- প্রচ্ছদ
- Topic
গ্রেপ্তার
লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই। সংস্থাটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের লস অ্যাঞ্জেলেস শাখা ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে। তবে পোস্টে তাঁর নাম, বয়স, গ্রেপ্তারের তারিখ কিংবা মামলার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে ২৮ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করে। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলক নিবন্ধন, ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। তবে আইসিইর সাম্প্রতিক পোস্টে উল্লেখ করা ব্যক্তিই ওই ২৮ জনের মধ্যে একজন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক আমানদীপ কৌর রয়েছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার র্যাঞ্চো পালোস ভার্দেসে বসবাসকারী একজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দেন। তবে আইসিইর পোস্টে তাঁর নাম উল্লেখ না থাকায় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের সঙ্গে আমানদীপ কৌরের সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। গ্রিন কার্ডধারীরা বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করলেও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়েছে। বিচার বিভাগ দাবি করেছে, অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিকের নাম রয়েছে। তবে এসব ব্যক্তির সবাই যে অবৈধভাবে ভোট দিয়েছেন, এমন তথ্য প্রতিষ্ঠিত নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষ ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আইসিইর পোস্টে উল্লিখিত গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় ও মামলার বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, বিচার বিভাগের মামলাগুলোতে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার আইনি নীতি প্রযোজ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক নারী স্কুল প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম কাইটলিন হিন্টজ। তিনি বন্ডুয়েল মিডল/হাই স্কুলের সহযোগী প্রধান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯ অক্টোবর সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে শাওয়ানো কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার উইসকনসিনের ‘স্পিক আপ, স্পিক আউট’ নামের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থায় একটি বেনামি তথ্য আসে। সেখানে স্কুলের একজন কর্মী ও এক শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুপযুক্ত যোগাযোগের অভিযোগ করা হয়। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়। এরপর শাওয়ানো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব তথ্য পর্যালোচনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার মতো প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ১৯ অক্টোবর হিন্টজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায় এবং তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছে স্কুল জেলা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লেখিত যোগাযোগ স্কুল জেলার ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে হয়নি। একইভাবে, অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাগুলো স্কুল জেলার সম্পত্তির ভেতরেও ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে। তবে এই তথ্যের অর্থ অভিযোগটি ভিত্তিহীন—এমন নয়; ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করে শাওয়ানো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, এ পর্যায়ে তারা আর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে না। সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। মামলাটি কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া এগোতে পারে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিন্টজের প্রাথমিক আদালতে হাজির হওয়ার কথা ওই সপ্তাহের পরবর্তী সময়ে বলা হয়েছিল। তবে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত তাঁর আদালতে হাজিরা, আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ কিংবা মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের প্রকৃতি বা সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ দ্রুত জানানোর গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মীদের কোনো উদ্বেগজনক আচরণ চোখে পড়লে প্রশাসনকে জানাতে অথবা ‘স্পিক আপ, স্পিক আউট’ ব্যবস্থায় অভিযোগ করতে উৎসাহিত করেছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে একটি হিন্দু মন্দিরে ব্যাপক গুলিবর্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পালাটাইনের বাসিন্দা ওই তরুণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়া এবং বেআইনিভাবে ছোট ব্যারেলের রাইফেল রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, পাপোরাকিসের পাঠানো উদ্বেগজনক বার্তার কথা এক ব্যক্তি মাউন্ট প্রসপেক্ট পুলিশকে জানান। সেখান থেকে খবর পেয়ে গত রোববার (১১ অক্টোবর) তাঁকে গ্রেপ্তার করে পালাটাইন পুলিশ। তদন্তে গুলিবর্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরে লেখা একটি নথির সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, কয়েক শ গুলি এবং শরীরের সুরক্ষাবর্মসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নথিতে দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতার কথা রয়েছে। উদ্ধার করা একটি ভেস্টে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী চরমপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীকও পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পুলিশ নতুন করে জানায়, পাপোরাকিসের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি রোববার দুপুরে অরোরার একটি হিন্দু মন্দিরের পার্কিংয়ে ঢুকে প্রায় ১৩ মিনিট পর বেরিয়ে যায়। তবে পুলিশ মন্দিরটির নাম প্রকাশ করেনি। অরোরার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুমকির পর সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার কুক কাউন্টির আদালত পাপোরাকিসকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর। তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করছে এফবিআই।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়াতে আইসিই এজেন্টদের নতুন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন আগের তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৈনিক তিন হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করেছে, অভিবাসী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আইসিই নেতৃত্ব দেশজুড়ে কর্মরত এজেন্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের পুরোনো লক্ষ্য আবারও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সংখ্যা আরও এক হাজার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে মোট ১৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে এজেন্টদের। সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে সাধারণত অভিযান কম হয় এবং মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক কমসংখ্যক এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে দৈনিক তিন হাজারের লক্ষ্য থাকলেও সাপ্তাহিক হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিপোর্টেশনের উদ্দেশ্যে যত বেশি সম্ভব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করতে এজেন্টদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তবে এই নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সিএনএনের প্রতিবেদনে এটিকে আইসিই নেতৃত্বের মৌখিক নির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য এবারই প্রথম সামনে আসেনি। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিইকে একই লক্ষ্য অর্জনের নির্দেশ দিয়েছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করার লক্ষ্য পূরণে সংস্থাটি আগেও সমস্যার মুখে পড়েছে। এবার নতুন করে সেই লক্ষ্য সামনে আসায় আইসিইর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত জুনের শেষ দিকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ জনের কিছু বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছিল আইসিই। ওই সময়ের হিসাবে এটি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা। নতুন সাপ্তাহিক লক্ষ্য সেই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা আর বাস্তবে সমসংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিদিন তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাস্তবে কতটা অর্জন করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা নিয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র সরাসরি দাবি করেছেন, আইসিইর কোনো গ্রেপ্তার কোটা নেই। ওই মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আইনসম্মত সব উপায় ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর করছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে সিএনএনের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদন এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক নির্দিষ্ট সংখ্যার লক্ষ্য থাকার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ডিএইচএস এ ধরনের কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। নতুন নির্দেশনার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ইমিগ্রেশন নীতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতার মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের গ্রেপ্তার ও ডিপোর্টেশনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কৃষি ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর খাতের প্রতিনিধিরাও এর আগে জানিয়েছেন, ব্যাপক ইমিগ্রেশন অভিযানের কারণে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে। এদিকে অভিযান বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইসিই তাদের বিভিন্ন অফিসে আটক ব্যক্তিদের রাখার জায়গা সম্প্রসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিযান ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব জায়গায় আটক ব্যক্তিদের রাখা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আইসিই সম্প্রতি গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনায় নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এজেন্টদের গাড়ি থামানোর অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে আইসিই এজেন্টদের দ্রুতগতিতে গাড়ি ধাওয়া করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামানোর অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় সংস্থাটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির জন্য নতুন গ্রেপ্তারের লক্ষ্যের খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যাবে কি না, তা তাঁর নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। দৈনিক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাড়ানোর খবরের অর্থ এই নয় যে সব অভিবাসী একই ধরনের আইনি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা চলমান থাকা, ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকা, অ্যাসাইলামের আবেদন বিচারাধীন থাকা কিংবা বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুমোদিত ইমিগ্রেশন লইয়ারের পরামর্শ নেওয়া এবং কোর্টের নোটিশ ও শুনানির তারিখ সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সিএনএনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া বিষয় হলো, আইসিই নেতৃত্ব প্রতিদিনের গ্রেপ্তার বাড়ানোর জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট গ্রেপ্তার কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান বাস্তবে কতটা বাড়বে এবং দৈনিক তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, তা পরবর্তী সরকারি পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থেকে পরিষ্কার হবে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলের ওপর চীনের হয়ে নজরদারি চালানোর অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ৩৪ বছর বয়সী ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাংকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঝাং ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে বসবাস করেন এবং পেশায় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ও তার পরিবারের ওপর নজরদারি চালান এবং তাদের ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বরসংক্রান্ত তথ্য চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান। মার্কিন ফেডারেল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় ঝাং এবং তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান। সেখানে তারা একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যের বাসার কাছে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঝাং ও তার সহযোগী গাড়ির ভেতরে অপেক্ষা করছিলেন। পরে লক্ষ্য ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফেরার সময় তারা গাড়ি থেকে ফোন বের করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। এফবিআই সরাসরি আদালতের অভিযোগপত্রে লক্ষ্য ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তবে এফবিআইয়ের প্রকাশিত তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলে লাই টিং-ইউ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকায় বসবাস ও কাজ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঝাং নজরদারি চালানোর পর চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের কাছে ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বরের তথ্য পাঠান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝাং এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন যাতে তার কার্যক্রম সহজে শনাক্ত না হয়। একই সঙ্গে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে নিবন্ধনও করেননি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এফবিআইয়ের তদন্তে ঝাংয়ের শিক্ষাজীবন ও চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়াশোনা করেছিলেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ের একজন পরিচিত ব্যক্তি পরে চীনা সরকারের কর্মকর্তা হন এবং ২০২৫ সালেও তাদের যোগাযোগ ছিল। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকাই গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ নয়; এসব তথ্য মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঝাংকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করেছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও এটিকে ‘আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়নের’ একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাইওয়ানের নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া বা ক্ষতি করার মতো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তাইওয়ান মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিষয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটি সম্পর্কে নিজেদের অবগত নয় বলে জানিয়েছে এবং ‘চীনা গুপ্তচর’ নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচারের মাধ্যমে চীনকে হেয় করার অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তাইওয়ান, সামরিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তাইওয়ানের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখলেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রধান সরবরাহকারী। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যদের বাসস্থান, গাড়ি ও চলাফেরার তথ্য ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতিতে চীনের জন্য চাপ তৈরির কাজে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। এ কারণেই তদন্তকারীরা নজরদারির ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এটি তদন্তকারীদের দাবি, আদালতে এখনো তা প্রমাণিত হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চীনের হয়ে কথিত গোপন তৎপরতার অভিযোগে সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলার মধ্যে সর্বশেষ ঘটনা। মার্কিন বিচার বিভাগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তাইওয়ানি, চীনা ও অন্যান্য ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কথিত নজরদারি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনায় একাধিক তদন্ত ও মামলা করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাং এখনো আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ফেডারেল আদালতে প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মামলাটি এখন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আদালতে পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশনকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে এবং ঝাংয়ের পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। মামলার পরবর্তী অগ্রগতি থেকেই বোঝা যাবে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগগুলো আদালতে কতটা প্রমাণিত হয়।
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে অংশ নেওয়ার পর সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের প্রার্থী মিসায়েল রামোসকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রে প্তা র করেছে রাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগ। তাঁর বিরুদ্ধে দা ঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে এক হাজার ডলারের জা মি নে তিনি ছাড়া পান। রামোস অস্টিন সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ আসনের প্রার্থী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইউটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গু লিতে উইলবার গারসেস পেরেজ নামের এক ব্যক্তি আ হ ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। রামোসের প্রচার ব্যবস্থাপকের ভাষ্য, শনিবার সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। সেদিনই তাঁকে ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয় এবং বিকেলে জা মি নে মুক্তি দেওয়া হয়। রামোসের বিরুদ্ধে আনা অ ভি যোগটি টেক্সাসে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অ প রা ধের শ্রেণিতে পড়ে। বি ক্ষো ভে তাঁর ঠিক কোন আচরণের ভিত্তিতে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অ ভি যোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রামোসের প্রচার শিবির বলছে, তিনি আইসিই কর্মকর্তার গু লির ঘটনার প্র তি বা দ জানাতে অন্যদের সঙ্গে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন। গ্রে প্তা রের বিষয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কেইউটি জানিয়েছে।
ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোমস্টেতে অবস্থানের পর গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নিমিশা ঠাকুরিয়ার রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সী আসিফ আলী ওরফে আশিক আলীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মৃ ত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি সম্ভাব্য হ ত্যা কা ণ্ড হিসেবেও তদন্ত করছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে গুয়াহাটির আজারা এলাকার গারালের একটি হোমস্টেতে নিমিশা ও আসিফ অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় নিমিশাকে গারাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাকে গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা মৃ ত ঘোষণা করেন। নিমিশার বয়স ২১ বছর। আসিফ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, নিমিশা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁ স দিয়ে আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে গুয়াহাটি পশ্চিমের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বলিন দেওরি জানিয়েছেন, পুলিশ ওই বক্তব্য সরাসরি গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ঘটনাটি হ ত্যা কা ণ্ড হতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়েছে নিমিশার শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন। তবে এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে এবং মৃ ত্যুর সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ম য় না ত দ ন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃ ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার আগে পরিবারের সঙ্গে নিমিশার শেষ ফোনালাপও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার বাবা দীপ ঠাকুরিয়ার দাবি, রাত প্রায় ২টার দিকে নিমিশা তার মাকে ফোন করে জানান, তাকে মা র ধ র করা হচ্ছে এবং বুকে আঘাত করা হয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে আর ঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি। অন্য একটি বর্ণনায় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের বরাতে নিমিশার শেষ কথাগুলোর মধ্যে ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নিমিশার বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ হোমস্টেটিও সিল করে দিয়েছে। অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগে হোমস্টের রেজিস্টারসহ বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিমিশার মোবাইল ফোনও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোমস্টের মালিক ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার পর আজারা ও ধরাপুর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় মহাসড়ক ১৭ অবরোধ করে এবং ঘটনাটিকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্দেশ্য বা ধর্মীয় যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার কথা জানায়নি এবং মৃ ত্যুর সব সম্ভাব্য দিক তদন্ত করা হচ্ছে। এনডিটিভি উল্লেখ করেছে, ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি বিতর্কিত ধারণা, যেখানে মুসলিম পুরুষরা ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে হিন্দু নারীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বলে দাবি করা হয়। নিমিশার ঘটনায় এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তার প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পুলিশ। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য উইক, দ্য স্টেটসম্যান, এএনআই
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি বাড়াতে ১০ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি নতুন ইউনিটে ১৪০ জনের বেশি গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও প্রজেক্ট ম্যানেজার নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব কর্মীর অনেকেরই ‘টপ সিক্রেট’ সরকারি সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হবে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ইউনিটটির নাম ‘ওভারওয়াচ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি এনফোর্সমেন্ট’। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে এই ইউনিটের সদস্যদের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তারা শ্রেণিবদ্ধ ও অশ্রেণিবদ্ধ বিভিন্ন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করবেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ, সম্পর্ক, নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের ধরন বিশ্লেষণ করবেন। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থান, ঘটনা ও অন্যান্য তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক শনাক্ত করে আইসিইর তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে সহায়তা করাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। তবে এসব বিশ্লেষকের নিজেরা কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা থাকবে না। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২৭টি শহরে তিন থেকে পাঁচজন করে বিশ্লেষক মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মায়ামি ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহর রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার থাকার কথাও পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিই বলছে, সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ‘ওভারওয়াচ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আইসিইর এক মুখপাত্র দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা ব্যক্তিদের শনাক্ত, অবস্থান নির্ধারণ এবং গ্রেপ্তারে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, অপরাধীদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতাও বাড়াতে হচ্ছে। অভিবাসন এনফোর্সমেন্টে আইসিই এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি মোবাইল ফোনের তথ্য, নজরদারি সফটওয়্যার, ফেসিয়াল রিকগনিশন, লাইসেন্স প্লেট রিডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া মানুষকে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের ডেটা-ভিত্তিক সেবাও ব্যবহার করা হয়। নতুন পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আইসিইর নজরদারি কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি আদালতের নথিতে মিনেসোটার একটি চার্চে আইসিইর নজরদারি কার্যক্রমের কিছু তথ্য প্রকাশ পায়। ওই নথি অনুযায়ী, এজেন্টরা চার্চের সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং তাদের গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর যাচাই করেছিলেন। আইসিইর জনবল নিয়োগ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সংস্থাটির সাবেক এক কর্মকর্তা দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করে দাবি করেছেন, পর্যাপ্ত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই কিছু প্রার্থীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই অভিযোগের বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে অভিযোগও করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আইসিইর গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে ১০ কোটি ডলারের পরিকল্পনাটি প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে উল্লেখিত জনবল ও কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক নারী ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণের কারণে ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় গ্রে প্তার ও কয়েক মাস আটক থাকার অভিযোগে একটি শহর ও এক পুলিশ গোয়েন্দার বিরুদ্ধে ১০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। অ্যাঞ্জেলা লিপস নামের ওই নারী মঙ্গলবার নর্থ ডাকোটার ফেডারেল আদালতে ফার্গো শহর ও ফার্গো পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা লুকাস হেকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার তাকে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সম্ভাব্য মিল হিসেবে শনাক্ত করেছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে এক নারী চুরি করা পরিচয় ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ফার্গো এলাকার কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের সময় ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ ও নর্থ ডাকোটার একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফেসিয়াল রিকগনিশন ফলাফল লিপসকে সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখায়। লিপসের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গোয়েন্দা হেক জানতেন যে তিনি টেনেসিতে থাকেন এবং কখনো নর্থ ডাকোটায় যাননি। এ ছাড়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে থাকা সন্দেহভাজনের শারীরিক বর্ণনার সঙ্গেও লিপসের মিল ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার আরও অভিযোগ, ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলটি মূলত নজরদারি ভিডিও থেকে নয়, বরং সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত একটি ভুয়া পরিচয়পত্রের ছবির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছিল—এই বিষয়টি গোয়েন্দা হেক আদালতকে জানাননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ফলাফলকে শুধু তদন্তের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করার কথা ছিল; নিশ্চিত পরিচয় হিসেবে নয়। এরপর লিপসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কার্যকর একটি গ্রে প্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, লিপস তখন টেনেসিতে এক প্রতিবেশীর শিশুর দেখাশোনা করছিলেন। সেখানেই ইউএস মার্শালসের একটি পলাতক আসামি ধরার বিশেষ টাস্কফোর্স তাকে বন্দুকের মুখে গ্রে প্তার করে। পরে তাকে টেনেসির একটি কারাগারে রাখা হয় এবং নর্থ ডাকোটায় নিয়ে গিয়ে ক্যাস কাউন্টি জেলে আটক করা হয়। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ডলার। মামলায় লিপস দাবি করেছেন, থ্যাংকসগিভিং পর্যন্ত এবং নিজের ৫০তম জন্মদিনও তাকে কারাগারেই কাটাতে হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ডেনচার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, লিপসের আইনজীবী ব্যাংকের নথি আদালতে উপস্থাপন করে দেখান যে, যেসব সময়ে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল, তখন লিপস টেনেসিতেই ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লিপসের কাছে মাত্র ৪ সেন্ট ছিল এবং তার কাছে শীতের পোশাকও ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তখন তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি ছিল। পরে স্থানীয় একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও এক প্রতিবেশীর সহায়তায় তিনি টেনেসিতে নিজের বাড়িতে ফেরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ফার্গো পুলিশ বিভাগের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত নীতি, প্রশিক্ষণ বা তদারকি ছিল না। বিপরীতে ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ বিভাগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম ছিল এবং শুধু ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রে প্তার না করার নীতি ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফার্গো পুলিশের প্রধান ডেভ জিবোলস্কি মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিভাগটিতে তদন্তসংক্রান্ত কিছু ভুল হয়েছিল। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে পুলিশ বিভাগ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন নীতি ও প্রশিক্ষণ চালু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। লিপসের মামলায় বেআইনি আটক ও গ্রে প্তার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন, পুলিশের নীতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, মিথ্যা গ্রে প্তার ও আটক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা চালানোর অভিযোগসহ মোট পাঁচটি দাবি করা হয়েছে। লিপস ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গোয়েন্দা হেকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ, আইনজীবীর খরচ এবং জুরি বিচারের আবেদন করেছেন। তবে এগুলো লিপসের করা দেওয়ানি মামলার অভিযোগ। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আফগানিস্তানের বামিয়ানে একা ভ্রমণ করায় গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েছেন ভারতের কেরালার ট্রাভেল ভ্লগার অরুণিমা আইপি, যিনি ‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত। ১৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চেয়ে বার্তা দেওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে তিনি জানান, তাকে কোনো পুলিশ স্টেশন বা কারাগারে নেওয়া হয়নি এবং তিনি নিরাপদে আছেন। অরুণিমা কেরালার পালাক্কাড জেলার অট্টাপালাম এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েক বছর ধরে তিনি একা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সেই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন। আফগানিস্তানে যাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছিলেন। চলতি সফরে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাই ঘুরছিলেন। বামিয়ানে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে অরুণিমা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে একটি ট্রাকে লিফট নিয়ে তিনি বামিয়ানে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তার কাছে পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণের অনুমতিপত্র দেখতে চান। এরপর তাকে বলা হয়, একজন পুরুষ সঙ্গী বা গাইড ছাড়া একা ভ্রমণ করা নিয়ে স্থানীয় নিয়মের সঙ্গে তার অবস্থান সাংঘর্ষিক। এর আগে জালালাবাদে ভ্রমণের অনুমতি নিতে গিয়েও একই সমস্যায় পড়েছিলেন বলে অরুণিমা জানিয়েছেন। তার দাবি, একা ভ্রমণ করায় তাকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি। বামিয়ানে তাকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাতায়াত করাও নিয়মের লঙ্ঘন হতে পারে এবং এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ঘটনার এক পর্যায়ে অরুণিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চান। তার পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘মুজাহিদিন’ তাকে আটক করেছে এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল চিঠি নেই। ওই পোস্টের সত্যতা সে সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে অরুণিমা নিজেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তাকে থানায় বা কারাগারে নেওয়া হয়নি, বরং কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অরুণিমার বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে তার আগে বামিয়ানে পৌঁছাতে সহায়তা করা এক স্থানীয় ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করেন। তার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কথা বলার পর অরুণিমাকে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন। ঘটনার পর আফগানিস্তানে নারীদের চলাচল ও ভ্রমণ নিয়ে দেশটির কঠোর বিধিনিষেধ আবারও আলোচনায় এসেছে। অরুণিমার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, নারী একা ভ্রমণ করতে পারবেন না এবং বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী বা গাইড এবং অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব বিধিনিষেধের নির্দিষ্ট প্রয়োগ এবং তার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে আফগান সরকারের কোনো স্বাধীন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অরুণিমা পরে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন এবং আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে উজবেকিস্তানের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। প্রথমে ‘গ্রেপ্তার’ বললেও পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে মূলত আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং গ্রেপ্তারের হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৯ বছর বয়সী তাসিয়া ফরচুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষক তাসিয়ার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জার্কুয়েস র্যাটলিফ। তাঁর বয়স ৫১ বছর। তাসিয়া ফরচুনকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার আদালতে তাঁর প্রথম হাজিরা হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৩ আগস্ট জ্যাকসনের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাইরে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাসিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, মরদেহে তখন পচন ধরার বিভিন্ন পর্যায়ের চিহ্ন ছিল। জ্যাকসন পুলিশের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগের রাতে রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তাসিয়ার মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপরই তদন্তে নতুন করে গতি আসে। পুলিশ দুটি তল্লাশি পরোয়ানা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে র্যাটলিফকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে না পেয়ে সদর দপ্তরে ফিরছিল। এ সময় শহরের একটি রাস্তায় হাঁটারত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাসিয়ার সঙ্গে র্যাটলিফের কোনো ধরনের পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের সম্পর্কের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি পুলিশ প্রধান। ব্র্যাকনি বলেন, তাসিয়াকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বা হত্যার পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনই কোনো অনুমান করতে চায় না পুলিশ। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই সবকিছু পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, “এই গ্রেপ্তার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এটিই তদন্তের শেষ নয়।” তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হয়েছে। তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিসিসিপিতে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২১ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী ট্রে রিডকে ডেল্টা স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে এবং ভিক্সবার্গে ৩০-এর কোঠায় থাকা গৃহহীন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি কোরি জুকাটিসকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনের মৃত্যুকেই আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিল। তাসিয়ার ঘটনায় অবশ্য তদন্তের চিত্র ভিন্ন। ময়নাতদন্তে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ প্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, র্যাটলিফের গ্রেপ্তারকে তদন্তের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত এখনো চলছে এবং সামনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওপা-লকার এক নারীকে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর এবং মুখে মল ছোড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৫০ বছর বয়সী ইরসি এসপেরানজা মাচাদো রিভেরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে তার স্বামীর যৌন সম্পর্ক রয়েছে - এমন সন্দেহ থেকেই তিনি ওই নারীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। ঘটনাটি ঘটে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রয়্যাল কান্ট্রি মোবাইল হোমস এলাকায়। পুলিশি নথি অনুযায়ী, মাচাদো রিভেরা প্রতিবেশীর বাসার দরজায় গিয়ে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। দরজা খোলার পর তিনি ওই নারীকে তার স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মাচাদো রিভেরা জোর করে প্রতিবেশীর বাসায় ঢুকে তাকে ধাক্কা দেন। এরপর বেরিয়ে যাওয়ার আগে একটি বালতিতে থাকা মানবমল ওই নারীর দিকে ছুড়ে মারেন বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে। পুলিশ আরও বলেছে, ঘটনার আগে মাচাদো রিভেরা এক প্রত্যক্ষদর্শীকে জানিয়েছিলেন যে তিনি একটি বালতিতে মল রেখে সেটি প্রতিবেশীর মুখে ছুড়ে মারার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। তবে পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মাচাদো রিভেরা ভিন্ন দাবি করেন। তার ভাষ্য, বাড়ির টয়লেট নষ্ট থাকায় তিনি বালতিটি ব্যবহার করছিলেন এবং সেটির মল ফেলার চেষ্টা করছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে তাদের মধ্যে বালতির মলের দুর্গন্ধ নিয়ে তর্ক হয়েছিল। মাচাদো রিভেরা আরও অভিযোগ করেন, ওই নারী তাকে মাথায় ব্যাট দিয়ে আঘাত করেছিলেন। তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢোকা এবং তার দিকে মল ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের নথিতে তার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে এই দাবির অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় মাচাদো রিভেরার বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ব্যাটারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন না দেওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গুজরাটের আহমেদাবাদে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, এক তরুণের সঙ্গে ওই তরুণীর একটি ভিডিও কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া ফারুক। তিনি আহমেদাবাদের সারখেজ এলাকার বাসিন্দা এবং জুহাপুরার একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ তার বাবা ৫৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফারুক নওয়াবখান এবং ভাই ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ হাবিল ফারুককে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বা হিট-অ্যান্ড-রান হিসেবে সামনে আসে। গত ১২ আগস্ট রাতে সোফিয়া তার ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন এবং পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত যান তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় - এমন অভিযোগ করা হয়েছিল। গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে তাকে জিএমইআরএস সোলা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয়, কথিত দুর্ঘটনার ঘটনাটি সাজানো। যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ কোনো দুর্ঘটনার অস্তিত্ব পায়নি। ময়নাতদন্তেও মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কথা উঠে আসে। এরপর তদন্তের গতিপথ বদলে যায়। পুলিশের দাবি, সোফিয়াকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তার মৃত্যুকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত দুর্ঘটনার গল্প তৈরি করে তদন্তকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ আরও বলছে, সোফিয়ার এক তরুণ বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রায় তিন মাস আগে ভাইরাল হওয়ার পর তার বাবা ও ভাই বিষয়টি নিয়ে তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। এরপর তার অন্য তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক সম্মান রক্ষার ধারণা থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় প্রথমে ট্রাফিক পুলিশ তদন্ত করলেও পরে হত্যার সন্দেহ জোরালো হলে মামলা সারখেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা হাতুড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার কলেজশিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে তাকে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা এলাকা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার মো. সিকান্দর আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, চলতি মাসে তার বাসায় ৪ হাজার টাকা এবং আগের মাসে ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তার অভিযোগ, এই বিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর গাছা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে সিফাত আব্দুল্লাহর রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।
ফ্লোরিডার টাম্পায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঘুমিয়ে থাকা ৯৩ বছর বয়সী এক নারী ঘুম থেকে উঠে বিছানার পায়ের কাছে এক অচেনা যুবককে দেখতে পান। ঘটনাটি ঘটে ৩০ আগস্ট সকালে। পরে অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের সহায়তায় ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রসকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের গোয়েন্দারা। শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই নারী ঘুম থেকে উঠে নরক্রসকে তার বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি তাকে নিজের নাতি মনে করে কাছে ডাকেন। পরে বুঝতে পারেন, লোকটি তার পরিচিত কেউ নন। ওই নারী জানান, তাকে উঠতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। তখন নরক্রস তার হাত ঘষতে শুরু করেন এবং তাকে ওষুধ এনে দেওয়ার কথা বলেন। নারীটি তাকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চলে যেতে বললে তিনি পেছনের কাচের স্লাইডিং দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। তবে কিছুক্ষণ পর নরক্রস আবার ফিরে এসে সামনের দরজা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজাটি তখন লক করা ছিল। পরে তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নরক্রসকে শনাক্ত করেন। ১ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বসবাসরত ব্যক্তিসহ বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনা ঘটলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নরক্রসকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০ দিনের এক যৌথ ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২৪ নিখোঁজ শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘অপারেশন নিউ ডন’ নামে এই অভিযানে ১১টি ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা সংস্থা অংশ নেয়। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৪০টি নতুন ফেডারেল ফৌজদারি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ডাকাতি, অপহরণ, হত্যাকাণ্ড, ফেন্টানিল ও অন্যান্য মাদক পাচার, অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং শিশুদের শোষণের মতো গুরুতর অপরাধ রয়েছে। অভিযানটি শুরু হয় ১ মে এবং এতে এফবিআই, ডিইএ, এটিএফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা অংশ নেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা পৃথক পরিচয়ের বদলে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলোর একটি হলো ২৪ শিশুকে খুঁজে বের করা। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অনেককেই অপহৃত বা নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছিল। পরে শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে মাদক পাচার ও সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিইএর কর্মকর্তারা বলেছেন, মাদক পাচার ও সহিংস অপরাধের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোষণায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সবাইকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৩০৫ জনের মধ্যে ১৭৯ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেশন নিউ ডনের লক্ষ্য ছিল শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় সহিংস অপরাধ এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যাহত করা। শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার ঘটনাটি অভিযানের মানবিক দিকটিকেও সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের মকেনায় আটটি মলোটভ ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৩১ বছর বয়সী জর্ডানীয় নাগরিক হ্যামেদ মোহাম্মদ হ্যামেদ আলসাইদিকে আদালত থেকে মুক্তি দেওয়ার পর আবার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইস। স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে এখন অস্ত্র, অভিবাসন ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সূত্রপাত ১ আগস্ট ভোরে। মকেনা পুলিশ ১৯১তম স্ট্রিট ও লা গ্রাঞ্জ রোড এলাকায় আলসাইদিকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে। পুলিশ তাকে থামালে তিনি নিজের নাম হাকমাত সাইদি বলে পরিচয় দেন বলে কর্মকর্তারা জানান। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার ব্যাকপ্যাক থেকে আটটি কাচের বোতল পাওয়া যায়। বোতলগুলোতে দাহ্য তরল এবং কাপড়ের অংশ ছিল, যা তদন্তকারীরা মলোটভ ককটেল হিসেবে চিহ্নিত করেন। ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায় যখন পুলিশ তার ব্যাকপ্যাকে একটি এলাকার হাতে আঁকা মানচিত্র এবং ‘মসজিদ’ শব্দ লেখা একটি কাগজ পায়। পুলিশের দাবি, মানচিত্রে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার একটি মসজিদ বা প্রার্থনাকেন্দ্রের অবস্থানের ইঙ্গিত ছিল। এ কারণে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে আলসাইদি ওই স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন—এমন অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের পাশাপাশি অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণকারী ফেডারেল সংস্থা—এটিএফ, এফবিআই এবং ইলিনয় স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় তদন্তে যুক্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলসাইদি এর আগে একটি গ্যাস স্টেশনের কাছেও সন্দেহজনক অবস্থায় ছিলেন। পরে তাকে অন্য একটি খোলা গ্যাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে আলসাইদির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকানাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুরক্ষা আদেশও ছিল। প্রসিকিউটররা তাকে পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ৩ আগস্ট উইল কাউন্টির এক বিচারক তাকে কারাগারে না রেখে ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্তে মুক্তি দেন। এরপর ৪ আগস্ট আইস কর্মকর্তারা তাকে আবার আটক করেন। শিকাগো সান-টাইমসও জানিয়েছে, আদালত থেকে ইলেকট্রনিক নজরদারিতে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হয়। আইসের দাবি, আলসাইদির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকাদেশ ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেওয়ার পর আইস কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করে আটক করেন। তবে ‘অভয়-শহর নীতি’র কারণে তাকে ছাড়া হয়েছিল—এটি মূলত মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির বিষয়টিকে সরাসরি ওই নীতির ফল হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এরই মধ্যে মামলাটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলসাইদির বিরুদ্ধে নিবন্ধনহীন ধ্বংসাত্মক যন্ত্র রাখার আটটি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাজা ৮০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট মকেনায় আলসাইদির কাছে প্রায় আটটি কাচের বোতল ছিল, যেগুলোতে দাহ্য তরল ও আগুন ধরানোর উপযোগী উপাদান ছিল। প্রতিটি বোতলকে আলাদা একটি ধ্বংসাত্মক যন্ত্র হিসেবে গণ্য করে আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, আলসাইদি ইলিনয়ে বসবাস করতেন এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে জর্ডানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে তার অভিবাসন-ইতিহাস নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কিছু দাবি রয়েছে; এসব দাবিকে আলাদা করে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই নিরাপদ। বর্তমানে আলসাইদি আইসের হেফাজতে রয়েছেন এবং ফেডারেল মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা। একই সঙ্গে মলোটভ ককটেলগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার, মানচিত্রে মসজিদের অবস্থান কেন ছিল এবং তিনি কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিলেন কি না—এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ভাড়া নেওয়া একটি ভিলায় বারবিকিউ করার পর সেখান থেকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ১৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় রেথিমনো অঞ্চলের সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কাছাকাছি কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নিতে হয়। গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, পর্যটকদের দলটি যে ভিলায় অবস্থান করছিল, তার উঠান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, বারবিকিউ গ্রিল থেকে উড়ে যাওয়া আগুনের ফুলকি প্রবল বাতাসে পাশের শুকনো ঘাস ও গাছপালায় পড়ে আগুন ছড়িয়ে দেয়। আগুনের সময় ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল বেশ বেশি। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে আশপাশের কৃষিজমি ও জলপাই বাগান হুমকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার, তিনটি বিশেষ দাবানল ইউনিট, একাধিক গাড়ি, হেলিকপ্টার, পানির ট্যাংকার এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রিসের ১১২ জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে আশপাশের বাসিন্দাদের বার্তা পাঠানো হয়। ফোতিনারি ও সৌদা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ারফাইটাররা। তদন্তে ভিলার মালিক দাবি করেছেন, তীব্র দাবানল ঝুঁকির কারণে অতিথিদের সেখানে বারবিকিউ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, অতিথিরা পৌঁছানোর পর মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি লিখিতভাবেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও পর্যটকদের দলটি গ্রিল ব্যবহার করে বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। গ্রিসে উচ্চ দাবানল ঝুঁকির দিনগুলোতে বারবিকিউ, শুকনো গাছপালা পোড়ানো এবং আগুনের ফুলকি তৈরি করতে পারে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ দাবানলের কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযুক্ত পর্যটক অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, প্রবল বাতাসের মধ্যে বারবিকিউ ব্যবহার করা যাবে না, এমন কোনো স্পষ্ট মৌখিক বা দৃশ্যমান লিখিত সতর্কতা তিনি পাননি। তার আইনজীবী ইভ্যানজেলোস ফানোরগাকিস দাবি করেছেন, ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে দেখা যায়, আগুনের সূচনা গ্রিলের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে এবং মাঝখানে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক চিহ্ন ছিল না। আটকের পর ওই ব্যক্তিকে রেথিমনোর বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে ১০ হাজার ইউরো জামানতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলবে এবং চূড়ান্তভাবে আগুনের জন্য কে দায়ী তা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। ভিলার মালিক স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি অতিথিদের আগেই বারবিকিউ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তের আইনজীবী বলছেন, ঘটনার প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে তাদের হাতে থাকা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গ্রিসে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। শুষ্ক আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় বৃষ্টির অভাব এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ১৬ আগস্ট সালামিনা দ্বীপে আরেকটি ভয়াবহ দাবানলে এক বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু হয় এবং পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগুন লাগানোর ঘটনায় গ্রিসে ২৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দেশটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে এবং ৩০ জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির সময়ে খোলা জায়গায় আগুন ব্যবহার নিয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা ও ফায়ার সেফটি নির্দেশনা অমান্য করলে ফৌজদারি তদন্ত এবং বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণ ঠেকাতে চালানো বড় ধরনের আন্ডারকভার অভিযানে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামের এই অভিযানে ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সোমবার অভিযানের ফলাফল প্রকাশ করে ট্যারান্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। ট্যারান্ট কাউন্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশ্বকাপ চলাকালে কয়েক দফায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৫৬ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা অনলাইনে শিশু সেজে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অভিযুক্তরা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের বয়স ৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানের অংশ হিসেবে আন্ডারকভার অফিসাররা যৌনকর্মী সেজে অনলাইনে যোগাযোগ করেন, অনলাইনে প্রকাশিত যৌনসেবার বিজ্ঞাপনের জবাব দেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক পরিচয়ে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে কথোপকথন চালান। এরপর নির্ধারিত স্থানে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানটি একদিনে পরিচালিত হয়নি। আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ১৫, ১৬ ও ১৮ জুন, ফোর্ট ওর্থ পুলিশের সঙ্গে ২৯ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই এবং ট্যারান্ট কাউন্টি শেরিফের অফিস ও আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালানো হয়। জুনের মাঝামাঝি আর্লিংটনে পরিচালিত একটি অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, আন্ডারকভার অফিসারদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগের পর তারা অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে টেক্সাস আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত যৌনসেবা কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে। জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুতে আরও চারটি সরাসরি আন্ডারকভার অভিযানে একই ধরনের অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও আগে থেকে থাকা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে। শিশুদের লক্ষ্য করে অনলাইনে যোগাযোগের অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অংশের তদন্তে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের ডালাস ফিল্ড অফিস আন্ডারকভার অনলাইন কর্মী, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশ্লেষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, তাদের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটররাও অভিযানের কয়েকটি মামলা পর্যালোচনা করছেন। এরই মধ্যে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন কর্মকাণ্ডে প্রলুব্ধ করার চেষ্টার অভিযোগে ফেডারেল চার্জ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তারা এমন একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, যাকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর বলে মনে করেছিলেন। বাস্তবে সেটি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্ডারকভার অপারেশন। অভিযানে শুধু গ্রেপ্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ইউএস অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে বিভিন্ন সহায়তা সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা আনবাউন্ড নাও জানিয়েছে, বিশ্বকাপকেন্দ্রিক এসব অভিযানে শনাক্ত ১৫ জনকে তারা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জরুরি পোশাক, যাতায়াত, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, কাউন্সেলিং, শিক্ষা সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এসব সেবার অন্তর্ভুক্ত। তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। আরও ১৪টি তদন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং কয়েকটি অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট এখনো কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে সামনে আরও গ্রেপ্তার ও নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ট্যারান্ট কাউন্টির এই অভিযানে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, ইউএস অ্যাটর্নির অফিস, এফবিআইয়ের ডালাস ডিভিশন, আর্লিংটন পুলিশ ও ফোর্ট ওর্থ পুলিশসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো বিপুল মানুষের সমাগমের বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনকে মানবপাচারকারীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, আর সে কারণেই বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ঘিরে উত্তর টেক্সাসে এর আগেও ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এবারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানের তদন্তও চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে শাবাতের প্রার্থনা চলাকালে সেন্ট্রাল সিনাগগে ঢুকে হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। শুক্রবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় তাকে বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ৪৬ বছর বয়সী ল্যারি মন্টেস, যিনি ব্রঙ্কসের বাসিন্দা। তিনি লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের সেন্ট্রাল সিনাগগে শাবাতের প্রার্থনা চলার সময় প্রবেশ করে অনুষ্ঠান ব্যাহত করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সিনাগগ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মন্টেস ৬৩ বছর বয়সী এক নারী উপাসককে আঘাত করেন। পরে তিনি এক নিরাপত্তাকর্মীকে মাথা দিয়ে আঘাত ও থুতু দেওয়ার পাশাপাশি উপাসনালয়ের কিছু সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত এক নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তাই তাকে আটক করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের কেউ গুরুতর আহত হননি এবং ঘটনাস্থলেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। মন্টেসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে দুটি হামলার অভিযোগ এবং একটি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই সিনাগগ বা সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো অতিরিক্ত হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শহরের প্রতিটি মানুষ যেন ভয় ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় উপাসনা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে মাত্র এক বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আবর্জনা, ময়লা ডায়াপার, পশুর মলমূত্র ও অন্যান্য বিপজ্জনক বর্জ্যে ভরা একটি অপরিচ্ছন্ন গ্যারেজে শিশুটিকে রাখা হতো। গত ২৭ জুলাই মলমূত্রে নোংরা একটি ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় ২২ বছর বয়সী ডিভান উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে হত্যা এবং শিশুটির মা ২২ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রা প্রাইসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বর্তমানে অ্যালেন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আগামী ১২ আগস্ট অ্যালেন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন উইলিয়ামস। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, শিশুটি মলমূত্রযুক্ত ডায়াপারের অংশ খাওয়ার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি আরও জানান, এর আগেও শিশুটি নোংরা ডায়াপার মুখে নিয়েছিল। শিশুটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার মুখে রক্তপাত ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এসব আঘাতকে পুলিশ সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্তে শিশুটির থাকার পরিবেশ নিয়েও ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, পরিবারটি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণবিহীন গ্যারেজে বসবাস করত। সেখানে প্রচুর আবর্জনা, বিয়ার ক্যান, ব্যবহৃত ডায়াপার এবং বিড়ালের মূত্র ছিল। শিশুটির খেলার খাঁচাটিও দূষিত মেঝের ওপর রাখা ছিল। পুলিশের পরিদর্শনে ওই এলাকায় পশুর মূত্র ও মল, কাঁচা পয়ঃবর্জ্য, পচনশীল প্রাণীর দেহাবশেষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘরটিতে মাছি ও মাকড়সার উপস্থিতি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাবও ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, শিশুটিকে বাইরে ব্যবহারের পানির পাইপ দিয়ে গোসল করানো হতো। এমনকি উইলিয়ামস শিশুটিকে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়াতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির মা তাকে এ ধরনের খাবার না দিতে বলেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি নিয়মিত ডায়াপার, সোফার কুশনসহ অনিরাপদ বিভিন্ন জিনিস মুখে নিত। পরিবারের সদস্যরাও শিশুটির চারপাশের পরিবেশ যে অত্যন্ত নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় ধরে এমন একটি পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যা তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত নোংরা ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আগামী শুনানিতে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।