মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় মুদ্রা ইয়েনের ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশে উন্নীত করেছে। মঙ্গলবার ব্যাংক অব জাপান এই সিদ্ধান্ত নেয়, যা ১৯৯৫ সালের পর দেশটির সবচেয়ে উচ্চ সুদের হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া আর্থিক নীতি স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হলো।
এর আগে গত ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়, যা পরিচালনা পর্ষদের ৭–১ ভোটে অনুমোদিত হয়। একমাত্র ভিন্নমত দেন বোর্ড সদস্য তোইচিরো আসাদা, যিনি বর্তমান হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেন।
সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং ইয়েনের দুর্বলতা উল্লেখ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জাপানের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল ইয়েন আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.৪৬ শতাংশ বেড়ে যায়। পাশাপাশি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েন সামান্য শক্তিশালী হয়ে ১৬০.২২ পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটির ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইল্ডও ৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ২.৬১৫ শতাংশে দাঁড়ায়।
ব্যাংক অব জাপান জানিয়েছে, তারা প্রতি প্রান্তিকে ২০০ বিলিয়ন ইয়েন করে সরকারি বন্ড কেনা কমাবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বন্ড কেনা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকার ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি এখনো ২ শতাংশের নিচে রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার দামে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
মে মাসে জাপানের উৎপাদক মূল্য সূচক ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। জেপি মরগান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান বাজার কৌশলবিদ তাই হুই বলেন, সুদের হার বৃদ্ধি বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও নীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে ইয়েনের ধারাবাহিক দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণে বারবার বাজারে হস্তক্ষেপ করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন টোকিওভিত্তিক বিশ্লেষকরা। মনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ জেসপার কোল বলেন, নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কেবল বাজারে হস্তক্ষেপ কার্যকর নয়।
মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে জাপান সরকার ইতোমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করেছে। যদিও কর সংস্কার ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমে ১.৪ শতাংশে নেমেছে, তা মূলত সাময়িক প্রভাব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধি জাপানের অর্থনীতিতে মূল্য স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও ইয়েনের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
পোল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী ও কার্টুনিস্ট সেমিওন স্ক্রেপেটস্কি গুলিতে নিহত হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনপন্থী নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পোলিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী স্ক্রেপেটস্কি সোমবার সকালে পূর্ব পোল্যান্ডের বিয়ালা পোডলাস্কা শহরে হামলার শিকার হন। বেলারুশ সীমান্তের কাছাকাছি ওই শহরের একটি সড়কে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশের মুখপাত্র আন্দ্রে ফিজোলেক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর একজন বেলারুশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পোলিশ কর্তৃপক্ষ। স্ক্রেপেটস্কি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে পুতিন, চেচেন নেতা রমজান কাদিরভসহ রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০২১ সালে তিনি রাশিয়া ছেড়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন। জানা গেছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি জার্মানির বার্লিনে রুশ দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারবিরোধী সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক চিত্রকর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইউরোপে অবস্থানরত রুশ ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘কোনো অর্থ খরচ’ করবে না। এ ধরনের দাবিকে তিনি গুজব ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকে ‘যথার্থ’ ও ‘দারুণ’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে চাননি। তবে পরিস্থিতির কারণে তাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। ট্রাম্প বলেন, “গত সপ্তাহে আমি তাদের ওপর হামলা করতে চাইনি। কিন্তু আমাদের হামলা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।” ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি। আমি ওটা মোটেও পছন্দ করিনি।” লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান পরিচালনার ফলে অতিরিক্ত প্রাণহানি ঘটছে। তিনি বলেন, “কাউকে খুঁজে বের করার জন্য প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে। তারা সবাই হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত নয়।” ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ মোকাবিলার বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আমি হিজবুল্লাহকে সামলানোর বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছি। কারণ আমার মনে হয় তারা এটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।” ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলেও ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি টিকে থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি বহাল থাকবে। তিনি বলেন, “আমি এটিকে একটি ছোট যুদ্ধ মনে করি। ইরান হলো বড় বিষয়। তবে আমাদের জন্য সেখানে একটি ছোট কাঁটার মতো বিষয় রয়েছে, আর সেটি হলো হিজবুল্লাহ।” এর আগে শান্তি চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং বহু তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই চুক্তিকে ইরানের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। ঘারিভাবাদি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের সামনে পরাজয় ও আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের গভীর অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি মূলত উত্তেজনা কমানোর একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন—চুক্তির চূড়ান্ত শর্তে ইরান আসলে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শুধু র্যাটক্লিফ নন—প্রশাসনের আরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হ্যাগসেথ গত রোববার ঘোষিত সমঝোতা স্মারকের বেশ কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিপরীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চুক্তি ঘোষণার আগে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা করছেন, তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। র্যাটক্লিফ ও রুবিওর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত করছে—যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা আশা করছে, ইরান শেষ পর্যন্ত তা মেনে নাও নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষায়, “ইরানের প্রকৃত উদ্দেশ্য চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না—গোয়েন্দা তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।” তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই। তার দাবি, এই সমঝোতা স্মারক ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিগত সীমারেখা বজায় রেখেই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। এদিকে, সিআইএ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রোববার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের পারমাণবিক শর্তগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাগের গালিবফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ১৪ দফার এই প্রাথমিক চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, বর্তমান কাঠামোয় ইরান তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছে—যদি না তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি কঠোর পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হয়। চুক্তির অন্তর্বর্তী শর্ত অনুযায়ী, আলোচনাকালীন সময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন থেকেও বিরত থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকালীন মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহার করবে এবং পর্যায়ক্রমে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের অবস্থান এবং মার্কিন আলোচকদের দাবি—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে। তিনি অবিলম্বে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানান। এই সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন ইরান কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ভবিষ্যতে ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই নৌপথ পরিচালনার বিষয়ে সংলাপ চালানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, ৬০ দিনের পর এই প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আরোপ করা হতে পারে—যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত অংশ হলো ইরানের জব্দ বা স্থগিত সম্পদ অবমুক্ত করা। সমঝোতা অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেবে। মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ‘কাজের ভিত্তিতে অর্থ ছাড়’ মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—অর্থাৎ ইরান চুক্তির শর্ত মানলে পর্যায়ক্রমে অর্থ ছাড় করা হবে। এছাড়া ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে সমর্থকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ইরান পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার না আনলে তা বাস্তবায়িত হবে না। সব মিলিয়ে, ইরান চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন নজর আসন্ন আলোচনায় এই মতপার্থক্য কতটা কাটিয়ে ওঠা যায় এবং চূড়ান্ত চুক্তি আদৌ সম্ভব হয় কি না।