ড্রাইভিং সিটে বসে এবার রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই কথা বলা যাবে আপনার প্রিয় গাড়ির সঙ্গে। কারণ, গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি’ (Gemini)-কে নিয়ে আসছে গাড়ির অন্দরে। সম্প্রতি গুগলের ‘গুগল বিল্ট-ইন’ (Google built-in) প্রযুক্তিতে এই বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে গাড়িতে থাকা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে জেমিনি এআই-এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা পুরোপুরি বদলে যাবে। আগে নির্দিষ্ট কিছু কমান্ডের মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজ করলেও, জেমিনি যুক্ত হওয়ার ফলে এখন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলেই গাড়িকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া যাবে।
কী কী সুবিধা থাকছে এই আপডেটে?
১. স্বাভাবিক কথোপকথন: কোনো নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি বলেন, “দুপুরের খাবারের জন্য ভালো কোনো রেস্তোরাঁ খুঁজে দাও,” জেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুগল ম্যাপস থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য নিয়ে আপনাকে সেরা জায়গাটির খোঁজ দেবে।
২. স্মার্ট নেভিগেশন: রাস্তায় যানজট থাকলে জেমিনি আপনাকে আগেভাগেই সতর্ক করবে এবং বিকল্প পথের পরামর্শ দেবে।
৩. এআই মেসেজিং ও বিনোদন: গাড়ি চালানোর সময় হাত ব্যবহার না করেই মেসেজ পাঠানো, রিপ্লাই দেওয়া কিংবা ইউটিউব মিউজিক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আরও সহজভাবে।
৪. জেমিনি লাইভ (Gemini Live): এই ফিচারের মাধ্যমে ড্রাইভার বা যাত্রীরা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় জেমিনির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা বা ট্রাভেল প্ল্যান করতে পারবেন।
গুগল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে এটি উন্মুক্ত করা হবে। শুধু নতুন মডেলের গাড়ি নয়, পুরোনো গাড়িগুলোতেও ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) আপডেটের মাধ্যমে জেমিনি এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ভবিষ্যতে জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গেও এটিকে আরও উন্নতভাবে সংযুক্ত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—বিশ্বজুড়ে চলমান এমন তীব্র উদ্বেগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন ই-commerce জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। প্যারিসে আয়োজিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি মেলা ‘ভিভাটেক’-এ অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির কারণে মানুষের চাকরি হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই, বরং এর ফলে ভবিষ্যতে বাজারে শ্রমের চাহিদা আরও বাড়বে। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ অনেক প্রযুক্তিবিদ যখন তরুণদের কর্মসংস্থানে এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তখন বেজোস সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আশাবাদী এক চিত্র তুলে ধরলেন। নিজের নতুন এআই উদ্যোগ ‘প্রমিথিউস’ (যা উৎপাদন শিল্পকে গতিশীল করতে কাজ করছে) নিয়ে আলোচনাকালে বেজোস বলেন, "আমি জানি অনেক স্মার্ট মানুষ মনে করছেন এআই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে। আমি এই ভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। আমার মনে হয়, এআই আসলে ভবিষ্যতে শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে এবং মানুষের কাজের নতুন নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে।" তবে বেজোসের এই আশাবাদের বিপরীতে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ‘ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস’। তারা সতর্ক করে বলেছে, সঠিক নীতিমালা না থাকলে এআই-এর কারণে কেবল বড় বড় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররাই ধনী হবে, আর সাধারণ কর্মীরা চাকরি হারাবে। প্রযুক্তি সম্মেলনের মূল মঞ্চে বেজোস তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও শেয়ার করেন। চাঁদে স্থায়ী মানব বসতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমরা চাঁদে শুধু বেড়াতে যাচ্ছি না, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যাচ্ছি।" চাঁদের সম্পদ ও 'তড়িৎবিশ্লেষণ' প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেটের জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। গত মে মাসে ফ্লোরিডায় ব্লু অরিজিনের মনুষ্যবিহীন ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণকে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে স্বীকার করেন বেজোস। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটায় নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে তিনি জানান, চলতি বছর শেষের আগেই তারা পুনরায় রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম হবেন। মহাকাশ বাজারের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বর্তমানে ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’-এর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে বেজোসের ব্লু অরিজিন। মেলাটিতে দর্শকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ইউনিট্রি’ কোম্পানির তৈরি একটি হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট। কোনো কথা বা রিমোট ছাড়াই, মাথায় একটি বিশেষ ‘ইইজি’ হেডব্যান্ড পরে মানুষ শুধুমাত্র নিজের মস্তিষ্কের তরঙ্গের সাহায্যে রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে দেখিয়েছে। এই প্রদর্শনী প্রমাণ করে যে, এআই এখন আর কেবল চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বাস্তব পৃথিবীতে রোবটের রূপ নিয়ে মানুষের পাশাপাশি কাজ করতে প্রস্তুত হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
কম্পিউটার প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি নতুন 'সুপারচিপ' উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়ার দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ভবিষ্যতে কম্পিউটার পরিচালনায় মানুষের ঐতিহ্যবাহী মাউস এবং কিবোর্ড ব্যবহারের আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না। তাইওয়ানের 'কম্পিউটেক্স' সম্মেলনে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং 'আরটিএক্স স্পার্ক' (RTX Spark) নামের এই চিপটির ঘোষণা দেন। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই চিপটি কাজ করবে। চলতি বছরেই ডেল, লেনোভো, আসুস এবং এইচপির মতো শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার নির্মাতারা তাদের ডিভাইসে এই নতুন চিপ ব্যবহার শুরু করবে। মাইক্রোসফটের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের যৌথ গবেষণায় তৈরি এই চিপটিতে মূলত একটি মাইক্রোপ্রসেসর ও গ্রাফিক্স চিপের সমন্বয় করা হয়েছে। তাইওয়ানের মিডিয়াটেক-এর সহায়তায় তৈরি এই চিপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দূরবর্তী ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের ভেতরেই এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারবে। ফলে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে, যা মাউস ও কিবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি কম্পিউটারের দুনিয়ায় আইফোন বা চ্যাটজিপিটির মতোই একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে সাধারণ পিসিগুলো একটি অতি-বুদ্ধিমান ডিজিটাল সহকর্মীতে রূপান্তরিত হবে। একই সম্মেলনে এনভিডিয়া তাদের 'ভেরা' (Vera) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটও উন্মোচন করেছে, যা ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কার বিষয়ে জেনসেন হুয়াং বলেন, "এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এআই প্রযুক্তির কারণে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে উল্টো আরও বেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।"
ড্রাইভিং সিটে বসে এবার রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই কথা বলা যাবে আপনার প্রিয় গাড়ির সঙ্গে। কারণ, গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি’ (Gemini)-কে নিয়ে আসছে গাড়ির অন্দরে। সম্প্রতি গুগলের ‘গুগল বিল্ট-ইন’ (Google built-in) প্রযুক্তিতে এই বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে গাড়িতে থাকা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে জেমিনি এআই-এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা পুরোপুরি বদলে যাবে। আগে নির্দিষ্ট কিছু কমান্ডের মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজ করলেও, জেমিনি যুক্ত হওয়ার ফলে এখন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলেই গাড়িকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া যাবে। কী কী সুবিধা থাকছে এই আপডেটে? ১. স্বাভাবিক কথোপকথন: কোনো নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি বলেন, “দুপুরের খাবারের জন্য ভালো কোনো রেস্তোরাঁ খুঁজে দাও,” জেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুগল ম্যাপস থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য নিয়ে আপনাকে সেরা জায়গাটির খোঁজ দেবে। ২. স্মার্ট নেভিগেশন: রাস্তায় যানজট থাকলে জেমিনি আপনাকে আগেভাগেই সতর্ক করবে এবং বিকল্প পথের পরামর্শ দেবে। ৩. এআই মেসেজিং ও বিনোদন: গাড়ি চালানোর সময় হাত ব্যবহার না করেই মেসেজ পাঠানো, রিপ্লাই দেওয়া কিংবা ইউটিউব মিউজিক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আরও সহজভাবে। ৪. জেমিনি লাইভ (Gemini Live): এই ফিচারের মাধ্যমে ড্রাইভার বা যাত্রীরা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় জেমিনির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা বা ট্রাভেল প্ল্যান করতে পারবেন। গুগল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে এটি উন্মুক্ত করা হবে। শুধু নতুন মডেলের গাড়ি নয়, পুরোনো গাড়িগুলোতেও ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) আপডেটের মাধ্যমে জেমিনি এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ভবিষ্যতে জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গেও এটিকে আরও উন্নতভাবে সংযুক্ত করা হবে।