‘নেতানিয়াহু সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’, উপদেষ্টাদের কাছে ট্রাম্পের মন্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সামলানো কঠিন। তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের বলেছেন, নেতানিয়াহু তার কাছে ‘চমৎকার’ একজন ব্যক্তি মনে হলেও অনেক সময় তিনি সীমা অতিক্রম করে ফেলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া বেশির ভাগ ফোনালাপেই নেতানিয়াহু নতুন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব আলোচনায় ট্রাম্প ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “বিবি (নেতানিয়াহু) প্রেসিডেন্টকে বোঝান কেন কোনো স্থানে হামলা চালানো প্রয়োজন, কেন ইসরাইলি গোয়েন্দারা তা করতে সক্ষম এবং কখন তা করা উচিত। প্রেসিডেন্ট এসব শোনেন। প্রায় প্রতিটি ফোনালাপ একই ধরনের হয়।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশল নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির কথাও উঠে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreআফগানিস্তানের বামিয়ানে একা ভ্রমণ করায় গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েছেন ভারতের কেরালার ট্রাভেল ভ্লগার অরুণিমা আইপি, যিনি ‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত। ১৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চেয়ে বার্তা দেওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে তিনি জানান, তাকে কোনো পুলিশ স্টেশন বা কারাগারে নেওয়া হয়নি এবং তিনি নিরাপদে আছেন। অরুণিমা কেরালার পালাক্কাড জেলার অট্টাপালাম এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েক বছর ধরে তিনি একা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সেই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন। আফগানিস্তানে যাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছিলেন। চলতি সফরে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাই ঘুরছিলেন। বামিয়ানে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে অরুণিমা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে একটি ট্রাকে লিফট নিয়ে তিনি বামিয়ানে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তার কাছে পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণের অনুমতিপত্র দেখতে চান। এরপর তাকে বলা হয়, একজন পুরুষ সঙ্গী বা গাইড ছাড়া একা ভ্রমণ করা নিয়ে স্থানীয় নিয়মের সঙ্গে তার অবস্থান সাংঘর্ষিক। এর আগে জালালাবাদে ভ্রমণের অনুমতি নিতে গিয়েও একই সমস্যায় পড়েছিলেন বলে অরুণিমা জানিয়েছেন। তার দাবি, একা ভ্রমণ করায় তাকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি। বামিয়ানে তাকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাতায়াত করাও নিয়মের লঙ্ঘন হতে পারে এবং এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ঘটনার এক পর্যায়ে অরুণিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চান। তার পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘মুজাহিদিন’ তাকে আটক করেছে এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল চিঠি নেই। ওই পোস্টের সত্যতা সে সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে অরুণিমা নিজেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তাকে থানায় বা কারাগারে নেওয়া হয়নি, বরং কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অরুণিমার বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে তার আগে বামিয়ানে পৌঁছাতে সহায়তা করা এক স্থানীয় ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করেন। তার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কথা বলার পর অরুণিমাকে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন। ঘটনার পর আফগানিস্তানে নারীদের চলাচল ও ভ্রমণ নিয়ে দেশটির কঠোর বিধিনিষেধ আবারও আলোচনায় এসেছে। অরুণিমার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, নারী একা ভ্রমণ করতে পারবেন না এবং বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী বা গাইড এবং অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব বিধিনিষেধের নির্দিষ্ট প্রয়োগ এবং তার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে আফগান সরকারের কোনো স্বাধীন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অরুণিমা পরে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন এবং আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে উজবেকিস্তানের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। প্রথমে ‘গ্রেপ্তার’ বললেও পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে মূলত আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং গ্রেপ্তারের হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ধ্বংসস্তূপে ২ দিন না খেয়ে থাকা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি
৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা, ভাইরাল দুই ছবিতে যুদ্ধের নির্মমতা
আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌযানের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই একে অপরের কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌযান উচ্চগতিতে একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি চলে আসে এবং অনিরাপদ ও অপেশাদার কৌশলে চলার কারণে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ ওয়ারাইচকে তলব করে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি নৌযানের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই দেশের সামরিক চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানায়। তবে পাকিস্তানের বক্তব্য ভিন্ন। ইসলামাবাদ বলেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান নৌবাহিনীর নিয়মিত মহড়ার সময় ঘটনাটি পাকিস্তানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ঘটে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় নৌযান বিপজ্জনকভাবে খুব কাছে এসে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল চালানোর ফলে দুই নৌযানের সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এ ঘটনায় ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে। ইসলামাবাদ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৯১ সালের দুই দেশের সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। সংঘর্ষের স্থান নিয়েও দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ভারত বলছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, ঘটনাটি তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার দায় কার - এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারি বর্ণনা পরস্পরবিরোধী। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর এবং কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তবে এবারের নৌ সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ: সংঘর্ষের কারণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্য আলাদা। তাই কোনো পক্ষের অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
সৌদি আরবের অত্যাধুনিক এফ-১৫ ভূপাতিত করলো হুতি বিদ্রোহীরা
কিম জং উনকে ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত
প্রযুক্তি-নিরাপত্তায় সন্দেহ হলেই নতুন নিয়মে চীন ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার
বিশ্বের ৩৪টি দেশের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি মানুষের সমর্থন এখনো শক্তিশালী। একই সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাও বেড়েছে। তবে বিশ্ব নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের ভূমিকা নিয়ে আগের তুলনায় কম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। রকফেলার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফোকালডেটা পরিচালিত জরিপটি ২১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়। এতে ৩৫ হাজার ৩৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, গত এক বছরে বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তারপরও ৫৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে জাতীয় স্বার্থের কিছুটা ছাড় দিতে হলেও দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ২০২৫ সালের জরিপে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। যুদ্ধ ও সংঘাত প্রতিরোধকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ৩৪ দেশের মধ্যে ২১টি দেশের মানুষ শীর্ষে রেখেছেন। বিশ্ব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়নি। মাত্র ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তারা স্বস্তিবোধ করেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭ শতাংশ। বিপরীতে কানাডা ৬০ শতাংশ, জাপান ৫৮ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া ৫৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অনেকে। নিজেদের দেশকে বাদ দিয়ে ৪২ শতাংশ রাশিয়াকে, ৩৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে এবং ৩০ শতাংশ চীনকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেছেন। তবে দেশভেদে এই ধারণায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মানুষ এমন একটি আন্তর্জাতিক জোটকে সমর্থন করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন কোনোটি অংশ না নিলেও অন্য দেশগুলো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে। অর্থাৎ দুই পরাশক্তির বাইরে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ ভূমিকার প্রতিও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর আস্থা ৬৯ শতাংশে, জাতিসংঘের ওপর ৬২ শতাংশে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ওপর ৫৭ শতাংশে, বিশ্বব্যাংকের ওপর ৫৫ শতাংশে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর ৫১ শতাংশে উঠেছে। তবে অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগও স্পষ্ট। মাত্র ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে তাদের দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে। ভারতের ক্ষেত্রে এই আশাবাদ ২৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫০ শতাংশে এবং চীনে ১৬ পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশে নেমেছে। জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গবেষকদের মতে, ফলাফলগুলো দেখাচ্ছে যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের হতাশা বাড়লেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের আগ্রহ কমেনি।
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত, চাকরি হারিয়েও আপোষ করেননি তিনি
ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল, অতঃপর বরখাস্ত