর কোনো উদ্দেশ্য তার নেই।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতের পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ মেডিনার পোশাককে পেশাদার ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ বলেছেন, আদালতের মতো আনুষ্ঠানিক পরিবেশে আইনজীবীদের কাঁধ ঢাকা পোশাক বা ব্লেজার পরাই উচিত।   তবে বিচারক ঠিক কী কারণে পোশাকটিকে অনুপযুক্ত মনে করেছিলেন, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির বর্ণনা মূলত মেডিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ও পরবর্তী সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।   সূত্র: সান অ্যান্টোনিও এক্সপ্রেস-নিউজ, এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৭:৩৫
উচ্চ সুদের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি

আমেরিকায় বাসার সংকট কাটেনি, উচ্চ সুদের মধ্যে কমছে নতুন নির্মাণ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে সিনেটে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবে ভোট চলছে

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিতের পক্ষে ৪ রিপাবলিকান, এক ভোটে ব্যর্থ প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনের ফি থেকে নির্দিষ্ট ৭ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় আবেদন ফি নেই ৭ ক্যাটাগরির, কারা পাবেন এই সুবিধা

0 Comments