- প্রচ্ছদ
- Topic
মার্কিন সিনেট
মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মার্কিন সিনেট প্রার্থী ড. আবদুল এল-সায়েদ বলেছেন, নির্বাচিত হয়ে সিনেটে গেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রকে (আরএফকে জুনিয়র) টিকা, কোভিড-১৯ এবং জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত তাঁর বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করবেন। সিএনএনের এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেন, আরএফকে জুনিয়র চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল বিষয় নিয়ে এমনভাবে কথা বলেন, যা তাঁর মতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে এসব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান রয়েছে এবং সিনেটে দায়িত্ব পেলে তিনি আরএফকে জুনিয়রের বক্তব্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোর জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব সম্পর্কে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান। সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক কাইটলান কলিন্স জানতে চান, নির্বাচিত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাকে তিনি সবচেয়ে বেশি সিনেটের শুনানিতে দেখতে চান। জবাবে এল-সায়েদ বলেন, আরএফকে জুনিয়রই সেই ব্যক্তি, যাকে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করতে চান। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যে প্রশিক্ষিত হওয়ায় তিনি তথ্যভিত্তিকভাবে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সক্ষম। ড. এল-সায়েদের এই মন্তব্য এসেছে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে বিজয়ের পর। তিনি দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করে এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। মিশিগান দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেয়েছে, তবুও আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এল-সায়েদের জয় নিশ্চিত নয়; নভেম্বরের নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সদস্য হচ্ছেন কি না। রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র অতীতে টিকা এবং জনস্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর সমালোচকেরা দাবি করেন, এসব বক্তব্য জনস্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তবে আরএফকে জুনিয়র বরাবরই বলে আসছেন, তিনি নিরাপদ ও কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি নিশ্চিত করার পক্ষেই কাজ করছেন। ড. আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং এপিডেমিওলজিস্ট। তিনি এর আগে ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টিকানীতি, জনস্বাস্থ্য এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজের পরিকল্পনা থাকলে নতুন এই প্রস্তাবটি সম্পর্কে জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি ‘এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট’ নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা তিন বছরের জন্য স্থগিত করাসহ এই কর্মসূচিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এটি এখনও কেবল একটি বিল এবং আইনে পরিণত হয়নি, তবে এটি পাস হলে প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসার একটি বিশাল অংশ পাওয়া ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। মন্টানার এই সিনেটরের মতে, এইচ-১বি কর্মসূচিটি এমন সব বিশেষায়িত পদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে আমেরিকান কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত যোগ্য কর্মী পায় না। এটিকে কম খরচের বিদেশি শ্রমিক দিয়ে আমেরিকানদের প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। তার দাবি, এই বিলটি পাস হলে কর্মসূচিটি তার মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাবে, জালিয়াতি কমবে এবং আমেরিকান কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন। প্রস্তাবিত এই বিলে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা প্রদান পুরোপুরি স্থগিত রাখা এবং প্রতিটি এইচ-১বি পিটিশনের জন্য এক লাখ মার্কিন ডলার ফি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান লটারি পদ্ধতির বদলে উচ্চ বেতনের চাকরিতে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ, থার্ড-পার্টি স্টাফিং এজেন্সির ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজের পাশাপাশি স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বা 'ডুয়াল ইনটেন্ট' বিধান বাতিলের কথাও উল্লেখ রয়েছে। বিলটিতে এইচ-শ্রেণির ভিসা গ্রহীতাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য 'অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং' বা ওপিটি-এর মতো কাজের অনুমতি বাতিল করার মতো কঠোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আরোপিত এক লাখ ডলার ফি পুনরায় আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আগে একটি ফেডারেল আদালত কংগ্রেসের অনুমোদনহীন অবৈধ কর আখ্যা দিয়ে বাতিল করেছিল। ভারত এই এইচ-১বি কর্মসূচির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী দেশ। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় প্রকৌশলী, আইটি পেশাজীবী, গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মী এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান। প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে এই পেশাজীবীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিন বছর নতুন ভিসা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিপুল ফি আরোপের কারণে কোম্পানিগুলো স্পন্সরশিপ দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। এছাড়া পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হলে এবং পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের কাজের পথ রুদ্ধ হলে ভারতীয়দের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ অনেকটাই কমে যাবে। তবে আপাতত প্রস্তাবটি কেবল মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত হয়েছে। এটিকে আইনে পরিণত হতে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই বর্তমানে বিদ্যমান নিয়মেই এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে এবং এই মুহূর্তে ভিসা প্রত্যাশীদের তাৎক্ষণিক চিন্তার কোনো কারণ নেই।
ওয়াশিংটন, ২৩ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সিনেট। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনা বৃহস্পতিবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, নতুন জনবল নিয়োগ, আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলে জানা গেছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এটিকে সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং মানব পাচার ঠেকাতে আইস ও বর্ডার প্যাট্রোলের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একাংশ এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, বিপুল এই অর্থ আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রমে ব্যয় না করে অভিবাসন আদালত, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সহায়তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে বিলটি পাস হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। কার্যকর হতে হলে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অনুমোদন পেতে হবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিল নিয়ে দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার নেপথ্য কারণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন ভার্জিনিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন। মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্য অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে তার পরাজয় মেনে নিতে না পেরে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই যুদ্ধ শুরু করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মার্কিন সেনাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সিনেটর কেইন 'জাস্ট দ্য নিউজ'-এর একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জানান, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরান ২০২০ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে পরাজিত করতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। ট্রাম্প এই অভিযোগকেই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। কেইন সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে। তিনি জানতে চান, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যুদ্ধকে রিপাবলিকানরা কি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই সমর্থন দিয়ে যাবেন? এর আগে ইরানে স্থলপথে সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কতা জারি করেছিলেন টিম কেইন। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্থল সেনা পাঠানো হলে ট্রাম্পের এই 'অপ্রয়োজনীয় এবং অবিবেচনাপ্রসূত' যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলবে। উল্লেখ্য, টিম কেইন ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে মার্কিন বৈদেশিক নীতি এবং সামরিক অভিযানের ওপর নজরদারি রাখার ক্ষমতা সম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিনেট কমিটির সদস্য হিসেবে তার এই মন্তব্য মার্কিন ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।