বিশ্ব

লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন, প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বারোপ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৫:১১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে বইমেলা। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া এ আয়োজন সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং কবি শামীম আজাদ।

 

বইমেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন।

 

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুবাদক আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। কবি শামীম আজাদ বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই।

 

অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখক মাসুক ইবনে আনিস এবং গবেষক ফারুক আহমদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন হেনা বেগম।

 

উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন, প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বারোপ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে বইমেলা। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া এ আয়োজন সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।   একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং কবি শামীম আজাদ।   বইমেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন।   উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুবাদক আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। কবি শামীম আজাদ বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই।   অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখক মাসুক ইবনে আনিস এবং গবেষক ফারুক আহমদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন হেনা বেগম।   উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৫:১১
ছবি: সংগৃহীত

ইরান হামলা নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যানের

ছবি: রয়টার্স

রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন ও গোলাবর্ষণ, দুই পক্ষেই বেসামরিক নিহত

ছবি: সিএনএন

লেবাননের দুই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক চুক্তি

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে অসহায় এক মায়ের আশা-নিরাশার লড়াই
ধ্বংসস্তূপের নিচে সন্তানের অপেক্ষা—ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে অসহায় এক মায়ের আশা-নিরাশার লড়াই

ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, হারিয়ে যায় পুরো পরিবার। তবু ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে এখনো অপেক্ষা করছেন এক মা—তার বিশ্বাস, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রায় দুই বছরের ছেলে এখনো বেঁচে আছে। ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর এমন অসংখ্য হৃদয়বিদারক দৃশ্য এখন দেশজুড়ে।   বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।   ভূমিকম্পের খবর পেয়ে কর্মস্থল থেকে ছুটে বাড়ি ফেরেন আন্দ্রেইনা ভ্যালেরিও। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ছোট ছেলে সান্তিয়াগোকে নিরাপদে নিয়ে আসা। কিন্তু লা গুয়াইরায় পৌঁছে তিনি দেখেন, যেখানে তার ছেলেটি ছিল, সেই ভবনটি পুরোপুরি ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।   সান্তিয়াগো তখন তার বাবা রামসেস মেনদোজার সঙ্গে দাদা-দাদির বাসায় ছিল। ধসে পড়া সেই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দ্রেইনা জানান, তার ছেলে, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, এমনকি পরিবারের আরও সদস্যরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তবুও তিনি আশা ছাড়েননি।   তার ভাষায়, “আমি এখনো বিশ্বাস করি আমার ছেলে বেঁচে আছে। আমি যে কান্নার শব্দ শুনেছি, সেটি আমার ছেলেরই। আমি জানি, তারা ফিরে আসবে।”   পরিবারের আরেক সদস্য স্যামুয়েল মেনদোজা জানান, ভূমিকম্পের পরের সকালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারীর কণ্ঠ তিনি শুনেছিলেন। “ঠিক বুঝতে পারিনি তিনি কী বলছিলেন, তবে একটি শব্দ পরিষ্কার ছিল—‘বাঁচান’,” বলেন তিনি।   এদিকে, আন্দ্রেইনার দাবি, পরদিন তিনি নিজেও একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনেছেন। সেই বিশ্বাসই তাকে এখনো ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহস জোগাচ্ছে।   শুধু এই পরিবারই নয়, এমন হাজারো মানুষ এখন তাদের স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন। লা গুয়াইরা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে বহু মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। অনেকেই টানা কয়েক রাত ঘুমাননি; ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডাকতে ডাকতে কারও কারও কণ্ঠ ভেঙে গেছে।   শনিবার এল সালভাদর ও স্পেন থেকে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ধসে পড়া ভবনের ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই ভবন থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   ভূমিকম্পের পর ধীরে ধীরে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে যুক্ত হন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা এসে সহায়তার হাত বাড়ান। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলার প্রস্তুতি যে পর্যাপ্ত ছিল না, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   প্রতিবেদকের বর্ণনায়, হোটেল এডওয়ার্ড এলাকায় পৌঁছানোর পর বাতাসে মৃত্যুর গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর হতাশার চিত্র—যেখানে দীর্ঘ সময় কেউ বেঁচে থাকতে পারে, এমন আশা ধরে রাখা কঠিন।   সরকারি হিসাবে, শুধু লা গুয়াইরা শহরেই অন্তত ৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২৩৮ জন। তবে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ এই ভূমিকম্পকে গত ১২৩ বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লা গুয়াইরার বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১৪ হাজার সদস্য মাঠে কাজ করছেন।   শুরুর দিকে উদ্ধারকাজে সীমিত সরঞ্জাম থাকলেও পরে ধীরে ধীরে ভারী যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে শুরু করেছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছেন, যাতে দুর্গত মানুষ কিছুটা সহায়তা পান।   তবুও ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখে একটাই প্রশ্ন—তাদের প্রিয়জনরা কি এখনো বেঁচে আছেন? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সময়ের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৩:২০
প্রতীকী ফাইল ছবি: রয়টার্স

সমঝোতার পরও স্বস্তি নেই, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইরান

দুই রাষ্ট্র সমাধান ‘অসম্ভব’, নির্বাচনে জিতলে সেই নীতিতেই এগোবেন নেতানিয়াহু

দুই রাষ্ট্র সমাধান ‘অসম্ভব’, নির্বাচনে জিতলে সেই নীতিতেই এগোবেন নেতানিয়াহু

এনপিসি থেকে ১৩ সদস্য বহিষ্কার

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আরও কঠোর বেইজিং, এনপিসি থেকে ১৩ সদস্য বহিষ্কার

মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে ৮ ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের দাবি আইআরজিসির
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে ৮ ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের দাবি আইআরজিসির

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।   এর আগে একই দিনে ইরানের সিরিক শহর ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তেহরান। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির নৌবাহিনীর একটি ‘অনুপ্রবেশকারী জাহাজের’ বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়।   আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করে বলেছে, ওয়াশিংটনের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও চুক্তি লঙ্ঘনের ইতিহাস’ রয়েছে। তারা আরও দাবি করে, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর তদারকির দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো নৌযান নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব ‘অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ০:২১
ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত

‘ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’, হামলার পরেই ট্রাম্পের হুমকি

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

টানা দ্বিতীয় দিন ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, উত্তেজনা চরমে

মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা আইআরজিসির, ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments