বিশ্ব

এক বছর পর প্রকাশ্যে এলো অপারেশন সিন্দুরে নিহত ভারতীয় সেনাদের পরিচয়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৮:১২
ছবি: এএনআই
ছবি: এএনআই

গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পরিচালিত আন্তঃসীমান্ত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ নিহত ছয় ভারতীয় সেনাসদস্যের নাম প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে ওই অভিযানে নিজেদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রথমবার জনসমক্ষে স্বীকার করল দেশটি।

 

নিহত সেনাসদস্যদের নাম নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের ‘রোল অব অনার’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধের দেয়ালে তাঁদের নাম খোদাই করা হয়েছে। দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গকারী এসব সেনাসদস্যকে সম্মান জানাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

অপারেশন সিন্দুরে নিহত ছয় সেনাসদস্য হলেন হেডকোয়ার্টার্স ১০ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের সুবেদার মেজর পবন কুমার, ৪ জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রির রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (বীর চক্র), ৫ ফিল্ড রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার, ৮৫১ লাইট রেজিমেন্টের এভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরলীনায়েক, ২৩৭ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানির হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ৩৯ উইংয়ের সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (বায়ু সেনা মেডেল)।

 

স্মৃতিসৌধের ‘ওয়াল থ্রি-ডি’-তে ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত অংশে তাঁদের নাম সংযোজন করা হয়েছে। জাতীয় বীরদের স্মরণে নির্মিত এ স্মৃতিসৌধে তাঁদের অবদান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ হলো।

 

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে ভারতীয় বাহিনীর হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এতদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারত সরকার প্রথমবারের মতো ওই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করল।

 

এর আগে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর, ৭ মে ভোরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে।

 

ভারতের দাবি অনুযায়ী, এ অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অন্তত নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল জয়শ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার অবকাঠামো ধ্বংস করা। পরবর্তীতে ১০ মে দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) পর্যায়ের আলোচনার পর সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান।

 

প্রকাশিত তালিকা থেকে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী উভয় বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এটি অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। নিহতদের মধ্যে রাইফেলম্যান সুনীল কুমারকে বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বীর চক্র’ এবং সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারকে ‘বায়ু সেনা মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে।

 

২০১৯ সালে ইন্ডিয়া গেটের কাছে উদ্বোধন হওয়া ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে এখন অপারেশন সিন্দুরও ভারতের উল্লেখযোগ্য সামরিক অভিযানের তালিকায় স্থান পেল।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় নিরাপত্তার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হুমকিতে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প, প্রকাশ্যে ছিল ভিন্ন নাটক

ইরানের গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে চরম গোপনীয়তা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত মাসে তুরস্ক ত্যাগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কোনো প্রটোকল নয়, বরং একটি ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো সময়টিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়মিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানেই ভ্রমণ করছেন। মূলত হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতেই এই প্রতারণামূলক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই গোপন যাত্রার রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ন্যাটোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল ও নতুনভাবে সাজানো বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সম্মেলন শেষে তার ফেরার সময় দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর হামলার গুরুতর একটি হুমকির তথ্য পান। এরপরই প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি নিখুঁত ও অভিনব ছক কষা হয়। আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প প্রথমে সবার সামনে ক্যামেরার আলোতে একটি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি এই পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। এটি ছিল মূলত হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত টোপ।   বাস্তবে ক্যামেরার আড়ালে ঘটেছিল অন্য ঘটনা। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরপরই ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ট্রাম্পকে বহনকারী সেই সি-৩২এ বিমানটি দ্রুত যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেয় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে ওঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা জানতেনই না যে তাদের বিমানে প্রেসিডেন্ট নেই। ট্রাম্পের বিমান পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর ওই ডিকয় বা টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটি যুক্তরাজ্যে অবতরণ করে। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের শুধু এতটুকুই জানিয়েছিলেন যে, তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক ও গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক শত্রু রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্টের জীবনের সুরক্ষায় এবং সেই হুমকিগুলো মোকাবিলায় হাতে থাকা সম্ভাব্য প্রতিটি উপায় ব্যবহার করে থাকে। তবে এই গোপন অভিযান ও ইরানের নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের ঘটনার পর থেকে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ট্রাম্পের এই রোমহর্ষক গোপন সফর সেই চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিরই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২৩:৫৮
ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

হোটেলে এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়ের চিহ্ন দেখান ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার হান্না স্টিফেনসন। ছবি: সংগৃহীত

বিখ্যাত হোটেল এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়, পেলেন লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

man-eating-a-donut-on-the-couch

অলসদের দিন আজ, আলসেমি করারও আছে দিবস!

চীনের ওপর  খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের
চীনের ওপর খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের

চীনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিয়ারস্টন প্রকল্পসহ অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতের কয়েকটি প্রকল্পে মার্কিন আগ্রহ বাড়ছে।   সিয়ারস্টন প্রকল্পটি নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে স্ক্যান্ডিয়ামের বড় মজুত রয়েছে। স্ক্যান্ডিয়াম বিমান, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে অস্ট্রেলিয়ার সানরাইজ এনার্জি মেটালস।   প্রকল্পটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চাহিদার কারণে। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সিয়ারস্টন প্রকল্প থেকে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১৫ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড কেনার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করে। প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান হতে পারে এই পরিমাণ।   স্ক্যান্ডিয়াম বর্তমানে মূলত চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে স্ক্যান্ডিয়াম খনন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার প্রকল্পগুলো ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে।   সিয়ারস্টন প্রকল্পে উচ্চ বিশুদ্ধতার স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৬০ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব কমানো এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।   সিয়ারস্টনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ডাব্বো অঞ্চলের বিরল মাটি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্প নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিমান ও উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ এখন শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ট্রেলিয়া হয়ে উঠছে চীনের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নির্ভরযোগ্য উৎস গড়ে তোলার অন্যতম অংশীদার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৪:৪৭
'হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি’ বলায় ইসরায়েলির হাতে মার খেলেন মার্কিন নাগরিক

'হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি’ বলায় ইসরায়েলির হাতে মার খেলেন মার্কিন নাগরিক

কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৯৬৮ বাংলাদেশি

কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৯৬৮ বাংলাদেশি

হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ
ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ: মার্কিন কর্মকর্তা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে সরে আসাই সবচেয়ে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট।   মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন কেন্ট। পদত্যাগের সময় তিনি বলেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছিল না এবং যুদ্ধের পক্ষে তিনি সমর্থন দিতে পারছেন না।    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ হবে যুদ্ধ থেকে সরে আসা। তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য এটিই ট্রাম্পের সামনে সবচেয়ে ভালো সুযোগ।   কেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন।    পদত্যাগপত্রে কেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এমন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মকে পাঠানো এবং মার্কিন নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা সমর্থনযোগ্য নয়।   তবে কেন্টের অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে মেলে না। তার পদত্যাগের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে কেন্টের নিরাপত্তা মূল্যায়নের সমালোচনা করেন। ফলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের নীতির পাশাপাশি এর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    কেন্টের সর্বশেষ মন্তব্য মূলত যুদ্ধের সামরিক সমাধানের পরিবর্তে দ্রুত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে তার অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৩:১
বাবা-মা ও ক্রুর ব্যর্থ চেষ্টার পর বাতিল কানাডার ফ্লাইট

সিটে বসতে নারাজ শিশু, বাবা-মা ও ক্রুর ব্যর্থ চেষ্টার পর বাতিল কানাডার ফ্লাইট

স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই

স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই, তাই নিজের সবকিছু বিক্রি করছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ

রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়

রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়, শেষে বেরিয়ে এলেন অন্য নবদম্পতি

0 Comments