ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইউরোপে অভিবাসীদের আগমনকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি অধিকৃত ইউরোপকে মুক্ত করতে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক নরম্যান্ডি অভিযান স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ইউরোপের বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন।
হেগসেথ বলেন, দুঃখজনকভাবে আজ ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে ভিন্ন ভিন্ন বিপজ্জনক মতাদর্শের মানুষ প্রবেশ করছে। তার ভাষায়, স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার মতো দেশের উপকূলে নৌকায় করে মানুষের আগমন ঘটছে এবং ইউরোপ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কবে এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ইস্যু ইতোমধ্যেই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন দেশে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থনও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নরম্যান্ডির মতো ঐতিহাসিক স্মরণ অনুষ্ঠানে এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলিকপ্টার উড়িয়ে মাত্র ছয় দিনে প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে তিমুরে এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর আকাশপথে দুর্গতদের সরিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ৪০ বছর বয়সী প্রিয়া অধিকারী উচ্চ উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে অভিজ্ঞ পাইলট। গত কয়েক দিনে তিমুরে ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার একসঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। একই এলাকায় একাধিক হেলিকপ্টারকে প্রায় একই সময়ে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে হয়েছে। এ সময় পাইলটদের রেডিওতে নিয়মিত সমন্বয় করতে হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধসে পড়া পাহাড়ি মাটি ও কাদায় তৈরি অনিরাপদ ভূমি। অনেক জায়গায় মাটি এতটাই নরম ও অস্থিতিশীল ছিল যে হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে ইঞ্জিন বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের দ্রুত তুলে নিয়ে আবার উড্ডয়ন করতে হয়েছে। প্রিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, এবারের দুর্যোগের ভয়াবহতা তার বহু বছরের অভিজ্ঞতাকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। তিমুরে এলাকায় তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, আবার একই সঙ্গে হেলিকপ্টারের অপেক্ষায় থাকা জীবিত মানুষকেও উদ্ধার করেছেন। প্রথম দুই দিনেই তিমুরে থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অধিকারীর বিমান চালনার যাত্রা শুরু হয় কিছুটা ভিন্নভাবে। পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার পর তিনি কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেন। পরে হেলিকপ্টার চালানোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৭ সালে পূর্ণকালীন হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর উচ্চ উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। তার কয়েকটি উদ্ধার অভিযান প্রায় ৬ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে। নেপালে গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টারই হয়ে উঠেছে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। আজও বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। প্রিয়া অধিকারী বলেন, টানা উদ্ধার অভিযানে পাইলটরা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই তাদের প্রশিক্ষণের অংশ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও জীবিত মানুষকে হেলিকপ্টারের দিকে হাত নাড়তে দেখা তাদের আবারও আকাশে উড়তে অনুপ্রাণিত করেছে।
২১ বছরের দাম্পত্যে স্বামী সমকামী জানার পর বদলে গেল সম্পর্ক, সামনে এলো পুরোনো লক্ষণগুলো
লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলা নিয়ে মায়ের আগ্রহ, পরে ২ বছরের ছেলে হত্যার অভিযোগ
ডেনমার্কসহ ৫ দেশের উদ্যোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসী ফেরানোর পরিকল্পনা ২০২৭ সালেই
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদের নতুন করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির জন্য সর্বোচ্চ লেভেল-৪ ‘ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা বহাল রেখে সম্ভাব্য ভ্রমণকারীদের উইল ও মৃত্যুর পরের নির্দেশনা প্রস্তুত করা, বীমার সুবিধাভোগী নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, লিবিয়ায় সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং স্থলমাইনের মতো গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ যেকোনো সময় শুরু হতে পারে এবং দেশটিতে অস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের লিবিয়ায় কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অপহরণের ঝুঁকিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর আগে মার্কিন নাগরিকরাও অপহরণের শিকার হয়েছেন। লিবিয়ায় বর্তমানে কোনো মার্কিন দূতাবাস নেই। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের পক্ষে দেশটিতে থাকা নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই কেউ সতর্কতা উপেক্ষা করে সেখানে গেলে মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জরুরি অবস্থায় দেশ ছাড়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপহরণের আশঙ্কা বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের পরিবারের সঙ্গে একটি ‘প্রুফ অব লাইফ’ প্রোটোকল ঠিক করে রাখতেও বলা হয়েছে। কেউ জিম্মি হলে পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় ও জীবিত থাকার বিষয়টি যাচাই করতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রশ্ন ও উত্তর ব্যবহার করতে পারবেন। সবচেয়ে অস্বাভাবিক পরামর্শগুলোর একটি হলো - ভ্রমণের আগে নিজের চিকিৎসকের কাছে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়া। পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনায় পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজন হলে পরিবারের জন্য এই নমুনা কাজে লাগতে পারে। পরিবারের কাছে ডেন্টাল রেকর্ড রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রয়োজনীয় লগইন তথ্য বিশ্বস্ত স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করা, যোগাযোগের পরিকল্পনা তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। সরকারের ভ্রমণ সতর্কতার তালিকায় লিবিয়া বর্তমানে লেভেল-৪: ডু নট ট্রাভেল পর্যায়ে রয়েছে। একই স্তরের সতর্কতায় থাকা দেশ বা অঞ্চলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলে। সোর্স: U.S. State Department Travel Advisories
১৬ বছর বয়সে নারীদের নিরাপত্তায় স্মার্ট কানের দুল, হামলাকারীর ছবি তুলে সতর্ক করবে পুলিশকে
এক মাসে ব্যয় ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি! বিতর্কে নারী বললে এটা খুব নরমাল বিষয়
বন্ধুর দুই মেয়েকে বাঁচাতে গুলির সামনে দাঁড়ালেন, নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করলেন তাদের
যুক্তরাজ্যে অসুস্থ এক তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে এমন একটি অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল, যা কোনো অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের করিডরে থাকার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে ঘটে। চলতি বছরের মে মাসে রোচডেল কোরোনার আদালতে অনুষ্ঠিত তদন্তে তাঁর চিকিৎসার শেষ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে। ক্ল্যারিসা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সৃজনশীল, প্রাণবন্ত এবং মানুষের সঙ্গে মিশুক তরুণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ক্ল্যারিসার প্রেমিক অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। আদালতে বলা হয়, এর আগের দুই দিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। মাথা ঘোরা, বমি এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁকে রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের একজন তাঁকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেছিলেন বলে তদন্তে জানানো হয়। এরপর দায়িত্বে থাকা নার্স মিশেল নিল ক্ল্যারিসাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন। কিন্তু সেটি কোনো অক্সিজেনের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। নিল আদালতে স্বীকার করেন, কেন তিনি এমন একটি মাস্ক দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না এবং এমনটি করা উচিত হয়নি। তিনি অবশ্য দাবি করেন, মাস্কটি ক্ল্যারিসার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল এবং তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ক্ল্যারিসার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং তাঁর হৃদস্পন্দনও দ্রুত ছিল। এরপরও তাঁকে চিকিৎসাকক্ষের পরিবর্তে হাসপাতালের করিডরে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। নিল জানান, তিনি ক্ল্যারিসার জন্য ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা এবং শিরার রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে তাঁর বিষয়টি একজন জ্যেষ্ঠ নার্সের কাছে তোলা হয়। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ নার্স ক্ল্যারিসা বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে তরল দেওয়া হয় এবং পরে আবার পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তবে ১৪ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পালমোনারি এমবোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ল্যারিসার এর আগেও ২০১৭ সালে পালমোনারি এমবোলিজম ও গভীর শিরায় রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ঘটনাটি সে সময়ের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তখন ছিল না। তদন্তে অবশ্য এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে তাঁর শরীরে কোনো অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৭ সালের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের পালমোনারি এমবোলিজম সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে জরুরি বিভাগে রোগী মূল্যায়ন, রোগীর উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে বয়স বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়া হয়নি। তবে ক্ল্যারিসার মৃত্যুর জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে এমনটি বলা ঠিক হবে না। কোরোনারের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগহীন মাস্ক দেওয়ার বিষয়টি নার্স নিজেই ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড দাবিতে ট্রাম্পের সমর্থনের ইঙ্গিত, বিপাকে যুক্তরাজ্য
তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছেলে সেজে পড়াশোনা, আজ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানজনক দায়িত্বে জাহরা