বিশ্ব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত, হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৬:৫৮
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক কূটনীতিক এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে কোনো টোল ছাড়াই খুলে দেওয়া এবং চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ভিত্তিতে ইরানের ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

প্রস্তাবিত এই সমঝোতা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার আওতায় লেবানন পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে একটি কাঠামোগত সমাধানের বিষয় রাখা হলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পরবর্তী একটি বিস্তারিত চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা।

 

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির খসড়া পাঠে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইরানের উচ্চপর্যায়ে সমঝোতা অনুমোদন পেলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন সপ্তাহান্তের মধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তেহরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সূত্রগুলো বলছে, গত দুই মাসে একাধিকবার আলোচনার অগ্রগতি হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেঙে গেছে। এবার মধ্যস্থতাকারীরা বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন।

 

এদিকে চারটি মার্কিন সি-১৭ পরিবহন বিমান ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অংশগ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

 

কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, বুধবার রাতে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রাথমিক সমঝোতা অর্জিত হয়। আলোচনায় কাতারের মধ্যস্থতাকারী আলী আল-থাওয়াদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সময়ে তেহরানে অবস্থানরত পক্ষগুলোর সঙ্গে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ফোনালাপেও অগ্রগতি হয় বলে জানা গেছে।

 

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যু সমাধানে কাজ করবে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের পরিদর্শকদের তত্ত্বাবধানে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

 

খসড়ায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রণালিটি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে, যাতে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিপুল অর্থ ছাড়ের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়েছে।

 

ইরান চুক্তির শুরুতেই কিছু অর্থ ছাড়ের দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে বাস্তবায়নভিত্তিক অর্থ মুক্তির অবস্থানে রয়েছে। এ নিয়ে গোপন পার্শ্বচুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে কিছু সূত্র জানিয়েছে।

 

এছাড়া কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে একটি মানবিক অর্থ ব্যবহারের কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে আটকে থাকা অর্থ মানবিক পণ্য কেনায় ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এটি কার্যকর হবে কেবল আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার সময়সূচি পিছিয়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করল ইরান

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার সময়সূচি পরিবর্তন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত সময়ের পরিবর্তে জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম দিকের মধ্যে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে পারে।   তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) জানান, খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান জুনের শেষ সপ্তাহ অথবা জুলাইয়ের প্রথম দিকে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় ও শোকানুষ্ঠান-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এর আগে ইরান সরকার ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের শুরুতেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন ও শেষকৃত্য আয়োজনের পরিকল্পনা জানিয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহররমের প্রথম ১০ দিন শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।   রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে আলিরেজা জাকানি বলেন, শোক ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ২৬ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোনো এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এর আগে তেহরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জানাজা অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে তারা আশা করছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় সাড়ে তিন দশক দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিহত হন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৭:৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত, হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নাম লেখালেন ইলন মাস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে নেওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ফেরাতে কিয়েভের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ রায় দেন।   আদালত রায়ে বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিয়ংইয়ংয়ের আকাশসীমায় ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় ইউন শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন। আদালত তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শত্রুপক্ষকে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই ড্রোন অভিযান ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউনের ব্যর্থ সামরিক আইন জারির পরিকল্পনার পক্ষে একটি অজুহাত তৈরির অংশ।   তবে ইউন সুক ইওল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি কখনো এ ধরনের অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেননি কিংবা পরে এর অনুমোদনও দেননি। তাদের বক্তব্য, উত্তর কোরিয়া কয়েক মাস ধরে সীমান্তের ওপারে আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠানোর প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সামরিক আইন জারির কোনো সম্পর্ক ছিল না।   এর আগে গত এপ্রিল মাসে ইউনের বিরুদ্ধে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। সাবেক এই রক্ষণশীল নেতা একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান প্রসিকিউটর ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টা দেশটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দেয়।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি মামলায় সামরিক আইন জারির চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত বছর সাংবিধানিক আদালত তার অভিশংসন বহাল রাখলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হন। এরপর অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন উদারপন্থী নেতা লি জে মিয়ং।   বর্তমানে ইউন সুক ইওল কারাগারে রয়েছেন। তবে শুক্রবারের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ তার রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৫:৪৩
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, স্পেসএক্স আইপিওতে সম্পদের নতুন ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের, বললেন ‘যুদ্ধ শেষ’

ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের রাজপরিবারে শোক, না ফেরার দেশে থাই রাজকুমারী বজরাকিতিয়াভা

ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু, থাই নারী আটক

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গনে দায়িত্ব পালনরত এক মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দেশটির রাজধানী নয়পিদো ও ইয়াঙ্গনের কূটনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এপিকে নিশ্চিত করেছে যে ইয়াঙ্গনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে কর্মরত ওই কূটনীতিক প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। তবে নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াঙ্গনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল নামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই কূটনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেলটি বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের কাছে বেশ পরিচিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।   ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিয়ানমারে কর্মরত কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের তিন সদস্য এপিকে জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে একজন থাই নারীকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মৃত্যুর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছেন না এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক ঘটনার দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক নারীর জন্য কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে ওই নারীর পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় তারা অতিরিক্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি।   বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে বিদেশি মিশনগুলোর কার্যক্রমও বাড়তি সতর্কতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।   তবে বর্তমান ঘটনায় রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, নাকি এটি ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা হোটেলের নিরাপত্তা ফুটেজ, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।   মার্কিন কূটনীতিকের এই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গঠন বা মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ২০:৫৩
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ২২ সেনা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী, ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক

মোদিকে শুভেচ্ছা, দিদির প্রতি অটল আনুগত্য—জল্পনা উড়িয়ে দিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা

মোদিকে শুভেচ্ছা, দিদির প্রতি অটল আনুগত্য—জল্পনা উড়িয়ে দিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা

0 Comments