- প্রচ্ছদ
- Topic
অভিবাসন নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে আবারও মন্তব্য করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তাদের দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। অভিবাসন বিষয়ে ফাইনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। তার সরকারি কংগ্রেসনাল ওয়েবসাইটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক বহিষ্কার এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা বন্ধের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। (Randy Fine) চলতি বছরের এপ্রিলেও ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গাড়ির বীমাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমতে পারে। (Fox News) তবে এসব দাবির সবগুলো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত নয়। চলতি মাসে ফ্লোরিডার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কথা বলার সময় ফাইন অবৈধ অভিবাসনকে ব্যয়বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অন্যান্য বিশ্লেষণে আবাসনের ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বীমা ব্যয়, মজুরি ও সুদের হারকেও ফ্লোরিডার ব্যয়সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। (WKMG) ফাইনের অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ এবং ব্যাপক বহিষ্কারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। (Randy Fine) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের জন্য সরকারি সুবিধার প্রশ্ন। র্যান্ডি ফাইনের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্কে তার কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে।
অপরাধ, জালিয়াতি, যৌন নির্যাতন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এ তথ্য জানিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত, তদন্ত এবং তাদের ভিসা বাতিলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানো কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো ঘটনায় ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের আইনি উপায় ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া অধিকাংশ ভিসাধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত ঘটনার মাধ্যমে যুক্ত হন। এসব অপরাধের মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ সবচেয়ে বেশি ছিল। এ ছাড়া জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অবৈধ ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, শিক্ষকতা করতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্যে উদযাপন করেছিলেন এমন কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত আরেক বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। সরকার আরও জানায়, সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ চক্রের সঙ্গে জড়িত ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছে। ভিসা বাতিলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে। গত মাসের শেষ দিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী করে, যার আওতায় মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৫০টি দেশের আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু ধরনের মার্কিন ভিসার জন্য জামানত জমা দিতে হবে। সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, এই জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, গত এক দশকের বেশি সময়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক লাখ অ-অভিবাসী দর্শনার্থী তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আরেকটি নিয়ম চূড়ান্ত করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশের ভেতরে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আরও কার্যকরভাবে যাচাই, তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। একই ঘোষণায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, গণমাধ্যম ভিসাধারী বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৪০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আর চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে এমন নীতির সমালোচনা করে বলেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বৈধ আবেদনকারী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী অলাভজনক সংস্থাগুলোর বকেয়া প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার (৬৫ মিলিয়ন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের নির্দেশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক আরাসেলি মার্টিনেজ-ওলগুইন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে (Department of Health and Human Services) শুক্রবার দুপুর ১২টা (প্যাসিফিক সময়) এর মধ্যে অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আদালতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থাগুলো জানায়, সরকার অর্থ ছেড়ে দিয়েছে এবং সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে অর্থ পৌঁছানো শুরু হবে। অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা কর্মসূচির প্রধান ঠিকাদার অলাভজনক সংস্থা অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের মুখপাত্র বিলাল আসকারইয়ার বলেন, "আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, যাতে অর্থপ্রদান যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়।" যদিও স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, তারা আইনি ও নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজ করছে এবং কোনো শিশুকে আইনি সহায়তা চাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটি একই মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো আদালতের হস্তক্ষেপ। এর আগে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে (প্রিলিমিনারি ইনজাংশন) সরকারকে আইনি সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ৩১ জুলাই এই কর্মসূচির ফেডারেল চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৯০টি অলাভজনক সংস্থা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে এবং ২৪ হাজারের বেশি অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশু আইনি প্রতিনিধিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। গ্রেটার লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করা ইমিগ্র্যান্ট ডিফেন্ডার্স ল সেন্টারের প্রধান নির্বাহী লিন্ডসে টোচিলোভস্কি জানান, শুধু তাদের সংস্থার আওতায় থাকা দেড় হাজারের বেশি শিশু এই পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, "এই কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। স্বাধীন ও নৈতিকভাবে এই সেবা চালিয়ে যাওয়া দেশের বিভিন্ন সংস্থার জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।" একই সংস্থার মামলাবিষয়ক পরিচালক আলভারো এম. হুয়ের্তা বলেন, সরকারের অর্থ আটকে রাখার কারণে কতজন শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার ভাষায়, "সরকার যখন তাদের দায়িত্ব পালন না করে অর্থ আটকে রেখেছিল, তখন অনেক শিশুকে একাই বহিষ্কার কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ হয়তো সেই নির্যাতন, নিপীড়ন বা বিপজ্জনক পরিবেশেই ফেরত গেছে, যেখান থেকে তারা পালিয়ে এসেছিল।" তিনি আরও বলেন, শিশুদের অধিকার কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের আইনগত দায়িত্ব। এদিকে চলতি সপ্তাহে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার জন্য টেক্সাসের একটি ছোট আইন প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডলারের নতুন চুক্তি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এতে শিশুদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং বহিষ্কারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যাকশন সেন্টারের আইনজীবী লরা ফ্লোরেস-পেরিলা বলেন, "যদি শিশুদের আইনজীবী না থাকে, তাহলে তাদের বহিষ্কার করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আদালতের সর্বশেষ আদেশে আগের সেবার বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।" এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। সে সময় স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে। এর প্রতিবাদে সংস্থাটি এবং বিভিন্ন অলাভজনক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে সমষ্টিগত মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ২০০৮ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া 'উইলিয়াম উইলবারফোর্স ট্র্যাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন অ্যাক্ট'-এর পরিপন্থী। এই আইনে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নির্যাতন, শোষণ ও মানবপাচার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে কংগ্রেস নিয়মিতভাবে এ কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের চুক্তি পুনর্বহাল এবং কর্মসূচির অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সফল হয়নি। তবে গত নভেম্বর থেকে প্রশাসন বিভিন্ন বিলের অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখে। সরকারের দাবি ছিল, আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থাগুলোকে তাদের মক্কেলদের কিছু তথ্য দিতে হবে। কিন্তু সংস্থাগুলোর মতে, এসব তথ্য প্রকাশ করলে আইনজীবী ও মক্কেলের গোপনীয়তার নীতি লঙ্ঘিত হবে। সর্বশেষ আদেশে বিচারক মার্টিনেজ-ওলগুইন সরকারকে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন। সেখানে ব্যাখ্যা করতে হবে, কীভাবে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আইনগত দায়িত্ব তারা পালন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসায় আরোপ করা ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি পুনর্বহালের ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে নিম্ন আদালতের যে আদেশে এই ফি কার্যকর হওয়া স্থগিত করা হয়েছিল, সেটিই আপাতত বহাল থাকছে। বোস্টনভিত্তিক ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস গত ২৪ জুলাই দেওয়া এক আদেশে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন আপিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেনি। তাই নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত রাখার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর আগে গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন রায় দেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করা সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আদালতের মতে, এটি কার্যত একটি কর, যা আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় এই ফি আরোপ করা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপিল আদালত বলেছে, এ পর্যায়ে প্রশাসন সেই যুক্তির পক্ষে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও অন্তত স্নাতক ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা খাতে এই ভিসার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার সাধারণ ভিসা এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য এককালীন ১ লাখ ডলারের ফি নির্ধারণ করে। এর আগে আবেদনকারীর ধরন ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি ফি পরিশোধ করত। নতুন নীতিতে সেই ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রশাসনের দাবি ছিল, কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে। এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকানো এবং দেশীয় শ্রমবাজার সুরক্ষার লক্ষ্যেই উচ্চ ফি আরোপ করা হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এত বড় অঙ্কের ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগকে কঠিন করে তুলবে। এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। পাশাপাশি তারা দাবি করেন, নতুন ফি চালুর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। সর্বশেষ আপিল আদালতের আদেশের ফলে ১ লাখ ডলারের এই ফি আপাতত কার্যকর করা যাবে না। তবে মামলার মূল আপিলের শুনানি এখনো বাকি রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চতর আদালতের রায়ের ওপর এই নীতির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।
ভেনেজুয়েলায় গত মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় এক মাস পর উদ্ধার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু উইডমের মরদেহ। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা উইডমে, যিনি অভিবাসন মামলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়েছিলেন, তিনিও একই দুর্ঘটনায় নিহত হন। দম্পতির মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রু উইডমে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার বাসিন্দা ছিলেন। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা কয়েক বছর আগে আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং কাজের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে একটি পৃথক আইনি জটিলতার পর আইনজীবীর পরামর্শে তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, যাতে ভবিষ্যতে বৈধভাবে দেশে ফেরার সম্ভাবনা বাড়ে। পরে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে চলতি বছরের ৪ মে অ্যান্ড্রুও ভেনেজুয়েলায় চলে যান। দম্পতি ভেনেজুয়েলায় একটি ছোট খাদ্য ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ জুন উত্তর উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুইরা এলাকার তাদের আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ দাহ করা হয় এবং অ্যান্ড্রুর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাজারো মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং বহু ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের শনাক্ত করার কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসার মৃত্যুর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান আলোচনায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভূমিকম্পে ভবন ধসকেই নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসী, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দুর্বল করতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভাজনমূলক নীতি অনুসরণ করছে এমন অভিযোগ তুলেছেন ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন। নিউজউইকে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে অবিশ্বাস, বৈষম্য এবং সহিংসতার পরিবেশকে আরও উসকে দিচ্ছে। তবে লেখাটি কোনো নিরপেক্ষ সংবাদ প্রতিবেদন নয়। নিউজউইক এটিকে স্পষ্টভাবে মতামত হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং এতে উত্থাপিত বক্তব্য লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নিবন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়াও যুক্ত করা হয়নি। নিক্সনের বক্তব্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অভিবাসন নীতি। তার অভিযোগ, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের আওতায় থাকা পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য দেওয়া সাময়িক সুরক্ষা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা ব্যক্তিরা এর আওতায় নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন নিক্সন। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিবাসন অভিযান ও মৃত্যুর ঘটনাও মতামত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন এই আইনপ্রণেতা। তার মতে, এসব ঘটনা শুধু আইন প্রয়োগের প্রশ্ন নয়; বরং অভিবাসী পরিবারের নিরাপত্তা, জীবিকা এবং সমাজে তাদের অবস্থানের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার দায় ও পরিস্থিতি পৃথক তদন্তের বিষয়। অভিবাসনের পাশাপাশি ভোটাধিকার ও নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিক্সন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে এমনভাবে নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কৃষ্ণাঙ্গসহ কিছু জনগোষ্ঠীর ভোটের প্রভাব কমে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভোটাররা প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমতাসীনরাই কার্যত নিজেদের সুবিধামতো ভোটার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ট্রাম্পের পাশাপাশি কংগ্রেসের সদস্যদেরও সমালোচনা করেছেন নিক্সন। তার মতে, সম্ভাব্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য, চিঠি কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকরভাবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। নিক্সনের অভিযোগ, কিছু আইনপ্রণেতা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ আপত্তি জানালেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন না। তার দৃষ্টিতে, এই নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক করে তুলছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার সমর্থকেরা অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানকে আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ভোট ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রচলিত আইন অনুসরণের যুক্তি দেওয়া হয়। তবে নিক্সনের মতামত নিবন্ধে এই পাল্টা অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। নিবন্ধের শেষাংশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আরও বেশি জবাবদিহি দাবি করার আহ্বান জানান নিক্সন। তার বক্তব্য, নেতারা যদি সত্যিই মনে করেন নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তাহলে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয় সেই ক্ষতি ঠেকাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপও নিতে হবে।
মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত বিদেশি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে আসছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া একাধিক কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে সেই সুবিধা এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী, অধিকারকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের দাবি, নতুন নীতির কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে এবং বৈধ অভিবাসনের পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৫টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখা, গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের আরও বিস্তৃত তদন্ত এবং যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তাদের পরিধি বাড়ানো। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, আগে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে সাধারণ অভিবাসীদের তুলনায় আইনি দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তারা অভিবাসী কোটার আওতায় পড়তেন না এবং অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি সুবিধা পেতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এই শ্রেণিকেও অন্যান্য অভিবাসীদের মতো একইভাবে বিবেচনা করছে। আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাশলি ডি'আজেভেদো বলেন, "যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে জন্ম নেওয়া কাউকে বিয়ে করেছেন, তাদের জীবন এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে।" তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ এবং দেশের বাইরে আরও প্রায় ৩ লাখ মানুষ তাদের সহায়তা চাইছেন। তিনি জানান, অনির্দিষ্ট সময় আটক থাকার আশঙ্কায় অনেক পরিবার স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটকও করা হয়েছে, যা অতীতে খুব কমই দেখা যেত। অন্যদিকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শারভারি দালাল-ধেইনি বলেন, মার্কিন সরকার সব সময়ই বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাই করত। তবে আগে এই আবেদনকারীরা সাধারণ অভিবাসন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতেন না। কারণ আইনে তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এনপিআরকে বলেন, গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের পরিচয়, অতীত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, কেবল মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা পান না। তার ভাষায়, আই-১৩০ পারিবারিক আবেদন অনুমোদিত হলেও সেটি নিজে থেকে কোনো অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। যারা বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এটি মোট গ্রিন কার্ড অনুমোদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সন্তান ও বাবা-মায়ের মতো নিকট আত্মীয়দের যুক্ত করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ পারিবারিক অভিবাসন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের অন্যতম প্রধান পথ। তথ্য অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনের গড় নিষ্পত্তি সময় ছিল প্রায় ১৩ মাস এবং বাগদত্তা বা বাগদত্তার ভিসার ক্ষেত্রে প্রায় ৭ মাস। তবে আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের পর অনেক আবেদনেই অতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে। নতুন নীতির প্রভাব পড়েছে সামরিক পরিবারের ওপরও। এনপিআরের প্রতিবেদনে এমন এক নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি একজন মার্কিন সেনাসদস্যের স্ত্রী এবং নিজেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি এমন একটি দেশের নাগরিক, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও তার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ওই নারীর স্বামীকে জার্মানিতে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু তার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বাড়ির কী হবে, তারা একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এবং দুই মার্কিন নাগরিক সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না। অভিবাসন আইনজীবী এরিক ওয়েলশ বলেন, বর্তমানে আবেদনকারীদের শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতাই নয়, ব্যক্তিগত চরিত্র, অতীত জীবন এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। আগে যেসব তথ্য সাধারণত বাধ্যতামূলক ছিল না, এখন সেগুলোও চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বিদেশি কাউকে বিয়ে করলেই স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি কখনোই এমন ছিল না। তবে বর্তমান নীতির কারণে আবেদনকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার এখন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এগোতেই ভয় পাচ্ছে। কারণ আবেদন করলেই অতিরিক্ত তদন্ত, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা আটক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগ থাকলেও অনেকেই সেই পথ অনুসরণ করতে দ্বিধায় পড়ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে দেশটিতে বসবাসরত কয়েক লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের ক্ষমতা বহাল রাখার সুযোগ দিয়েছে। এই রায়ের ফলে প্রায়৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। টিপিএস বাতিল হলে তাদের অনেককেই সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মানবিক সংকটে থাকা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, টিপিএস প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। সাংবিধানিক প্রশ্ন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত। ফলে ভবিষ্যতেও প্রশাসন টিপিএস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাবে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাজারো পরিবার এই কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে জীবন গড়ে তুলেছে। হঠাৎ করে তাদের আইনি সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানো শুধু মানবিক সংকটই সৃষ্টি করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। টিপিএস মূলত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চরম অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী জীবন গড়ে তুলেছেন। ফলে তাদের সুরক্ষা এক ঝটকায় প্রত্যাহার করা বড় ধরনের সামাজিক ও মানবিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, টিপিএস একটি অস্থায়ী কর্মসূচি এবং এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মর্যাদা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। রায়ের পর এখন বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো কংগ্রেসকে দ্রুত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে টিপিএসধারীদের জন্য স্থায়ী আইনি সুরক্ষা বা নাগরিকত্বের পথ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্কও উসকে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। নতুন নীতির আওতায় শিক্ষার্থীরা আর অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ‘স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’ ধরে রেখে দেশটিতে থাকতে পারবেন না। পরিবর্তে তাদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অবস্থানের নিয়ম চালু করা হতে পারে। ব্লুমবার্গ ল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (ডিওএস) সুবিধা বাতিল করে নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক অবস্থানের নিয়ম চালুর প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বর্তমানে ‘এফ’ ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা তাদের একাডেমিক প্রোগ্রাম চলমান থাকা এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার ভিত্তিতে কোর্স সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন। অর্থাৎ তাদের থাকার সময়সীমা নির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে না। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অনুমোদন দেওয়া হবে। সেই মেয়াদের মধ্যে পড়াশোনা শেষ না হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রাখতে তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রবিধানটির পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে। এটি কোনো নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিটি প্রকাশ ও বাস্তবায়নের পথ এখন অনেকটাই পরিষ্কার। নতুন নীতিমালা শুধু এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই নয়, জে এক্সচেঞ্জ ভিজিটর, আই ক্যাটাগরির ভিসাধারী এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের অবস্থানের অনুমতি নির্ধারণ করা হতে পারে। যেসব শিক্ষার্থীর ডিগ্রি বা গবেষণা কার্যক্রম শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হবে, তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য পৃথক আবেদন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ২০২৫ সালে প্রথম এই পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। যদিও এর মূল ধারণা প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামনে আসে, তখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এবার হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় নিয়মটি যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে পারে। এটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অভিবাসন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির ওপর দেশব্যাপী স্থগিতাদেশ জারি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক পি. কেসি পিটস ৭১ পৃষ্ঠার এক রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব নীতি প্রশাসনিক আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছে। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) এবং অভিবাসন পর্যালোচনা বিষয়ক নির্বাহী দপ্তর তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যৌক্তিক ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চালু হওয়া একটি নীতির ফলে অভিবাসন আদালতে শুনানির জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের আদালত চত্বর থেকেই আটক করার সুযোগ পেতেন ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা। এ কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিবাসন আদালতের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিবাসী অধিকারকর্মী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরে এই নীতির সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, আদালতে উপস্থিত হওয়ার সাহস দেখানো ব্যক্তিদেরই পরে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যা অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিচারক পিটস রায়ে বলেন, আইসিই যেসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে, তারা আদালতে অন্য কোনো অপরাধে নয়, বরং একই অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগের শুনানিতে হাজির হচ্ছিলেন। ফলে এই নীতির ভিত্তি এবং যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাতিলের ক্ষেত্রে প্রশাসন পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। আদালতের মতে, অভিবাসন আদালত এলাকায় বেসামরিক আইন প্রয়োগসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিচারক দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতিকেও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আওতায় আইসিই আটক ব্যক্তিদের ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হেফাজতে রাখতে পারত। তবে বিচারক বলেন, এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়, সান ফ্রান্সিসকোর একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে অনেককে ১২ ঘণ্টার বেশি, কখনো কখনো পুরো রাত বা কয়েক দিন পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছে। বিচারকের মতে, ধারণক্ষমতার সংকট মোকাবিলায় বিকল্প কোনো উপায় বিবেচনা না করেই প্রশাসন এই নীতি কার্যকর করেছে। তাই তিনি নীতিটি বাতিল করে দেশব্যাপী কার্যকারিতা স্থগিতের নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান আইন উপদেষ্টা জেমস পারসিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারক যখন সাজা দেন, তখন আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। একইভাবে কোনো অভিবাসন বিচারক যদি কাউকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেন, তাহলে তার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। তিনি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে বিচারিক সক্রিয়তার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। এদিকে, গত মাসে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতও ম্যানহাটনের অভিবাসন আদালতগুলোতে গ্রেপ্তার অভিযান সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলার বিচারক পি. কেভিন ক্যাসটেলও মন্তব্য করেছিলেন যে, অভিবাসন আদালতে আইন প্রয়োগসংক্রান্ত আগের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ‘খামখেয়ালি এবং যথাযথ বিবেচনাহীন’। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকে ঘিরে চলমান আইনি লড়াইয়ে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে অভিবাসন আদালতকে গ্রেপ্তারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে কি না এবং আটক ব্যক্তিদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালত লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘সাংকচুয়ারি সিটি’ নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছিল যে লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংকচুয়ারি সিটি নীতি ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা সীমিত করছে এবং এর ফলে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি এবং মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে সংশোধিত অভিযোগ দাখিলের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। সাংকচুয়ারি সিটি নীতির আওতায় অনেক শহর ও স্থানীয় প্রশাসন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্দিষ্ট তথ্য বিনিময় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত রাখে। এ ধরনের নীতির সমর্থকদের দাবি, এতে অভিবাসী সম্প্রদায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বেশি আস্থা রাখতে পারে এবং অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত হয়। অন্যদিকে নীতির সমালোচকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের এ ধরনের সীমাবদ্ধতা ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কমিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও আইনি লড়াই নতুন নয়। বিশেষ করে সাংকচুয়ারি সিটি নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য কিংবা শহর প্রশাসনের মধ্যে বহুবার বিরোধ দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সাংকচুয়ারি সিটি নীতি অনুসরণকারী শহর ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি অভিবাসন ইস্যুতে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্কেও এ রায়ের প্রভাব পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগ করবেন। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।” তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা সূত্র উল্লেখ করেননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে শেষবারের মতো ট্রাম্প ও স্টারমারের সাক্ষাৎ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে। স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “অভিবাসন ও জ্বালানি—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।” একই পোস্টে তিনি উত্তর সাগরে নতুন করে তেল উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও তিনি একাধিকবার সমালোচনা করেছেন। একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে স্টারমারকে ‘ট্রাম্প হুইস্পারার’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে। স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি, আর আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।” এদিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, প্রধানমন্ত্রী সেটিই করবেন।” ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সোমবার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।
সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির ভোটাররা। ডানপন্থি রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি-ইউডিসি) সমর্থিত এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫৪ শতাংশেরও বেশি। রোববার অনুষ্ঠিত এই গণভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ার পর দেশটির প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের বিচার ও পুলিশমন্ত্রী বিট ইয়ান্স এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে নাগরিকেরা দেশের স্থিতিশীলতা, উন্মুক্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন। ইউডিসি প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের স্থায়ী জনসংখ্যা কোনোভাবেই যেন ১ কোটি পার না হয়। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ লাখ, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। ইউডিসির দাবি ছিল, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা না হলে দেশের আবাসন সংকট, যানজট, অপরাধ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের মানুষের অবাধ চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করতে হতো, যা দেশটির অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করত। ভোটের ফলাফলকে হতাশাজনক উল্লেখ করে ইউডিসির সভাপতি মার্সেল ডেটলিং বলেন, হেরে গেলেও ৪৫ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রমাণ করে যে দেশের একটি বড় অংশ বর্তমানের এই অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি পছন্দ করছে না। অন্যদিকে, সুইস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন জানিয়েছে, এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সুইস জনগণ আত্মগুটিয়ে নেওয়া এবং বিদেশিবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এবারের গণভোটে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল রেকর্ড প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর গড় উপস্থিতির (৪৯%) চেয়ে অনেক বেশি। একই দিনে অনুষ্ঠিত অন্য আরেকটি গণভোটে সুইস ভোটাররা বেসামরিক সেবায় যোগদানের নিয়ম কঠোর করার সরকারি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পর এবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) আমেরিকানদের টার্গেট করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জালিয়াতি বা তথ্য গোপন করে যারা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে এক নজিরবিহীন আইনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত মামলা করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন বিলাসিতা, সাধারণ ‘স্টার্টার হোম’ কিনতেও লাগছে ১০ লাখ ডলার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের গত দুই মাসেরও কম সময়ে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে ২৯ জন বিদেশি-জাত মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে মাত্র ১০টির মতো নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা হতো, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই গতি আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন? জেনে নিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার সহজ পথ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বিচার বিভাগ জালিয়াতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে সিভিল আইনজীবীদের সরিয়ে এনে এই ‘নাগরিকত্ব বাতিল ইউনিটে’ নিয়োগ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া একটি বিশেষ সুযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মূলত যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় বা তার আগে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নে জড়িত ছিলেন, কিংবা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন—তাদেরই নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়, তবে ওই ব্যক্তি তার মার্কিন নাগরিকত্ব হারাবেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের অভিবাসী স্ট্যাটাসে (যেমন- পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড) ফিরে যাবেন। এমনকি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টও করা হতে পারে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের প্রশাসনগুলো (যেমন- বাইডেন প্রশাসন চার বছরে মাত্র ২৪টি মামলা করেছিল) কেবল যুদ্ধাপরাধী বা বড় সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নিত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সাধারণ কাগজের ভুলত্রুটি বা ছোটখাটো তথ্য গোপনের বিষয়গুলোকেও এই আইনের আওতায় এনে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই আইনটি কেবল অন্য দেশ থেকে এসে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া আমেরিকানদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রক্ষণশীল নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন সংস্কারপন্থীদের একাংশের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থের তুলনায় পারিবারিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা শ্রমবাজার, অর্থনীতি এবং সামাজিক অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় তারা শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অবদানকে ভিত্তি করে একটি মেরিটভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমান মার্কিন অভিবাসন কাঠামোর ভিত্তি গড়ে ওঠে ১৯৬৫ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে। এই আইনের ফলে পারিবারিক পুনর্মিলনকে অভিবাসনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রিন কার্ড পান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনের স্পন্সরশিপের মাধ্যমে। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীর শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে গৌণ হয়ে পড়ে। অভিবাসন সংস্কারের সমর্থকরা বলছেন, একটি দেশের অভিবাসন নীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তাদের মতে, পরিবার একত্রিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রত্যেক অভিবাসীর বিস্তৃত পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের নীতি কাঠামোর অংশ হওয়া উচিত নয়। তারা আরও দাবি করেন, বর্তমানে চালু কিছু কর্মসূচি এই চাপ আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ডাইভার্সিটি ভিসা লটারির সমালোচনায় বলা হচ্ছে, প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ শুধুমাত্র ভাগ্যের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান, যেখানে দক্ষতা বা অর্থনৈতিক অবদান রাখার সক্ষমতার মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক নয়। অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের একটি বড় অংশকে নির্বাচিত করা হয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে, দক্ষতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়। তাদের দাবি, এর ফলে নিম্নদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সেবার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা উল্লেখ করেন, বহু সফল উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং ব্যবসায়ী প্রথমে পরিবারভিত্তিক ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরবর্তীতে দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তবুও মেরিটভিত্তিক অভিবাসনের পক্ষে আলোচনা ও চাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বয়স এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অবদানের ভিত্তিতে পয়েন্ট নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে। সর্বোচ্চ পয়েন্টপ্রাপ্ত আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা দাবি করেন, এতে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণ করা সহজ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই মেরিটভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দেন, আধুনিক অর্থনীতির জন্য উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ অভিবাসী প্রয়োজন, যারা দ্রুত শ্রমবাজারে যুক্ত হয়ে কর প্রদান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় নিম্নদক্ষ অভিবাসন সীমিত করা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেওয়া, আমেরিকান মূল্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং বিদেশি শ্রমিকের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের প্রতিস্থাপনের সুযোগ কমানোর বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে আশ্রয়, শরণার্থী এবং অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচির সংস্কারের কথাও আলোচনায় রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এসব কর্মসূচি মানবিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সীমিত থাকা উচিত এবং অর্থনৈতিক অভিবাসনের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে মানুষকে মূল্যায়ন করা যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক অভিবাসন নীতির মানবিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বৈচিত্র্য, পরিবারভিত্তিক সামাজিক কাঠামো এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই নিহিত। কংগ্রেস ভবিষ্যতে কোনো বড় অভিবাসন সংস্কার গ্রহণ করলে, সেখানে মূল বিতর্কের কেন্দ্রে থাকবে একটি মৌলিক প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি পরিবারভিত্তিক অভিবাসন কাঠামো বজায় রাখবে, নাকি মেরিটভিত্তিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন নীতি গঠন করবে। এই সিদ্ধান্তই আগামী দশকে দেশটির জনসংখ্যা, শ্রমবাজার এবং অভিবাসন নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব এশীয়-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জীয় (এএপিআই) জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে পড়েছে বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষ জানিয়েছেন, তারা নিজেরা অথবা তাদের পরিচিত কেউ অভিবাসন-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। এএপিআই ডাটা এবং দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, অনেক এশীয়-আমেরিকান এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের জন্য আগের মতো সুযোগের দেশ বলে মনে করেন না। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, গত এক বছরে তারা বা তাদের পরিচিত কেউ আটক বা বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন, নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন নথি সঙ্গে বহন শুরু করেছেন, ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন অথবা অভিবাসন উদ্বেগের কারণে দৈনন্দিন রুটিন বদলেছেন। কয়েক মাস ধরে অভিবাসন আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি বৃদ্ধির পর এই ফলাফল সামনে এলো। এর ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জন এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য বড় সুযোগের দেশ ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই। মাত্র ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৩ জন এখনো মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য। অন্যদিকে ৫ শতাংশের মত, দেশটি কখনোই অভিবাসীদের জন্য আদর্শ সুযোগের জায়গা ছিল না। এএপিআই ডাটার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কার্তিক রামকৃষ্ণান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের গল্প অভিবাসীদের অবদানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। যারা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন, তারাও যখন বলতে শুরু করেন যে এটি আর সেরা দেশ বলে মনে হচ্ছে না, তখন সেটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।” জরিপে দেখা গেছে, বৈধ অভিবাসী বা নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও সাম্প্রতিক নীতিমালার প্রভাব অনুভব করছেন। যদিও বিভিন্ন ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি অভিবাসন-সংক্রান্ত পদক্ষেপ স্থগিত করেছে, তবুও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি। আদালত যেসব পদক্ষেপ আটকে দিয়েছে, তার মধ্যে কিছু ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন সীমিত করার উদ্যোগও ছিল। ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং বর্তমানে নাগরিকত্ব পাওয়া ২৭ বছর বয়সী খোয়া ত্রান বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি ও তাঁর স্ত্রী এখন নিয়মিত নাগরিকত্ব ও অভিবাসন নথি সঙ্গে রাখেন। তিনি আরও বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশ সফর পিছিয়ে দিতে দেখেছেন। জরিপে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক এমন কাউকে চেনেন, যিনি গত এক বছরে নাগরিকত্ব বা বৈধ অবস্থানের প্রমাণপত্র সঙ্গে বহন করা শুরু করেছেন। এ হার সামগ্রিক এএপিআই জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি। রামাকৃষ্ণনের মতে, অনেক বৈধ অভিবাসী ও স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষও এখন মনে করছেন, তাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জরিপে পরিচয়বোধ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন, তাঁদের পারিবারিক শিকড়, বংশপরিচয় বা পূর্বপুরুষের দেশের পরিচয় তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তুলনায় ৪৪ শতাংশ বলেছেন, ‘আমেরিকান’ পরিচয় তাঁদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাসাচুসেটসের ২২ বছর বয়সী অ্যাবিগেল জেয়রাজ , যার বাবা-মা ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন, বলেন তিনি নিজেকে ‘দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকান’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁর পরিবার যে সুযোগ পেয়েছে, সেটির মূল্য দেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়া সুনহো কোওন বলেন, তিনি কোরীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ও সমাজের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মিশ্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর আগে পরিচালিত একটি এপি-এনওআরসি জরিপে সব মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। অনেক উত্তরদাতা বলেছেন, অভিবাসন ও বৈচিত্র্যবিষয়ক চলমান বিতর্ক তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করেছে।
দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক আলোচনা, বিতর্ক ও সমঝোতার পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি “মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট” কার্যকর হতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপজুড়ে এই নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, নতুন এই চুক্তির লক্ষ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করা। বিশেষ করে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর ইউরোপজুড়ে যে রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই এই সংস্কার কার্যকর করা হচ্ছে। নতুন নীতির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাহ্যিক সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে তাদের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করা হবে। নীতিগতভাবে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে বিবেচিত হবে, তাদের আবেদন সীমান্ত পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা আশ্রয় প্রক্রিয়া কমে আসবে বলে আশা করছে ইইউ কর্তৃপক্ষ। ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অভিবাসন চাপের মুখে ছিল। নতুন চুক্তির আওতায় অন্যান্য সদস্য দেশকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা অথবা প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে। এই ব্যবস্থাকে “সংহতি প্রক্রিয়া” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইউরোড্যাক ডাটাবেজ আরও উন্নত করা হয়েছে। এখানে আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক দেশে একাধিকবার আশ্রয় আবেদন করতে না পারেন এবং প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিনেই ইউরোড্যাক সিস্টেমে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা কয়েকটি সদস্য দেশের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় কমিশন বিষয়টিকে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন নীতির কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী যথাযথ আইনি সহায়তা বা ন্যায্য শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কার ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে এটিকে অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের কঠোর আদেশের মুখে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়ার আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নীতি থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশের সাথে তারা "তীব্র দ্বিমত" পোষণ করলেও মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জন ম্যাককনেলের রায় মেনে নেবে। গত সপ্তাহে বিচারক ম্যাককনেলের দেওয়া ওই আদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, আদালতের নির্দেশটি কেবল প্রাথমিক ছিল এবং এটি এখনও "কার্যকর" হয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার বিচারক ম্যাককনেল এই টালবাহানার তীব্র সমালোচনা করে একটি আনুষ্ঠানিক রায় জারি করেন এবং সরকারকে অবিলম্বে এই নীতি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি রায়ে স্পষ্টভাবে লেখেন, "এবার আর কোনো অজুহাত চলবে না। সরকারের দায়িত্ব এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা।" বিচারকের এই কড়া আলটিমেটামের পর ইউএসসিআইএস-এর উপ-পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা আলফোনসো-রয়্যালস শুক্রবার আদালতে একটি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জানান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো "আর কার্যকর নেই" বলে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ভুক্তভোগী অভিবাসীর আবেদন পুনরায় চালু হওয়ার পথ সুগম হলো। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং আরও ৭টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে ইউএসসিআইএস এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ মোট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। এর ফলে ইতিমধ্যে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংগঠন আদালতে মামলা দায়ের করে। গত ৫ জুন দেওয়া রায়ে ওবামা আমলে নিযুক্ত বিচারক জন ম্যাককনেল ট্রাম্পের এই নীতি বাতিল করে বলেন, কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্রিজ বা আটকে রাখার কোনো আইনি কর্তৃত্ব ইউএসসিআইএস-এর নেই। তিনি এই নীতিকে অভিবাসনবিরোধী মানসিকতা বলে অভিহিত করে বলেন, কেবল জন্মসূত্রের কারণে এই মানুষদের সাথে এমন আচরণ করা অবৈধ।
দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক আলোচনা, বিতর্ক ও সমঝোতার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি “মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট” কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপজুড়ে এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করাই এই নতুন চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর ইউরোপজুড়ে যে রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই এই সংস্কার আনা হয়েছে। নতুন নীতির আওতায় ইইউর বাহ্যিক সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে অভিবাসীদের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করা হবে। প্রাথমিক যাচাই সাধারণত সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে বিবেচিত হবে, তাদের আবেদন সীমান্ত পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান আশ্রয় প্রক্রিয়া কমবে বলে আশা করছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ। ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অভিবাসন চাপের মুখে ছিল। নতুন চুক্তির অধীনে অন্যান্য সদস্য দেশকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা অথবা প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে। এই ব্যবস্থাকে “সংহতি প্রক্রিয়া” বলা হচ্ছে। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইউরোড্যাক ডাটাবেজ আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক দেশে একাধিকবার আশ্রয় আবেদন করতে না পারেন এবং প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। তবে নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিনেই ইউরোড্যাক সিস্টেমে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা কয়েকটি সদস্য দেশের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় কমিশন একে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন নীতির কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী যথাযথ আইনি সহায়তা ও ন্যায্য শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কার ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে এটি অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এ নীতির প্রতি সমর্থন আগের তুলনায় বেড়েছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও হ্যারিস পোলের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় ৮০ শতাংশ বলেছেন, “অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কার করা উচিত।” এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৭৫ শতাংশ। জরিপে আরও দেখা যায়, রাজনৈতিক সব শিবিরেই সমর্থন বৃদ্ধি পেলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের ৭১ শতাংশ অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা এপ্রিলের ৬৩ শতাংশের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ সমর্থন প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। এপ্রিলের ৮৯ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৯০ শতাংশ রিপাবলিকান এই নীতিকে সমর্থন করছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন ৭৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের বিষয়ে জনমত তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৫৬ শতাংশ এই নীতির পক্ষে মত দিয়েছেন, যা আগের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ এখন সব অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের পক্ষে, যা এক মাস আগে ছিল ৩৩ শতাংশ। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই সমর্থন ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৭৭ শতাংশে নেমেছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর আমেরিকান পলিটিক্যাল স্টাডিজের জন্য দ্য হ্যারিস পোল ও হ্যারিস এক্স পরিচালিত জরিপে ১ হাজার ৭২৫ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। ২৯ ও ৩০ মে পরিচালিত এই জরিপের মার্জিন অব এরর ছিল প্লাস মাইনাস ২.৪ শতাংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী দেশ ছেড়েছেন বা বহিষ্কৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় “সেলফ ডিপোর্টেশন” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ ত্যাগ করেছেন। বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৯ লাখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে চলমান ক্ষোভের মধ্যে নিউইয়র্কে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সেন্ট্রাল পার্কের কাছে হাজারো মানুষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভটি ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কের কাছ থেকে শুরু হয়ে ফিফথ অ্যাভিনিউ হয়ে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ ছিল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর কর্মকাণ্ড, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র নীতি। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আরও আলোচনায় আসে। এর আগে মিনিয়াপলিসে এক অভিযানের সময় আইসিই এজেন্টদের গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে ঘটনাটি ঘটে। মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইসিইকে শহর ত্যাগ করার আহ্বান জানান। মিনেসোটা রাজ্যের গভর্নরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ ও দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, আইসিই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্ট আত্মরক্ষায় কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। নিউইয়র্কের এই বিক্ষোভ অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা আইসিই-এর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কণ্ঠ তুললেও বিষয়টি দেশজুড়ে নীতি ও মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নীতিনির্ধারণে জনমতের চাপ তৈরি করতে পারে, তবে সমাধানের জন্য রাজনৈতিক সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।