ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইউরোপে অভিবাসীদের আগমনকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি অধিকৃত ইউরোপকে মুক্ত করতে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক নরম্যান্ডি অভিযান স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ইউরোপের বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন।
হেগসেথ বলেন, দুঃখজনকভাবে আজ ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে ভিন্ন ভিন্ন বিপজ্জনক মতাদর্শের মানুষ প্রবেশ করছে। তার ভাষায়, স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার মতো দেশের উপকূলে নৌকায় করে মানুষের আগমন ঘটছে এবং ইউরোপ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কবে এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ইস্যু ইতোমধ্যেই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন দেশে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থনও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নরম্যান্ডির মতো ঐতিহাসিক স্মরণ অনুষ্ঠানে এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার মধ্যে ২ হাজার ৮৬০ জন ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাই করতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশকে ২ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হয় এবং জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পর ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়। রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, এই ধরনের একাধিক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশের কাছে ঝুলে রয়েছে। সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ভারতে সম্প্রতি অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্য সরকার এই কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০০ নথিবিহীন বাংলাদেশিকে আটক করার তথ্যও পাওয়া গেছে। এদিকে রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার কারণে অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক পর্যায়ে ‘শনাক্ত, বাতিল ও বহিষ্কার’ নীতির কথাও উঠে এসেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
ভারতের তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অসংগতি এবং বেকারত্বের হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। ১৭ বছর বয়সী সৌরভ কুশওয়াহা সেই আন্দোলনেরই একজন অংশগ্রহণকারী। ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে বড় ভাইয়ের সঙ্গে এক কাপড়ে ট্রেনে চড়ে তিনি রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। শনিবার ভোরে দুই ভাই দিল্লিতে এসে ফুটপাতে বসে অপেক্ষা করছিলেন, কখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভর্তি পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই ব্যঙ্গ ও ঠাট্টার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দলটি তরুণদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়। রাজধানী নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে ‘সব তেলাপোকাকে’ একত্র হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তিনি একদল বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। অনেকের কাছে মন্তব্যটি অপমানজনক বলে মনে হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে জড়ো হয়, তাহলে কী হবে?’ এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেখান থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করেই দলটির নামকরণ করা হয়। অভিজিৎ দীপকের এই উদ্যোগ অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা বিজেপির অনুসারীর সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যঙ্গাত্মক এই উদ্যোগ এখন আর কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। শনিবার নয়াদিল্লিতে শত শত তরুণ-তরুণী সমবেত হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “মোদি সরকারের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে হবে। তা না হলে আমরা এখান থেকে যাব না।” মধ্যপ্রদেশের শিক্ষার্থী সৌরভ কুশওয়াহা বলেন, তিনি প্রথমে মজা করেই এই আন্দোলনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু এখন তাঁর বিশ্বাস, আন্দোলনের মাধ্যমে সত্যিই পরিবর্তন আনা সম্ভব। সম্প্রতি ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) পরিচালিত দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কুশওয়াহা। তবে ফলাফল প্রকাশ এবং ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। কুশওয়াহা বলেন, “আমি জানি না উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করতে পারব কি না। কিন্তু আরও বড় কষ্ট হলো, যারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের সমস্যার প্রতি উদাসীন।” শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিতর্কের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা প্রায় প্রতিবছর ঘটলেও এর জন্য রাজনৈতিকভাবে কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। এদিকে গত কয়েক বছরে মোদি সরকারের আমলে কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ দেশকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে বিজেপি ও সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা আইন ও সংবিধান মেনেই কাজ করছে। মাত্র দুই বছর আগে জনসংযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে। এখন তিনি নিজেকে একটি বৃহৎ তরুণ আন্দোলনের নেতৃত্বে দেখতে পাচ্ছেন। সম্প্রতি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর উদ্যোগ যে বিপুল সাড়া পেয়েছে, তা তাঁকে দায়িত্বশীল করে তুলেছে। শনিবারের সমাবেশে অনেক অংশগ্রহণকারী তেলাপোকার মুখোশ পরে উপস্থিত হন। কারও হাতে ছিল গোলাপ, কারও হাতে ফুলের তোড়া। অনেকেই বই নিয়ে এসেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষ থেকে এমন আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের নীল জার্সি পরে আবার বক্তব্য দেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, “যাঁরা মনে করেন ভারতের তরুণেরা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়, তাঁরা এখানে এসে এই দৃশ্য দেখে যান।” এরপর তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ভাবছেন আমরা শুধু স্লোগান দিয়ে চলে যাব, আমি তাঁদের বলছি, আমরা তেলাপোকা। আর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব।” অভিজিৎ দীপকেকে কাছ থেকে দেখার জন্য একটি গাছে উঠে বসেছিলেন ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আফতাব। দিল্লির উপকণ্ঠের একটি স্যাটেলাইট শহরে বসবাসকারী আফতাব আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি মুদি পণ্য সরবরাহের কাজ করেন। তেলাপোকার মুখোশ পরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া আফতাব বলেন, “একদিন কাজ না করলে হয়তো রাতের খাবারের অর্থও জুটবে না। তারপরও আমি এখানে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমি স্কুল শেষ করতে পারিনি। কিন্তু লাখো শিক্ষার্থী আছে, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ওই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করাটা আমাদের দায়িত্ব।” এদিকে মোদি সরকার এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি দায়িত্ব পালন করছিলেন শিবানি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বড় মেয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। তবে এতে তিনি আপত্তি দেখাননি। নিজের পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে শিবানি বলেন, “এই ছেলেমেয়েরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমিও উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “একটা সময় তো আসে, যখন মানুষের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না, তাই না?”
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।