গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পরিচালিত আন্তঃসীমান্ত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ নিহত ছয় ভারতীয় সেনাসদস্যের নাম প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে ওই অভিযানে নিজেদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রথমবার জনসমক্ষে স্বীকার করল দেশটি।
নিহত সেনাসদস্যদের নাম নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের ‘রোল অব অনার’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধের দেয়ালে তাঁদের নাম খোদাই করা হয়েছে। দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গকারী এসব সেনাসদস্যকে সম্মান জানাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অপারেশন সিন্দুরে নিহত ছয় সেনাসদস্য হলেন হেডকোয়ার্টার্স ১০ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের সুবেদার মেজর পবন কুমার, ৪ জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রির রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (বীর চক্র), ৫ ফিল্ড রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার, ৮৫১ লাইট রেজিমেন্টের এভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরলীনায়েক, ২৩৭ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানির হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ৩৯ উইংয়ের সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (বায়ু সেনা মেডেল)।
স্মৃতিসৌধের ‘ওয়াল থ্রি-ডি’-তে ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত অংশে তাঁদের নাম সংযোজন করা হয়েছে। জাতীয় বীরদের স্মরণে নির্মিত এ স্মৃতিসৌধে তাঁদের অবদান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ হলো।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে ভারতীয় বাহিনীর হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এতদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারত সরকার প্রথমবারের মতো ওই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করল।
এর আগে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর, ৭ মে ভোরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে।
ভারতের দাবি অনুযায়ী, এ অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অন্তত নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল জয়শ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার অবকাঠামো ধ্বংস করা। পরবর্তীতে ১০ মে দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) পর্যায়ের আলোচনার পর সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান।
প্রকাশিত তালিকা থেকে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী উভয় বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এটি অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। নিহতদের মধ্যে রাইফেলম্যান সুনীল কুমারকে বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বীর চক্র’ এবং সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারকে ‘বায়ু সেনা মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে।
২০১৯ সালে ইন্ডিয়া গেটের কাছে উদ্বোধন হওয়া ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে এখন অপারেশন সিন্দুরও ভারতের উল্লেখযোগ্য সামরিক অভিযানের তালিকায় স্থান পেল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিনদানাওয়ে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মেলেনি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানায়, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনের ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলকস) ভিন্ন তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকায় কম্পনটি অনুভূত হয় এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। ফিভোলকসের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের সারানগানি পৌরসভার বালুত দ্বীপ থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে। উপকূলঘেঁষা এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য পরাঘাত বা আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ফিভোলকস। স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে এবং জনগণকে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গভীর সমুদ্রে উৎপন্ন কম্পনের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়, তবে পরাঘাতের ঝুঁকি থেকেই যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের অবিলম্বে ও শর্তহীন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। শুক্রবার (২৬ জুন) এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ভাষণে কাসেম স্পষ্ট করে বলেন, “ইসরায়েলকে লেবাননের প্রতিটি এলাকা থেকে পুরোপুরি সেনা সরিয়ে নিতে হবে। যুদ্ধবিরতি মানে কেবল আংশিক শান্তি নয়—সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ হওয়া।” তার মতে, এমন কোনো যুদ্ধবিরতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না যেখানে এক পক্ষ হামলা চালিয়ে যাবে, আর অন্য পক্ষ নীরব থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধাপেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও পৃথক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি অঞ্চলে এখনো ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মাঝে মধ্যেই হামলার ঘটনাও ঘটছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করছে, নিরাপত্তাজনিত হুমকি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানোর অধিকার রাখে। এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে নাঈম কাসেম বলেন, “ইসরায়েল কেবল নিরাপত্তার অজুহাতে সেখানে নেই; বরং লেবাননের ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে বিদেশি সেনা উপস্থিতির কোনো বৈধতা নেই এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব লেবাননের নিজস্ব জাতীয় সেনাবাহিনীর। হিজবুল্লাহ প্রধান আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। “প্রতিরোধের অধিকার আমরা সংরক্ষণ করি,”—যোগ করেন তিনি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রসঙ্গে কাসেম দাবি করেন, এই চুক্তি ইরানের কৌশলগত সাফল্যের প্রতিফলন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের ইঙ্গিত বহন করে। ভাষণে লেবাননের সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিও বার্তা দেন হিজবুল্লাহ প্রধান। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সরকার যেন কোনো আপস না করে এবং বিদেশি প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে। “জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। দেশের অর্ধেক জনগণকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি সরকার নিতে পারে না,”—বলেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ বাস্তবায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে কাসেম বলেন, লেবানন এখন একটি নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং এই সময়ে জাতীয় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিশ শতকের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক বিজয়ী ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশটি শুধু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করেনি, সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং উদার গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। তবে কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই একচ্ছত্র আধিপত্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। মার্কিন আধিপত্যের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হয় উনিশ শতকে। সে সময় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ ছিল ইউরোপীয় শক্তিগুলোর হাতে। বিশেষ করে বিশাল উপনিবেশিক সাম্রাজ্য এবং শিল্পবিপ্লবের সুবিধাভোগী যুক্তরাজ্য ছিল বৈশ্বিক শক্তির কেন্দ্র। কিন্তু শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতকের শুরুর দিকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব বিশ্ব ক্ষমতার মানচিত্র পাল্টে দেয়। রসায়ন, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ওষুধশিল্প, অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন, চালিত উড্ডয়ন এবং রেডিও প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বিশ্বায়নের নতুন যুগেরও সূচনা হয়। এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় রদবদল দেখা দেয়। ইউরোপে জার্মান সাম্রাজ্যের উত্থান এবং এশিয়ায় জাপানের উত্থান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশ। ১৯১৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। সে সময় ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকলেও প্রকৃত প্রশ্ন ছিল, বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আবির্ভাব কবে ঘটবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় রাজনীতিতে নির্ধারক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিচুক্তিকে কার্যকর রাখার দায়িত্ব থেকে দেশটি ধীরে ধীরে সরে দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ১৯২০-এর দশকের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং মহামন্দার সময়কার ব্যাপক বেকারত্ব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তোলে। সেই প্রেক্ষাপটই পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। সোভিয়েত কমিউনিজমের সঙ্গে আদর্শিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকতে বাধ্য করে। শুরু হয় দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধ। এই সময়ে ইউরোপ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পশ্চিম ইউরোপ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হতে থাকে। স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে পশ্চিমা বিশ্বে সামাজিক গণতান্ত্রিক ঐকমত্য গড়ে ওঠে এবং পরিচালিত পুঁজিবাদ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৮০-এর দশকের নব্যউদারবাদী সংস্কারের পরও সেই কাঠামোর মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকে, যদিও এর পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার প্রভাববলয় ভেঙে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ফ্যাসিবাদ, কমিউনিজম এবং জার্মানি, জাপান, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ওপর বিজয়ের এই সময়কে ওয়াশিংটন আখ্যা দেয় ‘ইউনিপোলার মোমেন্ট’ বা একমেরু মুহূর্ত হিসেবে। তবে ইতিহাসের গতি দীর্ঘদিন এক জায়গায় স্থির থাকেনি। বিজয়ের মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যে ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। যেমন উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষেত্রে ঘটেছিল, তেমনি নতুন অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল চীনের উত্থান। ১৯৭০-এর দশকে বেইজিংকে মস্কোর প্রভাববলয় থেকে দূরে আনার কৌশলগত প্রচেষ্টার পর দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে চীন ‘সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ’ নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি হয় এবং কয়েক দশকের মধ্যে চীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো সমমর্যাদার একটি প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়। একই সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপ্লব বিশ্বায়নের দ্বিতীয় ধাপকে আরও গতিশীল করে। বিশ্ব অর্থনীতি আরও আন্তঃনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। তবে এর সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসে। আর্থিক সংকট, ব্যাপক অভিবাসন এবং সামাজিক পরিবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। উনিশ শতকের শেষভাগে যেখানে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল শ্রেণি ও জাতিগত প্রশ্ন, সেখানে বর্তমান সময়ে লিঙ্গ, বর্ণ ও পরিচয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী এবং রক্ষণশীল রাজনৈতিক আন্দোলনেরও উত্থান ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন তার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। দেশটির নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে। রাজনৈতিক বিভাজন, আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন আধিপত্যের উত্থান ও ক্ষয়ের ইতিহাস শুধু একটি রাষ্ট্রের কাহিনি নয়; এটি আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনশীল চরিত্র এবং ক্ষমতার চক্রাকার রূপান্তরেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।