রোববারেই ইরান চুক্তি স্বাক্ষর—ট্রাম্পের দাবি; ‘চূড়ান্ত নয়’ বলে নাকচ আইআরজিসি
ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), যারা বলছে—চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়, ফলে ওই দিন স্বাক্ষরের কোনো বাস্তব সম্ভাবনাও নেই।
শনিবার (১৩ জুন) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি আগামীকাল স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত।” তার মতে, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, তেহরান থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ফলে স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সেটি কার্যকর করার আগে আরও অন্তত ৬০ দিনের আলোচনা প্রয়োজন হবে। এই সময়ে চুক্তির বাস্তবায়ন কাঠামো ও শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলবে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘অকাল’ ও ‘বাস্তবতাবর্জিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের আলোচক দল স্পষ্ট করে জানিয়েছে—সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং রোববার কোনো স্বাক্ষরের প্রশ্নই ওঠে না। বরং এই ধরনের ঘোষণা আলোচনার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
আইআরজিসির টেলিগ্রাম বার্তায় আরও বলা হয়, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি প্রতীকীভাবে এই দিনটিকে ব্যবহার করতে চাইছেন। কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এই সময়সূচি সামনে এনেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির শর্ত, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা এই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই চুক্তি সফল হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও স্বাক্ষরের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে সর্বশেষ পরিস্থিতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more৭১ বছর বয়সী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সাম্প্রতিক মৃত্যু এবং ৮৪ বছর বয়সী সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের অসুস্থতার পর মার্কিন রাজনীতিতে প্রবীণ নেতাদের বয়স নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত জুনে পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ম্যাককনেল ভোটদান থেকে বিরত রয়েছেন। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বয়স্ক কংগ্রেসে পরিণত হয়েছে। সিএনএনের এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেসের এমন প্রবীণ জনসংখ্যাকে দেশের বেশিরভাগ মানুষ একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন এবং তারা নির্বাচিত কর্মকর্তাদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা দাবি করছেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন ভোটারদের জন্য কংগ্রেসের এই বয়স কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলার একটি বড় সুযোগ হতে পারে। সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন কংগ্রেসের বয়স্ক আইনপ্রণেতাদের এই আধিক্য একটি বড় সমস্যার কারণ। ৩৫ বছরের কম বয়সী নাগরিকদের মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৬৮ শতাংশ। এছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক মনে করেন, নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন সব মেডিকেল তথ্য প্রকাশ করা উচিত যা তাদের দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে পারে। যেখানে ২০০৪ সালে ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করত যে প্রেসিডেন্টদের মেডিকেল রেকর্ড গোপন রাখার অধিকার রয়েছে, সেখানে বর্তমানে মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে রাজনৈতিক নেতাদের তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার অধিকার রয়েছে। রাজনীতিতে প্রবীণদের আধিপত্য নিয়ে অসন্তোষ এখন দলীয় সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, উভয় প্রধান দলের ৭০ শতাংশ সমর্থকই ৭০ বছরের বেশি বয়সী কাউকে দলের প্রার্থী হিসেবে দেখলে অস্বস্তি বা হতাশা প্রকাশ করবেন। গত জুলাইয়ে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা যায়, ৮৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং তাদের অর্ধেকই চান এই বয়সসীমা ৭০ বছরের নিচে হোক। বর্তমানে কংগ্রেসের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সিনেটরের বয়স ৭০-এর ঊর্ধ্বে। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে ২০ জন বর্তমান সিনেটর পুনরায় লড়ছেন, যাদের বয়স ৩৯ থেকে ৮৩ বছরের মধ্যে। যদি তারা সবাই জয়ী হন, তবে ২০৩৩ সালে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় অর্ধেকের বেশি সিনেটরের বয়স ৭০ ছাড়িয়ে যাবে। তবে আশার বিষয় হলো মিচ ম্যাককনেল, ডিক ডারবিন (৮১) এবং জিন শাহিন (৭৯)-এর মতো কয়েকজন প্রবীণ সিনেটর এ বছরই অবসর নিচ্ছেন। সাধারণ মার্কিন জনসংখ্যার সঙ্গে কংগ্রেসের বয়সের এই ব্যবধান বেশ স্পষ্ট। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী হাউসের সদস্যদের বয়স অন্তত ২৫ এবং সিনেটরদের বয়স অন্তত ৩০ হতে হয়, যার ফলে কংগ্রেসের গড় বয়স স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে। তবে ২০২৫ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, যেখানে মাত্র ১৯ শতাংশ সাধারণ আমেরিকানের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, সেখানে বর্তমান মার্কিন সিনেটরদের গড় (মিডিয়ান) বয়স ৬৬ বছর। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক সিনেটরই ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছেন। বর্তমানে ৯২ বছর বয়সী আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি হলেন সিনেটের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য। প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোর হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন, যা গত মে মাসে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনার সময় তার অনুপস্থিতির কারণে নতুন করে আলোচনায় আসে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় পাহাড়ে আরোহণ করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের, রেখে গেলেন ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে
যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা ও হয়রানি বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ: কায়ার
চালক সংকট ও খরচে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বাস ব্যবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডা অঞ্চলে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট বা আইসের গ্রেফতার অভিযান হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি নেতারা, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বুধবার সকালে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্প্রতি হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস সুবিধা বাতিল করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থেকে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করে আসা লাখ লাখ হাইতিয়ান নাগরিকের এই আইনি সুরক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। দক্ষিণ ফ্লোরিডাসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাইতিয়ানদের মাঝে এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযানের শিকার পরিবার এবং অধিকারকর্মীদের মতে, টিপিএস বাতিলের এই সিদ্ধান্তের কারণে বর্ণগত প্রোফাইলিং, আইনি প্রক্রিয়ার ঘাটতি এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আইসের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির ইয়ারেলিজ মেনডেজ জামোরা বলেন, অভিবাসী গ্রেফতারের সাম্প্রতিক এই উল্লম্ফন পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে এবং পুরো কমিউনিটিতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। স্থানীয় প্রশাসনের কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে এখন অভিবাসীরা সন্তানকে স্কুলে পাঠানো, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা কর্মস্থলে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজগুলো করতেও ভয় পাচ্ছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মিরানারে অবস্থিত আইস এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস ফ্যাসিলিটিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ক্রমবর্ধমান এই কড়াকড়ি কীভাবে অভিবাসী পরিবার, কর্মী, ব্যবসায়ী এবং সামগ্রিক জনজীবনকে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এছাড়া অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের জোরালো ভূমিকা পালনের দাবিও জানানো হবে।
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়াল, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ট্রাফিক ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে হাজারো চালকের লাখ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধ
বন্দুক হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি স্কুলে বিশেষ ড্রোন চালু
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের পর গাছ ও বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন। ঝড়ের সময় একাধিক তীব্র বজ্রঝড়ের সতর্কতার পাশাপাশি দুটি টর্নেডো সতর্কতাও জারি করা হয়। একই সঙ্গে একটি এলাকায় প্রধান পানি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাসিন্দাদের ফুটিয়ে পানি পান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উত্তর জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফা শক্তিশালী বজ্রঝড় বয়ে যায়। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জানায়, ঝড়ের সময় উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষ, গাছ উপড়ে পড়া এবং বাড়িঘর ও যানবাহনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। বুধবার সকাল পর্যন্ত হ্যাবারশাম কাউন্টিতে ১ হাজার ৫০৩ জন, হোয়াইট কাউন্টিতে ১ হাজার ১৮ জন এবং টাউনস কাউন্টিতে ৯৫০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝড়ের রাতের তুলনায় বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা কিছুটা কমলেও অনেক এলাকায় এখনো পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। এদিকে গিলমার কাউন্টিতে ঝড়ের কারণে প্রধান পানি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিউ হোপ চাপ অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য ফুটিয়ে পানি পান করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি সরবরাহ লাইনের ক্ষতিতে সংরক্ষণ ট্যাংকের পানির স্তর কমে যায় এবং অনেক এলাকায় পানির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ফুটানো বা বোতলজাত পানি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। হ্যাবারশাম কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়া এবং সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অসংখ্য খবর পাওয়া গেছে। আন্ডারউড ফার্ম রোডের একটি বাড়ির ওপর একটি গাছ পড়লেও প্রাথমিক তথ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সড়কে জমে থাকা পানি, উপড়ে পড়া গাছ, ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের লাইন এবং জরুরি সেবা ও মেরামতকর্মীদের উপস্থিতির কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি ও এনওয়াইপিডি কমিশনার
স্কুল খোলার আগে জর্জিয়ার ব্যস্ত মোড়ে বদলে যাচ্ছে যান চলাচলের নিয়ম