বিশ্ব

ইরানের অনুরোধেই হামলা বন্ধ, সমঝোতা না হলে আবারও আঘাত করা শুরু হবে: ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২৩:৭
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষাপটেই ইরানের ওপর চলমান সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো দীর্ঘস্থায়ী বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সমঝোতা না হলে আবারও আগের মতো পূর্ণ মাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করা হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সফররত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। খবর সিএনএন-এর।

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "তারা (ইরান) অত্যন্ত নম্রভাবে আমাদের অনুরোধ করেছে, 'অনুগ্রহ করে আপাতত হামলা বন্ধ রাখুন, আসুন আমরা আলোচনার টেবিলে বসি।' আমরা তাদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে এখন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছি। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়! যদি কোনো যৌক্তিক সমঝোতায় না পৌঁছানো যায়, তবে আমরা আবারও আগের কঠোর সামরিক অবস্থানে ফিরে যাব।"

 

ইরানের ওপর টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত বিমান ও সামরিক হামলা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই হুট করে অভিযানের গতি কমিয়ে এনে সামরিক বিরতির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এই বিরতিকালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ও হোয়াইট হাউস তেহরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী কৌশলগত ও সামরিক পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সামরিক অভিযান আরও দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুতে বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ভেতরে অভ্যন্তরীণ সামরিক চাপের কারণেই আলোচনার এই কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন, যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে একে ইরানের অনুরোধ বলে তুলে ধরছেন। আপাতত দুই দেশের আলোচনার টেবিলের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের রূপরেখা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
অরেঞ্জের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সাবেক কর্মী লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভ। ছবি: সংগৃহীত
কাজ ছাড়াই ২০ বছর সম্পূর্ণ বেতন দেয়ায় সেই কোম্পানির বিরুদ্ধেই করলেন মামলা

ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মী লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভ। তার অভিযোগ, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোম্পানি নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দিলেও তাকে কোনো কাজ, দায়িত্ব বা কর্মস্থল দেয়নি। ফলে তিনি পেশাগতভাবে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা, মানসিক অবসাদ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।    জন্মগতভাবে আংশিক পক্ষাঘাত ও মৃগীরোগে আক্রান্ত লরেন্স ১৯৯৩ সালে তৎকালীন ফ্রান্স টেলিকমে যোগ দেন, যা পরে অরেঞ্জে রূপান্তরিত হয়। শুরুতে তিনি সচিব ও মানবসম্পদ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০২ সালে বাসস্থানের কাছাকাছি বদলির আবেদন করার পর তার কর্মজীবনে মোড় আসে। তার দাবি, নতুন কর্মস্থল তার শারীরিক অবস্থার উপযোগী ছিল না এবং পেশাগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতামতেও সেটি উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে কার্যত তাকে কোনো নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।    লরেন্সের অভিযোগ, ২০০৪ সাল থেকে তিনি কোনো অফিস, নির্দিষ্ট কর্মস্থল, সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বা পেশাগত দায়িত্ব ছাড়াই কেবল বেতন পেয়ে গেছেন। তার ভাষ্য, বিষয়টি বাইরে থেকে সুবিধাজনক মনে হলেও বাস্তবে এটি তাকে গভীর মানসিক সংকটে ফেলে। দীর্ঘদিন কর্মহীন অবস্থায় থাকায় তিনি উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হন।    তার আইনজীবীর দাবি, অরেঞ্জ প্রতিবন্ধী কর্মীর জন্য আইনসম্মত ও যৌক্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাকে এমন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি চাকরিতে থেকেও কার্যত কর্মজীবনের বাইরে চলে যান। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।    অন্যদিকে অরেঞ্জ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির বক্তব্য, লরেন্সের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তার আর্থিক ক্ষতি এড়াতে শতভাগ বেতন অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং তার জন্য উপযোগী বিভিন্ন পদে কাজের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে এবং নিয়মিত অসুস্থতার ছুটির কারণে সেসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।    এই মামলাটি ফ্রান্সে কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি, প্রতিবন্ধী কর্মীদের অধিকার এবং নিয়োগকর্তার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। মামলার বিচার এখনো চলমান। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভের অভিযোগ এবং অরেঞ্জের জবাব, উভয়ই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ০:২
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের নিন্দা: ৩৩ মাস ধরে একাকী কারাবাসে ইমরান খান

উপগ্রহ চিত্রে চীনের হোটান বিমানঘাঁটিতে জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সীমান্তে চিনের ১১টি অত্যাধুনিক জে-২০ স্টিলথ ফাইটার, চিন্তায় নয়াদিল্লি

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অনুরোধেই হামলা বন্ধ, সমঝোতা না হলে আবারও আঘাত করা শুরু হবে: ট্রাম্প

লিয়ানের ভিডিওর জবাবে গাজার শিশু ও ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে আবেগঘন বার্তা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজার একটি ভবনের দেয়ালে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ম্যুরাল এঁকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ফিলিস্তিনি কিশোরী লিয়ান আল-কাওকা। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বয়ং সানচেজ ভিডিওবার্তায় লিয়ান, গাজার শিশু এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতি ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন।    ভিডিওতে লিয়ান বলেন, এটি শুধু একটি দেয়ালচিত্র নয়; বরং গাজার মানুষের পক্ষ থেকে স্পেনের জনগণ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক অবস্থানের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বার্তা স্পেনের মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং গাজার মানুষের অনুভূতি তুলে ধরবে।    এর জবাবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে পেদ্রো সানচেজ লিয়ান এবং ম্যুরাল তৈরিতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এত কষ্ট ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তারা স্পেনের প্রতি ভালোবাসার যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তা স্পেনের মানুষের জন্য গভীরভাবে স্পর্শকাতর।   গাজার শিশু ও তাদের পরিবারের উদ্দেশে সানচেজ বলেন, “স্পেনের পুরো সমাজ তোমাদের কথা শুনছে, তোমাদের দেখছে, তোমাদের কথা ভাবছে এবং তোমাদের ভুলে যায়নি।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই গাজার শিশুরা ভয়মুক্ত পরিবেশে আবার স্কুলে ছবি আঁকতে পারবে এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।    স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে লিয়ান আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, জীবনে এই প্রথম কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী তার নাম ধরে ভিডিওবার্তার জবাব দিয়েছেন। ভাষা আলাদা হলেও মানবিক অনুভূতির কোনো সীমান্ত নেই উল্লেখ করে তিনি স্পেনের জনগণ, প্রধানমন্ত্রী এবং ম্যুরাল তৈরিতে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।    গাজা যুদ্ধ নিয়ে শুরু থেকেই ইউরোপের অন্যতম উচ্চকণ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত পেদ্রো সানচেজ। তিনি বারবার যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে স্পেন নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, যা গাজা ইস্যুতে দেশটির অবস্থানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২২:৫৯
আইনিভাবে বাবার ‘ক্রুজ’ পদবি বাদ দিয়ে নতুন নাম গ্রহণ করেছেন সুরি। ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও পরিচয় ছেড়ে আইনিভাবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন টম ক্রুজের মেয়ে সুরি

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন নেতানিয়াহু

উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত

উদ্বোধনের ১২ দিন পরই ভারতে ৪২০০ কোটির এক্সপ্রেসওয়েতে ফাটল

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে
ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে: ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনায় কংগ্রেসম্যান

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। রিপাবলিকান দলের এই আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষতির মুখে পড়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।”   তিনি অভিযোগ করেন, সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা কমেছে, জ্বালানি মজুত হ্রাস পেয়েছে, সামরিক সদস্যদের প্রাণহানি ঘটেছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে এবং দেশের জাতীয় ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।   ম্যাসি তার পোস্টে আরও বলেন, প্রশাসনের নীতির কারণে “ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ হয়েছে, তেলের মজুত কমেছে, সেনাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে এবং দেশের ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে”—যা তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন উপেক্ষা করার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।   থমাস ম্যাসি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশে সামরিক অভিযান ও অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমালোচনা করে আসছেন। ইরান ইস্যুতেও তার অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   রিপাবলিকান দলের এই আইনপ্রণেতা এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার সর্বশেষ মন্তব্যকে ইরান সংঘাত নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরের মতপার্থক্যের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   তবে ম্যাসির এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা নিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরেও মতবিরোধ রয়েছে। একদিকে কিছু আইনপ্রণেতা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিচ্ছেন, অন্যদিকে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৪:৩৯
প্রাইড উৎসবে গাড়ি হামলায় পুলিশের গুলিতে আবদুল বি. নিহত

প্রাইড উৎসবে গাড়ি হামলায় পুলিশের গুলিতে আবদুল বি. নিহত, ইসলামী চরমপন্থার যোগসূত্রের দাবি

আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নন, জামায়াতিপন্থী-মৌলবাদী: শুভেন্দু

আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নন, জামায়াতিপন্থী-মৌলবাদী: শুভেন্দু

ভুয়া আইনজীবী হয়েও জিতেছিলেন ২৬ মামলা

ভুয়া আইনজীবী হয়েও জিতেছিলেন ২৬ মামলা, গ্রেপ্তারের পর নিজেই লড়লেন নিজের মামলা এবং পেলেন জয়

0 Comments