ভারতের মহারাষ্ট্রে এক তরুণ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ। প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে উঠে এসেছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। এ ঘটনায় নিহত তরুণের বাগদত্তা এবং তাঁর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত কেতন আগরওয়াল মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার বাসিন্দা এবং খ্যাতনামা নির্মাণ ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। আগামী নভেম্বরে তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সিয়া গোয়ালের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস আগেই তাঁর মৃত্যু ঘিরে শুরু হয় রহস্য।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ জুন ছিল কেতনের জন্মদিন। এ উপলক্ষে তিনি তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়ালের সঙ্গে পুনের কাছে ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গ এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে ট্রেকিংয়ের একপর্যায়ে কেতন গভীর খাদে পড়ে যান বলে প্রথমে দাবি করা হয়।
ঘটনার পর সিয়া পুলিশকে জানান, ছবি তোলার সময় কেতনের পা পিছলে যায় এবং তিনি খাদে পড়ে যান। পরে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল।
তবে তদন্তে নেমে লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশ বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পায়। মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
পুলিশের দাবি, সিয়া গোয়াল এই বিয়েতে আগ্রহী ছিলেন না। একই সময়ে তাঁর সহকর্মী চেতন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দুজন মিলে পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জন্মদিন উদযাপনের অজুহাতে কেতনকে লোহাগড় দুর্গ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুযোগ বুঝে তাঁকে গভীর খাদে ধাক্কা দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাস্থলে চেতন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
মামলার তদন্ত তদারকি করা জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে সিয়া ও চেতনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালত তাঁদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কেতন ও সিয়ার বিয়ের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। আগামী নভেম্বরে রাজস্থানের উদয়পুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
পরিবারের দাবি, বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য জয়পুরে প্রায় ১৭ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। অতিথিদের যাতায়াতের জন্য দুটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের আগেই কেতনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে এটি একটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তের অগ্রগতিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ কীভাবে এতটা নির্মম পরিকল্পনা করতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। সংগৃহীত ডিজিটাল তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ জোগাড় করতে শিক্ষাঋণ না নিয়ে এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী মাইক হেইস। ১৯৮৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে পড়াশোনা শুরু করার সময় চার বছরের খরচ মেটাতে তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। সেই অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি লাখ লাখ মানুষের কাছে মাত্র এক সেন্ট করে সাহায্য চাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ছে, মাইক নিজে ২৮ লাখ মানুষের কাছে আলাদাভাবে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এমনটি নয়। তিনি যোগাযোগ করেছিলেন শিকাগো ট্রিবিউনের জনপ্রিয় কলামিস্ট বব গ্রিনের সঙ্গে। গ্রিনের লেখা তখন যুক্তরাষ্ট্রের বহু সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতো এবং তার পাঠকসংখ্যা ছিল কয়েক মিলিয়ন। মাইক বব গ্রিনকে জানান, যদি ২৮ লাখ মানুষ তাকে মাত্র এক সেন্ট করে পাঠান, তাহলে তার চার বছরের কলেজ খরচ উঠে যাবে। অভিনব পরিকল্পনাটি গ্রিনের পছন্দ হয় এবং তিনি ১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিজের কলামে মাইকের আবেদন প্রকাশ করেন। এরপরই শুরু হয় অভাবনীয় সাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিঠির সঙ্গে আসতে থাকে এক সেন্টের কয়েন। অনেকে শুধু এক সেন্টেই থামেননি। কেউ পাঁচ সেন্ট, কেউ দশ বা ২৫ সেন্ট, আবার কেউ ডলার কিংবা চেক পাঠিয়েছেন। কানাডা ও মেক্সিকো থেকেও অনুদান আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই এত চিঠি আসতে শুরু করে যে স্থানীয় পোস্ট অফিসেও চাপ তৈরি হয়। মাইকের ছোট্ট আবেদন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও তার গল্প প্রচার হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মাইক প্রায় ২৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। ওই অর্থ দিয়েই ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে চার বছরের পড়াশোনার খরচ মেটান তিনি। পরে ১৯৯১ সালে ফুড সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট করেন মাইক। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ডলার আরেকজন আর্থিকভাবে অসচ্ছল নবীন শিক্ষার্থীকে দেওয়ার কথাও পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে। ঘটনাটি প্রায় চার দশক আগের হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেট ও অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ের যুগ শুরু হওয়ারও আগে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে সংবাদপত্রের পাঠকদের ছোট ছোট অনুদান একত্র করে নিজের উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে পেরেছিলেন, সেই কারণেই গল্পটি এখনো মানুষের আগ্রহ কাড়ে। মাইকের পরিকল্পনার মূল হিসাব ছিল খুবই সহজ। একজনের কাছে এক সেন্ট প্রায় মূল্যহীন মনে হতে পারে, কিন্তু লাখ লাখ মানুষ সামান্য করে সহযোগিতা করলে সেটিই বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে। তার ক্ষেত্রে সেই এক সেন্টের ধারণাই শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ডলারের কলেজ ফান্ডে পরিণত হয়েছিল।
রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
কোকা-কোলার কাস্টম ক্যান নিয়ে বিতর্ক: ‘ঈশ্বরই প্রভু’ লিখা নিষিদ্ধ অথচ ‘শিশুকামী প্রাইড' লিখায় মিলল অনুমতি
মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক ইউএস সিনেট প্রাইমারিতে জয়ের পর আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে জনপ্রিয় কিন্তু বিতর্কিত রাজনৈতিক স্ট্রিমার হাসান পাইকারের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাইকারের অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও তার কাছ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানে সাড়া দেননি এল-সায়েদ। এর মধ্যেই মিশিগানের কিছু ইহুদি ভোটার ও কমিউনিটি নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এল-সায়েদ। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মিশিগানে এই নির্বাচন ইউএস সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের রাজনৈতিক যোগাযোগ নতুন নয়। গত এপ্রিলে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে আয়োজিত প্রচারণা অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ঠিক আগেও এল-সায়েদের প্রচারণায় অংশ নেন পাইকার। হাসান পাইকার যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় বামপন্থী রাজনৈতিক স্ট্রিমার। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার বিপুল অনুসারী রয়েছে। তবে ইসরায়েল, হামাস, ৯/১১ হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অতীতে দেওয়া তার বক্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তার কিছু বক্তব্যকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতা। পাইকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তার বক্তব্যকে অনেক ক্ষেত্রে প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এল-সায়েদকে এর আগেও পাইকারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এপ্রিলে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, অন্য কারও সব মতামত থেকে নিজেকে প্রকাশ্যে বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করা তার কাজ নয়। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পাইকারের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ তার প্রতিটি বক্তব্যকে সমর্থন করা নয়। পরবর্তীতে ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারেও পাইকারের অতীতের বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এল-সায়েদকে। তিনি আবারও বলেন, কারও সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হওয়া মানেই সেই ব্যক্তির প্রতিটি মন্তব্য বা বিশ্বাসকে নিজের বলে গ্রহণ করা নয়। তবে প্রাইমারি জয়ের পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এল-সায়েদ এখন শুধু ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের প্রার্থী নন, মিশিগানের সাধারণ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক সিনেট প্রার্থী। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ইহুদি ভোটার এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের সম্পর্ক এবং ইসরায়েল নিয়ে তার নিজের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এর আগে এপ্রিলে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির হিলেল পাইকারের ক্যাম্পাস সফর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। মিশিগানের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতাও তখন এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের যৌথ অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে এল-সায়েদের সমর্থকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, পাইকারের বিপুল তরুণ অনুসারী রয়েছে এবং তার মতো অনলাইন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথা বলা এমন ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর একটি উপায়, যারা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে খুব বেশি সম্পৃক্ত নন। এপ্রিলে তাদের যৌথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নিয়েছিলেন। এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি ডেট্রয়েটের হেলথ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো। ইসরায়েল ও গাজা প্রশ্নেও তার অবস্থান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূলধারার অনেক নেতার তুলনায় কঠোর। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন। এসব অবস্থান তাকে প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সমর্থন এনে দিলেও মিশিগানের কিছু ইহুদি ভোটারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এল-সায়েদের প্রাইমারি জয়ের পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা তার পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার এবং প্রাইমারিতে পরাজিত হ্যালি স্টিভেন্সও সাধারণ নির্বাচনে তাকে সমর্থন করেছেন। এখন এল-সায়েদের সামনে বড় পরীক্ষা নভেম্বরে। প্রাইমারিতে প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জয়ী হলেও সাধারণ নির্বাচনে তাকে ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্র এবং মধ্যপন্থী ভোটারদের আরও বড় অংশের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। হাসান পাইকারকে ঘিরে চলমান বিতর্ক সেই প্রচারণায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও এখন মিশিগানের সিনেট নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
ছেলের ময়নাতদন্তের ছবি দেখে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা, বিচারক বললেন ‘শাট হার আপ’
৩৫ বছর আগের মার্স বার খুঁজে অবাক ক্লিনার, বর্তমান চকলেটের পাশে রাখতেই চোখ কপালে
তিনটি ডিগ্রি, তবুও পরিবারের খাবার জোগাতে হিমশিম চিকিৎসক ইয়াসমানি
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), বাহরাইন, ইয়েমেন, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক মুসলিম সংগঠন। শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মুসলিম বিশ্বের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। চুক্তিটি গত বছর থেকেই আলোচনায় ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দেশের মধ্যে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও কৌশলগত সমন্বয়ের নতুন ভিত্তি তৈরি করতে পারে। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব হিশেইন ইব্রাহিম তাহা এক বিবৃতিতে বলেন, এই চুক্তি শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সৌদি আরবের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে। বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এটি সমমর্যাদার অংশীদারদের মধ্যে একটি কৌশলগত সহযোগিতা। তাদের মতে, প্রতিটি দেশ নিজস্ব সক্ষমতা নিয়ে এই অংশীদারিত্বে অবদান রাখবে এবং এটি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বিদ্যমান যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোকেও আরও শক্তিশালী করবে। মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব শেখ ড. মোহাম্মদ বিন আব্দুলকরিম আল-ইসা বলেছেন, এই চুক্তি ইসলামী সংহতি, পারস্পরিক আস্থা এবং ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে তিনি বলেন, এর মূল লক্ষ্য যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখা। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সিও চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে। এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের মতে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লে তাদের সার্বভৌমত্ব, বৈধ স্বার্থ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি আশা প্রকাশ করেছে, এই সহযোগিতা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করবে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক উদ্যোগেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আনাদোলু এজেন্সির বরাতে সোমালিয়াও চুক্তিটিকে যৌথ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির মতে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এ ধরনের সহযোগিতা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হবে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে এই চুক্তি শুধু সামরিক সহযোগিতাই নয়, বরং কৌশলগত সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তির পূর্ণ কাঠামো ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: টাইমস টুডে, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ), আনাদোলু এজেন্সি।
গ্রিস উপকূলে ৪৮ ঘণ্টায় ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি
‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ দেখিয়ে ৪ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি দখল, প্রতারণার দায়ে ৭৮ বছর বয়সী দাদির কারাদণ্ড