চাপের মুখে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ, নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহাম
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দলের অভ্যন্তরীণ চাপ, জনসমর্থনের ক্রমাগত পতন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তার এই সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্টারমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বেও নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনোমিস্ট–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্টারমারের পদত্যাগ একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার সরকারের জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী হতে থাকে। নির্বাচনের সময় এড়িয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট সামনে এলে বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে সরকার কর বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দ্রুত বাড়তে থাকে।
তবে স্টারমার সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিতর্কিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি বড় ধরনের ভরাডুবির মুখে পড়ে। এর পরপরই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংসহ প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেন।
স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর পর লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের তথ্য বলছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৫ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সম্প্রতি নিজের রাজনৈতিক শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছেন। গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে তিনি ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। এর আগে স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনে ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ এগিয়ে থাকলেও উপনির্বাচনে বার্নহামের এই জয় তাকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশের মাধ্যমে দলের নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেন।
নেতৃত্বের এই প্রতিযোগিতায় বার্নহামের পাশাপাশি ওয়েস স্ট্রিটিং ও সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাদের জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। নিয়ম অনুযায়ী, লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন পেলে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পাবেন। এরপর দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের ভোটে চূড়ান্ত নেতা নির্ধারিত হবে।
তবে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে থাকলেও বার্নহামের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ইউগভের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে তার প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে দ্রুত জনআস্থা পুনরুদ্ধারের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে।
একদিকে স্থবির অর্থনীতিকে গতিশীল করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জটিল কূটনৈতিক সম্পর্ক—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা—এই দুই ক্ষেত্রেই তাকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। নতুন নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি কোন পথে এগোয়, এখন সেই দিকেই নজর সবার।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreগাজায় মঞ্চে উঠলেই তারা অন্য কোনো চরিত্র হয়ে যান—এমন নয়। যে ভয়, শোক, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা প্রতিদিন বেঁচে আছেন, মঞ্চে উঠে সেই জীবনই আবার অভিনয় করতে হয় তাদের। কারও চরিত্র একজন অসহায় বাবা, কারও চরিত্র যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া এক নারী, আবার কেউ অভিনয় করছেন এমন এক চিকিৎসকের ভূমিকায়, যিনি নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পারছেন না। তাই গাজার এই অভিনেতাদের কাছে অভিনয় আর বাস্তব জীবনের সীমারেখা যেন প্রায় মুছে গেছে। এই বাস্তবতাকে মঞ্চে তুলে ধরতেই তৈরি হয়েছে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটক। যুদ্ধের মধ্যেই নাটকটির মহড়া ও মঞ্চায়ন করেছেন আটজন অভিনেতা। তাদের কেউ নিজের বাড়ি হারিয়েছেন, কেউ পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, কেউ আবার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় বদলেছেন। মঞ্চে তারা যে গল্প বলেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরার দিন শুরু হয় ভোর ৬টার দিকে। গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা কাদ্দুরা রান্না ও গরম থাকার জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেন। এক কেজি কাঠের দাম প্রায় ৭ শেকেল বা ২ ডলার। সামর্থ্য না থাকলে ধ্বং স হয়ে যাওয়া বাড়ির কাঠ, কার্ডবোর্ড কিংবা অন্য কিছু সংগ্রহ করে আগুন জ্বালাতে হয় তাকে। পরিবারের জন্য খাবার রান্না ও আগুন জ্বালানোর পর হাতে লেগে থাকা কালো ছাই ধুয়ে ফেলেন কাদ্দুরা। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে তাকে যেতে হয় মহড়ার জায়গায়। ধ্বং স স্তূপে ভরা প্রধান সড়ক এড়িয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে তিনি গাজা সিটির রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাছে পৌঁছান। সেখানে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুর ভেতর চলছে নাটকের মহড়া। কাদ্দুরার চরিত্র একজন চিকিৎসকের। যুদ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে আটকা পড়া সেই চিকিৎসককে নিজের সন্তানকে বাঁচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোলে থাকা শিশুটির পা কেটে ফেলতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত শিশুটি মা রা যায়। দৃশ্যটি অভিনয়ের হলেও এর পেছনে রয়েছে গাজার এক বাবার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাই শিশুটিকে কোলে নেওয়ার সময় নিজের সন্তানদের কথাই মনে পড়ে কাদ্দুরার। মঞ্চে চরিত্রটি ধরে রাখতে পারলেও একপর্যায়ে নিজের সন্তানদের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় ১৫ মিনিট এক পাশে বসে থাকার পর আবার মহড়ায় ফিরতে হয় তাকে। যু দ্ধের আগে কাদ্দুরা ক্যামেরার পেছনে কাজ করতেন। স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু উত্তর গাজার আল-তাওয়ামে ই স রা য়ে লি হামলায় তার বাড়ি ধ্বং স হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভাড়া করা একটি বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ত্রিপলের নিচে একটি কক্ষে বসবাস করছেন তিনি। ধ্বং স স্তূপ থেকেই তৈরি নাটকের মঞ্চ নাটকটির পরিচালক আলী আবু ইয়াসিন গাজায় প্রায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তার নাটক গাজার বাইরেও মঞ্চস্থ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যু দ্ধে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বং স হয়েছে। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ও শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি ভবন রয়েছে। থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবু ইয়াসিনের সামনে প্রশ্ন ছিল—নাটক তৈরি হবে কোথায়? শেষ পর্যন্ত উত্তর খুঁজে নেওয়া হয় তাঁবু, ধ্বং স স্তূপ আর অস্থায়ী জায়গার মধ্যেই। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটকের কাজ শুরু হয় একটি নাট্যলেখার কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যু দ্ধের কারণে কেউ আ হ ত হন, কেউ বাস্তুচ্যুত হন, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে চলে যান। শেষ পর্যন্ত আটজন এই নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসেন। প্রথম দিকে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুতে মহড়া হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ছোট কক্ষে চলে যায় মহড়া। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল সীমিত। সেট তৈরির জন্য নতুন কাঠ কেনার সুযোগ না থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠের টুকরো ব্যবহার করেন অভিনেতারাই। পরিচালক আবু ইয়াসিনের ভাষায়, নাটকটি যেন ধ্বং স স্তূপের নিচ থেকেই উঠে এসেছে। বাস্তব জীবনের ভয়ই হয়ে উঠেছে অভিনয়ের অংশ অভিনেত্রী ইমান ওদা নাটকে হানিন নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। নয় বছর অপেক্ষার পর সন্তান ধারণ করা হানিন যু দ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করছে—এটাই তার চরিত্র। একদিন মহড়ার মাঝেই কাছাকাছি বি স্ফো রণ ঘটে। ভবন কেঁপে ওঠে, ধুলা ঢুকে পড়ে মহড়ার জায়গায়। অভিনেতারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর প্রায় সবাই প্রথমে ফোন হাতে নেন—পরিবার নিরাপদে আছে কি না, সেটি জানার জন্য। ওদা বলেন, যু দ্ধ তাদের শুধু অভিনয়ের গল্প দেয়নি, আকাশের শব্দ বোঝার অভিজ্ঞতাও দিয়েছে। হেলিকপ্টার বা নজরদারি ড্রোনের শব্দ শুনলে তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। তবু অনেক সময় সেই শব্দের মধ্যেই মহড়া চালিয়ে যেতে হয়। ওদার নিজের বাবার নাম ছিল ইউসুফ। যু দ্ধের সময় তিনি মা রা যান। পরে যে কবরস্থানে তাকে দা ফ ন করা হয়েছিল, সেটিও বুলডোজার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবার তার কবরের অবস্থান আর খুঁজে পায়নি। তাই নাটকে ‘নিখোঁজ ইউসুফ’ নামের একটি চরিত্রের কথা উঠতেই ওদা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আরেক অভিনেতা তামের নাজমের জীবনও নাটকের গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। নাটকে তিনি খালেদ নামে এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি বহু বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করার পর যু দ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন। বাস্তব জীবনেও নাজমের নিজের বাড়ি ধ্বং স হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। বন্ধুর বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি, রাস্তার পাশ কিংবা তাঁবু—বিভিন্ন জায়গায় দিন কাটিয়েছেন তারা। যু দ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। তাই মঞ্চে খালেদের চরিত্রে অভিনয় করার সময় নাজমের নিজের জীবনই সামনে চলে আসে। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে নিয়ে বাস্তবে যে ভয় তিনি অনুভব করেছেন, মঞ্চে সেই ভয়ই আবার অভিনয় করতে হয় তাকে। অবশেষে মিলল একটি থিয়েটার অনেক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গাজা সিটির আল-ওয়েহদা স্ট্রিটের এ এম কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির মঞ্চায়নের সুযোগ হয়। কয়েক মাস তাঁবু, খোলা জায়গা ও ছোট কক্ষে মহড়া করার পর অবশেষে তারা একটি থিয়েটার মঞ্চে ফিরতে পারেন। ১৯ জুলাই প্রথমবার দর্শকদের সামনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রবেশ ছিল বিনামূল্যে। মঞ্চে ওঠার আগে অভিনেতাদের ভ য় ছিল—বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে, আশপাশে হামলা হতে পারে কিংবা মাঝপথে নাটক বন্ধ করে দিতে হতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক বা মেকআপের ব্যবস্থাও ছিল না। বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু থেকে পাওয়া সাধারণ পোশাক এবং মোবাইল ফোনের আলোয় যতটুকু সম্ভব, সেটুকু দিয়েই প্রস্তুতি নেন তারা। এরপর আলো নিভে যায়। কাদ্দুরা মঞ্চে চিকিৎসক হয়ে ওঠেন, ওদা হয়ে যান যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া হানিন, আর নাজম অভিনয় করেন পরিবারকে হারানোর আতঙ্কে থাকা খালেদের চরিত্রে। ৫০ মিনিট ধরে মঞ্চে চলতে থাকে গাজার মানুষের যু দ্ধকালীন জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি। দর্শকদের মধ্যে ছিলেন নাজমের পাঁচ বছরের মেয়েও। মঞ্চে বাবাকে ধুলায় ঢাকা ও ছেঁড়া পোশাকে দেখে সে কেঁদে ফেলে। পরে বাবাকে জানায়, মঞ্চে তার কান্না দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন বাড়িতেও একইভাবে দুশ্চিন্তা করেন। পরবর্তীতে নাটকটি গাজার বিভিন্ন এলাকায় মঞ্চস্থ করা হয়। দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে এর প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের হলেই পাঁচ শতাধিক মানুষ নাটকটি দেখেন। পরিচালক আলী আবু ইয়াসিনের কাছে এই নাটক শুধু বিনোদন নয়। তার মতে, থিয়েটার ধ্বং স করা গেলেও মানুষের গল্প, অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতাকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যায় না। তাই থিয়েটার হল না থাকলেও রাস্তা বা অন্য কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে নাটক করা সম্ভব। মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পরও অবশ্য অভিনেতাদের গল্প শেষ হয় না। কাদ্দুরা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ির দিকে ফেরেন। সাত বছরের মেয়ে শাম ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে কোলে করে নিয়ে হাঁটতে হয়। রাতের অন্ধকারে পথ দেখাতে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করেন। দূরে তখনও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায়। ছাদে থাকা ছোট ঘরে পৌঁছে শামকে শুইয়ে দেন কাদ্দুরা। অন্য সন্তানরা তখনও খাবারের অপেক্ষায়। দিনের শুরুতে যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন পরিবারের জন্য, রাতেও সেই আগুনের কাছেই ফিরে আসেন তিনি। আবার আগুন জ্বালান কাদ্দুরা। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের জন্য রাতের খাবার রান্না শুরু করেন। মঞ্চে ৫০ মিনিটের অভিনয় শেষ হলেও বাস্তব জীবনের সেই গল্প থেকে যায়। কারণ গাজার এই অভিনেতাদের কাছে পর্দা নামলেও যু দ্ধের বাস্তবতা থামে না।
মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর
মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী
গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ, নাকের হাড় স্থানচ্যুত
করোনাভাইরাসের টিকা কেনার জন্য ভারতকে দেওয়া ১২০০ কোটি টাকা পাঁচ বছর পরও বাংলাদেশ ফেরত পায়নি বলে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দৈনিক আমার দেশ। একই সঙ্গে করোনাকালীন টিকা কার্যক্রমে বরাদ্দ ও ব্যয়ের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করছে। আমার দেশের ২০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনার জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ দুই দফায় ১২০০ কোটি টাকা অগ্রিম দেয়। টিকা আমদানিতে বাংলাদেশি এজেন্ট হিসেবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের দায়িত্ব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রথম চালানে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসার পর ভারত নিজস্ব করোনা পরিস্থিতির কারণে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর অগ্রিম অর্থ ফেরতের বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই ১২০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ফেরত পেয়েছে এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাকালীন টিকা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে টিকা কেনা, সংরক্ষণ, পরিবহন ও টিকাদানসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এই অর্থের ব্যয় নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। ২০২৫ সালের মার্চে করোনা টিকা কেনায় ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন সালমান এফ রহমান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের তৎকালীন মহাপরিচালক জানিয়েছিলেন, সরকারি হিসাবে টিকা বিতরণে ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অভিযোগ অনুযায়ী প্রকৃত ব্যয় ছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি এখনো অভিযোগ ও অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। এটি আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। এ বিষয়ে দুদক বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের কাছে নথি, সিদ্ধান্তপত্র, আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আমার দেশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনার টিকা কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র না পাওয়ার বিষয়টিও দুদকের অনুসন্ধানে বাধা তৈরি করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব অনুসন্ধানে সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। দুদক চেয়ারম্যানও জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষ হলে বিস্তারিত জানানো যাবে। ভারতের কাছে থাকা ১২০০ কোটি টাকা ফেরতের বিষয়টি তাই এখনো অমীমাংসিত। একই সঙ্গে করোনাকালীন বিপুল সরকারি ব্যয়ের নথি, টিকা কেনাকাটার প্রক্রিয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বা দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক
পূর্বপুরুষের জিনের কারণে শিশুর গায়ের রং কালো, দাবি শ্বেতাঙ্গ মায়ের! ডিএনএ টেস্টের পরও থামেনি বিতর্ক
সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে চীনের নতুন পদক্ষেপ, তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ড্রোন 'মাদারশিপ'
জার্মানির পূর্বাঞ্চলে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় দেশটিতে বসবাসরত অনেক অভিবাসী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাস, কাজ এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের প্রতি বিরূপ আচরণ বেড়েছে। জার্মানির বাল্টিক উপকূলীয় শহর রস্টকে বসবাসকারী শাহদ নাজিব এমনই একজন। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের হাত থেকে পালিয়ে এক দশকেরও বেশি আগে জার্মানিতে আশ্রয় নেন তিনি। স্বামী মাহমুদ হমুয়েশ ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন। স্বামী একটি নাপিতের দোকানে কাজ করেন এবং নাজিব স্থানীয় স্কুলগুলোতে খাবার পরিবেশন করেন। রয়টার্সকে নাজিব বলেন, সিরিয়া ছাড়ার সময়কার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো তার মনে রয়েছে। কিন্তু জার্মানিতে এক দশকের বেশি সময় কাটানোর পরও বর্তমানে তিনি ভাবছেন, এই দেশটিতে তিনি ও তার পরিবার আগের মতো স্বাগত কি না। রয়টার্স রস্টক ও কাছের শহর শভেরিনে অভিবাসী পরিবারের ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের বেশির ভাগই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের নিয়ে কটূক্তি ও বিরূপ আচরণের ঘটনা বেড়েছে। এসব আচরণের মধ্যে প্রকাশ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা থেকে শুরু করে অপমানজনক মন্তব্য পর্যন্ত রয়েছে। এক নারী জানিয়েছেন, তার প্রতিবেশী বারান্দা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি তার ওপর ঢেলে দিয়েছিলেন। নাজিবের নিজের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে ফেরার পথে একটি দোকানের কাছে এক বয়স্ক ব্যক্তি তাকে জার্মানিতে থাকার অধিকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে তিনি জানান। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘এই দেশ জার্মানদের জন্য।’ নাজিব বলেন, রস্টকে যে ধরনের কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, সেটি তার জীবনে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, নিজের জীবন গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পরও কেউ তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখলে সেটি অন্যায়ের অনুভূতি তৈরি করে। এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসছে এমন এক সময়ে, যখন জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন রাজ্যে ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে দলটিকে সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে দেখা হয়েছিল। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় আরেক রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে এএফডি প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্য নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পায়। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী অবস্থান নিয়ে এএফডির যাত্রা শুরু হলেও ২০১৫ সালে তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকারের অভিবাসন নীতির পর দলটির অভিবাসনবিরোধী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। ওই সময়ে প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করেন, যাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন সিরীয়। এএফডির প্রধান প্রার্থী লাইফ-এরিক হোম অবশ্য বলেছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসনের ব্যাপারে তার দলের আপত্তি নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের জার্মানিতে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাদেরই দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তবে সমালোচকদের মতে, অভিবাসন ও ‘রিমিগ্রেশন’ নিয়ে দলের বক্তব্যের কারণে বিদেশিদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নের সামাজিক গণতন্ত্রী রাজ্যপ্রধান মানুয়েলা শভেসিগ এক টেলিভিশন বিতর্কে এএফডির বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, যারা জার্মানিতে কাজ করছেন, কর ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন, তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। একই বিতর্কে মরক্কোর এক নকশাবিদকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই কর্মী নিয়মিত বর্ণবাদী কটূক্তির শিকার হচ্ছেন এবং এ কারণে তাকে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে একজন প্রকৌশলী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হোম বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করলেও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের ফেরত পাঠাতে সরকারের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অভিবাসন নিয়ে এই রাজনৈতিক বিতর্কের অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী পটভূমির মানুষ কর্মরত। দেশটির পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের মতো এই অঞ্চলও কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। জার্মানির শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জার্মান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি এমন প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার সিরীয় নাগরিক দেশটিতে কাজ করছেন। তাদের বেশির ভাগই পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন। সিরীয় নাগরিকদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলেও জার্মানিতে দীর্ঘদিন অবস্থানকারীদের কর্মসংস্থানের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সাত বছর বা তার বেশি সময় ধরে জার্মানিতে থাকা সিরীয়দের ৬০ শতাংশের বেশি কর্মরত ছিলেন। জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির উত্থানের পেছনে অভিবাসন ছাড়াও অর্থনৈতিক বৈষম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিনের পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি এক হওয়ার পর পূর্বাঞ্চলে কর্মসংস্থান ও আয় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও সম্পদের ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে পূর্বাঞ্চলে, বার্লিনসহ, গড় নিট সম্পদের পরিমাণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪৯ শতাংশ ছিল। এদিকে অনেক সিরীয় নাগরিক নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফিরে যাওয়ার আশা করছেন। আবার নাজিব ও হমুয়েশের মতো কেউ কেউ জার্মানিকেই ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন সেই সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হমুয়েশ বলেন, তিনি চান না তার সন্তানরা যে সমাজকে নিজেদের ঘর মনে করে, সেখানে বড় হয়ে নিজেদের প্রত্যাখ্যাত মনে করুক। তার কাছে পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: রয়টার্স
'গাজায় ইসরায়েলের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়': মঞ্চে কেঁদে বললেন এড শিরান
তুরস্কে ৩ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার ৯ ইসরায়েলি