যুক্তরাষ্ট্র রাজনীতি

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নতুন পৃথিবীর জন্মে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল-সমর্থিত সুপার পিএসিগুলো: জোহরান মামদানি

ইসরায়েলপন্থী সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি), বিশেষ করে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC)-এর সমালোচনা করে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, এসব রাজনৈতিক অর্থায়নকারী গোষ্ঠী “নতুন পৃথিবীর জন্মে বাধা দিচ্ছে” এবং বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করছে।   সোমবার সিটি হল রোটুন্ডায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামদানি তার আগের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে তিনি এক নির্বাচনী সমাবেশে AIPAC-কে ইঙ্গিত করে “মনস্টার” শব্দ ব্যবহার করেন, যা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।   মামদানি বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো একক সংগঠন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সেইসব সুপার পিএসিকে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করেছেন যারা বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালায়। তার ভাষায়, এসব গোষ্ঠী মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।   এর আগে তিনি ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, এসব শক্তি বিভিন্ন রূপে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে।   পরবর্তীতে ব্রুকলিনের কিংস থিয়েটারে দেওয়া এক বক্তব্যে মামদানি AIPAC এবং ইসরায়েল নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে জনমত প্রভাবিত করছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।   তার এই মন্তব্যের পর নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডের কেহিলাথ জেরুশালেম সিনাগগের সিনিয়র রাব্বি চাইম স্টেইনমেটজ বলেন, এ ধরনের ভাষা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সহিংসতা উসকে দিতে পারে।   তিনি আরও বলেন, মামদানি AIPAC-কে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করছে।   মামদানি তার বক্তব্যে ইতালীয় সমাজতান্ত্রিক চিন্তক আন্তোনিও গ্রামশির একটি ধারণার উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয় পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন বাস্তবতার জন্ম হয়। তবে এই উদ্ধৃতির সঠিক ব্যাখ্যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে।   এদিকে, এই মন্তব্যকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা ও মতবিরোধ আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Unknown জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুরের অভিযোগ, ট্রাম্পের দাবি ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার কারণে পুলের পানি নিষ্কাশন করে পুনরায় মেরামত করা প্রয়োজন হবে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   ট্রাম্প জানান, ভাঙচুরের ঘটনায় “অনেককে গ্রেপ্তার” করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তি সিএনএনকে জানান, তিনি কেবল সংস্কারের সময় আলগা হয়ে থাকা নীল উপাদান স্পর্শ করেছিলেন এবং সেখানে কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেন।   সম্প্রতি ১৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পুল সংস্কার প্রকল্পটি ট্রাম্পের ওয়াশিংটন সৌন্দর্যবর্ধন উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ ও ফোয়ারা সংস্কারের মতো প্রকল্পও গ্রহণ করেছিলেন।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাব্দীপ্রাচীন এই রিফ্লেক্টিং পুলটি সম্প্রতি সংস্কারের পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পানিতে শৈবাল বৃদ্ধি এবং নীল রঙের আবরণ খসে পড়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শৈবাল বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।   ঘটনার বিষয়ে তিনবারের অলিম্পিয়ান ডেভিড হার্ন দাবি করেন, তিনি পুলের ভেতরে থাকা আলগা অংশ পরীক্ষা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কেবল কৌতূহলবশত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং কোনো ক্ষতি করেননি।   অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ন্যাশনাল মলের অন্যান্য ভাঙচুরের ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শৈবাল প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিষ্কার করা হয়েছে এবং দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হবে।   তবে স্থানীয় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অনেকে পুলের বর্তমান অবস্থাকে “খুবই নোংরা” বলে মন্তব্য করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, শৈবাল বৃদ্ধিকে একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কার ও বর্তমান পরিস্থিতি এখন রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Unknown জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তদন্তের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, আলোচনায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউজমের আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ও ব্যবসায়িক সংযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে কর সংক্রান্ত বিষয়, সাবেক সহযোগীদের ভূমিকা এবং রাজ্য প্রশাসনের কিছু কর্মীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।   মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এবং দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার একাধিক হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি অফিস এই তদন্ত পরিচালনা করছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন গভর্নর নিউজম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এফবিআই এবং ডিওজে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই গ্যাভিন নিউজম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০০৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র পদে নির্বাচন করার সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। এই সম্পদের বড় অংশ আসে ওয়াইন ও হসপিটালিটি ব্যবসা থেকে।   তার ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু হয় প্লাম্পজ্যাক (PlumpJack) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, যা তিনি গর্ডন গেটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে তোলেন। বিলি গেটির সঙ্গে অংশীদারিত্বে তিনি বালবোয়া ক্যাফে এবং প্লাম্পজ্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এই ব্যবসা ওয়াইনারি, রেস্তোরাঁ এবং হোটেল খাতে বিস্তৃত হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ব্যবসাগুলো সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ে। নিউজম দম্পতির মালিকানায় ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ার ওকসে ১২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি রয়েছে। এটি ২০১৮ সালে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়, যার বড় অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।   পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টির কেন্টফিল্ড এলাকায় ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের একটি বাড়ি কেনেন। পরিবারটি তাদের চার সন্তানের শিক্ষার সুবিধার্থে এই এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। গ্যাভিন নিউজম একাধিক বই লিখেছেন। তার সাম্প্রতিক আত্মজীবনী “ইয়াং ম্যান ইন আ হারি” থেকে তিনি এক লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি তার নিজের বই প্রচারের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, বই প্রকাশনা ও রয়্যালটি থেকে তার আয় এক লাখ ডলারের বেশি। তবে সরকারি দায়িত্বে থাকার কারণে তার পডকাস্ট থেকে কোনো আয় হয়নি।   তদন্তে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে জেনিফার সিবেল নিউজমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আয় কাঠামোর ওপর। তিনি “রিপ্রেজেন্টেশন প্রজেক্ট” নামের একটি নারীবাদী অলাভজনক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে তার বার্ষিক আয় এক লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি। এছাড়া তিনি “গার্লস ক্লাব এন্টারটেইনমেন্ট” নামের একটি মিডিয়া প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানটি তার নন-প্রফিট সংস্থা থেকে বার্ষিক প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অর্থ পেয়ে থাকে।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিউজম “ক্যালিফোর্নিয়া পার্টনারস প্রজেক্ট” নামের একটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অনুদান প্রবাহে সহায়তা করেছেন। এসব অর্থ তার স্ত্রীর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সঙ্গে ওভারল্যাপ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আর্থিক কার্যক্রম আইনগতভাবে বৈধ হলেও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে নিউসম এবং তার স্ত্রী উভয়েই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। গভর্নর নিউজম অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তদন্ত ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নাবিলাহ পার্কস । ছবি: ফাইল ছবি
আগামীকাল রানঅফ নির্বাচন, জর্জিয়ায় নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস রচনার সম্ভাবনা নিয়ে আবারও আলোচনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা নাবিলাহ পার্কস। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে মনোনয়ন নির্ধারণী রানঅফ নির্বাচন, যেখানে অন্যতম আলোচিত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিনি।   জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর এবার আরও বড় রাজনৈতিক মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাচ্ছেন নাবিলাহ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একটি দলীয় মনোনয়নের লড়াই নয়, বরং জর্জিয়ার রাজনীতিতে বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় রচনার সম্ভাবনাও বহন করছে।   বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান নাবিলাহ পার্কস ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী সিনেটর হন। তার এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এবার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রার্থী হয়ে তিনি আবারও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় নাবিলাহ জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ভোটাধিকার সুরক্ষা, নারীদের প্রজনন অধিকার এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার দাবি, জর্জিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।   রানঅফ নির্বাচনের আগে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় নাবিলাহ বলেন, “আমরা মানুষের জন্য লড়াই করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এই প্রচারণা শুরু করেছি। এখন সময় সেই প্রচেষ্টাকে সফল করার। আমি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”   এই নির্বাচনে নাবিলাহর প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরেক প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন। প্রাইমারি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে উভয় প্রার্থী রানঅফে জায়গা করে নেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদটি জর্জিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। নির্বাচিত ব্যক্তি স্টেট সিনেটের কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে আগামীকালের নির্বাচন শুধু দলীয় রাজনীতির জন্য নয়, পুরো অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।   রানঅফে বিজয়ী হলে নাবিলাহ পার্কস নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর সেখানে জয় পেলে তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করতে পারেন।   এমন সম্ভাবনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নাবিলাহর এই রাজনৈতিক যাত্রা মূলধারার মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Unknown জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন । ছবি: ফাইল ছবি
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিতের পর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের শুরু

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) তার এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউজমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই অভিযোগ করেন।   মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজম তদন্তের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেডারেল এজেন্টরা তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং সাবেক কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার ভাষায়, “কোনো অপরাধ খোঁজার কারণে নয়, বরং একটি অপরাধ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করছে এবং গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বছরের পর বছর পুরোনো রেকর্ড খোঁজা হচ্ছে। নিউজমের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্য করছেন, কারণ তিনি ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন।   নিউজম বলেন, “ট্রাম্প আমার টুইটের কারণে নয়, বরং তিনি জানেন আমি তার মিথ্যা ও প্রতারণা প্রকাশ করেছি, সেই কারণেই তিনি আমার পেছনে লেগেছেন।”   ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনি চাইলে আমার নথি তলব করতে পারেন, আমাকে তদন্ত করতে পারেন, আমাকে হয়রানি করতে পারেন, কিন্তু আমার পরিবারকে এই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বাইরে রাখুন।”   এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিউজমের রাজনৈতিক বিরোধ একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।   ট্রাম্প তখন আইন অমান্যের অভিযোগে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনার কথা বলেন। এর জবাবে নিউজম প্রকাশ্যে বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে এসে করুন।” এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

Unknown জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রেস্ট্রেইনিং অর্ডার লঙ্ঘনের অভিযোগে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক্স মিলারের বিরুদ্ধে আদালতে নথি

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক্স মিলার তার সাবেক স্ত্রী এমিলি মোরেনোর সঙ্গে সম্পর্কিত পারস্পরিক রেস্ট্রেইনিং অর্ডারের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি অডিও রেকর্ড গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   শুক্রবার আদালতে দাখিল করা এক নথিতে মোরেনোর আইনজীবীরা দাবি করেন, মিলার একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যা আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী হতে পারে। ওই নিষেধাজ্ঞায় উভয় পক্ষকেই একে অপরকে অপমান বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসম্যান হিসেবে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা বা নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করা নিষিদ্ধ নয়। তবে অভিযোগে বলা হয়, মিলার মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে জনসমক্ষে হেয় করেছেন, যা আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে।   এমিলি মোরেনো যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনোর কন্যা। ২০২২ সালে ম্যাক্স মিলারের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং দুই বছর পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে তাদের দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে। মামলায় পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগও উঠেছে। এমিলি মোরেনো দাবি করেন, মিলার তার গায়ে গরম পানি ফেলেছিলেন। তবে ম্যাক্স মিলার এই অভিযোগ অস্বীকার করে এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন।   সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে মিলার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসব অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য দেন। সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আরও কয়েকটি গণমাধ্যমেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।   মোরেনোর আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ওই সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্য আদালতের নিষেধাজ্ঞার শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে তাকে অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি আদালতে মিলারের আইনজীবী ব্যয়ের খরচ বহনের আবেদনও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে মিলারের মুখপাত্র ক্রিস ভ্লাস্টো দাবি করেন, কংগ্রেসম্যান কেবল নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন এবং মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা নিয়েছেন। তার মতে, রেস্ট্রেইনিং অর্ডার ভঙ্গের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এটি বিরোধী পক্ষের ব্যাখ্যা।   মোরেনোর আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, একটি অডিও রেকর্ডে মিলারের মন্তব্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। সেই অডিও আদালতে উপস্থাপনের জন্য বাধ্য করার আবেদনও করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধের ১০০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থন সংকট, রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে ৭ জুন (রোববার)। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এই সংঘাতের প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধকে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক দেশের স্বার্থবিরোধী ও অপ্রয়োজনীয় হিসেবে বিবেচনা করছেন।   ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের শান্তি ও উন্নয়ন বিষয়ক অধ্যাপক শিবলি তেলহামির বরাতে জানা যায়, খুব কম মার্কিন নাগরিকই মনে করেন ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে। তার মতে, জনমতের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের সাম্প্রতিক ‘ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ পোল’ অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে বা জয়ী হওয়ার পথে রয়েছে। জরিপে আরও দেখা যায়, ৩৩ শতাংশ ভোটার যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য নেতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মাত্র ১২ শতাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধের প্রভাবকে ইতিবাচকের চেয়ে বেশি ইতিবাচক বলে মনে করেন।   অধ্যাপক শিবলি তেলহামি বলেন, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন, পাশাপাশি বহু বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।   এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। ৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পারস্য উপসাগরে সীমিত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অবরোধ বজায় রেখেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।   জ্বালানি সরবরাহে বাধা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে, যা সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার বিরোধিতা করেছেন। মাত্র ২৪ শতাংশ মনে করেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি সংকট আসন্ন নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রতিরোধই এই সংঘাতের মূল লক্ষ্য। তিনি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করেন না বলেও মন্তব্য করেছেন।   তিনি বলেন, তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়কে অগ্রাধিকার দেন এবং নির্বাচনী প্রভাব তার নীতিতে পরিবর্তন আনবে না। অধ্যাপক শিবলি তেলহামির মতে, প্রশাসনের এই অবস্থান আলোচনায় কৌশলগত ভূমিকা রাখলেও জনমতের চাপকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে।   জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বর্তমান অবস্থায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেয়র মামদানিকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে বদলি নিউইয়র্ক পুলিশ ক্যাপ্টেন

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকে নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর এনওয়াইপিডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা এই পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক পক্ষপাত” বলে দাবি করলেও, সিটি প্রশাসন বলছে এটি পুলিশ বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।   বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তা হলেন এনওয়াইপিডির ক্যাপ্টেন জেমস উইলসন।তিনি ব্রুকলিনের ৯৪তম প্রিসিঙ্কটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তাকে মেয়র মামদানিকে “an embarrassment” বা “লজ্জাজনক” বলতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে তিনি নিউইয়র্কের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এনওয়াইপিডি প্রশাসন তাকে ব্রঙ্কসে অবস্থিত ৯১১ কল সেন্টারে বদলি করে। এনওয়াইপিডির নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে বলে জানা গেছে।   ঘটনার পর রিপাবলিকান রাজনীতিক ও রক্ষণশীল নেতারা ক্যাপ্টেন উইলসনের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করায় তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান অরিওলা বলেন, “যদি একই ধরনের মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে করা হতো, তাহলে হয়তো তাকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরা হতো। কিন্তু মেয়র মামদানির সমালোচনা করায় এখন তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”   রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগ, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করছে। তারা এটিকে “দুই ধরনের নিয়ম” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন—একটি কট্টর বামপন্থীদের জন্য, আরেকটি অন্যদের জন্য।   অন্যদিকে মেয়র মামদানি দাবি করেছেন, ক্যাপ্টেন উইলসনের বদলির সিদ্ধান্তে তার কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ এনওয়াইপিডির প্রশাসনিক বিষয়।” তবে বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

Unknown মে ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন দমনে সিনেটে আইসের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলার ৫০-৪৮ ভোটে পাস

ওয়াশিংটন, ২৩ এপ্রিল:   যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সিনেট। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনা বৃহস্পতিবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়েছে।   এই অর্থের মাধ্যমে সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, নতুন জনবল নিয়োগ, আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলে জানা গেছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এটিকে সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   তাদের দাবি, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং মানব পাচার ঠেকাতে আইস ও বর্ডার প্যাট্রোলের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একাংশ এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, বিপুল এই অর্থ আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রমে ব্যয় না করে অভিবাসন আদালত, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সহায়তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত ছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে বিলটি পাস হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। কার্যকর হতে হলে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অনুমোদন পেতে হবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।   সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিল নিয়ে দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
১০০ দিনে সাফল্য ও নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সমাবেশ করে নিজের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি তার ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, রোববার কুইন্সে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সমাবেশে ৩৪ বছর বয়সী এই মেয়র বলেন, সমাজতান্ত্রিক শব্দটিকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কল্যাণে সরকারকে কাজে লাগাতে তিনি লজ্জাবোধ করেন না।   মামদানি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শহরের সড়কে এক লাখের বেশি গর্ত মেরামত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করতে না পারলে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য হয় না। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ৮৪ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স।   নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মামদানি বলেন, সিটি পরিচালিত মুদি দোকান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রথমটি আগামী বছর চালু হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে যত্নসেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।   এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাড়া বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিনামূল্যে বাসযাত্রা চালুর বিষয়টি এখনো অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।   মেয়রের জনপ্রিয়তা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে তার অনুমোদন হার ৪৮ শতাংশ এবং ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, তার শিশু যত্ন উদ্যোগে ৫৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন এবং আবাসন ব্যয় নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপে ৪৯ শতাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   তবে একই জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করেন, শহরটি সঠিক পথে এগোচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক কিছুটা সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে দু’বার হোয়াইট হাউস সফর করেছেন।   অন্য এক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের ৫৯ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে মামদানি সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করছেন।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি সাবেক সিআইএ প্রধানের, ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ অভিযোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও মানসিক অবস্থাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।   বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পালন করা জন ব্রেনান বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাখা নিরাপদ নয়। তিনি মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর উল্লেখ করে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে পড়লে তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে এবং ট্রাম্প সেই অবস্থার উদাহরণ হতে পারেন।   গত শনিবার এমএস নাউ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, “এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।” তিনি বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   ব্রেনানের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত লাখো মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখা মানে বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা।   সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী যেন ঠিক এমন পরিস্থিতির জন্যই প্রণীত। একজন প্রেসিডেন্টের হাতে যখন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তখন তার মানসিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   দীর্ঘদিন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্রেনান বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হতে হয় সুসংহত ও বিচক্ষণ। কিন্তু ট্রাম্পের আচরণে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরানো ছাড়া বিকল্প নেই।   ব্রেনানের এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার অন্যতম কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখছে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম ১০০ দিনের হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে জোহরান মামদানির কর্মকাণ্ডে। নির্বাচনের সময় বড় ধরনের পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।   ২০২৫ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি অপরাধী তালিকা বাতিল, আক্রমণাত্মক পুলিশ ইউনিট ভেঙে দেওয়া এবং পুলিশি জবাবদিহিতা বেসামরিক তদারকির আওতায় আনার কথা বলেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই পিছিয়ে আছে অথবা বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।   তবে কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উপমেয়র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে শরীরে ধারণকৃত ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি নোটিশ দেওয়ার আগের নীতিও বাতিল করা হয়েছে।   অপরাধের পরিসংখ্যানে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রথম ১০০ দিনে খুনের ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে। গুলির ঘটনাও কমেছে ২০ শতাংশ। তবে ধর্ষণের ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক।   সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি কেবল শুরু।   এদিকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও এর ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে পুলিশ সদস্যদের সংগঠন বলেছে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে তাকে সমর্থন দেওয়া একটি সংগঠনের অংশ পুলিশ কমিশনারকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে।   ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও বর্তমানে প্রশাসনিক বাস্তবতায় কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছেন মেয়র।   অপরাধী তালিকা নিয়ে মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রয়োজনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন।   দায়িত্বের প্রথম ১০০ দিনে বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর পুরো বাস্তবায়ন না হলেও কিছু উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে। নিউইয়র্কের প্রশাসন আগামীতে কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Unknown এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি জোরালো, কিন্তু কংগ্রেসে সমর্থন অনিশ্চিত

ইরানকে ঘিরে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে অপসারণের দাবি জোরালো করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা। তবে কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।   মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলছেন, আবার কেউ সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি তুলেছেন।   ডেলাওয়্যারের প্রতিনিধি সারা ম্যাকব্রাইড বলেন, একজন প্রেসিডেন্ট কখনোই সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গণহত্যার হুমকি দিতে পারেন না। একইভাবে নিউজার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম মন্তব্য করেন, ট্রাম্প ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন।   এদিকে মিশিগানের প্রতিনিধি শ্রী থানেদার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে চিঠি দিয়ে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। কানেক্টিকাটের প্রতিনিধি জন লার্সন ইতিমধ্যে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও দাখিল করেছেন।   তবে বাস্তবতা হলো, কংগ্রেসে এই উদ্যোগ সফল হওয়ার মতো সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের হাতে নেই। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারও সরাসরি সমর্থন দেননি।   বর্তমানে হাউস ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা বিকল্প হিসেবে ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ পাসের মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। এর মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এপস্টেইন তদন্তে সাক্ষ্য দেবেন বিল গেটস,পাম বন্ডির সাক্ষ্য স্থগিত

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন-সংক্রান্ত তদন্তে জুনে কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেবেন বিল গেটস, তবে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি'র সাক্ষ্যগ্রহণ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। হাউস ওভারসাইট কমিটির সূত্র জানায়, বিল গেটস ১০ জুন একটি ক্লোজড-ডোর সাক্ষাৎকারে অংশ নেবেন। তিনি আগে থেকেই এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। অন্যদিকে, মার্চে সমন জারি করা হলেও পাম বন্ডি ১৪ এপ্রিল নির্ধারিত জবানবন্দিতে উপস্থিত হবেন না। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তিনি আর অ্যাটর্নি জেনারেল পদে না থাকায় সরকারি দায়িত্বে সাক্ষ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তার ওপর প্রযোজ্য নয়। কমিটি জানিয়েছে, বন্ডির ব্যক্তিগত আইনজীবীর সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, বন্ডিকে দ্রুত সাক্ষ্য দিতে হবে, না হলে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনা হতে পারে। গেটসের নাম এপস্টেইন সংক্রান্ত বিচার বিভাগের নথিতে বহুবার উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা প্রমাণ করে না। গেটসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি কমিটির সামনে হাজির হয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে থাকা অবস্থায় জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।

Unknown এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিমানবন্দরে কি আর থাকবে না সরকারি নিরাপত্তা? ট্রাম্পের প্রস্তাবে নতুন চাঞ্চল্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের অধীন নিরাপত্তা স্ক্রিনিং কার্যক্রম ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।   সম্প্রতি প্রকাশিত এই বাজেট প্রস্তাবটি ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তরের মাধ্যমে কংগ্রেসে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছোট বিমানবন্দরগুলোকে একটি বিশেষ অংশীদারিত্ব কর্মসূচির আওতায় এনে বেসরকারি কর্মীদের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি বিমানবন্দরে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা সরকারি তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ব্যবস্থায় নিরাপত্তা মানদণ্ড একই থাকলেও কর্মী নিয়োগ ও বেতন নির্ধারণের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর।   প্রস্তাবের পেছনের কারণ সাম্প্রতিক আংশিক সরকারি অচলাবস্থার সময় অনেক নিরাপত্তাকর্মী বেতন না পাওয়ায় বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। তবে যেসব বিমানবন্দরে বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল, সেখানে এই ধরনের সমস্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রশাসনের দাবি, বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বছরে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব এবং এতে একটি সমস্যাগ্রস্ত সংস্থার সংস্কারও শুরু হবে।    কী পরিবর্তন আসতে পারে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ছোট বিমানবন্দরগুলোতে বেসরকারি নিরাপত্তা স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক হতে পারে। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম ও প্রশিক্ষণ সরকারি সংস্থার অধীনেই থাকবে। ফলে যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় বড় কোনো পরিবর্তন নাও আসতে পারে।    বিরোধিতা ও উদ্বেগ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, বেসরকারিকরণ হলে নিরাপত্তার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মুনাফা অর্জনের প্রবণতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   সমালোচকেরা মনে করিয়ে দেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর নিরাপত্তা পুরোপুরি বেসরকারি খাতে ছিল, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের নিরাপত্তা প্রশ্নের জন্ম দেয়।    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্বের অনেক দেশেই বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত যুক্ত রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

Unknown এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
"পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে" বনাম সংবিধান: ট্রাম্পকে কি অপসারণ করবে নিজ মন্ত্রিসভা?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা হতে পারে—এমন জল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে এ বিষয়ে ‘সম্ভাবনা’ বাড়তে দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।   নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ‘কালশি’-তে এ সংক্রান্ত লেনদেন বেড়েছে। ব্যবহারকারীরা বাজি ধরছেন, প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করতে মন্ত্রিসভা পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পর এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে।   কালশির তথ্যানুযায়ী, “ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করা হবে কি না”—এমন একটি চুক্তিতে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের শেয়ারের দাম গত এক মাসে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও এই সংখ্যা নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস নয়, বরং বাজার অংশগ্রহণকারীদের মনোভাবের প্রতিফলন।   ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে পরবর্তী ধাপে কংগ্রেসের সম্পৃক্ততাও প্রয়োজন হয়, যা একটি জটিল ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল প্রক্রিয়া।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রেডিকশন মার্কেটের ওঠানামা জনমত ও রাজনৈতিক পরিবেশের ইঙ্গিত দিলেও তা চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্দেশ করে না। সমালোচকদের অভিযোগ, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম কখনো কখনো অযাচিত জল্পনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে এটি জনমতের তাৎক্ষণিক প্রতিফলন তুলে ধরে।   এদিকে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ও প্রশাসনের ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Unknown এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প: অবকাঠামোতে হামলার হুমকি

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   আল–জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ট্রাম্প ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।   একই সঙ্গে ইরানের তেলের বিশাল মজুদ নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে ওই সম্পদ ‘দখল’ করতে চাইতেন এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আয় সম্ভব হতো বলে দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকরা দৃঢ়ভাবে তাঁর পাশে আছেন। তবে যুদ্ধবিরোধী নাগরিকদের তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ‘বোকা’ বলে উল্লেখ করেন।   এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা হিসেবে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেননি।   হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, প্রণালিটি পুনরায় চালু করার জন্য দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আলটিমেটাম চূড়ান্ত। ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও ‘যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
মেরিল স্ট্রিপ। এএফপি
নতুন মার্কিন আইনের বিরুদ্ধে সরব হলিউড কিংবদন্তি মেরিল স্ট্রিপ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প–সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনের সমালোচনায় এবার সরব হলেন হলিউড অভিনেত্রী Meryl Streep। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আইনটি কার্যকর হলে বিশেষ করে বিবাহিত নারীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।   ১ এপ্রিল প্রচারিত The Late Show with Stephen Colbert অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রিপ বলেন, বিয়ের পর যেসব নারী পদবি পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের ভোট দিতে গেলে আলাদা করে পরিচয় প্রমাণ করতে হতে পারে। জন্মসনদ ও ভোটার তালিকার নামের অমিল থাকলে তাঁদের ভোটাধিকার বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   অনুষ্ঠানের সঞ্চালক Stephen Colbert–এর প্রশ্নের জবাবে স্ট্রিপ বলেন, “যদি এই আইন পাস হয়, তাহলে অনেক নারীকে রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই।” তাঁর এ বক্তব্যের সময় স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও শোনা যায়।   স্ট্রিপ সরাসরি Donald Trump–এর নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর মন্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি সমালোচনা স্পষ্ট। তিনি বলেন, এই আইন নারীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে এবং তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।   প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণে স্বঘোষণার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক নথি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্মসনদ ও পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখাতে হবে। এতে করে বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হলেও এখনো সিনেটে এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি পাস করাতে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে সংশোধন প্রক্রিয়াও চলছে।   একই দিনে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থার ওপরও কঠোর অবস্থান নেন। একটি নির্বাহী আদেশে তিনি ‘যাচাইকৃত’ ভোটার ছাড়া অন্যদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা জানান।   উল্লেখ্য, ট্রাম্পের নীতির সমালোচনায় এর আগেও সরব হয়েছেন স্ট্রিপ। ২০১৬ সালে তিনি ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে মঞ্চে অভিনয় করেন এবং পরবর্তীতে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁর আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন।

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’? হুমকির জেরে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক

ইরানকে উদ্দেশ করে কড়া ও অপমানজনক ভাষায় হুমকি দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর আচরণে উদ্বেগ জানিয়ে অনেক রাজনীতিক এখন প্রকাশ্যে তাঁর মানসিক স্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন এবং ইরানের অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলারও হুমকি দেন।   এই বক্তব্যের জেরে ডেমোক্রেটিক ও স্বতন্ত্র রাজনীতিকদের পাশাপাশি তাঁর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্জোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণকে ‘পাগলামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত।   ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উন্মাদের প্রলাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একে ‘বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ আচরণ বলে মন্তব্য করেন।   আরেক সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের বিষয়টি নিয়েও ভাবা উচিত। এই সংশোধনী কার্যকর হলে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে।   ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা রো খান্না এবং সিনেটর টিম কেইন-ও ট্রাম্পের ভাষা ও অবস্থানকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ‘অপরিণত’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।   এদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ছাড়া তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এতে করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
ইস্টার সানডেতে 'ইসলাম' নিয়ে ট্রাম্পের উপহাসের নিন্দা সিএআইআর'র

মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিল (সিএআইআর) ইস্টার সানডে পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর 'ইসলামকে উপহাস' করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিএআইআর এক বিবৃতিতে জানায়, ট্রাম্পের ওই পোস্টে ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পাশাপাশি 'বিকৃতভাবে ইসলামকে উপহাস' করা হয়েছে, যা 'বেপরোয়া, বিপজ্জনক এবং মানবজীবনের প্রতি উদাসীনতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'এই ধরনের বক্তব্য শূন্য থেকে আসে না। এটি মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও নীতির দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা দেশে ও বিদেশে মুসলমানদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।' ট্রাম্প তাঁর ওই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টের শেষে আল্লাহর প্রশংসা হোক বাক্যটি ব্যবহার করেন। সিএআইআর উল্লেখ করে, পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই—ট্রাম্পসহ এই বাক্যটিকে কেবল ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন। তবে বাস্তবে 'আল্লাহ' শব্দটি আরবি ভাষায় 'ঈশ্বর' এরই অনুবাদ, যা কোনো একটি ধর্মের একচেটিয়া নয়। সিএআইআর আরও জানায়, 'সহিংস হুমকির প্রেক্ষাপটে ‘আল্লাহর প্রশংসা হোক’এই বাক্যটির ব্যবহার উদ্বেগজনক। এটি একদিকে ধর্মীয় ভাষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা, অন্যদিকে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর মনোভাবের প্রতিফলন।'   ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি:

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দেন। ছবি: রয়টার্স
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা

ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটির শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পের ভাষণকে ‘নিন্দনীয়’, ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অশুভ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।   গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন। তবে চলমান যুদ্ধের অবসান কবে হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি তিনি।   এ অবস্থায় মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় ধরনের ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প কৌশল নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন, মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটকে উপেক্ষা করছেন।   একই সুরে সমালোচনা করেছেন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘বিভ্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশের কোটি কোটি মানুষকে ধ্বংসের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে Council on American-Islamic Relations ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী’ বলে সমালোচনা করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। এদিকে ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

Unknown এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০