দীর্ঘ ৭৪ বছর পর আটলান্টিক মহাসাগরের অতল গহ্বরে সন্ধান মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক বিমান সংস্থা প্যান অ্যামের একটি বিধ্বস্ত যাত্রীবাহী বিমানের। ১৯৫২ সালে পুয়ের্তো রিকোর উপকূলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ৫২ জন যাত্রীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এই বিমানটি। উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার পরপরই বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রার আগে যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা বা 'সেফটি ব্রিফিং' দেওয়ার নিয়মটি চালু হয়েছিল।
সম্প্রতি ডিসকভারি চ্যানেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ডিপ সি ভিশন এবং তাদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘এক্সপেডিশন আননোন’–এর একটি যৌথ অভিযানে গত জুন মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট নিচে এই ধ্বংসাবশেষটি আবিষ্কৃত হয়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সোনার প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করে অনুসন্ধানকারীরা বিমানটিকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে বিমানের ডানায় প্যান অ্যামের সুপরিচিত লোগো এবং ‘ক্লিপার এন্ডেভার’ নামটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা ধ্বংসাবশেষের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে।
মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল। নিউইয়র্কের উদ্দেশে পুয়ের্তো রিকো থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ডগলাস ডিসি-৪ মডেলের ওই বিমানটির ডান দিকের দুটি ইঞ্জিন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। উপায়ন্তর না দেখে পাইলট সমুদ্রে জরুরি অবতরণের চেষ্টা চালান। সে সময় বিমানটিতে ৬৪ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু ছিলেন। পানিতে আছড়ে পড়ার পর প্রাথমিক ধাক্কায় সবাই বেঁচে গেলেও মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই বিমানটি আটলান্টিকের বুকে তলিয়ে যায়। চরম সেই মুহূর্তে ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সলিল সমাধি ঘটে বাকি ৫২ জনের।
অনুসন্ধানকারী দলের প্রধান রাস ম্যাথিউস জানান, এত দীর্ঘ সময় পর বিমানটির সন্ধান পাওয়া তাদের জন্য একটি বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য হলেও, এটি মূলত সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণ করার এক আবেগঘন মুহূর্ত। গবেষকরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের তলদেশ থেকে ধ্বংসাবশেষটি উদ্ধার বা স্থানটিকে কোনোভাবে ব্যাহত করার পরিকল্পনা তাদের নেই। এটিকে নিহতদের একটি পবিত্র স্মৃতিবাহী স্থান হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। বরং স্থানটির যথাযথ সংরক্ষণের জন্য পুয়ের্তো রিকো সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। সেই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আশার কথা হলো, এই দুর্ঘটনার জীবিত দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের একজন বর্তমানে ১০২ বছর বয়সী এক সাবেক নার্স, যিনি সেদিন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিমানের দরজা খুলে যাত্রীদের বের হতে সহায়তা করেছিলেন। অপরজন সেই সময়কার এক শিশু, যাকে ভাসমান অবস্থায় সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। মূলত এই দুর্ঘটনার তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সুপারিশেই উড্ডয়নের আগে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ র্যাফট ও জরুরি নির্গমনপথ ব্যবহারের নির্দেশনার নিয়মটি বাধ্যতামূলক করা হয়, যা আজ বিশ্বের প্রতিটি বিমান সংস্থায় প্রচলিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মিসিসিপির কিশোর নোলান ওয়েলসের মৃত্যুর রহস্য আরও ঘনীভূত, স্বাধীন ময়নাতদন্তেও কারণ অজানা; তদন্ত অব্যাহত, পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বাড়ছে আলোচনা ও উদ্বেগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ১৮ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থী ও ফুটবল খেলোয়াড় নোলান জেভিয়ার ওয়েলসের মৃত্যুর রহস্য আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের উদ্যোগে পরিচালিত স্বাধীন ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ ও ধরন—উভয়ই ‘তদন্তাধীন’ (Undetermined, Pending Investigation) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নোলান ৪ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে মিসিসিপি উপকূলের হর্ন আইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি নিখোঁজ হন এবং দুই দিন পর দ্বীপের উপকূল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তদন্তকারীরা। শিকাগোতে এনএএসিপির জাতীয় সম্মেলনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প জানান, স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষায় শরীরে বড় ধরনের ভাঙা হাড় বা স্পষ্ট আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মরদেহের পচন এবং প্রথম ময়নাতদন্তে সংরক্ষিত কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষার জন্য অনুপস্থিত থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের দাবি, তদন্তে আরও স্বচ্ছতা এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। তারা মনে করছেন, নোলানের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটনে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এদিকে মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সরকারি ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে অভিযুক্ত করেনি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য অভিযানে নিহত চার মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ বুধবার ডেলাওয়্যারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে আনা হয়েছে। মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় (ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার) উপস্থিত থেকে তাদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অনুষ্ঠানে নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চার সেনাসদস্য সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডান ও ইরাকে পৃথক হামলায় নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (২৫), সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড (২৮), প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস (১৯) এবং সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন (৩০)। তাঁদের মধ্যে তিনজন জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এবং একজন ইরাকে ড্রোন বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। ডোভার বিমানঘাঁটির এই মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঐতিহ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা। বিদেশে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সেনাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর পর সর্বোচ্চ সামরিক সম্মানের মধ্য দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী এসব সেনাসদস্যকে জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেন এবং মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুদ্ধের ব্যয়, প্রাণহানি এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযানের প্রতি জনসমর্থন আগের তুলনায় কমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের সায়োটো নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে বিপদে পড়া এক সদস্যকে বাঁচাতে গিয়ে ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে দু’টি দম্পতি ছিলেন, যাদের চারজনই মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের নাগরিক। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এক দম্পতির ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই শিশু সম্পূর্ণ এতিম হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের আর কোনো জীবিত স্বজন অবশিষ্ট নেই। হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কাউন্টি শেরিফ জেফরি বালজারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রবিবার রাতে ও'শনেসি জলাধারের পাশে বন্ধু ও স্বজনরা মাছ ধরছিলেন। এমন সময় দলের এক পুরুষ সদস্য নদীতে সাঁতার কাটতে নেমে স্রোতের টানে হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। তাঁকে বাঁচাতে প্রথমে দু’জন পানিতে ঝাঁপ দেন। তাঁরাও বিপদে পড়লে আরও দু’জন সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান। এরপর পাঁচজনের কেউই আর নদী থেকে উঠে আসতে পারেননি। নিহতদের মধ্যে ৩৩ বছর বয়সী হোসে মারিও পিনেদা ডিয়াস এবং তাঁর ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী মেরিনা সুয়াপা রেগালাদ রয়েছেন। ঘটনার রাতে আনুমানিক ৯টার দিকে সড়কের ধারে গায়ে কেবল তোয়ালে পেঁচানো এক ভীতিসন্ত্রস্ত শিশুকে দৌড়াতে দেখে এক গাড়িচালক ৯১১-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। শিশুটি পুলিশকে জানায় তার পরিবার নদীতে ডুবে গেছে। উদ্ধারকারীরা নদী থেকে দুটি নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে সোমবার বাকি তিন পুরুষের লাশ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, ঘটনার দিন নদীটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৩৫০ ঘনফুট হারে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। ওহিও ফ্যামিলি সার্ভিসেস আপাতত অনাথ শিশু দুটির দায়িত্ব নিয়েছে এবং তাদের হন্ডুরাসে থাকা স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হন্ডুরাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার বিষয়ক পরিচালক ফ্ল্যাবিয়া জামোরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে নিহতদের মরদেহ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।